শিশুদের সুস্থ রাখার জন্য কিছু টিপস

মার্শিয়া খান মিথুন
শিশুদের সুস্থ রাখার জন্য আজ কিছু টিপস দিব। যাতে অসুখ বিসুখ কম হয়।  গোসলের সময় শক্ত কিছু দিয়ে পায়ের তলা ঘষা বা পরিষ্কার করা। আমি নিজে পা ঘষা দিয়ে করি। কিন্তু ও যেহেতু ছোট তাই গোসলের সময় আমার বুড়ো আংগুল দিয়ে পায়ের তলা আঙ্গুল ঘষে দেই।

রাতে ঘুমানোর সময় মাথা যেন ঘেমে না থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান। কোষ্ঠকাঠিন্য , গ্যাসের সমস্যা হবে না। খুব বেশি অ্যান্টি বায়োটিক না খাওয়ানো বা দীর্ঘদিন ধরে না খাওয়ানো। পরে আর শরীরে কাজ করে না।

গোসল করানোর আগে জামা ওয়াশ রুমে যেয়ে খোলা যেন বাতাস না লাগে। গোসলের পর মাথা ভাল করে মুছে দেওয়া। গোছলের আগে পানি পান করানো এবং গোছলের পর পানি পান না করানো, ফল না খাওয়ানো গোসলের সময় কিছুক্ষণ গরম পানিতে বসিয়ে রাখা, কৃমির সমস্যা কম হয়। গোসলের পর কানের ভেতর মুছে দেওয়া। গোসলের সময় প্রথমে পায়ে পানি দেওয়া। এভাবে আস্তে আস্তে উপরে উঠবেন। প্রথম মাথায় পানি দেওয়া যাবে না। মাথা সবার শেষে।
খাবার খাওয়ানোর কিছুক্ষণ আগে পানি পান করানো। ক্ষুধা বাড়ায়। খাবার খাওয়ানোর পূর্বে পানি পান করতে দিন, খাওয়ানোর পর ২০-৩০ মিনিট পানি পান করতে দিবেন না। দেখবেন নিজের থেকেই চেয়ে পান করছে। এতে পানি পানের পরিমান বাড়বে।
শীতে খুব বেশি কাপড় পরিয়ে রাখবেন না। বাচ্চা ঘেমে গেলে ঠান্ডা লেগে যাবে। বাচ্চাদের গরম বেশি। নিয়মিত রোদ লাগাবেন। নিয়মিত ঘি মাখন পনির ডিম দুধ খাওয়াবেন। মুখে ঘা এর সমস্যা কম হবে।

কিছু নিয়ম মেনে গোসল করালে বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগবে না। এমন কোনো নিয়ম নেই যে গোসল দুপুরে করাতে হবে বা সকালে করাতে হবে। গোসল সকালে দুপুরে বিকেলে সন্ধ্যায় রাতেও করানো যায়। ঘুমানোর পূর্বে গোসল করালে ঘুম ভালো হয়। ওয়াশ রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তারপর জামা খুলে গোসল করানো। গোসল শেষে শরীরের প্রতিটি অংশের পানি ভালো করে মুছে যেমন বগলের ভাজে গলার ভাঁজে কানের ভেতর, তারপর কাপড় পরিয়ে ওয়াশ রুম থেকে বের করা।

গোসলের পর শরীরে তেল না মাখানো। তেল শরীরে ময়লা টানে, তেল চিটচিটে হয়ে যায়। নিজে গোসলের পর তেল মেখে দেখুন তো কেমন লাগে কেমন একটা অস্বস্তি লাগে। তেল যদি মাখাতেই হয় গোসলের পূর্বে মাখান তারপর বডি ওয়াশ দিয়ে গোসল করিয়ে দিন।
শিশুদের জন্য বডি ওয়াশ এবং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। গোসলে অবশ্যই গরম পানি ব্যবহার করবেন, শীত কাল হোক বা গরম কাল হোক।
গোসলের সময় অবশ্যই দরজা বন্ধ করে রাখবেন যাতে বাইরের বাতাস না ঢোকে।
পৃথিবীতে বেশিরভাগ স্ট্রোক ওয়াশরুমে হয় কেন জানেন? অনেকেই জানেনা প্রথমে মাথায় পানি দিতে হয় না। অনেকেই প্রথমে মাথায় পানি ঢালা শুরু করে। মানুষের শরীরের রক্ত গরম। হটাত করে ঠান্ডা পানি পড়লে এটা একটা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
তারপর কানের ভিতর একটু পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন এতে কানে পানি ঢুকবে না। নিজের হাতের আংগুল দিয়ে শিশুর পায়ের তলা ভালো করে ম্যাসাজ করে পরিষ্কার করে দিন এটাও স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। গরম কোন খাবার খাওয়ানোর পর পরই গোসল না করানো।
শিশুকে গরম পানিতে দশ-১৫ মিনিট বসিয়ে রাখুন। এতে করে শিশুদের শরীরে যে গরম থাকে সেটি বেরিয়ে যাবে এবং কৃমির সমস্যা থাকবে না। প্রাইভেট পার্ট ভালো করে পরিষ্কার করে দিন এতে এলার্জি হবে না বা কৃমির সমস্যা থাকবে না। গোসলের পর অতিরিক্ত পাউডার দেওয়া ভালো না। এতে লোমকূপের গোড়া বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে নিয়ম মেনে দরজা বন্ধ করে শিশুকে গোসল করালে আশা করি ঠান্ডা লাগবে না।
একটা টিপস : শিশুর যদি প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে বা অনেক শীতের দিনে ঠান্ডা বাতাস লাগে বা অনেক পানিতে খেলা করে বা ঘেমে ভিজে যায় সাথে সাথে গোসল করিয়ে দিন আর ঠান্ডা লাগবে না।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় গোসলের কোনো বিকল্প নেই তাই নির্দ্বিধায় প্রতিদিন গোসল করান। ঠান্ডার কারণ জীবাণু। শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল থাকলে জীবাণুর আক্রমণে ঠান্ডা লাগতে পারে। গোসল কারন না। 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *