চুল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ

মার্শিয়া খান মিথুন

ছোটবেলায় বাচ্চাদের মাথায় চুল কম থাকতেই পারে। যদি কোনো বাচ্চা অনেক চুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করে সে চুলটা ঝরে যায় কারণ সেটা স্থায়ী চুল না। অনেকে বাচ্চার মাথায় পাতলা চুল দেখে বারবার চুল ফেলে দেন বা টাক করেন, এটা মোটেও ঠিক নয় এতে চুল ঘন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। বারবার টাক করলেও একটি চুলের গোড়া থেকে একটি চুলই বের হবে দুটি বা তিনটি চুল নয়।

চুলের ঘনত্ব নির্ভর করে বংশগত জিনগত এবং খাদ্যাভ্যাস। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাদের চুল গজানো শুরু করে এবং চুল ঘন হতে শুরু করে, এটা এমনিতেই হয়ে থাকে চুল ফেলার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো বাচ্চাকে কি দেখেছেন ছোটবেলায় চুল ছিল না কিন্তু বড় হলেও টাক?!!

বারবার টাক করলে বা চুল ফেলে দিলে বাচ্চার ব্রেইন এর ক্ষতি হয় চুলের ক্ষতি হয় এতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মাথার চুল পড়ে যায় এবং চুল পেকে যায় অল্প বয়সে। চুল মোটা হয়ে যায় যা দ্রুত চুল পেকে যাওয়ার একটি কারণ। চুলের সিল্কি ভাব নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে বাচ্চা জন্মের সাথে সাথে মাথায় অতিরিক্ত তেল, সরিষার তেল দিয়ে থাকেন এটা মোটেও ঠিক নয়। সরিষার তেল চুলের জন্য না। ডাক্তাররাও সরিষার তেল দিতে নিষেধ করে থাকেন। সরিষার তেল খুব ঘন হয় এতে চামড়া ইনফেকশন হতে পারে।

আমার মতে খাঁটি নারকেল তেল চুলের জন্য সবথেকে ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে না। গোসলের আগে এক ঘন্টা আগে নারকেলের তেল ভালো করে মাথায় ম্যাসাজ করে তারপর গোসল করিয়ে দিবেন শ্যাম্পু দিয়ে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চুল আচরে দেওয়া এবং সন্ধ্যায় একবার। চুল বড় থাকলে সন্ধ্যার সময় চুল বেঁধে রাখতে হবে। ভালো মানের শ্যাম্পু ব্যবহার করা এবং চিরুনি সবসময় পরিষ্কার রাখা। বিছানা, বালিশ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। চিরুনি, বালিশের কভার, তোয়ালে সব সময় আলাদা ব্যবহার করা। কারো জিনিস শেয়ার না করা। কারো জিনিস নেবো না কাউকে দিবোনা।

মাথার ভেতর ঘেমে থাকে কিনা সেটা খেয়াল রাখতে হবে। ভেজা চুল আচঁড়ানো যাবে না। গোসলের আগে চুল আঁচড়ে তারপর গোসল করতে হবে। বাচ্চাদের মাথা গরম থাকে এজন্য নিয়মিত গোসল করানো টাও খুব জরুরী। বছরে দুই থেকে তিনবার অবশ্যই চুলের আগা ছেটে দিতে হবে। যারা মনে করেন ছোটবেলায় চুল রাখা যাবে না, চুল বড় থাকলে বাচ্চা শুকিয়ে যাবে বা পুষ্টি পাবে না। এসব ভুল ধারণা। আমার মত ছোটবেলাতেই চুল রাখতে হয় কারণ বড় হলেই বড় চুল রাখা যায় না যত্ন করার সময় থাকে না প্রেগনেন্সির পর এত এত চুল পড়তে থাকে।

বাচ্চাদের চুল যদি বড় থাকে অবশ্যই বেঁধে রাখতে হবে যাতে চুলের ভেতর ঘেমে না যায়। আমি চুলে খুব একটা তেল দেই না। তবে তেল যদি দিতে চান খাঁটি নারকেল তেল ভালো। অনেকে গরমের সময় টাক করে দেন এটা ঠিক নয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই জেনে মানুষের শরীরের লোম দিয়েছেন। লোম অবশ্যই দরকার আছে। খুব গরম পড়লে চুল ছোট করে ছেটে দিতে পারেন। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যাতে চুল ভালো হয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি ডিম, ২৫০মি.লি দুধ, ঘি, মাখন, মাছ-মাংস রাখতে হবে।

কারো চুল যদি পাতলা হয়ে থাকে, হোক পাতলা, কারো জীবন থেমে থাকবে না পাতলা চুলের জন্য। আপনি আপনার যত্ন করে যান। চুল ঘন করার জন্য বারবার টাক করে ব্রেইন এর ক্ষতি করবেন না। কোনটা বেশি জরুরি চুল ঘন নাকি ব্রেইন? আধুনিক পিতামাতাদের বলছি দয়া করে কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসুন। এই যে অল্প বয়সে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মানুষ টাক হয়ে যায় চুল পেকে যায় এগুলোর জন্য কিছুটা বংশগত দায়ী আছে তবে ছোটবেলায় বারবার টাক করা ও অনেকাংশে দায়ী। চুল অনেকটা পেন্সিলের মত। পেন্সিলের আগা যদি কেটে ফেলা হয় বা ভেঙ্গে যায় সে ক্ষেত্রে পেন্সিল কিন্তু মোটা হয়ে যায় তাই আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় যে চুল মোটা হয়ে গেল কিন্তু চুল যখন আবার বড় হয়ে যায় আবার সেই পাতলা হয়ে যায়। তাই চুল কাটলে কিন্তু কোনো লাভ হয় না ক্ষতি হয়। একটি চুল দুটি হয় না কিন্তু।

চুলের যত্নে আমলকী ব্যবহার করতে পারেন। আমলকী চিবিয়ে খেতে পারেন, আমলকি বেটে মাথায় দিতে পারেন অথবা নারকেল তেল দিয়ে আমলকি ফুটিয়ে সেই তেল মাথায় ব্যবহার করতে পারেন। সেটা একদমই প্রাকৃতিক জিনিস। চুলের জন্য খুবই ভালো। চুল পড়া বন্ধ করে চুল কালো করে। বাচ্চার মায়েরা এটা করতে পারেন। আরেকটু বড় বাচ্চাদের জন্য। একদম ছোট বাচ্চাদের সাথে এমনটা করবেন না।

অনেক সময় বাচ্চাদের মাথায় খোস পাঁচড়া হয়ে থাকে তাই অনেকে টাক করে দেন কিন্তু চুল দায়ী নয় খোস-পাচড়ার জন্য। দায়ী অপরিষ্কার থাকা বা অন্য কোনো কারন হতে পারে সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। চুল ছোট করে দিতে পারেন সেক্ষেত্রে কিন্তু একদম সেভ করবেন না। কোনো কিছু জানার ইচ্ছা হলে গুগোল করুন। কুসংস্কারে বিশ্বাসী হবেন না। আমি আবারো বলছি বারবার টাক করে দেওয়া চুল ঘন করার জন্য এটা একেবারেই কুসংস্কার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *