শিক্ষার্থীরা নেতা হয়ে ওঠবে যেভাবে

আনিসুর রহমান এরশাদ : হঠাৎ করে একদিনে কেউ নেতা হয়ে যায় না। নেতৃত্ব চর্চার ব্যাপার। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি ও বিকশিত হয়। শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা এক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যত্নের ধরণেও পার্থক্য থাকা প্রয়োজন। বয়সভেদে, শিক্ষাভেদে পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনায়ও আনতে হয় পরিবর্তন।

শিক্ষার্থীরা শিখবে জীবন থেকে। দেখে শিখবে। শোনে শিখবে। পড়ে শিখবে। ঠেকে শিখবে। ঠকে শিখবে। সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে শিখবে। সম্ভাবনার বিকাশ করতে চেয়ে শিখবে। সফল হয়ে শিখবে। ব্যর্থ হয়ে শিখবে। সফল নেতাদের জানবে। জগতে প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম-লড়াই করতে গিয়ে শিখবে। বই পড়বে। নিজের চিন্তা-ভাবনা লিখবে।

হৃদয়জয়ী নেতৃত্বের পথ বইয়ে নেতৃত্ব ও হৃদয়জয়ী নেতৃত্ব বলতে কী বুঝায় এবং এটা কেমন করে সৃষ্টি হয়- তা খুবই সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। সমাজের উন্নয়নের জন্য, পরিবর্তনের জন্য, মানুষের চিন্তার জগতে পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করতে চাইলে নতুন নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন। আইডিয়ার উন্নয়ন প্রয়োজন। হৃদয়গ্রাহী কথামালায় তথ্যবহুল আলোচনা উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

নেতৃত্বদানের কৌশল রপ্ত করার জন্য সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন। নেতা এমন হবেন যে সবার দায় তিনি বুক পেতে নেবেন, কর্মীর ওজনটা বহন করবেন। তাদেরকে স্বপ্ন দেখাবেন, মোটিভেশন দেবেন। স্বপ্ন ও বাস্তবতার মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবেন। এই নেতৃত্ব তৈরির জন্য শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। বিভিন্ন সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী ও ক্লাবে যুক্ত করা যেতে পারে।

অনেক নেতা নেতৃত্ব দেন; কিন্তু জনগণের মন জয় করতে পারেন না। মন জয় করার জন্য যা যা দরকার তার রসদ শিক্ষার্থীদের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে। নবীন প্রজন্মের মনোজগতে পরিবর্তন আসতে পারে, প্রবীণ প্রজন্মের সঠিক যত্ন ও পরিচর্যারে মাধ্যমেই। পৃথিবীর নামি-দামি অনেক প্রতিষ্ঠিত ও সফল ব্যক্তিবর্গের জীবনী উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে পারে। ধর্মের নীতি-নৈতিকতা আকর্ষণীয় হতে পারে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষ সবারই কল্যাণচিন্তা করতে হবে।

এদেশের নবীনদের এমনভাবে গড়ে উঠা দরকার, যারা দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করবেন। যারা আগামী দিনের বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তারা হবে মানবপ্রেমী নেতা। যারা মানুষকে ভালোবাসবেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। মানুষের জন্য নিজেদেরকে বিলিয়ে দিবেন। ছোটবেলা থেকেই পরের কল্যাণে কাজ করার চর্চা করলে তরুণ প্রজন্ম বাস্তবধর্মী নেতৃত্ব উপহার দিতে পারবে।

তরুণ সমাজকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখানো খুবই প্রয়োজনীয়। অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন সেক্টরের নেতৃত্বের অবস্থান ও চিন্তা জানাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখাতে হবে; যেখানে কোনো কষ্ট থাকবে না, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে, ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অন্যায় দূরীভূত হবে।

শিক্ষার্থদের মধ্যে নেতৃত্ব দানের দক্ষতার উন্নয়ন হলে সবার জন্যই তা উপকারে আসবে। অদূর ভবিষ্যতে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করার জন্য যে ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন, যে ধরনের নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়া দরকার; সে বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ জীবনের জন্য ও ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ইস্যু নেতৃত্ব; যা জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নেতৃত্বের বিভিন্ন পন্থা আছে, পদ্ধতি আছে, বৈশিষ্ট আছে; যা মানুষের উপকারে আসে। শিক্ষকদের সামাজিক-মানবিক-দলীয় কাজে এমনভাবে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাতে হবে; যাতে তারা নেতৃত্বের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা খুঁজে পায় এবং লিডারশিপ প্রসেসে এগিয়ে আসে। মানুষ শুধুমাত্র সঠিক নেতৃত্বের অভাবে, নেতৃত্বের সঠিক বোঝাপড়ার অভাবে, জীবন ঘনিষ্ঠ লিডারশিপের অভাবে অনেক কষ্ট করছে। এমন নেতৃত্ব দরকার যারা মানুষের জন্য ভাববে, মানুষের সমস্যার সমাধান করবে। হৃদয়জয়ী নেতৃত্ব দরকার, সেবাধর্মী নেতৃত্ব তৈরির কথা বলা আছে।

আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম। নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, নেতৃত্বদানের যোগ্যতা, নেতৃত্বদানের কৌশল রপ্ত করা প্রত্যেকের জন্যই খুব জরুরি। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রও নেতৃত্বের কারণে বদলে যায়। নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়তো সবার থাকে না। সেক্ষেত্রে বাস্তব জীবন থেকে, সমাজ থেকে, চারপাশ থেকে শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থবহ নেতৃত্ব আলোকিত নেতায়। নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি সম্পন্ন নেতায়। সার্থক নেতায় টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়। নেতাকে ব্যবস্থাপনা বুঝতে হয়, যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হয়, অন্যদের মন-মানসিকতা বুঝতে হয়, দল পরিচালনা করতে হয়, সিদ্ধান্ত নিতে হয় ও পরিকল্পনা করতে হয়। ভালো কিছু হতে হলে ভালো অভ্যাস লাগবে। সময়কে বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞান অর্জন করতে হয়। যত দ্রুত সম্ভব শুরু করে দিতে হয়। সফলতার জন্য সঠিক পরিশ্রম করতে হয়। পথ ও উপায় বের করতে হয়। লক্ষ্য স্থির করে নিতে হয়। মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হয়। দুর্দান্ত কিছু করতে লেগে থাকতে জানতে হয়। সত্য কথা বলে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হয়। স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হয়। শরীর চর্চা করতে হয়।

মানুষের গল্প শোনতে হয়। ভালোবাসার কাজটি বেছে নিতে হয়। কাজে মনোযোগী হতে হয়। আমি মানি না বলতে শিখতে হয়। চারপাশের মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা তৈরি হতে হয়। যা আছে তা থেকেই ভালো কিছু বের করে আনতে হয়। জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে হয়। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সংকল্প থাকতে হয়। অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম হতে হয়।

উন্নতিসাধনের জন্য উদ্যোগ নিতে হয়, সংগঠক হতে হয়। পরিচিতি বাড়াতে হয়। যোগাযোগ বাড়াতে হয়। বন্ধন শক্তিশালী করতে হয়। পার্সোনাল ব্রান্ডিং দরকার হয়। প্রাতিষ্ঠানিক ব্রান্ডিং দরকার হয়। কান্ট্রি ব্রান্ডিং দরকার হয়। হাল ধরে থাকতে হয়। সময়ের দাবি অনুযায়ী বদলাতে হয়। কঠিনেরে ভালোবাসতে হয়। এজন্য সুশিক্ষা দরকার। আদর্শ নেতা হয়ে উঠতে হয়। স্বপ্ন দেখতে ও দেখাতে হয়।

নেতা হবার জন্য ক্রমোন্নতির প্রয়াস জরুরি। জীবন ব্যবস্থাপনা জ্ঞান দরকার। ভোগবাদী মানসিকতা পরিহার করা দরকার। নেতৃত্ব চর্চার সুযোগ নেয়া দরকার। বাঁধা দূর করা দরকার। সমস্যার সমাধান করা দরকার। কলুষতামুক্ত হওয়া দরকার। দ্বিধা-দ্বন্ধ দূর করা দরকার। অপরের জন্য কষ্ট করার মানসিকতা দরকার। নিজের বোঝা অন্যের ওপর না চাপানোর সচেতনতা দরকার।

নেতা যে দিকে এগুচ্ছেন, সেটাতে মনোযোগ দিবেন। দক্ষ হবেন। মানবিক মর্যাদার অবনমন করবেন না। কাজের জন্য চড়া মূল্য হাকাবেন না। পরিবর্তন নিজেকে দিয়েই শুরু করবেন। গুণগত পরিবর্তনে সচেষ্ট হবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজের সামর্থ্যের উন্নয়ন করবেন।

যেকোনো সেক্টরেই নেতৃত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে নিজে প্রচেষ্টা চালান; অন্যকে লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা করেন, কাঙ্খিত আচরণে উদ্বুদ্ধ করেন, অনুপ্রেরণা দিয়ে উদ্যেগী করেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করায় উৎসাহিত করেন। এখন যে নেতার লক্ষ্যটাই মহৎ নয়, তার নেতৃত্বে একদল মানুষ কোনো মহত্তর উদ্দেশ্যে নিবেদিত হবে না। ভালো নেতার মাধ্যমে কর্মীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। একজন দক্ষ নেতা বা গুণী নেতার কর্মীরাও দক্ষ হয়, গুণী হয়। আর অসৎ নেতা প্রভাব বিস্তার করে জোর-জবরদস্তি করে। অধিকাংশ মানুষই তাকে মন থেকে সম্মান করে না।

নেতৃত্বের বিভিন্ন ধরন আছে। নেতৃত্বের ধরন ভেদে চ্যালেঞ্জও ভিন্ন। আগামীর নেতৃত্বকে নয়া নয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।আর বাংলাদেশে নেতৃত্বের নানা ধরনের সংকট রয়েছে। বাংলাদেশে নেতার অভাব না থাকলেও সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের সংকট প্রবল। যে দেশে জন্ম নিয়েছেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতা, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতো নেতা, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো নেতা সে দেশে সঠিক নেতৃত্ব চর্চার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়।

হযরত মোহাম্মদ (স.) এ বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও বড় নেতা মানবতার জন্য মডেল। মানুষকে তিনি পরিচালিত করেছেন, অনুপ্রাণিত করেছেন এবং সর্বোত্তম ডিসিপ্লিন শিখিয়েছেন। সম্পূর্ণ নেতিবাচক সমাজকে ইতিবাচক সমাজে পরিবর্তন করে নতুন সভ্যতার সৃষ্টি করেন। মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করেছেন। এরপর ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) । ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা, আল-ফারুক ও হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)। উমর ইবনে আব্দুল আযিয (রহ)। যারা শাসক হয়েও ছিলেন নিঃস্ব।

তাদের উজ্জ্বলতম কর্মকাণ্ড পৃথিবীকে আরো এগিয়ে দিয়েছে। নিজের আরাম-আয়েশ ও সুখ-সুবিধার ওপর জনগণের প্রয়োজন ও সুখ-সুবিধাকে প্রাধান্য দিতেন। নিজেরা ভালো খেতেন না, ভালো পরতেন না, আলিশান ভবনে বসবাস করতেন না, উৎকৃষ্ট জাতের বাহন ব্যবহার করতেন না। সব ধরনের বিলাসদ্রব্য পরিহার করতেন। জীবন-জীবিকা অতি সাধারণ মানুষের স্তরে নামিয়ে আনতেন। তা-ই আহার করতেন, যা একজন নিচু স্তরের মানুষ মেটাতে পারত। তেমন পোশাকই পরতেন যা একজন অতি সাধারণ মানুষ পরতো। নিজেদের সম্পদ অকাতরে বায়তুলমালে দিতেন, দান করতেন। জীবন প্রণালি ছিল সহজ-সরল। অন্যদের অধিকার যথাসময়ে প্রদান করতেন। কোনো মিথ্যার আশ্রয় নিতেন না। সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে মানুষকে মর্যাদা দিতেন।

বিভিন্ন জাতির মাঝে মহান নেতা দেখা গেছে। যেমন- ভারতে মহাত্মা গান্ধী ও ইন্ধিরা গান্ধী, দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলা, ইরানে ইমাম আয়াতুল্লাহ খোমেনী (রহ​.), চীনের মহান নেতা মাও সে তুং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মার্টিন লুথার কিং আব্রাহাম লিংকন, ফ্রাংকলিন ডি. রুজভেল্ট ও জর্জ ওয়াশিংটন, ফ্রান্সের মহাবীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, ব্রিটেনের উইনস্টন চার্চিল ও মার্গারেট থ্যাচার, ম্যাসিডোনিয়ার আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট, রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো, জার্মানির এডলফ হিটলার, আর্জেন্টিনার চে গুয়েবারার, রাশিয়ার জোসেফ স্ট্যালিন ও ভ্লাদিমির লেনিন, মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ, বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তুরস্কের মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক, আলবেনীয় বংশোদ্ভূত মাদার তেরেসা। এখনতো রাশিয়ায় ভ্লাদিমির পুতিনকে, উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনকে, চীনে শি জিন পিংকে, জার্মানিতে অ্যাঞ্জেলা মার্কেলকে, তুরস্কে রজব তাইয়েব এরদোগানকে মহান নেতা বলা হচ্ছে বা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে মহান নেতাতো আর দাবি করার ব্যাপার নয়, কে মহান নেতা আর কে নয় তা ইতিহাসই ঠিক করবে।

আসলে নেতৃত্ব আর কর্তৃত্বকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক না। কর্তাই সব সময় নেতৃত্ব দেবেন আর বাকিরা অনুসরণ করবে এমন কোনো কথা নেই। পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে যে কেউ সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করার মাধ্যমে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারে। নেতৃত্বকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা না করে কাজকেন্দ্রিক চিন্তা করা উচিত। প্রতিটি মানুষই নেতৃত্ব চর্চা করতে পারে। নেতৃত্বের মূল কথা কাজ। যে ব্যক্তির পদবি বড়, সেই বড় নেতা নয়। পদমর্যাদা বা আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ছাড়াও নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব।

একজন নেতা যে সব সময়ের জন্যই নেতা, সব কাজেই নেতা- এমন কোনো কথা নেই। একজন মানুষই কখনো থাকতে পারে নেতার ভূমিকায়, কখনো কর্মীর ভূমিকায়, কখনো নিরব ভূমিকায়। বর্তমান বিশ্বেও পদ-পদবী-ক্যারিয়ার ছাড়াই কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যকে সামনে রেখে করা কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা। তাদের নেতৃত্ব আরো অনেকের সৃজনশীলতা ও শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে। সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানবসমাজকে এক ও অভিন্ন হিসেবে চিন্তা করে তারা নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.