সন্তান বেড়ে উঠুক মননশীলতার নিবিড় পর্যবেক্ষণে

মার্শিয়া খান মিথুন

মা হওয়া সহজ নয়। আমি পারফেক্ট মা নই। কিন্তু অত্যাচারী মা-ও নই। আমি হ্যাপি মা। আই অ্যাম নট এ পারফেক্ট মাদার বাট এ হ্যাপি ওয়ান। আল্লাহ আমাদের সন্তান আমানত হিসেবে দিয়েছেন। রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের-ই। প্যারেন্টিং আসলে কঠিন কিছু না আবার অনেক কঠিন। প্রতিদিন আমরা খুব সাধারণ কিছু ভুল করে থাকি। একটু সচেতন হলেই এই জিনিসগুলো শুধরে নেওয়া যায়, পিতামাতাদের জন্য। 

সন্তান লালন-পালনে মায়ের করণীয়

বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলবেন না

খাবারের জন্য বাচ্চাকে মারা!!! আমি বুঝি না, আমি আসলেই বুঝি না। একদিন না খেলে কি হবে। মরে তো আর যাবে না। আমার বাচ্চা খায়। মায়ের পেট থেকে পড়েই তো আর খাওয়া শুরু করেনি। তাকে আমি শিখিয়েছি। হ্যাঁ আমি শিখিয়েছি। পরিমাণে কম দিয়েছি যাতে খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার নিয়ে লেগে থাকার সময় আমার কোনদিনও ছিল না। ওর পছন্দের খাবার আবিষ্কার করেছি। হ্যাঁ সব বাচ্চা এক না। অনেকে খায় না। না খাক। কি হবে!
আমার বাচ্চাকে খুবই সামান্য পরিমাণ খাবার খেতে দেই। খাবার দেখলে লাফ দিয়ে চলে আসে। খাবার চাইলে খেতে দেই। সুজি, সেরেলাক, ফিডারে খাবার, হরলিক্স, কমপ্ল্যান, চিনি, মিছরি এইসব ছাড়াই তো বাচ্চাকে বড় করলাম। হ্যাঁ আমি-ই তাকে এইভাবে অভ্যস্থ করেছি। মিষ্টির দোকানে কর্মচারী রাখলে তাকে শুরুতেই অনেক মিষ্টি খাওয়ানো হয়। অ-নে-ক। এতটাই যে তার মিষ্টির প্রতি রুচি নষ্ট হয়ে যায়। কেন করা হয়? যাতে সে আর মিষ্টি না খায় বা চুরি না করে। আমরা এভাবে গাদা গাদা খাবার খেতে দিয়ে রুচি নষ্ট করছিনা তো?
বাচ্চা খাচ্ছে না, দুষ্টুমি করছে। রাগ হচ্ছে? ওর সামনে থেকে চলে যান। রাগ কমলে সামনে আসুন। একসময় ওর দুষ্টুমি গুলোই খুব মিস করবেন। তাই বলে মারবেন না।  একটা মা কত কষ্ট করে সন্তান জন্ম দেয়। আমি তো সেই ব্যাথার কথা ভুলতে পারি না। মা কি সন্তানের খারাপ চায়? তাহলে রাগ কেন সব নষ্ট করে দিবে?? দয়া করে বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলবেন না।
সন্তান কিন্তু আলাদা একটা মানুষ। আল্লাহর সৃষ্টি। তাকে শারীরিক ভাবে আঘাত করার অধিকার কি আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন?!!! সন্তান কি বলেছিল পৃথিবীতে আনতে? আমরা নিজেদের ইচ্ছায় তাদের দুনিয়াতে এনেছি। একটা সময় তারা বড় হয়ে যাবে কিন্তু মনের আঘাত মুছে যাবে না। আমরা কোন অন্যায় করলে কেউ যদি আমাদের গায়ে হাত তোলে কেমন লাগবে? একটু চিন্তা করে দেখুন নিজেকে দিয়ে।

