মায়ের ভালোবাসা

গত সপ্তাহে বাড়িতে গিয়েছিলাম।
একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে রাখা কিছু কাগজ।
মা খুব যত্ন করে আলমারিতে রেখে দিয়েছেন।

দেখলাম ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের স্থানীয় দৈনিকে ছাপানো কয়েকটি লেখা। মায়ের কাছে পাওয়া পুরনো এমন অনেক কিছুই স্মৃতিকাতর করে আমায়।

মাকে বললাম- মা এসব কাগজ আপনি যত্ন করে রেখেছেন; আমি নিজেও তো সংরক্ষণ করি নাই।

মা বললেন- মায়ের কাছে সন্তান সবচেয়ে প্রিয়। তাই তার লেখাও প্রিয়। নামও প্রিয়। আগের এসব দেখলে আগের স্মৃতিও মনে পড়ে। আমিতো নাতি-নাতনিদের সাথে এসব দেখায়ে তাদের বাবা সম্পর্কে গল্প করতে পারব। তুমিতো ভালো কথাই লিখেছ! আর ছাপার অক্ষরে ছেলের নাম দেখতে খুব ভালো লাগে।

মা আরো বললেন, আমিতো তোমাদের একেবারে প্রাইমারী থেকে নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো বই-খাতা বিক্রি করিনি। তোমার হাতের সুন্দর লেখা, পরীক্ষার খাতা রেখে দিয়েছিলাম। যদিও বাড়ি পরিবর্তনের সময় সংরক্ষিত সেসবের অনেক কিছুই নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।

এই তো মা! একমাত্র আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) ছাড়া মায়ের কাছে সব মানুষই ঋণী! আল্লাহ মাকে সুস্থ রাখুন, ভালো রাখুন, নিরাপদে রাখুন।

রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।

(স্মৃতির দর্পণ থেকে : এক)

About আনিসুর রহমান এরশাদ

শিকড় সন্ধানী লেখক। কৃতজ্ঞচিত্ত। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ভেতরের তাগিদ থেকে লেখেন। রক্ত গরম করতে নয়, মাথা ঠাণ্ডা ও হৃদয় নরম করতে লেখেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাক্ষিক-মাসিক-ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংকলন, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও জাতীয় দৈনিকের সাথে সম্পর্ক। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পড়েছেন মিডিয়া ও জার্নালিজমেও। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা গ্রামে।

View all posts by আনিসুর রহমান এরশাদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *