তরুণদের ভাবনায় জীবন ও জগৎ : প্রেম বিয়ে যৌনতা প্রসঙ্গ

বর্তমানে তরুণদের কিছু ভাবনা নিয়ে ৩৮ জন ছেলেকে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হয়েছিল।  জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৮ জন উত্তরদাতার মধ্যে ১ জন চাকরিজীবী, বাকি ৩৭ জন ছাত্র। ১৮-২০ বছর বয়সের ১৭ জন, ২১-২৫ বছর বয়সের ২১ জন। ৩ জন হিন্দু বাদে বাকিরা মুসলমান। টাঙ্গাইলের ২০ জন; ফরিদপুর, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, পাবনা, ফেনী, খুলনা, মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নওগাঁ, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১ জন করে; রাজশাহী ও নেত্রকোণার ২ জন করে, গাজীপুরের ৩ জন। সবাই তখন ঢাকাতে বিভিন্ন মেসে কিংবা হলে অবস্থান করতো।

প্রেমের ক্ষেত্রে  মুখ্য বিবেচনা

প্রেমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মুখ্য বিবেচনা করা হচ্ছে কোনটি? এ প্রশ্নের জবাবে ৬৫.৭৮% বলেছে শারীরিক সৌন্দর্য, ২৩.৬৮% বলেছে-অর্থসম্পদ, ৭.৮৯% বলেছে জ্ঞান, ক্ষমতা বলেছে ৯.৫% ।

ছাত্র বয়সে প্রেম

ছাত্র বয়সে গভীর প্রেম কল্যাণকর নাকি ক্ষতিকর? ৩৮ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৩৬ জনই ক্ষতিকর আর ২ জন বলে কল্যাণকর। যারা ক্ষতিকর বলে কেন ক্ষতিকর? কীভাবে? এ প্রশ্নের নানান ধরনের জবাব এসেছে।

পড়াশুনায় ক্ষতি হয় বলেছে ১৮ জন, অর্থের অপচয় হয় বলেছে ৩ জন, সময় অপচয় হয় বলেছে ৭ জন, মানসিক বিপর্যস্ততা বাড়ে, মন ভালো থাকে না, মনোযোগ নষ্ট হয় বলেছে ৫ জন।

এছাড়াও উত্তরদাতার বর্ণনা থেকে সরাসরি আরও কিছু উদ্ধৃত করছি। ‘‘জীবন গড়ার আশা বিফল করে দেয় প্রেম । জীবনে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর বড় প্রতিবন্ধকতা প্রেম। প্রেম অনেক সম্ভাবনাময় জীবনকেও অন্ধকার দুর্গন্ধময় নর্দমায় ফেলে দেয় । সবসময় শুধু তার কথা মনে পড়ে , তাকে দেখতে ইচ্ছা করে , ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ থাকে না । গঠনমূলক , সেবামূলক ও সৃষ্টিশীল কাজেও মনোযোগ থাকে না । প্রায়ই প্রিয়জনের সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে, দেখতে ইচ্ছা করে, ছবি দেখে চোখ বন্ধ করে রঙ্গীন রঙ্গীন কল্পনা করতে ভালো লাগে ।

একাগ্রচিত্তে কোনো কাজেই লেগে থাকা যায় না। সবসময় একটা অস্থিরতা ও পালায়ে বেড়ানোর মানসিকতা থাকে । পড়ালেখায় মন বসে না । প্রেমে ব্যার্থ হয়ে অনেকে নেশাগ্রস্ত হয়, নৈতিক অবক্ষয় ঘটে, জীবনটাকেই অর্থহীন ভাবতে থাকে। অর্থহীন আবেগ বিবেককে ধ্বংস করে । আবেগের তীব্রতায় বিচারবোধ কমে যায় , এটিই পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণূ ও মূল্যবান বলে মনে হয় ।

চিন্তা এককেন্দ্রিক হয়ে পড়ে , বেশিরভাগ সময়ই এ চিন্তা-ভাবনা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায় । প্রেম শারীরিক ও মানসিকভাবে দারুণ ক্ষতির কারণ । মেয়েদের ভালোবাসার পরিমাণ মানিব্যাগের পুরুত্বের উপর নির্ভরশীল; টাকা যার সীমিত, টাকা শেষতো ভালোবাসা শেষ । অন্যদিকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের অতিরিক্ত অর্থব্যায় অভিভাবকের কষ্টের কারণ হয় । মা, বাবা সহ অভিবাবকদের ধোঁকা দিয়ে মিথ্যা বলে টাকা আনার কারণে মনটা ছোট হয়ে যায় , মানসিক অস্বস্তি বৃদ্ধি পায় । প্রেম অনেককে কাঁদায় । প্রেম না থাকলেই স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করা যায় , অনেক সমস্যা থেকে বাচাঁ সম্ভব ।’’

একজন বলে, ‘আমার জীবনটাকে প্রেম এসেই শেষ করে দিয়েছে । এটার ক্ষতি বলে শেষ করা যাবে না ।’ আরেকজন বলে, ‘প্রেম না থাকায় আমি পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট । এতে বাধা ধরা নিয়ম নেই । প্রেম থাকাটা জরুরি মনে করি না । প্রেম নেই মানেই স্বাধীনতা আছে । প্রেমিকা না থাকলে সময়, অর্থ, লেখা পড়া তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে ।’

যারা প্রেম কল্যাণকর বলেছে তাদের বক্তব্যে এসেছে, ‘‘প্রেম শিক্ষার্থীসহ অনেক প্রতিভাবানকে সাহিত্যে ভালো করতে সাহায্য করে । স্বার্থ থাকলেই প্রেম কল্যাণকর হয় । সব প্রেম ক্ষতিকর নয়, প্রেম মানুষকে মহৎ হতেও শেখায় এবং অনুপ্রেরণাও জোগায় । সবার জীবনেই প্রেম আসবেই । ভালোবাসার জন্যেই জন্ম । ভালোবাসা না পাওয়ার গ্লানি জীবনকে বেদনাময় করে তুেল। ডেটিং মজার বিষয়, যুবকরা এ ছাড়া মনের অনেক ক্ষুধাই মেটাতে পারে না । প্রেম করার ইচ্ছা করে কিন্তু পারি না । এটা বয়সের দোষ । আমি আশাবাদী প্রেম আমার জীবনে একবার আসবেই ।

প্রেমঘটিত বিবাহ

প্রেমঘটিত বিবাহ সুখের হয় কি-না? ১১ জন মনে করে হয়। ২৭ জন মনে করে হয় না। যারা সুখের হয় বলেছে কেন’র উত্তরে তাদের জবাবগুলো হচ্ছে- ‘‘পারস্পরিক বুঝাপড়া ভালো থাকায় সুসম্পর্ক টিকে থাকে। পারস্পরিক জানাশোনা গভীর থাকায় ত্যাগের মানসিকতা ভালো থাকে । সুখী পরিবার গঠনে তথা দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে উভয়ের যে মনের মিল প্রয়োজন তাতো পূর্বেই স্থাপিত হয়ে যায় , ফলে শান্তিময় পরিবেশ বজায় থাকে । একে অন্যের ভালোলাগা , পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে ভালো জানা থাকার ফলে বন্ধনটা সুদৃঢ় রাখা সহজ হয় । সঠিক সিদ্ধান্ত ও কাংখিত আচার-ব্যবহারের ফলে বন্ধন সুদৃঢ় হয় । আসলেতো প্রেমেই জীবন, প্রেমেই মরণ ।’’

যারা সুখের হয় না বলছে তারা কেন হয় না- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছে- ‘‘বিয়ের আগে যে অনুভূতি থাকে পরে সেটা থাকে না । পরস্পরের মাঝে মিল বেশীদিন থাকে না । একে অন্যকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা মরে যায়। প্রেম ঘটিত বিবাহ সমাজ-পরিবার মেনে না নেয়ায় অনেক সময় নানা অনাকাংখিত জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় । বিবাহ পরবর্তী কিছু সময়ের মধ্যেই কর্মব্যাস্ত জীবন সংসারে এসে কাল্পনিক স্বপের বুনা জালের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় মোহভঙ্গ হয় ।

সংসার জীবন ও প্রেমের জগত দুটি ভিন্ন ক্ষেত্র । একটাকে আরেকটাতে টেনে আনলে তার ফল ভালো হয় না । প্রেমিক প্রেমিকারা স্বামী স্ত্রী হলে একে অন্যের প্রতি অধিকার খাটাতে চায় ফলে ক্ষোভ, অভিমান বিশৃংখলা বাড়ায়, অশান্তির সৃষ্টি করে। নতুন কিছুতো আর আসে না , তাই সবই পুরনো মনে হয় ; উৎসাহ কমে যায়, আগ্রহ-উদ্দীপনায় ভাটা পরে । প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তিটা না হলে তা মেনে নেয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে । স্বপ্ন ও কল্পনার সুখময় জাল বাস্তবতাই এসে হারিয়ে যায় ।’’

প্রেমিক-প্রেমিকাকে বিয়ে

৩৮ জনের মধ্যে ১৯ জনের প্রেমিকা আছে, ১৬ জনের প্রেমিক নেই। আর জন যাদের প্রেমিকা আছে এদের মধ্যে ৫০% তাদের প্রেমিকাকে বিয়ে করবে না, ২৫% বিয়ে করবে বলেছে, আর ২৫% জবাব দেয়নি। তবে যাদের প্রেমিকা নেই তাদের অধিকাংশই প্রেমিকা থাকলে বিয়ে করতো বলে জানিয়েছে।

কেন প্রেমিকাকে বিয়ে করবে না? এর নানান ধরনের জবাব এসেছে, ‘ প্রেম মানে বিয়ে করা নয়। ইহা মনের খোরাক। প্রেম করে বিয়ে করলে সংসার জীবন সুখের হয় না।’

‘ফ্যামিলি সম্মতি দিলে বিয়ে করব, ফ্যামিলি মেনে না নিলে করব না। বাস্তবতার কাছে, ভালোবাসাও হার মানে। প্রেমের বিয়েতে খুঁজেও সুখ পাওয়া যায় না।’

একজন বলেছে, ‘বিবাহপূর্ব জীবনে আনন্দের সাথে কাটানোর জন্যেই প্রেমিকা।’

আরেকজন বলেছে, ‘বিয়ে নিয়ে ভাবি না। আমি একাধিক প্রেমে আসক্ত, একজনকে দিয়ে আমার চলে না।’

‘বিয়ের আগের অনুভূতি আর পরের অনুভূতি একরকম থাকে না। বিয়ে আর প্রেম দুটি ভিন্ন জগৎ।’

যারা প্রেমিকাকে বিয়ে করবে তাদের বক্তব্য এসেছে, ‘যার সাথে প্রেম করেছি, জেনে-বুঝে-শুনেই করেছি, যাকে ভালোবাসি তাকে বিয়ে করার মধ্যদিয়েই প্রেমকে পরিপূর্ণ সার্থক করব।’

‘যে আমার প্রেমিকা, জীবনের চেয়েও তাকে বেশি ভালোবাসি, তাকে ছাড়া জীবন কল্পনাই করা যায় না।’

‘প্রেমিকাকে বিয়ে করব কারণ আমাদের মধ্যে বুঝাপড়া ভালো এবং আমরা খুবই বাস্তবধর্মী। তাকে এত কাছের, বেশি আপন ভাবি যে তাকে ছাড়া আমার বাঁচাটাই কঠিন হবে।’

‘জীবনে যতই দুঃখ-কষ্ট আসুক তাকে কাছে পাবার সুখটাই অন্যরকম। যতই বাধা-বিপত্তি আসুক, পরিবার মানুক না মানুক আমি তাকে বিয়ে করেই সুখী হতে চাই। আর কারো সাথে ছলনা করা বড় অন্যায়।’

‘প্রেমের ক্ষেত্রে বড় প্রয়োজন বিশ্বাস আমাদের মাঝে আছে। তবে যদি আমার স্বার্থ পূরণ করে তবেই বিয়ে করব, নচেৎ নয়।’

‘প্রেমিকাকে নিয়ে বেড়ানোটা মনের আবেগ, অব্যক্ত কথা শেয়ার করতে পারার আনন্দই অন্যরকম। তবে বউ হিসেবে নতুন কেউ আসবে, নতুন স্বাদ নেব নাকি তাকেই বিয়ে করব এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগি, সিদ্ধান্ত নেই নি।

প্রেমের সম্পর্ক থাকা না থাকা

প্রেমিকা না থাকায় অনেকেই সন্তুষ্ট। নানান জনের নানান কথা।

‘প্রেমিকা আগে ছিল এখন নেই, এতে বাড়তি সময় দিতে ও চিন্তা করতে হয় না, অর্থও ব্যয় করতে হয় না। বেশ ভাল আছি।’

‘প্রেমিকা না থাকলে পড়াশুনায় ক্ষতি হবার, মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হবার সম্ভাবনা থাকে না।’

‘প্রেমিকার সংস্পর্শ স্বাভাবিক জীবন যাপনের যে বৈশিষ্ট্য তা থেকে দূরে রাখে, অস্বাভাবিক জীবনাচরণে অভ্যস্ত করে তাই মেয়েদের পেছনে ঘুরঘুর করে সময় ও অর্থ ব্যয় না হওয়ায় ভালোই আছি।’

‘ প্রেম নেই, প্রেমিকা নেই, পাপ নেই তাই আল্লাহর গজবের ভয় নেই।’

অনেকে প্রেমিকা না থাকায় নিজের ওপর অসন্তুষ্ট। তাদের কথা থেকেই এটা পরিষ্কার। যেমন- ‘মনের মানুষ না পাবার ব্যর্থতা আমাকে হতাশ করে ফেলেছে।’

‘জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারে শেয়ার করার জন্য একজনকে দরকার। সে একজন না থাকায় সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির মাঝামাঝি আছি।’

‘একটা পরিণত বয়সে সবাই চায় প্রেম করতে, না পারলে তা অসন্তুষ্টির কারণ।’

প্রেমিকা আছে তবে সন্তুষ্ট নয়। এমন বক্তব্যও ফুটে ওঠেছে-‘ প্রেমিকা না থাকলেই বোধহয় ভালো হতো। কেউ বিরক্ত করতে পারত না। একাকিত্ব বা নিঃসঙ্গতার মধ্যেও আলাদা একটা মজা আছে।’

এক ব্যর্থ প্রেমিক বলে, ‘ছ্যাকা খেয়ে আমার জীবনের মোড়ই ঘুরে গেছে। প্রেমিকা স্বামী নিয়ে সুখে-শান্তিতেই সংসার করছে। আগে ভাবতাম প্রেম দুজনকে বুঝতে ও বিশ্লেষণে সাহায্য করে। অথচ বাস্তবে দেখলাম ভেতরটা বুঝা অসম্ভব।’

কে বেশি মর্যাদাবান?

বর্তমান সমাজে কে বেশি মর্যাদাবান? ৭.৮৯% মনে করে ধার্মিকরা, ৪৪.৭৩% মনে করে ক্ষমতাবানরা, ২৬.৩১% মনে করে জ্ঞানী/উচ্চশিক্ষিতরা, ২১.০৫% মনে করে ধনীরা, সম্পদশালীরা। কেন উত্তরদাতাগণ কাউকে বেশি মর্যাদাবান মনে করছেন। তাদের উত্তর থেকেই তাদের স্বপক্ষের যুক্তি বা কারণ পাওয়া যায়।

ধার্মিকদের বেশী সুখী ভাবার কারণ- ‘তারা সব সময় সবার সম্মানের পাত্র। সবাই শ্রদ্ধার সাথে দেখে থাকে।’

আর ‘জ্ঞানীদের নেতৃত্বের গুণের কারণে সবাই মান্য করে। জ্ঞানীরা নীতি-নির্ধারকের ভূমিকা রাখে। জ্ঞান সকল ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জনের মূল হাতিয়ার। জ্ঞানের মাধ্যমে অনেক কিছুই অর্জন সম্ভব। জ্ঞানীই অধিক গুণী, গুণীজনের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা সকল সমাজেই বিদ্যমান। জ্ঞানীদের সহযোগিতার প্রয়োজন সবারই হয়। শিক্ষা ও জ্ঞান মর্যাদা বাড়ায়। তাই অতীতেও সবসময় জ্ঞানীদের কদর ছিল। বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। যে জ্ঞানী সেই বড়, দেশ-জাতি-সমাজের কর্ণধার, রত্মধর। জ্ঞানী তার অধ্যয়ন, সাধনার দ্বারা অনেক গুণ, কৃতিত্বই অর্জন করতে পারে।’

যারা ক্ষমতাবানরাই সমাজে বেশি মর্যাদাবান বলে মনে তাদের মতে, ‘ক্ষমতার শীর্ষে যিনি অবস্থান করেন। অন্যরা তার কথা মেনে নিতে বাধ্য থাকে। ক্ষমতার অপব্যবহার না করে সঠিক ব্যবহার করলে তা সবার জন্যই কল্যাণকর হয়। এ যুগটাই ক্ষমতার, ক্ষমতাবানের কাছে সবাই জিম্মি। সমাজে ন্যায়বিচার নেই। ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ভয় করে হলেও ক্ষমতাবানদের কথা শুনতে অন্যরা বাধ্য। ক্ষমতার জোরে নিজের ও অন্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। ফলে ক্ষমতাবানরা ব্যক্তিত্বশালীরূপে গণ্য হয়। যার হাতে যত বেশি ক্ষমতা তার সম্মান তত বেশি। সমাজ ক্ষমতাবানরাই চালায়। ক্ষমতা থাকা মানে সবকিছুই থাকা। ক্ষমতা থাকলে অর্থ, বিত্ত, সুখ-শান্তি লাভ সহজ হয়।’

ব্যবসায়ীদের সমাজে বেশি মর্যাদাবান ভাববার বক্তব্য হচ্ছে, ‘টাকার জোরে সব কিছুই কেনা যায়, অসাধ্যকে সাধ্য করা যায়, সামষ্টিক কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থশালীদের সহযোগিতারই দরকার হয়, টাকা ছাড়া সমাজে টিকে থাকা যায় না। সবকিছুর মূলেই রয়েছে অর্থ। সম্মানের সাথে টাকার পিছনে দুনিয়া ঘুরে। যার টাকা নেই সে মূল্যহীন। টাকা যত বেশি মূল্যায়ন ও গ্রহণযোগ্যতাও তত বেশি। টাকার চেয়ে মূল্যবান কিছুই নেই। আর ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকা থাকে। তাই বড় বড় ব্যবসায়ীরাই বেশি সমাজে মর্যাদাবান।’

বেশি সুখী কে?

বেশি সুখী কে? উত্তরদাতাদের মধ্যে ৭.৮৯% মনে করে নেতা, ১৮.৪২% মনে করে ‘ব্যবসায়ী’ ২৮.৯৪% মনে করে ‘চাকুরীজীবী’, ৪৪.৭৩% মনে করে ‘শ্রমিক’। কিন্তু কেন?

উত্তরগুলোতে দেখা যায়- নেতারা সুখী কারণ- ‘রাজনীতিক ক্ষমতার বলে সব সুবিধা পায়। নেতাদের ক্ষমতা ও টাকা দুটোই আছে। সরকারী অর্থ খেতে পারে। সমাজে দাপট নিয়ে চলতে পারে।’

ব্যবসায়ীরা সুখী কারণ- ‘স্বাধীন পেশা, স্বাধীন চিন্তা, নিজের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা, তৃপ্তিই আলাদা, নিজের ইচ্ছানুযায়ী অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, বাধ্যবাধকতা নেই। কারো অধীনে থাকতে হয় না। অন্যের নিকট জবাবদিহী করতে হয় না। নিজের পছন্দমতো কাজ করা যায়। ব্যবসার মাধ্যমেই কেবল হালাল উপায়েও প্রচুর টাকা পয়সা উপার্জন সম্ভব হয়। বসের ঝাঁড়ি খাওয়া ও পরের অধীনে না থাকায় মানসিকভাবে প্রশান্তিতে থাকা সম্ভব হয়।’

চাকরিজীবীদের যারা বেশি সুখী মনে করছে তাদের কথা হলো-‘নির্দিষ্ট আয় বলে আকাঙ্খাও কম, তৃপ্তি বেশি। সীমিত আয় ও ব্যয়ের কারণে একটা নির্ধারিত গতিতে জীবন ও সংসার চলে। পরিশ্রম ও চিন্তা দুটোই কম। সরকারি চাকরিতে কাজ ফাঁকি দিলেও চাকরি যাবার ভয় থাকে না। ঝামেলা , ঝুঁকি,দুশ্চিন্তামুক্ত, সুখ বেশি।’

যারা শ্রমিকদের বেশি সুখী মনে করছে তাদের কথা হচ্ছে, ‘অল্প টাকা, ছোট্ট পরিসরে নির্মল আনন্দের তাদের জীবন। উচ্চাশা উচ্চাকাঙ্খাও নেই। না পাওয়ার বেদনা নেই, হারানোরও ভয় নেই। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা নেই, সরলজীবন, জটিলতা নেই। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে কম। দিন আনে দিন খায়, স্বপ্ন আর কল্পনার জগতে বিচরণ মানসিক উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার কারণ হয় না। অল্প পেয়েই তুষ্ট থাকে, কাজ করে খায়, খেয়ে ঘুমায়। পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ হালাল। কাজ কষ্টকর হলেও টাকাটা সৎভাবে উপার্জিত। তাছাড়া দুনিয়াতে যাদের সম্পদ কম আখিরাতে তাদের হিসাব সহজ হবে।’

সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত কোনটি?

দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত কোনটি? এ প্রশ্নের জবাবে ১৩.১৫% মনে করে রাজনীতি, ২.৬৩% মনে করে সংস্কৃতি, ৭১.০৫% মনে করে শিক্ষা, ১৫.৭৮% মনে করে অর্থনীতি।

কে কেন গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে? এ প্রশ্নের জবাবে এসেছে, ‘রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ- দেশ ও জাতির উন্নতি-অবনতি, রাজনীতিক কাঠামো ভালো থাকা না থাকার ওপরই নির্ভরশীল। রাজনীতিক স্থিতিশীলতা জনজীবন উন্নয়নে শান্তির স্থায়িত্ব আনয়নে বেশি কার্যকর। ধক্ষংস ও সৃষ্টি দুটোর ক্ষেত্রেই রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে। উন্নত রাজনীতি চর্চা ভালো মন-মানসিকতাসম্পন্ন নেতাদের মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব। যারা ব্যক্তি বা দলের স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাবে।’

যারা শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে তাদের কথা হচ্ছে- ‘উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে শিক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সোপান। জাতি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে উন্নতি অবশ্যম্ভাবী। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ব্যতিত জাতির উন্নতি, জাতির উন্নতি সবই অসম্ভব। দেশ ও জাতির উন্নতিতে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষিত জাতিই সমৃদ্ধ দেশ গঠন করতে পারে, শিক্ষাই উন্নয়নের চাবিকাঠি। সার্বিক উন্নতির জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

সুশিক্ষাই পারে দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ, স্বার্থপরতামুক্ত ব্যবসায়ী, মানবপ্রেমিক মানুষ তৈরি করতে। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত শিক্ষা সর্বাধিক মূল্যবান। শিক্ষার আলো মানুষকে মহৎ, উদার ও উন্নত করে, উন্নত মানুষ দেশকে উন্নত করে। শিক্ষা, ইতিবাচক ও কল্যাণকর তা অর্জনের হাতিয়ার। সকল ক্ষেত্রে অগ্রগতির দ্বার উন্মোচন করে। কর্মমুখী শিক্ষা, সুশিক্ষা, জীবন ও জগৎ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার পূর্বশর্ত।’

যারা অর্থনীতিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে তাদের কথা হচ্ছে, ‘দরিদ্রতামুক্ত দেশ গড়তে অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করা প্রয়োজন। মানুষের মৌল মানসিক চাহিদা পূরণ না হলে অনেক মেধা, প্রতিভা ও সম্ভাবনারই অপমৃত্যু ঘটে, বিকাশ হয় না। ফলে সামগ্রিক সুষম উন্নয়নের ধারা থমকে দাঁড়ায়। সুখ-শান্তি নিশ্চিত করতে হলে সমৃদ্ধ দেশও উন্নত জাতি গড়তে হলে এ খাতাটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব না দেয়া অযৌক্তিক। প্রতিটি গঠনমূলক, কল্যাণমূলক, সৃজনশীল পদক্ষেপ উদ্যোগের পেছনেই অর্থ দরকার, অর্থছাড়া সবকিছুই থমকে দাঁড়ায়। অগ্রগতির চাকা মন্থর, অচল হয়ে পড়ে।’

পছন্দের পরিবার

আপনার পছন্দ যৌথ পরিবার নাকি একক পরিবার? উত্তরদাতাদের ৫৫.২৬% এর পছন্দ একক পরিবার। যারা একক পরিবার পছন্দ করছে, তাদের বক্তব্য হচ্ছে- ‘একক পরিবারে সমস্যা কম থাকে সুখ-শান্তি বেশি থাকে, আয় বুঝে ব্যয় করা সহজ হয়। সদস্য সংখ্যা কম ফলে একাকী নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায়। একক পরিবার, ঝামেলামুত্ত গুছানো, সবাই সকল সুবিধা ভোগ করতে পারে। এখানে সবাই ব্যস্ত থাকে আর ব্যস্ততাই সুস্থতা। এ সকল পরিবারে সদস্যদের প্রয়োজন মেটানো সহজ, অনেক সমস্যামুক্ত থাকা যায়। চাহিদা পূরণ ও লক্ষ্য অর্জন সহজ কেননা কোন্দল করে মতানৈক্য সৃষ্টির সম্ভাবনা কম, মিলেমিশে থাকা সম্ভব। একক পরিবার ছোট পরিবার ,সুখী পরিবার; শান্তি বিরাজ করে। ভাঙনের সম্ভাবনা কম।’

আর যৌথ পরিবার যাদের পছন্দ তাদের বক্তব্যে এসেছে- ‘যৌথ পরিবারে একাকিত্বের যন্ত্রণা থাকে না। সময় কাটানোর সঙ্গী পাওয়া যায়। সবাই একসঙ্গে মিলে মিশে থাকার আনন্দই আলাদা। বেশি সদস্যের ঐক্যতা শক্তি হিসেবে প্রকাশ পায়। একত্রে থাকলে মন ভালো থাকে, সুখ-দুঃখ, ভাগাভাগি করা যায়, আবার সাথে থাকায় হৃদয়টা সুখময় প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। সবার সহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে ব্যক্তিক সফলতা অর্জন ও সহজ হয়। কোনো সংকটে, সমস্যায় অধিকতর সাহায্য পাওয়া যায়। ফলে মনে প্রফুল্লতা থাকে। সুখ শান্তির নীড় গড়ে তোলা সম্ভব হয়।’

অবসর সময়

ছাত্রদের বেশির ভাগ অবসর সময় কাটে কীভাবে? উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪৭.৩৬% মনে করে বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডায় ও গল্পগুজবে, ২৬.৩১%, মনে করে রেডিও, টিভি, কম্পিউটার, ভিডিও গেমস, মোবাইল ও ইন্টারনেটের সাথে, ৭.৮৯% , মনে করে পড়াশুনা ৫.২৬, মনে করে ঘুরাঘুরিও খেলাধুলায়।

এর কারণটা কী? জবাবে উত্তরদাতারা বলেন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা ও গল্প গুজব হয় কারণ-‘পার্টটাইম কাজের অভাব, কর্মবিমুখতা ও অলসতাই এ রকমের এ ধরনের মানসিকতা তৈরি করে। বন্ধুবান্ধবরাই ছাত্রজীবনের বিরাট সংখ্যক জড়িয়ে রাখে। ফলে এ বয়সের স্বাভাবিক দাবিই হয়ে পড়ে যেন বেশি আনন্দ করা। বন্ধুবান্ধবের কাছাকাছি থাকলে মনটা বেশি প্রফুল্ল থাকে।

যেহেতু জ্ঞানার্জন নয় সার্টিফিকেটের জন্যে পড়াশুনা সেহেতু পড়ার চেয়ে বেশি মজার গল্প-আড্ডা। যারা মেসে থাকে বা হলে থাকে, গল্পপ্রিয় স্বভাবের মানুষের কাছে অনেকেই অবসর কাটায়। যা পরিবার থেকে শাসন নিয়ন্ত্রন থেকে মুক্ত রাখে। একাকিত্ববোধ দূর করতে তাই বন্ধুগণই অধিক আপন থাকে। ছাত্রদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ ও আত্মবিশ্বাস কম থাকায় তারা বাইরে নয় পরিচিত কাছের জনদের মাঝেই অবসর সময় কাটাতে, আড্ডা দিতে পছন্দ করে।’

যারা রেডিও, টিভি, কম্পিউটার ভিডিও গেমস ও মোবাইলের সাথে ছাত্রদের বেশিরভাগ অবসর কাটে বলে মনে করে তাদের কথা হচ্ছে, ‘আনন্দের নেশায় উন্মত্ততা, অশান্তির কারনেই এগুলো ভালো লাগে। মোবাইলে প্রেমিকার সাথে দীর্ঘ সময় প্রাণ খুলে কথা বলার মজাই আলাদা। কম্পিউটারে গেমস খেলা আর গান শুনার আনন্দদায়ক ফিলিংসটাই অন্যরকম। প্রযুক্তির নানান ব্যবহার যে কী ধরনের মানসিক তৃপ্তি আনে তা যে ব্যবহার করে না সে বুঝতে পারবে না।

বর্তমান প্রজন্ম এগুলোকে পছন্দ করে, ব্যবহার করে পূর্ববর্তী প্রজন্ম থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠভাবে। এগুলোর মাধ্যমে আনন্দ করাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বেশি, অবসর সময়গুলো এগুলোর সংস্পর্শে যে কীভাবে কেটে যায় টেরই পাওয়া যায় না। আগে বিনোদন পড়ে পড়াশুনা, বর্তমান, শিক্ষা পদ্ধতির কারণেই ছাত্রদের এই নীতি পড়ে উঠেছে।’

অনেকের কথা হচ্ছে, ‘যারা প্রকৃত ছাত্র তারা পড়াশুনাকেই প্রাধান্য দেয়। নামে নয় কাজেই পরিচয় দেয়। ছাত্রজীবনের উদ্দেশ্যটাই তো জ্ঞানার্জন, লেখাপড়া করে বড় হওয়া, মানুষ হওয়া। সচেতন ও বিবেকবান যারা তারা প্রতিযোগিতামূলক পড়াশুনা, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব ও চাকরির বাজারে প্রতিষ্ঠিত হবার উদ্দেশ্যই পড়াশুনাকে গুরুত্ব দেয়।’

খেলাধুলা ও ঘুরাঘুরির ব্যাপারে যারা বলেছেন, ‘শরীর টিক সব ঠিক। অসুস্থ শরীর মানেই চরম বিড়ম্বনা। শরীর সুস্থ রাখতে শরীরচর্চা হিসেবে খেলাধুলা কল্যাণকর। আর অজানাকে জানা, অদেখাকে দেখার মধ্য দিয়ে মনের কৌতুহল মেটে, অন্তরচক্ষু খুলে যায়।’

ধুমপানে আসক্তি

উত্তরদাতাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২৮.৯৪% ধুমপানে আসক্ত, ৬৮.৪২% ধুমপান করে না। যারা ধুমপান করে সবারই ধুমপান শুরু হয়েছে ১৩-২০ বছরের মধ্যে। ধুমপানে আসক্তদের ৬০.৫২% মনে করে ধুমপানে ক্ষতি। বাকীরা ক্ষতির পাশাপাশি অনেক উপকারও আছে বলেন।

কেন ক্ষতিকর এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য হচ্ছে- ‘সিগারেটের মারাত্মক নিকোটিন দেহের ক্ষতির করে। ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে। ধুমপান মানে বিষপান, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু অবধারিত। ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শরীর খারাপ হয়। দেহকে বিষাক্ত করে ফেলে। নানা পেটের অসুখ হয়। মুখে দুর্গন্ধ হয়, দাঁত কালো হয়। নানান অসুখে স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যায়। চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হয়, ত্বকের লাবণ্যতা কমে। দেহ ও মনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। আর্থিকভাবেও ক্ষতি হয়। এটি ব্যক্তিকে কুফল ছাড়া কোনো  সুফল বয়ে  এনে দিতে পারে না।’

একজন বলেন, ক্ষতিকর বুঝালে কী হবে, অভ্যাস হয়ে গেছে ইচ্ছে করলেও ছাড়া সম্ভব না।

দৈহিক অবৈধ সম্পর্ক

দৈহিক অবৈধ সম্পর্ক বেশি ঘটে কাদের মধ্যে? বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক যাদের মধ্যে বেশি ঘটে  বলে উত্তরদাতারা মনে করে- কাজিন/আত্মীয় স্বজনের মধ্যে ৭.৮৯%, প্রেমিক- প্রেমিকার মধ্যে ৮১.৫৭%, সহপাঠী/সহকর্মীদের মধ্যে ২.৩৩%, দূরসম্পর্কের পরিচিতি/এলাকাবাসীর মধ্যে ৭.৮৯%।

কেন ঘটে? এ ব্যাপারে উত্তরদাতাদের বক্তব্য- ‘দৈহিক অবৈধ সম্পর্ক কাজিন/নিকটাত্মীয় স্বজনের মধ্যে বেশি ঘটে কারণ-তাদের মধ্যে যোগাযোগ ভালো থাকে। সহজে বেশি ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ থাকে। বর্তমানে প্রেমের অন্যতম উদ্দেশ্যই যৌন উত্তেজনা মেটানো। প্রেম মানেই যেন, অবৈধভাবে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন। আপনজনকে খুব বেশি কাছে পাবার প্রত্যাশা বৃদ্ধি অধিক সময় একত্রে কাটানোর ফলে মানবিক দুর্বলতা সৃষ্টির ফলে দু’জনের ঘনিষ্টতা বৃদ্ধি পায়। অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতা, ধর্মীয় নীতি- নৈতিকতা শক্তিশালী না থাকায় একসাথে কাজ করতে গিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।’ একজন বলেন, ‘কাজিন হলো ঘরের টেবিলের মতো। একসাথে সময় কাটানোর সুযোগে যৌনতার প্রস্তাব করাটা সহজ হয়।’

প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে দৈহিক অবৈধ সম্পর্ক বেশি হবার প্রসঙ্গে বক্তব্য হচ্ছে, ‘বর্তমানে অধিকাংশে প্রেমই শারীরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়। তারা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। ঘনিষ্ট সম্পর্ক তাদের কাছে টানে, তারা আনন্দ ভোগ করে। এখনকার প্রেম আনন্দ ও ভোগ-বিলাসীতার জন্য। একে অন্যের পরিপূরক। প্রেম দৈহিক সম্পর্কের নামান্তর যেন। কথা থেকে স্পর্শ, স্পর্শ থেকে তারা দৈহিক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়। এরা বেশি আপনভেবে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে।

মোবাইলে কথা, ছবি দেখে কল্পনা, গভীর আকর্ষণ সৃষ্টি করে যা এক পর্যায়ে যৌন সম্পর্কে গড়ায়। প্রেম যত গভীর হয় দু’দেহ ততই নিকটে আসে, বেশি ক্লোজ থাকে, একে অন্যের টাচে থাকে, আনন্দের জন্যে দৈহিক সম্পর্ক বেশি শক্তিশালী হয়। অধিকাংশ প্রেমের সম্পর্কই কামনা-বাসনা পূরণের জন্যে হয়। আসক্তি তীব্র মাত্রায় পৌঁছলে উভয়ের সম্মতিতেই একান্তভাবে কাছে পাবার আশা পূরণ করে। বিশ্বাস পরীক্ষা, দৈহিক ও জৈবিক চাহিদা পূরণ, মনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে দৈহিক মেলামেশা হয়ে যায়। কেননা দুজন দুজনের সন্নিকটে বেশি থাকে।’

আর প্রতিবেশিদের প্রতি নিজের, নিজ বংশের পরিবারের শক্তি সামর্থ্যরে তীব্রতা প্রকাশ করার লক্ষে যৌন সম্পর্কে যেতে পারে। এ ব্যাপারে একজনে লিখেন, ‘ভালোবাসার আবেগ-প্রবণ কথার ফুলঝুড়ির মধ্যে দৈহিক মিলন জীবন খোয়ায়, নিছক প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার সক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।

যৌন সম্পর্কে পছন্দ ও অপছন্দ

মানুষ অবৈধ যৌন সম্পর্কে যায় কেন? উত্তরদাতাদের ১৩.১৫% জবাব দেয়নি, ৪৭.৩৬% এর মতে বৈধ সংস্পর্শের অভাবে, ১৮.৪২% এর মতে স্বভাবগত পছন্দের কারণে, ২৩.৬৮% এর মতে পারিপার্শ্বিক সুযোগ সুবিধার ফলে, ২.৬৩% এর মতে স্বার্থের কারণে বাধ্য হয়।

কোনটি অধিকতর অপছন্দ? ৭.৮৯% জবাব দেয়নি। এছাড়া উত্তরদাতাদের ১০.৫২% এর মতে কোনটিই অধিকতর অপছন্দনীয় নয়। ২১.০৫% এর মতে হস্তমৈথুন, ২১.০৫%  এর মতে পতিতালয়ে গমন, ৩১.৫৭% এর মতে সমকামিতা, ৫.২৬ এর মতে বিপরীত লিঙ্গের সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্ক, ২.৬৩% এর মতে সবগুলোই অধিকতর অপছন্দের।

কেন অধিকতর অপছন্দ- প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন ধরনের জবাব দেখা যায়। যেমন- ‘ধর্মীয় নিষেধ আছে বলে। ধর্মীয় অনুশাসন অমান্য করার ফলে বড় পাপের ভয়াবহ শাস্তি পরকালে পেতে হবে। সমাজের দৃষ্টিতে খারাপ বলে। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে। এগুলোর ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। বিকৃত মানসিকতা অধিকতর ক্ষতিকর। কোনোটিতেই শারীরিক, মানসিক কোনো কল্যাণ নেই।

হস্তুমৈথুনের ফলে নানা শারীরিক সমস্যা হয়। ব্রেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্বাস্থ্যহানী ঘটে, লিঙ্গ মোটা-চিকন হয়ে যায়। বীর্য পড়ার পর ভালো লাগে না, খারাপ লাগে, উত্তেজনা কমে যায়, লিঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে। নানা যৌন রোগ দেখা দেয়।

আর সমকামিতা তথা একই লিঙ্গের দুজনের মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি সমর্থন করে না। বিকৃত রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটে কঠিন রোগ ব্যাধিরও সৃষ্টি হয়।

পতিতালয়ে গমন করলে এইডস হবার সম্ভাবনা থাকে। নানা যৌন রোগ আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়।’

একজন লিখেছেন, ‘ডা. লুৎফর রহমানের যুবক জীবন পড়ে আমার বিবেকের টনক নড়েছে। অসামাজিক, অনৈতিক, পাপকাজে আল্লার গজবে পড়তে হবে, ভবিষ্যতে নানা ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।’

ইভটিজিং ও নারী সহিংসতা বৃদ্ধিতে দায়ী কে?

ইভটিজিং , নারী সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য বেশি দায়ী কে? উত্তরদাতাদের ৭.৮৯% জবাব দেয়নি। ৪৪.৭৩% এর মতে নারী, ১০.৫২% এর মতে পুরুষ, ২৬.৩১% এর মতে, মিডিয়া, ১৫.৭৮% এর মতে আইন।

কীভাবে বেশি? এমন প্রশ্নের উত্তর এসেছে- ‘নারীই তার প্রতি পুরুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আনন্দ উপভোগ করে। নারীদের বেপোরোয়া চলাফেরার কারণেই পুরুষ এসব করতে আগ্রহী হয়। নারী নিজের দেহকে লোক সমাজে অতি লোভনীয়, আকর্ষণীয় করে প্রদর্শন না করলে সঠিক মর্যাদা অবশ্যই পেত। নারী সহিংসতার জন্য  সেসব নারীও দায়ী যারা পুরুষের চোখে সুন্দরী হয়ে ওঠতে সাজগোজ, আঁটসাঁট পোশাক পরে।

পুরুষের যৌন লোলুপতা বৃদ্ধির জন্য নারীর নগ্ন-অর্ধনগ্ন শরীর ও নগ্নতা-অশ্লীলতা দায়ী। পর্দা করে এসব হেলেদুলে চলাফেরা না করলে কেউ ইভটিজিং করতে উদ্ধুদ্ধ হতো না, উৎসাহিত হতো না। নারী নিজে যদি নিজের ব্যাপারে সতর্ক না থাকে তবে তো অনেক কিছুই ঘটতেই পারে। নারীর নিজেই নিজেকে অসম্মানিত করেছে বেশির আর তার আচরণই পুরুষের বিচার বিবেচনাবোধের শক্তিকে দুর্বল করেছ।

নারীর অনাবৃত শরীরের সৌন্দর্য প্রকৃতিগত কারণেই পুরুষকে প্রলুব্ধ করে তাকে কাছে পেতে। খোলামেলা চলাফেরা করবে, অবাধ মেলামেশার পরিবেশ থাকবে,লজ্জাহীনতা-অথচ কিছু ঘটবে না এটাই অস্বাভাবিক। অনেক নারী এসবে মজা পায়, অশালীন চালচলন ইভটিজিংকে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার বানিয়েছে। মেয়েরা এমনভাবে নিজেদের উপস্থাপন করে যে ছেলেরা ঠিক থাকতে পারে না, তাদের মাথা ঘুরে যায়। নারীর নগ্নতা ও অশ্লীলতা বন্ধ না হলে এসব ঘটবেই।’

‘পুরুষ বেশি দায়ী’ যারা বলেছে তাদের কথায় এসেছে, ‘পুরুষরাই নারীকে বেশি প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলে। পুরুষরাই নারীর পেছনে ঘুরঘুর করে, প্রত্যাখ্যাত হলে অঘটন ঘটায়। পুরুষরাই ইভটিজিংয়ের মাধ্যমে আনন্দ পায়। ’

যারা বলেছে-মিডিয়া, তাদের কথা হচ্ছে, ‘প্রচার মাধ্যমের যৌনতা উত্তেজক, ফ্যাশন সচেতন, ও স্মার্ট তারুণ্যের আধুনিকতার নামে যোনা পরিবেশনাই দায়ী। মিডিয়া নারীকে একটি ভোগ্যপণ্য হিসেবেই উপস্থাপন করে। মিডিয়ার অনুষ্ঠানমালাই যেমন নারীকে বেশি মডার্ন, আধুনিক করছে, লজ্জাশীলতা কমাচ্ছে; তেমনি পুরুষকে অতি বেশি জাহির করতে উদ্বুদ্ধ করছে। মিডিয়ায় যা দেখায় বা লেখে দর্শক বা পাঠক তা তার জীবনে বাস্তবায়ন করতে চায়। মিডিয়া মানুষের মনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে তাই মিডিয়ায় নোংরামী দেখে এ ধরনের কাজ বাস্তবজীবনে রূপদানে আগ্রহী হয়। ফ্রিসেক্সুয়াল সমাজের অনুকরণ করতে গিয়ে অনেকে খারাপ কাজে জড়িয়ে যায়।’

যারা বলেছে-আইনের প্রয়োগ না থাকা, তাদের মতে- ‘আইনের যদি প্রয়োগ না থাকে তবে কে আইন থাকা না থাকা সমান। উপযুক্ত আইন থাকলে এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন থাকলে এসব বৃদ্ধি অসম্ভব। আইনে প্রয়োগকারীদের আইনকে কার্যকর করার ব্যর্থতা এ ধরনের সমস্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। আইনকে আরো শক্তিশালী এবং এর প্রয়োগকে সুনিশ্চিত করা না গেলে তা বড় ধরণের ক্ষতি বয়ে আনবে। আইনের ফাঁক- ফোকর দিয়ে অপরাধীরা শাস্তি পাওয়া থেকে নিস্কৃতি লাভ করে, মুক্তি পায়, নিরাপদ থাকে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের সাথে সাথে ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি কমে যাওয়ায় চরিত্রহীনতা বাড়ছে, কলংকজনক কাজে বাড়ছে উৎসাহ।’

পরকীয়া প্রেম

পরকীয়া প্রেম বৃদ্ধির কারণ কী? উত্তরদাতাদের মতে, ‘স্বামীর শারীরিক দুর্বলতা বা সঙ্গদানের অভাবে, রুচিশীল ব্যক্তিত্ব ও স্বকীয়তার অভাবে। স্ত্রী যতটুকু যেভাবে আশা করে, স্বামী ততটুকু সেভাবে না দিতে পারার কারণে, মানসিক অস্থিরতার ফলে, মোবাইল ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি এর মাধ্যমে যোগাযোগের সূত্র ধরে। উভয়ের মাঝে মতের অমিল, দূরত্ব সৃষ্টির ফলে।

সংসারে, দাম্পত্য জীবনে নানা অশান্তি, পছন্দের মানুষের সাথে বিয়ে না হওয়া, স্বামীর প্রবাসজীবন, বিদেশে থাকা কিংবা চাকরি-ব্যবসার কারণে বাইরে থাকা, বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে,পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের অভাবে, স্বামী ও স্বামীর পরিবারের অসচেতনতা, অর্থনৈতিক অক্ষমতা, স্বামীর যৌন দুর্বলতার ফলে।

পারস্পরিক সুসম্পর্কের অভাব, নীতি- নৈতিকতার অবনতি, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর বা শ্বশুর-শ্বাশুরীর অবহেলা, মিডিয়ার প্রভাব, মনের মিল না থাকার কারনে। একের সাথে অপরের ভালবাসা, মূল্যবোধ ও সততার অনুভূতি হ্রাস পেলে, বিবাহপূর্ব প্রেমের জের ধরে পরকীয়া চলে।’

উত্তরদাতারা মনে করেন, ‘পরকীয়া প্রেম কমাতে হলে- স্ত্রীর প্রয়োজনীয় মৌল মানবিক চাহিদা মেটাতে হবে, স্বামীর যৌন দুর্বলতা থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। অপরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। ছেলেমেয়েদের পূর্ণ মতামতের ভিত্তিতে বিবাহ দিতে হবে, উভয়কে একত্রে বসবাস করতে হবে।

প্রত্যেকের সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াতে হবে। চিন্তা-ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও রুচিবোধকে উন্নত করতে হবে, ধর্ম পালনের অনুভূতি বাড়াতে হবে, বিদেশ যাবার আগে কিংবা ছুটিতে এসে বিয়ে করা-বন্ধ করতে হবে। পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো থাকলে, চরিত্রের ব্যাপারে সজাগ থাকলে, প্রত্যেকটা সমস্যা সঠিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দু’জনকে মিলে সমাধান করলে- এটা হবে না। স্বামীকে স্ত্রী থেকে দূরে থাকতে হলে শ্বশুর-শ্বাশুরীর কাছে বা বাবা-মার কাছে রাখতে হবে। রুচিবোধকে উন্নত করতে হবে, দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে।’

প্রেমের মানে

আপনার দৃষ্টিতে প্রেম মানে কী? প্রশ্নটির জবাবে উত্তরদাতারা বলেছেন, ‘প্রেম মানে-দু’জন দু’জনকে ভালোভাবে বুঝা, জানা ও আন্তরিক হওয়া। দুটি মনের একসাথে মিলন, পরস্পরের প্রতি অগাধ ভালবাসা ও পরস্পর বিপরীত দুটি মনের ভিন্ন দুটি দেহকে কাছে পাবার যে কামনা বা আকাঙ্ক্ষা। জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দময় মুহুর্তগুলোর সমষ্টি পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদান।

পরস্পরকে কাছাকাছি হবার তীব্র আকর্ষণ যে আত্মার সম্পর্ক তৈরি করে তাই প্রেম। প্রেম মানে জীবনে চলার পথে সুখের স্পর্শ যা স্বর্গীয় দান, প্রাকৃতিক নিয়মেই সকলের মাঝে আসে। প্রেম বন্ধুত্বের একধাপ ওপরে, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার পরেও আরও কিছু দেওয়া-নেওয়া।’

অনেকে মনে করে- ‘প্রেম মানেই যৌন চাহিদা মেটানো। বিয়ে করে আজীবন সঙ্গী করার আগাম বার্তা দেয় প্রেম। ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা, ভালোবাসা থেকে প্রেম। সত্যিকার প্রেম বলে কিছু নেই। প্রেম শুধু মাত্র সিনেমা-নাটক, গল্প-কবিতা, উপন্যাস-সিনেমাতেই দেখা যায়। বাস্তবে প্রেম মানে স্বার্থপরতা, কিছু পাওয়ার আশা, বাকীটুকু কাল্পনিক।

প্রেমে অভিশাপ, জীবনকে নষ্ট করে, জ্বালা-যন্ত্রণা-দু:খ-কষ্ট আনে, ইহা এমন অভ্যাস যা -ভণ্ডামি, ছলনা, ঘৃণিত কাজে লিপ্ত হতে প্রণোদনা জাগায়। প্রেম মানে জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দময় মুহূর্ত। প্রকৃত প্রেম প্রত্যেককেই তার অভীষ্টলক্ষে পৌঁছায় কেননা প্রেম হলো দুটি মিলিত হৃদয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং সুখ স্বপ্নের সমষ্টিগত প্রয়াস।

প্রেম যে কী তা বলাটা অত্যন্ত কঠিন। এক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুই না, শুধু অতিরিক্ত চিন্তা করা, জীবনের মূল্যবান সময় ও শক্তি নষ্ট করা। বর্তমান যুগে প্রেম পুতুল খেলা, যখন ইচ্ছা খেলা আবার ইচ্ছে হলেই ভেঙ্গে ফেলা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেম মানে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন। দৈহিক স্পর্শ ছাড়া প্রেম অসম্পূর্ণ। আজকালকের প্রেমিক- প্রেমিকার দৈহিক সম্পর্ক হওয়াকে অনেকটা স্বাভাবিক, সাধারণ মনে করে। তাই এ সময়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রেম মানে আনন্দ, মজা; যদিও অনেকের জন্য বেদনার।

যৌনতায় বৈধতার সীমা

আর যৌনতার ব্যাপারে উত্তরদাতার বলেন, ‘মানুষ মাত্রই যৌনতা থাকবে। তবে তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিজ স্ত্রীর সাথে অর্থাৎ যদি সমাজ স্বীকৃত হয় তাহলে বৈধ, ভালো; না হলে খারাপ। ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি-নীতি মেনে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আনন্দময় যৌনতাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখা যেতে পারে। যৌনতা দেহের ক্ষুধা, মনের ক্ষুধা, যা পূরণ করা বা হওয়া প্রয়োজন। এ চাহিদা না মেটার ব্যর্থতা জীবনে ক্ষতি ডেকে আনে। যৌনতার ব্যাপারে সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন রকমের। কেউ কেউ পরিবেশগত, পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপরই নির্ভর করে।

যৌনতা পাপ নয় । কেননা পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণী যৌনতার ফল । দুজনের সম্মতিতে বৈধ পথে যৌন সম্পর্কে দোষ নেই ।  সমাজের চোখে যেটা বৈধ সেভাবে হলেই অনেক বিড়ম্ভনার ঝুঁকি এড়ানো যায় । যৌনতা খারাপ চোখে দেখার কিছু নয় । যৌনতাকে অস্বীকার করে জীবন চলে না । আসলে যৌনতাবিহীন জীবনটাই অর্পূণাঙ্গ। যৌনতাকে অনেকে স্বভাবগত ভূল আচরণ ভাবলেও এটা চরম বাস্তবতা । যৌন আকর্ষণ স্রষ্টার পক্ষ থেকে নেয়ামত । যদি ধর্মীয় বিধান মেনে করা হয় তাতে সওয়াব আর নিয়ম নীতিকে অবজ্ঞা করে একাজ করলে গজবে নিপতিত হতে হয় ।

তবে অবৈধ যৌন আচরণকে খারাপ, নৈতিক অবক্ষয়জনিত কারণ হিসেবে দেখা হয় । অবৈধ বা অস্বাভাবিক যৌন আচরণ খুবই নিকৃষ্ট, যা মানসিক রোগের বহি:প্রকাশ । এ কুঅভ্যাসটি ব্যক্তিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় । গোপনীয় যৌন সম্পর্কে জড়ালে সমাজে তারা বখাটে ছেলে মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত হয় ।
যৌনতা বৈধ হলে সমর্থন, অবৈধ হলেই ঘৃণা। অনেকেই বিয়ের আগের যৌনতাকে জঘন্য পাপ, অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে থাকে ।

আর বিয়ের পর মাসে দুতিন বার সহবাস করা স্ব্যাস্থের জন্য ভালো; অতিরিক্ত হলে স্ব্যাস্থের জন্য ক্ষতিকর । মানুষ মাত্রেই যৌনতা থাকবে তবে তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যে যৌনতা সমাজ স্বীকৃত তাই কেবল ভালো, না হলে খারাপ । যৌনতা আনন্দময় তবে স্ত্রীর সাথেই কেবল বৈধ ।’

একজন বলেন, ‘সবাই যেভাবে দেখি আমিও তাই । তবে আমি ব্যাক্তিগতভাবে পরিবেশগত অবস্থার উপরই নির্ভর করি । যৌনতা হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক ক্ষুধা , যা স্রষ্টা প্রদত্ত । ইহা যে কোনো মূল্যে পূরণ করা প্রয়োজন নয়তো শরীর ও মনের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে । যৌন চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা জীবনের ক্ষতি ডেকে আনে ।’

পড়াশুনা ছেড়ে দেয়ার পেছনের কারণ

উত্তরদাতাদের ধারণা অনুযায়ী দেয়া উত্তরের গড় দেখা যায়, যারা পড়াশুনা ছেড়ে দেয়। এর পেছনে কারণ অর্থনৈতিক সংকটে ৩৫.৭৪%, প্রেমঘটিত কারনে ১৭.১০%, অভিভাবকের অসচেতনতার কারনে ২৭.৬৫%, অসৎ সঙ্গীর প্রভাবে ১৭.১০%। উত্তরদাতাদের ধারণানুযায়ী উত্তরের গড় করে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে ২০%, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ৩৫%, উচ্চতর স্তরে ৪৫%।

আসক্তি ও প্রেম

উত্তরদাতাদের ধারণা অনুযায়ী দেয়া উত্তরের গড় দেখা যায়,  শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধুমপান করে এমন সংখ্যাটা-প্রাথমিক স্তরে ৬.০২%, মাধ্যমিক স্তরে ৩১.০৫%, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৪৮.১৩%, উচ্চতর স্তরে ৩৬.৯৭%। ছাত্র বয়সে গভীর প্রেম কল্যাণকর মনে করে ৫.২৬% আর ক্ষতিকর বলেছে, ৯৪.৭৩%।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.