মায়ের যে চিঠি পড়ে কাঁদলো ছেলে

রোজকার মতো অশান্তি শুরু করলো বউমা। বাসন-কোসন এদিক সেদিক ছুড়ে মারছে, চিল্লা-চিল্লি, তীব্র রাগের কারণে ঘরের এপাশ থেকে ওপাশে হাটাহাটি করছে আর হাপাচ্ছে। তার সমস্যা একটাই বরের বৃদ্ধা মা। এই নারী ঘরের মেঝেতে শ্লেস্মা, থু থু, কফ ফেলে। পানের পিক ফেলে ঘরের দেয়াল আর পর্দা নষ্ট করে, আর আজ হাত থেকে ফেলে কাঁচের প্লেটটা ভেঙ্গে ফেললো!

নাহ্ তাকে আর এই বাড়িতে রাখা যাবে না, কোনো বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে রেখে এসো তোমার মাকে। বৃদ্ধার ছেলের কাছে জোরে জোরেই বলেছিল বউ মা। ছেলে চুপ হয়ে আছে। বৃদ্ধাও নিজের ঘর থেকে কথাগুলো শুনেছিল চুপ করেই।

রাতে শোবার আগে ছেলে তার মায়ের ঘরে গেল। মা তোমায় আর এখানে রাখতে পারছি না। দেখতেছ তোমায় নিয়ে কেমন অশান্তি হচ্ছে। রোজ রোজ এমন অশান্তি ভালো লাগে না। তুমি ব্যাগ গুছিয়ে নাও কাল সকালে তোমায় বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসব কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলেই ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল ছেলে। বৃদ্ধা ব্যাগ গোছালো। কাঁপা কাঁপা হাতে একটা কাগজে কিছু লিখলো বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে।

পরের দিন সকালে অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে  তাড়াতাড়ি বের হবার জন্য মাকে ডাকলো ছেলে। বৃদ্ধা ব্যাগ নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যাবার আগে ছেলের হাতে একটা খাম গুজে দিয়ে বলে- ‘খোকা, এই খামটা তুমি সেদিন খুলবে যেদিন আমার কথা মনে করে তোমার প্রচন্ড কান্না পাবে। এর আগে খুলবে না।’ বৃদ্ধার চোখ বেয়ে জল ঝরছে। ছেলের চেহারায় কিছুটা বিরক্তির ছাপ, বউ মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে বৃদ্ধা কখন বিদায় হবে। শুধু ছয় বছরের নাতিটা কান্না করছে তার দাদীর চলে যাওয়াতে।

তারপর আর তাদের সংসারে কোনো অশান্তি হয়নি। যদিও ছেলে মাকে রেখে আসার সময় কথা দিয়েছিল মাঝে মধ্যে দেখা করতে যাবে কিন্তু ব্যস্ততার কারণে আর যাওয়া হয়নি মাকে দেখতে।

পঁচিশ বছর পর ছেলেটি মায়ের দেয়া সেই খামটা খুলছে।  মায়ের কথা মনে করে ভীষণ কান্না নিয়ে সে মায়ের চিঠি পড়ছে- খোকা, আমি জানতাম ঠিক পঁচিশ বছর পর তুমি আমার চিঠিটা পড়বে। কারণ আজ তোমার খুব মনে পড়ছে আমাকে। তোমার অনেক কান্না পাচ্ছে কিন্তু তুমি কান্নাও করতে পারছ না। হ্যাঁ আমার ঠিক এমনই খারাপ লেগেছিল যেদিন তুমি আমায় বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গিয়েছিলে।

কিন্তু আমার জন্য নয় বেশি কান্না পেয়েছে তোমার জীবনেও এই দিনটা আসবে এটা ভেবে। কারণ তোমারও একটা ছেলে আছে। আমিও তোমায় ঠিক এমন আদরেই বড় করেছিলাম যেমন তুমি তোমার ছেলেকে বড় করেছ। তবুও আমার মতই তোমারও ঠাই হলো এই বৃদ্ধাশ্রমে। তুমি কিভাবে এই যন্ত্রণা সহ্য করবে খোকা এটা ভেবেই আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমি তোমায় এই কষ্ট থেকে বাঁচাতে পারলাম না খোকা ক্ষমা করো আমায়।

চিঠি পড়ে ছেলের বুকের ভেতরটা হু হু করে কেঁদে উঠলো।

চিৎকার করে বললো-মা, মাগো ও মা!!

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *