উৎপেতে থাকা কালো শকুন
ধ্বংসের খেলা খেলে চলে যায়।
রক্ষকই কখনো ভক্ষক হলে
আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে যায়।
শিকারি কালো শকুনের তীক্ষ্ণদৃষ্টি,
আবর্জনা ও হাড়গোড়েই মনোযোগ যার।
বর্জ্যভূক পাখি চায় না সৃষ্টি;
ধ্বংসের জন্য ক্লান্তিহীন অপেক্ষা তার।
প্রশস্ত ডানার ওপর ভর করেও এরা
সংকীর্ণতা নিয়ে আকাশে উড়ে বেড়ায়।
অসুস্থ ও মৃতপ্রায়দের পাশে থাকে তারা
মৃতপ্রাণীর পঁচা-গলা দেহের অপেক্ষায়।
ক্ষুধার্ত পেটে জীবিতদের দেখায় কষ্ট শকুনের,
প্রাণোচ্ছলতা ও সজীবতা তার কাছে নিরানন্দের।
মৃতদেহে বসে মৃতদেহ খাওয়ায়ই আনন্দ তার,
প্রাণস্পন্দনেই বিরক্তি বাড়ে মড়াখেকো পাখিটার।
শকুনের জন্য শুভ কামনা জানায় শকুন
ময়লার ভাগারই তাদের নিরাপদ ঠিকানা।
মানুষের সমাজে অনিরাপদ বোধ করে শকুন
পরিচ্ছন্ন নগর ছাড়তে তার কত যে বাহানা!
আকাশে চক্কর দিতে থাকা শকুন
গরু মরার দোয়া করতে থাকে।
উড়ে গিয়ে উঁচু গাছের ডালে বসা শকুন
খাল-মাঠে মৃত গবাদিপশু দেখে নাচতে থাকে।
বিষাক্ত খাবারও হজম হয় শকুনের পেটে,
মুক্ত ডানা মেলে তাই উড়ে উড়ে ছুটে।
শান্তির রাত পরিণত করে কালো রাতে,
চেষ্টা করে স্বর্গের শহরকে নরক বানাতে।
শকুন পথ ভুলে মানুষের নগরে এলে,
ভদ্রতা দলিত হয় শকুনের পদতলে।
আশ্রয়দাতার মাথা খুবলে খাবার পাপে,
আশীর্বাদ পরিণত হয় অভিশাপে।
শকুনই কোথাও সর্বেসর্বা হলে
জীবনের বাসযোগ্য সেটি থাকে না।
শকুনের থাবার নিচে একবার পড়লে
পাল্টা আক্রমণ সহজে চলে না।
কখনো শকুন যদি আসে মানুষের বেশে
ঘাড়-মাথা-পিঠে তখন বিষাক্ত কামড় বসে।
দেয় রক্ত পিপাসু শকুন নখের আঁচড়
তখন অপশক্তির উল্লাস সবাই করে ঠাহর!
ফিকে হয়ে যায় অনেকের বাঁচার স্বপ্ন!
শান্তির পায়রাকে হত্যা করা মানে
আস্থার শেকড়কে ওপরে ফেলা।
শকুনকে পুষতে শিখে যাওয়া মানে
শকুনের সাথে লড়াইয়ে মানুষকে ঠেলা।
-আনিসুর রহমান এরশাদ
রচনাকাল ০৫-০৭-২০২১