জয়তু জাবিয়ান!

জয়তু জাবিয়ান! ভালোবাসায় জাবিয়ান! কৃতজ্ঞতায় জাবিয়ান! উচ্ছ্বাসে জাবিয়ান! বিশ্বাসে জাবিয়ান! অগ্রযাত্রায় জাবিয়ান! সহযোগিতায় জাবিয়ান! ভ্রাতৃত্বে জাবিয়ান!

ড. ওমর ফারুক সুজন প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় জাবিয়ান এক বড়ভাই। অর্থনীতি বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের মেধাবী মুখ।  যার গবেষণার মন প্রেরণা যোগায়। সরলতা সহজ জীবনের পথ নির্দেশ করে। তিনি খুবই গঠনমূলক বিশ্লেষণধর্মী পরামর্শ দেন। যার আন্তরিকতা-ভালোবাসা ঋণী করে আমায়।

সহযোগিতার কি যে উদার মানসিকতা! আগের মতই আছেন তিনি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে ২০১৩ সালে তুরস্ক সরকারের বৃত্তি নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে যান।  বিদেশি পিএইচডি ডিগ্রিও ভাব বাড়ায়নি! কোনো অহংকার নেই। ৩৩ দেশের ১৫ ভেরিএবলের ৩৫ বছরের ডাটা নিয়ে কাজ করেছেন। নোবেল পুরস্কার পাওয়াদের মডেলকেও আঘাত করেছেন। বিষয় ছিল- ‘কেবল জিডিপি বৃদ্ধি পরিবেশের দূষণ কমাতে পারে কিনা?’

ভাইয়ের সাথে দেখা হবার পর মনে পড়লো- ফেলে আসা সুন্দর দিনগুলোর কথা! জাবিতে পুরোনো অনেক স্মৃতি! ক্ষণিকের আলাপে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেললো! ভাইয়ের সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা! অন্যদের জীবনকে সহজ ও উপভোগ্য করে তোলার চিন্তা! ভাই যখন বলেন- মনে হয় কোনো বিতার্কিকের বিতর্ক শুনছি।

৪ সেপ্টেম্বর দেখা হলো! কথা হলো! অসাধারণ আলাপচারিতা! কেন যেন মনে হলো- কূপমণ্ডূকেরা এসব নতুনত্বের কদর বুঝবে না!
আধুনিক ব্যাখ্যা খুব সহজে গ্রহণও করবে না! তারপরও ভাইয়ের অনুসন্ধানী মন আমাকে চমৎকৃত করলো। ভাই চিন্তায় বেশ অগ্রগামী! কর্মেও সৃজনশীল! আচরণে বুদ্ধিদীপ্ত! যুক্তিতে ক্ষুরধার! সংকীর্ণতার উর্ধ্বে ওঠা পরিশ্রমী সাধক! গতানুগতিকতার বাইরে কাজের চিন্তায় বেশ উৎসাহিত হলাম।

পুরাতন নিয়ে পরে থাকাদের নতুন তত্ত্ব ও তথ্য জানানো খুব চ্যালেঞ্জিং! যেদেশে গবেষণার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই বেখেয়ালী ও উদাসিন!
কাট, কপি, পেস্ট করে মানহীন থিসিস লিখে ডক্টরেট ডিগ্রি পাচ্ছেন! সেই দেশে সামাজিক গবেষণার মনোযোগী গবেষকের যথাযথ মূল্যায়ন হবে কি-না শঙ্কার। যেসব বিষয়ে গবেষণায় বিপুল অর্থ ব্যায় প্রয়োজন, এমন গবেষণা কম বাজেটে কিভাবে হবে তা আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বুঝে আসে না!

তবে ভাইয়ের কলমে ধার আছে! অন্তর্দৃষ্টি আছে! প্রসারিত বক্ষ আছে! স্বচ্ছ হৃদয় আছে! মগজ চালিত দেহ আছে! পুরাতন ছেড়ে নতুনকে গ্রহণের মানসিকতা আছে! ধার করা চিন্তা নেই! অনুকরণ প্রিয় মন নেই! নতজানু মানসিকতা নেই! সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের সুতীব্র বাসনাও নেই! বিলাসী যিন্দেগী যাপনের অদম্য স্পৃহাও নেই। কর্মপ্রিয় মানুষটি ‘গ্যাপ’ খুঁজে বের করেছেন। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করেছেন। কাজেও নেমে পড়েছেন।

আজব দেশের আজব মানুষদের ভিড়ে ভাইকে ব্যতিক্রম মনে হলো! দৈনন্দিন জীবনের আরাম-আয়েশ বৃদ্ধির চেয়ে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করায় মনোযোগ বেশি! মানুষের জন্য ব্যাপক ভিত্তিক কাজ করার স্বপ্ন আছে!

দেশের উন্নতির জন্য ও মানুষের উন্নয়নে ভাইয়ের মেধা কাজে লাগুক। ভালো থাকুন! সুস্থ থাকুন! নিরাপদে থাকুন! ভাই নিজের লক্ষ্যে অটুট ও অবিচল থাকুক! স্বপ্নগুলো ডানা মেলুক সম্ভাবনার অসীম আকাশে! ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা!

About আনিসুর রহমান এরশাদ

শিকড় সন্ধানী লেখক। কৃতজ্ঞচিত্ত। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ভেতরের তাগিদ থেকে লেখেন। রক্ত গরম করতে নয়, মাথা ঠাণ্ডা ও হৃদয় নরম করতে লেখেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাক্ষিক-মাসিক-ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংকলন, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও জাতীয় দৈনিকের সাথে সম্পর্ক। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পড়েছেন মিডিয়া ও জার্নালিজমেও। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা গ্রামে।

View all posts by আনিসুর রহমান এরশাদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *