দীর্ঘশ্বাস

দীর্ঘশ্বাসের পর দীর্ঘশ্বাস!
একটা বুকের মধ্যে এত দীর্ঘশ্বাস কেন?
কত দুঃখ! কত যন্ত্রণা! কত অতৃপ্তি!

কী গভীর দীর্ঘশ্বাস!
কত যে অব্যক্ত কথা! কত নিরব কান্না! কত অসহায়ত্ব!
মানুষ দীর্ঘশ্বাসের গল্প শুনতেও চায় না!

ক্ষতবিক্ষত মনের শত দীর্ঘশ্বাস!
কখনো হারানোর! কখনো বঞ্চনার! কখনো শোষণের!
অনেকেইতো কবে দীর্ঘশ্বাস ঘুচবে তা ভাবেও না!

ফলে দীর্ঘশ্বাস যেন শেষ হবার নয়!
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে বাজারজুড়ে দীর্ঘশ্বাস!
কেউ দুমুঠো খেয়ে বাঁচতেও দীর্ঘশ্বাস ফেলে!

কখনো চোখ বন্ধ করা! কখনো নিঃসঙ্গতায় ভরা!
দীর্ঘশ্বাস কমাতে কী তা আর যথেষ্ট হয়?
একজনের দীর্ঘশ্বাসে আরেকজনের মাঝেও দীর্ঘশ্বাসের জন্ম নেয়!

কেউ অতীতের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে!
কেউ ভবিষ্যত ভাবনায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে!
একটি দীর্ঘশ্বাসই সবসময় শেষ দীর্ঘশ্বাস হয় না!

চলতে ফিরতে ফেলা এত এত দীর্ঘশ্বাস!
জীবনই যেন একটি দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়!
দীর্ঘশ্বাস নিয়েও ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় দীর্ঘপথ চলতে হয়!

দীর্ঘশ্বাসের জীবনে কে কত অশান্ত!
কার বুকে কত উথাল-পাতাল! কত বিরহ! কত বিয়োগ ব্যথা!
তবুও দীর্ঘশ্বাসের রজনী দীর্ঘ থেকে আরো দীর্ঘ হয়!

কেউ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে!
কেউ শুনে অন্যের দীর্ঘশ্বাস ফেলার শব্দ!
এভাবে কারো দীর্ঘশ্বাস ঘুঁচে কারো ঘুঁচে না!

কখনো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস!
কখনো উপচে পড়া ভিড় ঠেলায় দীর্ঘশ্বাস!
তবে দুর্বলের দীর্ঘশ্বাস কোনো আবেদন ফেলে না!

কখনো শুষ্ক নদীর পাড়ে বসে দীর্ঘশ্বাস!
কখনো বৃক্ষশূন্য বন দেখে দীর্ঘশ্বাস!
নিজের অজান্তেই ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায়!

ক্রেতার দীর্ঘশ্বাস! যাত্রীর দীর্ঘশ্বাস! শ্রমিকের নাভিশ্বাস! কর্মীর দীর্ঘশ্বাস!
বুক কাঁপিয়ে কতজন যে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন!
ভেতরের শূণ্যতা থেকে বের হওয়া এসব দীর্ঘশ্বাস মিশে যায় বায়ুমন্ডলে!

কিছু দীর্ঘশ্বাস জমা হয়ে থাকে
কখনো অশ্রু হয়ে ঝরে! কখনো ঘাম হয়ে গড়িয়ে পড়ে!
কখনো হতাশা ও আতঙ্ক ভর করে!

ভালো হয় জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস যদি প্রতিবাদ হয়!
হারিয়ে বাড়া দীর্ঘশ্বাস যদি দূর হয়!
দীর্ঘশ্বাসগুলো যদি স্বস্তির নিঃশ্বাসে পরিবর্তন হয়!

একটি দীর্ঘশ্বাস আরেকটি দীর্ঘশ্বাসকে থামাতে পারে না
একজনের দীর্ঘশ্বাস আরেকজনের দীর্ঘশ্বাসকে মুছতে পারে না
দীর্ঘশ্বাস বন্ধে প্রয়োজন প্রচেষ্টার! প্রতিবাদের! সংস্কারের! পরিবর্তনের!

লেখার সময় : ২৩ আগস্ট ২০২২ ইং

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.