বাচ্চা বুঝে খাবার খেতে দিবেন

বর্তমান যুগে হোম মেড সেরেলাক বেশ জনপ্রিয়। ফেসবুকে মায়েরা খাবারের ছবি দিলে ঝাপিয়ে পড়ে!! জেন কি মহা মুল্যবান খাবার না খাওয়ালেই নয়!! অনেকে ৬ মাস পুরন হবার আগেই বা ৬ মাস পুরন হলে ১০০ রকমের জিনিস গুড়া করে খাইয়ে দেন। ভাবেন কি মহা পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হল!! অনেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা সত্ত্বেও ব্যাবসা করেন এই হোম মেড সেরেলাক এর। না তারা পুষ্টিবিদ না তারা ডাক্তার, না বি এস টি আই এর অনুমোদন আছে।
হোম মেড সেরেলাক এর ক্ষতিকর দিক- বাচ্চা চিবিয়ে খাওয়া শিখবে না। খাবারের সাথে মুখের লালা না মিশলে খাবার হজম হবে না। না চিবালে চোয়ালের গঠন ঠিক মতো হবে না, এতে বাচ্চার কথা বলা দেরিতে হতে পারে। হজম না হলে সেই খাবার গায়ে লাগবে না বা কোষ গঠন হবে না। পেটের সমস্যা হলে সেই সমস্যা আজীবন থাকতে পারে। সব খাবার একসাথে দিলে বাচ্চা কোন খাবারের ই স্বাদ বুঝবে না। তাই বাচ্চার পছন্দের খাবার তৈরি হবে না। কিছু কিছু খাবার দ্রুত হজম হয় আবার কিছু কিছু খাবার দেরিতে। সব একসাথে দিলে বাচ্চার পেট ভার হয়ে থাকবে। কারন কিছু খাবার হজম হতে দেরি হবে। এতে বাচ্চার খাবারে অরুচি তৈরি হতে পারে। উদাহরণ সরুপ হাফ বয়েল ডিম হজম হতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা, কাচা ডিম হজম হতে সময় লাগে ৬ ঘন্টা, ফুল বয়েল ডিম হজম হতে সময় লাগে ৯ ঘন্টা। তাই বাচ্চাকে খাবার কিভাবে দিচ্ছেন তার উপর হজম নির্ভর করে।
অনেকে দুধের সাথে চাল ডাল ফল আরও অনেক কিছু দিয়ে রান্না করে। চিনি মিস্রি তো থাকেই। বিশ্বাস করুন বাচ্চাদের জন্য চিনি মিস্রির কোনো প্রয়োজন নেই। ডালের সাথে তেল না দিলে ভিটামিন শোষিত হয় না। আমরা বড়রা যে ছোলার ডাল এর হালুয়া খাই তাতে দুধ থাকে। কিন্তু তাতে ঘি ও থাকে মানে ফ্যাট। হোম মেড সেরেলাক কিন্তু আমরা সেভাবে তৈরি করি না। বাচ্চার ৬ মাস পুরন হবার ১ দিন আগেও বাড়তি খাবার দিবেন না। অনেকে বলেন সমস্যা হচ্ছে না বা সমস্যা হয়নি। সমস্যা এখন হবে না। সমস্যা হবে ৪০ বছরের পর। বিদেশে ৪ মাস থেকে ও দেওয়া হয় কিন্তু আমাদের দেশের জন্য ৬ মাস।
৬ মাস পুরন হলে কেন ৫ রকমের ডাল, ৪ রকমের চাল, বাদাম, ভুট্টা, আরও কত কি কেন দিতে হবে?? আমরা কি এইসব খাই? এত কিছু একসাথে দিলে বাচ্চা রক্তশুন্যতায় ভুগতে পারে। আমরা যা খাই তাই অল্প করে নরম করে লবণ চিনি ছাড়া রান্না করে দিলেই তো হয়। সহজে হজম হয় এমন খাবার দিয়ে শুরু করবেন। বাদাম আলাদা ভাবে দিয়ে দেখবেন সমস্যা হয় কিনা। অনেকের ডালে গ্যাস হয়, অনেকের বাদামে। কোন বাচ্চার কিসে সমস্যা সেটা বের করতে হবে। ৬ মাস থেকে ১ বছর বাচ্চার খাবারের স্বাদ নেওয়ার সময়, পছন্দের খাবার আবিষ্কার করার সময়। এলার্জি আছে কিনা, গ্যাস হয় কিনা দেখার সময়। নাকি ১০০ রকমের জিনিস গুড়া করে খাইয়ে দেওয়ার সময়!!
প্রতিটা খাবারের একটা রেসিপি থাকে। এই ১০০ রকমের জিনিস একসাথে খাওয়ানো কিরকম রেসিপি ঠিক বুঝলাম না।
হোম মেড সেরেলাক কখন কিভাবে কেন দেবেন – যারা কিছুই খেতে চায় না তাদের ঘরের তৈরি হোম মেড সেরেলাক মাঝে মাঝে দিতে পারেন। রেগুলার খাবার হিসেবে নয়। কোথাও ঘুরতে গেলে ইমারজেন্সী কেস এ দিতে পারেন ঘরের তৈরি হোম মেড সেরেলাক। প্রতিটা উপাদান আলাদা আলাদা ভাবে দিয়ে দেখবেন সমস্যা হয় কিনা। হজমে সমস্যা হয় কিনা বা এলার্জি বা পাতলা পায়খানা বা বমি। যে উপাদান গুলো ওকে হবে তাই দিয়ে তৈরি করুন। তা ও ৩-৪ উপাদান এর বেশি না হয়। বয়স ভেদে উপাদান মেশান। যেমন গুগলে সার্চ দিলে বলবে বাদাম ৬ মাস থেকে দেওয়া যায় কিন্তু আমাদের দেশের ডাক্তাররা ৯ মাস থেকে অনেক সময় ২ বছর থেকে দিতে বলেন কারন অনেক বাচ্চা বাদাম হজম করতে পারে না, অনেকের এলার্জি থাকে।
৩ বছরের বাচ্চার মায়েরা বলেন বাচ্চা চিবিয়ে খেতে পারে না, বাচ্চার পছন্দের খাবার কি তা জানেন না!! কেন?? বাচ্চাকে ব্লেন্ড করে খাবার না দিলে খায় না!! এই দায় কার?? কোনো মা তার বাচ্চাকে খাবার দিচ্ছেন। সেটা দেখে আপনিও দিলেন!! কেন? আগে দেখে নিন অল্প করে দিয়ে সমস্যা হয় কিনা। বাচ্চার চাইতে বাচ্চার মায়েরা বেশি উদগ্রীব বাচ্চাকে খাওয়ানো নিয়ে। গুড়া করে খাওয়ালে বেশি খাওয়ানো যায়!! ৬ মাসের বাচ্চার হজম শক্তি খুব নাজুক থাকে কারন তারা এতদিন শুধুমাত্র দুধ খেয়ে এসেছে। তাই অল্প করে সহজে হজম হয় এমন খাবার একটা উপাদানের তৈরি তাই দিয়ে শুরু করুন।
আমি হোম মেড সেরেলাক এর বিপক্ষে বলছি না। ১০০ রকমের জিনিস একসাথে খাওয়ানোর বিপক্ষে বলছি। ৬ মাস পুরন হলে পোলাও এর চাল এর জাউ, কলা, মিষ্টি আলু দিয়ে শুরু করতে পারেন। তার পর খিচুড়ি। সবজি দিলে একসাথে ২ টার বেশি সবজি না। আবার ধরুন প্রটিন এর সাথে ভিটামিন সি বা লেবুর রস দিতে হয়। কিন্তু সেরেলাক তৈরি করা হয় দুধ দিয়ে। লেবু কেউ দেন না। কিন্তু ভিটামিন সি খুব জরুরি প্রটিনের সাথে। বাচ্চা বুঝে খাবার খেতে দিবেন। দয়া করে বাচ্চাদের ভবিষ্যতের সাথে ছিনিমিনি খেলবেন না।

বাচ্চাদের কথার গুরুত্ব দিন

ছোট বাচ্চা কি বলছে না বলছে। বাচ্চাদের কথার যেন কোনো গুরুত্বই নেই!! বাচ্চারা এমন বলেই। কল্পনা করে, এটা দেখে সেটা দেখে। তাই বানিয়ে বানিয়ে অনেক কথাই বলতে পারে!! বাচ্চারা কল্পনা করে ঠিকই কিন্তু তারা বানিয়ে বানিয়ে কথা বলবে এমন ধারণা ঠিক নয়। মনে রাখবেন বাচ্চারা কখনো মিথ্যা কথা বলে না। সবসময় না। কোনটা দুষ্টমি করে বলেছে আর কোনটা সিরিয়াসলি বলছে সেটা আপনাকে বুঝতে হবে। বাচ্চা যদি কখনো দুষ্টামি করে মিথ্যা কথা বলে আর কখন সে সত্যি সত্যি বলছে সেটা তো আপনাকেই বুঝতে হবে। বাচ্চাকে আপনি বুঝবেন ভালো। আমার জানা মতে অনেক ছোট বাচ্চারা মিথ্যা কথা বলেনা কারণ তারা মিথ্যা কি সেটা জানেই না।
বাচ্চা যদি এসে বলে কেউ তার প্রাইভেট পার্টে হাত দিয়েছে বা এমন কোনো কাজ করেছে যেটা তার পছন্দ হয়নি তার কথার গুরুত্ব দিন। হোক সেটা মামা-চাচা খালু দাদা অথবা বাচ্চার পিতা!!! লোকে কি বলবে সেই চিন্তা বাদ দিন। আগে নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন।
দুর্ঘটনা কিন্তু পরিবারের কাছের মানুষের থেকেই ঘটে। কাউকে এমন সুযোগ দেবেন না যেটার মাধ্যমে কোনো অঘটন ঘটতে পারে। সবাই ভালো কিন্তু অনেকেই আছে সুযোগ পেলে সেটা ছাড়েন না। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুরা কী বলে শুনুন এবং বুঝুন। গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ সম্পর্কে অনেক ছোটবেলা থেকেই শিশুদেরকে শিক্ষা দিন। ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই শিক্ষা দিন। তাদের বাধা কাটিয়ে দিন যেন কোন ঘটনা ঘটলে তারা এসে বলে।
পিতামাতাদের বলছি শিশুদের কথা শুনুন। কোনো বাচ্চা যদি হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে যায়, বিশেষ কোনো মানুষকে পছন্দ বা অপছন্দ করে জানার চেষ্টা করুন কেন এমন করছে। তারা যদি বলে অমুক মানুষকে ভাল লাগছে না তাদের কথার গুরুত্ব দিন, হোক সে খুব কাছের মানুষ।
বেশিরভাগ মানুষের কাছে যদি তাদের ছোটবেলার অপ্রীতিকর ঘটনা জানতে চান, ঘটনাগুলো কিন্তু কাছের মানুষদের দারাই ঘটেছিল।
অনেকে গুরুত্ব দেন না ছোট বাচ্চা কি বলছে না বলছে, একটা ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেন। অনেকে তো বাসা থেকে ভয় দেখায় এবং বাচ্চারা চাইলেও কিছু বলতে পারে না।
শিশুরা সবই বোঝে এবং বড়দের কথা কান খাড়া দিয়ে শুনে। তাইতো ছোটবেলা থেকেই সবকিছুর শিক্ষা দেওয়া উচিত। ছোটরা কিন্তু সবই বোঝে। তাদেরকে এমন ভাবে গড়ে তুলুন যেন নিজেই নিজেদের প্রটেক্ট করতে পারে। শিশুরা থাকবে হাসিখুশি উচ্ছল চঞ্চল দুরন্ত। এসবই কিন্তু স্বাভাবিক। এবার আসি একটু বড় বাচ্চাদের দিকে যারা স্কুলে যায়। স্কুলে বাচ্চার কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা, শিক্ষক কেমন সেই বিষয়ে খোঁজখবর রাখুন। পিতা-মাতার পরেই গুরুজনদের স্থান। সেই গুরুজন রা ই এমন কোন ঘটনা ঘটেচ্ছে কিনা!! বাচ্চারা যদি এমন কিছু বলে কথার গুরুত্ব দিন।

বাচ্চাকে সঙ্গী করুন

যে যাই বলুক যত খারাপ কথাই বলুক মায়েরা নিজের মন ছোট করবেন না। আপনারা অন্যের কথার গুরুত্ব দিবেন না। নিজের যত্ন নিন। নিজের মনের যত্ন নিন।আর বাচ্চাকে মারবেন না। কেউ সঙ্গি না হলেও বাচ্চাকে সঙ্গী করুন। ছোট ছোট কাজে বাচ্চার সাহায্য নিন। বাচ্চাকেও যুক্ত করুন। কোথাও ঘুরতে যান। সেটা বাসার ছাদ হতে পারে বা বাসার আশপাশেও হতে পারে। বাচ্চাকে নিয়ে সবজি কাটুন।
নিজের পছন্দের কোনো কাজ করুন যেমন আমার ভালোলাগে মা মেয়ে একই রকম জামা পরতে। আমি তাই করি। মা মেয়ে একই রকম জামা পরি। বাচ্চা একসময় বড় হয়ে যাবে এই শখের দিনগুলো কিন্তু চলে যাবে। তাই যেভাবে পারেন নিজের শখ গুলো পূর্ণ করুন।
বেশিরভাগ মেয়েরাই সুন্দর পোশাক পরতে পছন্দ করে। একটু সুন্দরভাবে পোশাক-আশাক পরে বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যান, মন ভালো থাকবে। বাগান করতে পারেন। সেটা বাসার সামনে, বারান্দায় বা ছাদেও হতে পারে। একুরিয়াম এ মাছ রাখতে পারেন।
বাচ্চা কেন খায় না, কেন ঘুমায় না, কেন মারামারি করে, কেন এটা করে সেটা করে, কেন এখানে ব্যাথা পেলো, কেন মশা কামড় দিল, কেন এত শুকনা, কেন মাথায় চুল কম, কেন ফর্সা না, কেন মোটাসোটা না, কেন ছেলে বাবু হয়নি, কেন তরকারিতে লবণ বেশি হল, সারাদিন কি করো বাসায় কোন কাজ নেই, বাচ্চা কেন এত বেয়াদব, বাচ্চা কেন স্কুলে ফার্স্ট হয় না- এরকম হাজারো অনেক কথা যা বলে শেষ হবে না মায়েদের প্রতিনিয়ত প্রতিদিন শুনতে হয়। মায়েদেরকে বলছি মানুষের এসব কথা শুনে নিজের মনের ভিতরে নিয়ে বাচ্চাদের উপর অত্যাচার করবেন না। যারা এই ধরনের কথা বলে তাদের কিন্তু কিছুই হয় না। ক্ষতি কিন্তু আপনার বাচ্চারই হয়। আপনার নিজেরই হয়। তাহলে কি লাভ বলেন বাচ্চাদের মারধর করে??
শত কাজের মাঝেও বাচ্চাটির চোখের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিন। দেখবেন কত ভালোলাগে বাচ্চাটি কত খুশি হয়। এইসব ছোট ছোট জিনিস কিন্তু বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভলপমেন্ট এর জন্য খুবই জরুরী। কয়েকটা বছর একটু আদর দিন না বাচ্চাকে। বাচ্চাটি আদরের কাঙ্গাল।
প্রেগনেন্সিতে কত শত কষ্ট। বাচ্চা জন্ম দিতে কত কষ্ট। যারা এই দিনগুলো পার করেছে তারাই জানে। সন্তানকে আলাদা একটি মানুষ হিসেবে দেখুন। প্রতিটা কাজে তাকে সঙ্গি করুন। নিজের কষ্টগুলো তার সঙ্গে ভাগ করে নিন। কথা বলার সাথী বানান। পরিস্থিতি সবসময় অনুকূলে থাকে না। কষ্টের দিন এক সময় শেষ হয়ে যেতে পারে কিন্তু সন্তানের উপরে কষ্ট, অত্যাচারগুলো কোনদিনও মুছে যাবে না। তাই নিজের মাতৃত্ব, সন্তানের শৈশব-কৈশোর উপভোগ করুন।
সন্তানের ছোটবেলায় মায়ের আদরের খুবই প্রয়োজন। এই যে এত কষ্ট করে বাচ্চা পেটে রাখলেন এত কষ্ট করে বাচ্চা জন্ম দিলেন সিজারে পেট কাটলেন অথবা নরমাল ডেলিভারিতে অনেক ব্যাথা সহ্য করে বাচ্চা জন্ম দিলেন সেই বাচ্চার উপরে অত্যাচার করে যদি কোন বড় ক্ষতি হয়ে যায় তখন কেমন লাগবে বলেন। কার কি হবে বলেন, এই নিন্দুকদের কিছুই হবে না। ক্ষতি আপনার বাচ্চারই হবে। একা হাতে সব কাজ করা, বাচ্চাকে মানুষ করা অনেক অনেক স্ট্রেস। মন মেজাজ ও সেসব মায়েদের ভালো থাকে না। বুঝি সবই বুঝি কিন্তু এসবের জন্য আপনার জীবনের অংশ আপনার সন্তানের উপর অত্যাচার করবেন না।
নিজের মনকে ভালো রাখার চেষ্টা করুন মন শান্ত রাখার চেষ্টা করুন গান শুনুন, নামাজ পড়ুন। যদি শত কষ্ট সহ্য করার পরেও সন্তানের উপর অত্যাচার না করেন তাহলে কিন্তু তার পুরস্কার আপনি আল্লাহর কাছ থেকেই পাবেন। সন্তান আপনাকে ভালোবাসে এজন্য সন্তান সারাদিন আমার পিছে পিছে ঘুরে। এটার জন্য তো আপনার খুশি হওয়ার কথা নাকি বিরক্ত। প্রতিদিন নিজের জন্য একটা ভালো কাজ করার চেষ্টা করুন। সম্পূর্ণ নিজের জন্য। হলেন ই বা একটু সেলফিস। স্বামী যদি হাত খরচের টাকা দেয় সেই টাকা জমিয়ে নিজের কোনো পছন্দের জিনিস কিনতে পারেন। এতে মন ভালো থাকবে। অথবা পরিবারের জন্য ও কিনতে পারেন। আপনি যেটা করলে খুশি হবেন আপনার যেমনটা করলে ভালোলাগে তেমন কাজটি করুন। প্রতিদিন কিছুটা হলেও করুন। নিজের মন ভালো থাকলে সবকিছুই ভালো লাগবে।

আদর করুন, ভালোবাসা দিন

মায়েদের একটা কমন সমস্যা আমার বাচ্চা কিছুই খায় না। আশেপাশের মানুষের চাপে বাচ্চা এত শুকনা কেন এইসব কথা শুনে মায়েরা স্ট্রেস নেয় এবং বাচ্চাদের জোর করে খাওয়ানো শুরু করে। আপনার বাচ্চা কেমন আপনি বুঝবেন। মানুষের কথায় কান দেওয়া দরকার কি? মনে রাখবেন আল্লাহর সৃষ্টির কোনো প্রাণী না খেয়ে থাকতে পারে না। বাচ্চাকে নিয়ে খেতে বসুন। আপনার খাওয়া এনজয় করুন বাচ্চার খাওয়া ও এনজয় করুন। রুচির পরিবর্তন হতেই পারে, উদাহরণস্বরূপ প্রেগনেন্সিতে প্রথম তিন মাস কিন্তু মেয়েরা খেতে পারে না। অনেকের বমিও হয়। সেই সময় যদি কেউ জোর করে খাবার খাইয়ে দিতে চায় সে কি খেতে পারে? কোন মতেই সম্ভব না। আবার কিছুদিন পরে সেটা ঠিক হয়ে যায় আবার মেয়েরা বা মায়েরা খাওয়া দাওয়া শুরু করে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও তেমন। রুচির পরিবর্তন হতেই পারে।
হাজবেন্ডের সাথে একান্ত নিজস্বভাবে কিছুটা সময় কাটান। মন ভালো থাকবে। আমি বলছি না নিজের উপর অত্যাচার মুখ বুঝে সহ্য করতে। বলছি নিজের কষ্ট জেন সন্তানের উপর অত্যাচার এর কারন না হয়। এসবের কিছুর জন্যই সন্তান দায়ি নয়। বাচ্চা শুধু মায়ের কাছে থাকতে চায়, সারা দিন ঘ্যান ঘ্যান করে। মায়ের পাশে থাকতে চায়। সেটা তো অনেক ভালো কথা। বাচ্চা আপনাকে ভালোবাসে। আপনার কাছে থাকতে চায়। তাদেরকে একটু আদর করুন, ভালোবাসা দিন। একটা সময় সেই সুযোগ নাও পেতে পারেন। নিজের উপর হাজার অত্যাচার সন্তানের উপর অত্যাচারের কোনো কারন হতে পারে না।
বাচ্চাকে কাজে ব্যস্ত রাখুন
আমার মেয়ে কফির নতুন বোতল ভেঙে ফেলছে। এই কাজ ও কেন করেছে? আমরা কফি খাই ওকে দেইনা। কিউরিসিটি। ওটা আসলে কি, কি করে!! সম্ভবত ওটা সে ধরেছে আর হাত থেকে পারে গেছে!! থিঙ্ক ইট পজিটিভ। আমার মেয়ে দৌড়ে এসে বলেছে মাম্মি আমি কফি ফেলে দিয়েছি। তার মানে তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাকে বলছে। ভয় পায়নি যে মাম্মি বকা দেবে বা মারবে। বড় হলেও সে এমনটাই করবে বলে আমি আশা করি মানে সব বলবে। যদি বকা দিতাম বা মারতাম তাহলে কিন্তু কথা লুকিয়ে যাবে।
ছোটবেলায় আমার পা কেটে গিয়েছিল আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম খুব কষ্ট হচ্ছিল তারপরও আমি আম্মুকে বলিনি কারণ জানতাম আম্মুকে বললে আম্মু বকা দেবে। আমি চাই না আমার মেয়ে এমনটা করুক। সে যেন তার সব কথা আমাকে বলে। আমার অফিসের এক সিনিয়র কলিগ একদিন বলছে তার দুই বাচ্চা লেখাপড়া করছে না। লেখাপড়া করাতে যেয়ে তার ওয়াইফ এর প্রেশার বেড়ে গেছে। সে তার বাচ্চাদের ডেকে বলল এতদিন তোমরা তোমাদের পিতার ভালোবাসা দেখেছ। এবার আমার খারাপ দিক দেখবা। আমি তোমাদের সাথে আর কথা বলবো না!! তোমরা লেখাপড়া করছ না, তোমাদের মায়ের কথা শুনছো না। এই কথা বললে তার ২ বাচ্চা তার পিছে পিছে ঘুরতে শুরু করল!! তার কথা শুনল!
ছোট বাচ্চারা সাধারণত একটা বিষয়ে খুব বেশিক্ষণ মনোযোগ দিতে পারে না। ১ বছরের বাচ্চা ১ মিনিট, ২ বছরের বাচ্চা ২ মিনিট, ৩ বছরের বাচ্চা ৩ মিনিট, ৪ বছরের বাচ্চা ৪ মিনিট এবং ৫ বছরের বাচ্চা ৫ মিনিট। সেক্ষেত্রে আমরা অনেক খেলনা কিনে উঠিয়ে রাখতে পারি। প্রতি সপ্তাহে এক একটা খেলনা বের করে দিতে পারি। সেটা উঠিয়ে রেখে আবারও হয়তো এক মাস পরে দিলাম। সে ক্ষেত্রে তারা ওটাই আবার নতুন মনে করবে এবং ওটা নিয়ে খেলবে। এভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে পারি। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র ভালো কাজের জন্য উপহার দিতে পারি। আমরা সাধারণত যে জিনিস গুলো কিনি যেমন জামাকাপড় খাবার-দাবার খেলনা, তাদের ভাল কাজের জন্য একটা উপহার হতে পারে। এটার জন্য কিন্তু এক্সট্রা টাকা পয়সা খরচ হবে না। চেষ্টা করলেই সম্ভব। যে কোন ভালো কাজ। ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা বা ভালো ভাবে কথা বলা বা যে কোন কিছু। কিন্তু কথা দিয়ে কথা রাখতে হবে। বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই।
বাচ্চাদের psychology বুঝতে হবে। নিজেকে বাচ্চার জায়গায় চিন্তা করতে হবে। যতদুর আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে আমি সেভাবেই আমার বাচ্চার সাথে কাজ করার চেষ্টা করি। আম্মু কি করলে খারাপ লাগতো কি করলে ভালো লাগতো। ও-ই সময় আমি কি চাইতাম। আমি তাই করি আমার সন্তানের সাথে। প্রতিটি বিষয়ে তাদের কিউরিসিটি থাকে। সবই তাদের জন্য নতুন। কিউরিসিটি থাকাটাই স্বাভাবিক। তাদের ক্ষতি হয় এমন জিনিস হাতের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। যারা মাত্র হাটতে শিখেছে ফ্লোরে কারপেট বিছিয়ে দিতে পারি। আলমারি ফ্রিজ সো কেস লক করে রাখতে পারি। কারেন্ট এর সুইস ঢেকে দিতে পারেন।
যারা কথা বললে বোঝে তাদের বলতে পারি তুমি এটা কর বা করবে না তাইলে তোমাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাব। সেটা বাসার ছাদ বা বাসার নিচে হতে পারে। খেললে ক্লান্ত হবে। ঘরের টুকটাক কাজ করাতে পারেন যেমন সবজি এগিয়ে দেওয়া। সবজির প্রতি আমার বাচ্চার আগ্রহের শেষ নেই। গাছে পানি দেওয়াতে পারেন। আমার আর এক কলিগ তার মেয়েকে বলত সে মানে তার মা বাসায় আসার আগে যেন গাছে পানি দেয় এবং তার জন্য শরবত বানিয়ে রাখে। মেয়ে তাই করত। সন্ধ্যার সময় দরজা জানালা লাগিয়ে রাখতে বলতে পারেন। মোট কথা তাদেরকে যে কোন কাজে বিজি রাখা। বাচ্চা কারেন্ট এর সুইস এ হাত দিচ্ছে?? মা মানা করেছে, শুনছে না। বাচ্চা কি করতে পছন্দ করে?? তাকে বলুন চল অমুক কাজটা করি। বাচ্চার মাইন্ড ডাইভার্ট হয়ে যাবে! তাদেরকে বলতে পারি তুমি যদি আমার কথা শুন আমিও তোমার কথা শুনবো। সপ্তাহে ১ দিন সে যা চায় তাই করতে পারবে।

জেনে না থাকলে জেনে নিন  

একটা সন্তান জন্মের পর দেখা হয়েছে ফর্সা নাকি কালো, লম্বা নাকি খাটো, কিন্তু সেটা দেখা হয় না যে তার শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রতঙ্গ ঠিকঠাক আছে কিনা। এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা হয় কি? অনেক বাচ্চার হার্টে ছিদ্র থাকে, হাত পা বাঁকা থাকে, ঠোঁটকাটা থাকে, তাদের কষ্ট ভেবে দেখেছেন কি? অথচ সুস্থ বাচ্চা হলে দেখা হয় ফর্সা নাকি কালো!! বাচ্চা ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারেনি, মায়ের মাথায় কোন ঘিলু নেই, বাচ্চা লেখাপড়া শিখবে কিভাবে? কোন বুদ্ধি নেই!! বাচ্চা মায়ের গর্ভে থাকার সময় ঠিকমতো মাকে খেতে দিয়েছিলেন কি যে বাচ্চার ব্রেইন হবে? ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ট্যাবলেট, ক্যালসিয়াম ঠিকমতো মা খেয়েছিল? বাচ্চার মায়ের যত্ন কতটুকু করা হয়?
নিজের মেয়ের যত্ন তো ঠিকমতোই করা হয়। বাচ্চার মাথায় চুল নেই? হবে কি করে। মায়ের মাথায় তো চুল ই নেই!! বাচ্চার কি সুন্দর চুল হয়েছে। হবেই তো। ফুপুর মাথায় কি সুন্দর চুল। ফুপুর মত হয়েছে!! বাচ্চা ক্লাসে ফার্স্ট হয়? একদম বাপের মতই হয়েছে। বাচ্চা সুন্দরী হয়েছে।একদম ফুপির মত, দাদির মত হয়েছে। ওরা যে সুন্দর দেখতে, না হলে হয়?!! বাচ্চার নাক বোচা, কালো। একদম মা আর নানির মত হয়েছে!! ছেলে হলে বংশের প্রদীপ, মেয়ে হলে বোঝা!!! কন্যা সন্তান কেন হয়? জেনে থাকলে ভালো, না জেনে থাকলে জেনে নেবেন বিজ্ঞান কি বলে।

পটি ট্রেনিং দিন

বাচ্চার পটি ট্রেনিং কিভাবে করব এই নিয়ে মায়েদের চিন্তার শেষ নাই!! বাচ্চার পটি ট্রেনিং থাকলে বাচ্চা পালা সহজ হয়ে যায়। অনেক সময় ২-৩ মাসের বাচ্চার ও পটি ট্রেনিং থাকতে পারে!! (একটা গ্রুপের একটা মায়ের কমেন্ট থেকে জেনেছিলাম তার ২ মাসের বাচ্চা নাকি পটি ট্রেইনড, জানতে চাইলে বলল দাড় করিয়ে দিলে করে দেয়,, এটাকে কিন্তু পটি ট্রেনিং বলে না) আবার অনেকের ৩-৪ বছর ও লেগে যায়। সব বাচ্চা এক না, সেটা বুঝতে হবে। তবে একটু বড় বাচ্চাকে দিয়ে শুরু করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায় (১৮ মাস)।
বর্তমান যুগে মায়েরা ডায়পার থাকার কারণে অনেক সময় বাচ্চাদের পটি ট্রেনিং দিতে দেরি করে থাকেন। ডায়পার খুবই প্রয়োজনীয় একটি জিনিস কিন্তু তারপর ও বাচ্চারা কথা বুঝতে শিখলে পটি ট্রেনিংয়ের জন্য চেষ্টা করতে হবে। ডায়াপার না পরিয়ে পটি ট্রেনিং শুরু করতে হবে। ডায়পার পরিয়ে তো আর পটি ট্রেনিং দেওয়া সম্ভব না। হান্ড্রেড পার্সেন্ট পটি ট্রেনিং না থাকলে বাচ্চাকে অবশ্যই ডায়পার পড়াতে হবে। আমিও তাই করেছি আমার বাচ্চাকে ডায়াপার পরিয়েছি। যেখানে সেখানে পটি করে দেওয়া, রাতে ভেজা জায়গায় থাকা, তাই ডায়পার ই বেস্ট।
আমরা পুতুল দিয়ে শুরু করতে পারি। পুতুলের প্যান্ট খুলে ওয়াশ রুমে নিয়ে কমোডে বসিয়ে দেখাতে পারি কিভাবে পটি করতে হয়। পটি আসলে বলতে হয়, যেখানে সেখানে পটি করতে হয় না, ভালো বাবুরা পটি আসলে বলে, ওয়াশ রুমে গিয়ে পটি করতে হয়। এভাবে বাচ্চাদের কে বুঝিয়ে বুঝিয়ে শেখাতে পারি। বার বার বলতে থাকা। একসময় কাজ হবেই। বাচ্চা বলা শুরু করবে। অনেক সময় বাচ্চারা পটিতে বসালে কান্নাকাটি করে। বসতে চায় না। এমন হলে ওইসময় চেষ্টা না করে কিছুদিন পরে চেষ্টা করাই ভালো।
বাচ্চার পটি ট্রেনিং না থাকলে তো অবশ্যই পটি ট্রেনিং থাকলেও অনেক বাচ্চারা রাতে বিছানা ভিজিয়ে থাকে। সব বাচ্চা এক না। অনেক বাচ্চা করে না। যারা করে কখন এবং কেন করে মায়েরা একটু চেষ্টা করলেই বের করতে পারবে আশা করি। ঘুমাতে যাওয়ার আগে যেসব বাচ্চারা চিবিয়ে খেতে পারে তাদেরকে দারচিনি খাওয়ানো যেতে পারে। যারা চিবিয়ে খেতে পারে না বা দারচিনি চিবিয়ে খেতে চাইবে না তাদেরকে দারচিনি জ্বাল দেওয়া পানি খাওয়ানো যেতে পারে এতে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। দারচিনি প্রস্রাবের পরিমান কমিয়ে দেয় তাই বিছানা ভেজানোর সম্ভাবনা কমে যায়। ঘুমাতে যাওয়ার দেড় থেকে দুই ঘন্টা আগে পানি পান করা বন্ধ করে দিতে হবে বা পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১-৩ বার পি করাতে হবে।
রাতে মায়েদের ২-৩ দিন জেগে থেকে দেখতে হবে কোন সময় পি করে। অনেকে রাত ২ টা অনেকে ৩ টায় এবং অনেকে ৫ টায় করে থাকে। একটু বড় বাচ্চা হলে ঘুম থেকে উঠিয়ে করানো যেতে পারে। কিন্তু যারা ছোট (১-৩ বছর বা আরও কম বা বেশি) ঘুম থেকে উঠালে কান্না কাটি করতে পারে তাদের ক্ষেত্রে প্রথমে সময় বের করতে হবে কখন তারা করে। তার ১০ মিনিট আগে একটু নাড়াচাড়া দিলেই তারা পি করে দিবে। ছেলে বাবুর ক্ষেত্রে বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে। বোতল ধরলে করে দিবে। সে ক্ষেত্রে মায়েদের ডায়াপার পরানোর দরকার হবে না। আর কিছুদিন করালে তাদের অভ্যাসে হয়ে যাবে।  ১৮-৩০ মাস পটি ট্রেনিং এর জন্য বেস্ট।
বাচ্চা পটির কথা না বললেও বা করতে না চাইলে ও বার বার বোঝাতে হবে। যেখানে সেখানে করে দিলেও বকা ঝকা করা যাবে না। বকাঝকা করলে তাদের কনফিডেন্স লেভেল কমে যেতে পারে। পটি ট্রেনিং কিন্তু একদিন এ হয় না। সময় লাগে। সময় নিয়ে ধৈর্য সহকারে অভ্যাস করাতে হবে। বাবুকে বোঝাতে হবে। বাবুকে নিয়ে ওয়াশরুমে কমোডের উপর বসে দেখাতে হবে যে এভাবে পটি করতে হয়। যেখানে সেখানে যে কারো সামনে বাচ্চার প্যান্ট খুলে দেওয়া এই ধরনের কাজ করা ঠিক না।
নির্দিষ্ট একটি সময় ধরে করা যেতে পারে যেমন ঘুম থেকে উঠে বাবুকে ওয়াশ রুমে নিয়ে যেতে হবে ঘুমাতে আসার পূর্বে নিতে হবে। এভাবে একটা পর্যায়ে বাবু শিখে যাবে। কম্ফোর্টেবল জায়গা নির্বাচন করুন এবং কম্ফোর্টেবল মানুষ নির্বাচন করুন যাতে বাচ্চা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বাচ্চার গোপনীয়তা রক্ষা করুন। জোর করা যাবে না বাচ্চাকে পটিতে বসার জন্য। দুই থেকে তিন বছরের বাচ্চার যদি পটি ট্রেনিং না থাকে বাচ্চার মায়েরা স্ট্রেস নিবেন না। মানুষের কথায় কান দিবেন না। চেষ্টা করবেন শেখানোর। সব বাচ্চা এক না। বাচ্চা বসতে না শিখলে শুরু করবেন না কখনই।

সন্তানের জন্য মায়ের ওয়াদা

ওয়াদা করেছি নিজের সাথে- তাকে কোনদিনও শারীরিক এবং মানসিকভাবে আঘাত করব না। তার বন্ধু হব। বন্ধুদের মানুষ যেমন সব কথা খুলে বলে সে যেন আমাকে তার সব কথা খুলে বলে। তাকে আল্লাহর সৃষ্টি আলাদা একটা মানুষ হিসেবে দেখব, শুধুমাত্র আমার সন্তান হিসেবে নয়। তার কথার গুরুত্ব দিব, তাকে কখনো জোর করব না কোন বিষয়ে। তাকে সঠিক শিক্ষা দেবো, শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা নয়। তাকে মানুষকে সম্মান করতে শেখাবো এবং প্রথম সম্মানটা যেন আমাকে দিয়েই শুরু হয়। সে যেন নিজের মাকে সম্মান করতে শেখে।  তাকে ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দেবো, সে যেন মানুষকে ভালোবাসতে শেখে। তাকে ধর্মীয় শিক্ষা দিব কিন্তু গোড়ামি শিক্ষা নয়।
তাকে নিজের পায়ে দাড় করাবো। তার দুষ্টুমিগুলোকে এনজয় করব যেমনটা সে আমার বৃদ্ধ বয়সে আমার দুষ্টুমিগুলো এনজয় করবে। সে যেন নিজের খেয়াল নিজে রাখতে পারে। দুনিয়া বড়ই কঠিন তাই তাকে শেখাবো কিভাবে নিজের খেয়াল নিজেকেই রাখতে হয়। তার সাথে কখনো নেগেটিভ কথা বলবো না। যেমন তুমি এটা পারবে না না বলে আমি তোমাকে সাহায্য করছি বলি। তার সাথে কখনোই বাজে ভাষায় কথা বলব না। তার সাথে কখনো কারো কোন তুলনা করবো না। ওমুক ক্লাসে ফাস্ট হয় তুমি কেন হও না। না বলে বলবো তুমি জ্ঞান অর্জন করো এটাই তোমার সারাজীবন কাজে দেবে, তোমার তুলনা শুধু তুমি নিজেই। এ আমার ওয়াদা আমার নিজের কাছে আমার সন্তানের জন্য।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *