ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে জগৎ পরিবর্তনে

পৃথিবীতে সুস্থভাবে বাঁচতে চাওয়ার স্বপ্ন আছে। সুখ-শান্তিতে জীবন কাটানোর আগ্রহ আছে। ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ, লাভ-ক্ষতি বুঝার মত বিবেক আছে, সুন্দর-অসুন্দর পার্থক্য করার ক্ষমতা আছে। বিচার-বিবেচনা শক্তি আছে। এমন ব্যক্তি যদি সজ্ঞানে স্বেচ্ছায় তিলে তিলে নিজেকে, নিজের শরীরকে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাকে কী বলা যায়? সে কী বোকার স্বর্গের শিরোমণি নয়? জীবন ও জগৎকে ভালোবেসে সুস্থ শরীরে বাঁচতে চাওয়া অথচ জীবনবিধ্বংসী নেশা করা, ধূমপান করা, তিলে তিলে নিজেকে ধ্বংসের আয়োজন বড়ই অযৌক্তিক।

অন্যের কষ্টের কারণ না হওয়া

দরিদ্র পরিবারে বাবা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ছেলে-মেয়ের  পড়াশুনার জন্য খরচ করে।  নিজেরা খেয়ে না খেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায়। কঠিন পরিশ্রমে মাঝে মাঝে ব্যথায় কুঁকিয়ে ওঠে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পর্যন্ত ঠিকমত করায় না।  স্ত্রী স্বামীকে অসুস্থ শরীরে কাজে যেতে বাধা দেন কিন্তু রোগাক্রান্ত দুর্বল দেহের স্বামী বড় আশা করে বলে, একদিন আর এ দুঃখ-কষ্ট থাকবে না। ছেলে বড় চাকরি করবে, আমরা শুধু শান্তিতে নাতি-নাতনি নিয়ে আনন্দে মেতে থাকব। কিন্তু অনেকের স্বপ্নসৌধই বাস্তবতার মুখ দেখে না। অনেক সময় দেখা যায় বাবার কঠিন পরিশ্রম আর খাটুনি, রক্তপানি করা, ঘাম ঝরানো উপার্জনের সেই টাকা দিয়ে ছেলের কত অপচয়, বিলাসিতা।

ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন করা

শিক্ষিত ছেলেটির দেশপ্রেম থাকবে, পিতামাতা, সমাজ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থাকবে, সচেতনতা থাকবে, বড় কিছু করার উচ্চাশা থাকবে, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ থাকবে, মানসিক দৃঢ়তা ও নৈতিকতা থাকবে, গঠনমূলক ও সৃজনশীল চিন্তা থাকবে, সুন্দরের পক্ষে কল্যাণ ও মঙ্গলের পথে চলবে, হবে ভদ্র-নম্র-সুন্দর আচার-ব্যবহারের অধিকারী এবং ফুলের মতো সুন্দর জীবন হবে  তাদের। একে অন্যের প্রতি দোষারোপ বন্ধ করে সমস্যা বুঝার চেষ্টা করুন, সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ করুন এবং একত্রে সমস্যার সমাধান বের করুন, ধৈর্য্য সহকারে।

কাজে লজ্জা না পাওয়া

যেই তরুণটি নিজের কাপড় পর্যন্ত ধোয় না, বিছানা গুছানো থেকে মশারি টাঙ্গানো পর্যন্ত আরেক জনে করে দেয় সে বিদেশে পড়তে গিয়ে পার্টটাইম জব করে, আর অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে গেলে তো ক্ষুদ্র, নিম্ন ধরনের কাজও করে।  দেশের মাটিতে শারীরিক পরিশ্রম করায় ভীষণ লজ্জা, পাছে লোকে কিছু বলে। বাজারের ব্যাগটি নিয়ে আসাটাও লজ্জার ব্যাপার। অথচ প্রবাসে গিয়ে কঠিন পরিশ্রম ও  তুচ্ছ কাজ করতেও আপত্তি থাকে না। সত্যি কী অদ্ভুত মর্যাদাবোধ, অদ্ভুত চিন্তা, কী অদ্ভুত লজ্জা। বেকার বসে থাকা শিক্ষিত ছেলেটিও  বাবার কৃষি কাজে সহযোগিতা  করে না ইজ্জত  যায় বলে!  সারাদিন টিভি দেখা, গান শুনা, বন্ধু-বান্ধবের সাথে খোশগল্প ও আড্ডা দেয়! সেই ছেলেটিই পরদেশে গিয়ে তুচ্ছ কাজও করে। অথচ পরিশ্রমকে হীন চোখে দেখাটাই লজ্জার। দেশে কাজ করতে লজ্জাবোধ করার দৃষ্টিভঙ্গিকে ঘৃণা।

সুচিন্তা ছড়িয়ে দেয়া

গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানুন।  সচেতনতা বাড়ান, নিজেদের সম্পর্কে যথাযথ ধারণা রাখুন। ভবিষ্যৎ রচনার স্বপ্ন দেখুন, মনকে আশার আলোতে আলোকিত করুন। আমরা চাই বা না চাই-পরিবর্তন আসবেই। পরিবর্তনশীল পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে নিজে ছন্দ মিলিয়ে চলতে হলে প্রয়োজন যোগ্যতার।  নিজের সৎচিন্তা, কল্যাণকর জ্ঞান বিতরণে উদার মানসিকতার পরিচয় দিন। সক্রেটিস প্লেটোকে, প্লেটো এরিস্টটলকে, এরিস্টটল আলেকজান্ডার দি গ্রেটকে শিক্ষা দিয়েছিলেন। জ্ঞান যদি একজন থেকে আরেকজনে প্রবাহিত না হয়, তাহলে তা শেষ হয়ে যাবে। জ্ঞানই যোগ্যতার অন্যতম মাপকাঠি।

যোগ্য না হয়ে যোগ্যতার সম্মান পাওয়া থেকে যোগ্য হয়ে যোগ্যতার সম্মান না পাওয়া ভালো। কারণ প্রাপ্তিতে নয়, যোগ্য হওয়াতেই আছে প্রকৃত মর্যাদাবোধ। জ্ঞানী মানুষই সত্যিকার মানুষ। চরিত্রবান, সৎ ও যথার্থ মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষকে অর্থের দ্বারা কেনা যায় না। অর্থের প্রভাব প্রবল হলে অনেক সময় সত্যের কণ্ঠস্বর শুনা যায় না। জ্ঞানও অর্থ আনতে পারার মানে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অর্থ উপার্জন  নয়। চাঁদের জন্য লক্ষ স্থির করলে যদি লক্ষ ভ্রষ্টও হয় তবে অন্তত তারকা হওয়া সম্ভব। আগামী প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা  করে কাক্সিক্ষত মানে গড়ে তুলার দায়িত্ব  বর্তমান প্রজন্মকেই নিতে হবে।

ভালো কাজে উৎসাহ দেয়া

সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ কম থাকায় অনেক প্রতিভাই সুযোগের অভাবে হারিয়ে যায়। যদি নবীনদের অনুপ্রেরণা দিয়ে উৎসাহিত করা হয়; প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়, যোগ্যতার বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়, লেখা প্রকাশের মাধ্যমে সৃজনশীলতার বিকাশ করা হয়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নবীনেরা যদি অগ্রাধিকার পায় তবে শুধু স্বপ্নের জগতে বিচরণ নয় বাস্তব জগতেও উত্তম কর্মফল রাখতে সক্ষম হবে। লিখতে লিখতেই পরিপক্বতা আসে। দৃপ্ত শপথ নেয় ঘুণেধরা সমাজ পরিবর্তনে বেশি বেশি প্রতিযোগিতা, পুরস্কার, সম্মাননা, পদক চালু করতে হবে; স্বীকৃতি না পেলে কাজে আনন্দ কমে আসে, উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভাটা পড়ে।

মেধা, মননশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা বাড়ান। সফলতা কর্মে নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করে। তাই সুকুমারবৃত্তি চর্চা করুন, বিবেক বুদ্ধিতে স্বচ্ছতা আনুন, কুপ্রবৃত্তি অবদমন করুন, মস্তিষ্কের উর্বরতা বাড়ান, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা বাড়ান, মেধা শানিত করুন। সফলতা অর্জনের জন্যেও কিছু মাধ্যম প্রয়োজন, যেমন উপরে ওঠার জন্য প্রয়োজন সিঁড়ির। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে হলে  সবল হতে হবে। পানি সেচ না দিলে চারা গাছ যেমন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়; তেমনি সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, সৃজনশীল চিন্তার বাস্তবায়ন ও গঠনমূলক কাজ সম্পাদনে উদ্যোগ লাগে।

বিদেশ ভ্রমণ করুন

বিদেশ সফরে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে- কী জিনিস লাগতে পারে তার তালিকা করা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে নেয়া। সফরস্থলের আবহাওয়া জেনে তদানুযায়ী কাপড়-চোপড় নেয়া। জুতো-স্যান্ডেলের ক্ষেত্রে আরামের বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া। পাসপোর্টে লাগানো ভিসা ও অন্যান্য তথ্য ঠিকমতো লেখা হয়েছে কিনা পরীক্ষা করা। পাসপোর্ট ও টিকেটের ২টি ফটোকপি করা; ১টি সর্বদা সাথে রাখা, আরেকটি স্যুটকেস বা লাগেজের পকেটে রাখা। কয়েক কপি পিপি সাইজের ফটো, নোটবুক ও কাগজ-কলম সাথে রাখা। পাসপোর্ট হারালে দ্রুত নিকটস্থ বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিতে আর টিকেট হারালে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অফিসে যোগাযোগ করা।

হ্যান্ড লাগেজে লিকুইড কসমেটিকস্, ছুরি, কাঁচি, সুঁই, পানি বা তরলজাতীয় কোনোকিছু নিবেন না; ৫ কেজির বেশি ওজন যেন না হয়, সিঁড়ি বা এসকেলেটরে উঠাতে-নামাতে অসুবিধা না হয়। বুকিং লাগেজের ওজন টিকেটে উল্লেখিত ও অনুমোদিত পরিমাণের বেশি করবেন না, ভঙ্গুর জিনিস থাকলে ঋৎধমরষব শব্দটি ব্যাগের গায়ে লিখবেন, ম্যাগনেটিক বা আগ্নেয়জাতীয় কোনো জিনিস বহন করবেন না। ইমিগ্রেশন ও সিকিউরিটি সিস্টেম মানবেন, নিজের ব্যাগ বা জিনিসপত্র নজরের বাইরে রাখবেন না। এসকেলেটর বা এলিভেটরে এক পাশ ঘেঁষে দাঁড়াবেন, থেমে না থেকে হাঁটতেও পারেন। টিকেটের সাথে থাকা লাগেজ বুকিংয়ের ট্যাগ বা স্লিপ হারাবেন না।

চেক ইনের পর ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হলে এভিয়েশন রুল অনুযায়ী আপনাকে খাবার-দাবার দেয়া এবং হোটেলে রাখা ও পোর্টে আনা-নেয়ার ব্যবস্থা করবে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট প্লেনের সার্ভিস ডেস্কে বা ট্রান্সফার ডেস্কে চাওয়া-পাওয়া জানাবেন। এয়ারপোর্টে ঢোকার আগে টার্মিনাল নাম্বার জেনে নিন। চেক ইন শেষে বোর্ডিং পাস ও লাগেজসহ পাসপোর্ট ও টিকেট নিন। ইমিগ্রেশন শেষে প্লেন কোন গেটে থাকবে তা দেখে নিন।  প্লেনে উঠে বোর্ডিং পাস অনুযায়ী নির্দিষ্ট সিটে বসুন। প্লেনে সর্বক্ষণ, অন্তত উঠা-নামার সময় বেল্ট লাগিয়ে রাখুন।

প্লেন চলাকালীন প্রচুর জুস ও পানি পান করবেন। কিছুক্ষণ পর পর হাত-পা স্ট্রেচ করবেন। লম্বা জার্নি হলে একটু হাটা-চলাও করতে পারেন। যে হোটেলে বা বাসায় উঠলেন তার সম্পূর্ণ ঠিকানা ইংরেজিতে এবং সম্ভব হলে স্থানীয় ভাষায় লিখে সর্বক্ষণ সাথে রাখবেন। ভাষা না বুঝলে ইশারা-ইঙ্গিতে বোঝানোর কৌশল অবলম্বন করবেন। পাসপোর্ট, টিকিট, কারেন্সি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে রাখুন। টাইম মেইনটেন করুন। সিটি ট্যুর ম্যাপ সংগ্রহ করুন। বিদেশ ভ্রমণকালে ডায়েরি লিখুন।

এগিয়ে থাকা

বুদ্ধিমত্তা, মনের সৌন্দর্য ব্যক্তিত্বকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে। সুস্থ  ও  শক্তিশালী  চিন্তার জন্য অতিরিক্ত বিলাসিতা, আরামপ্রিয়তা ও নেশা পরিহার করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ পূরণ, মনের ইচ্ছা বাস্তবায়নকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়াটাও যৌক্তিক হতে পারে না। বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করা, পরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া, সংকীর্ণতার বেড়াজাল ছিন্ন করতে পারা জরুরি।  ত্যাগের জন্যও প্রয়োজন অর্থ, জ্ঞান, ক্ষমতা। ভাণ্ডার যত সমৃদ্ধ হবে ততই বেশি বিলানো যাবে।

নিজের মাঝে শূন্যতা, হতাশা, হায় হায় ভাব থাকলে, অপূর্ণতা থাকলে আরেকজনের মনে আশা জাগানো যায় না, অন্যের প্রয়োজন মেটানো যায় না। সে জন্য সবার আগে গড়তে হবে নিজেকে। সামনে এগিয়ে থাকার প্রত্যয় থাকতে হবে। উদার মানসিকতার প্রয়োজনীয়তা সে জন্যই অনস্বীকার্য। গঠনমূলক কাজ করুন, সৃজনশীল চিন্তা করুন ও মানুষের কল্যাণে কর্মতৎপরতা চালান। নিজের স্বকীয়তা ও ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দেয়া যাবে না।

সৌভাগ্যবান সেই যার কাজকর্ম সুন্দর, রয়েছে বেশি পরিশ্রম করার মানসিকতা। নিজেকে গড়ে তোলা একটি চলমান প্রক্রিয়া; যা কর্মপ্রচেষ্টা ও সাধনার গুণে সম্পন্ন হয়। নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দেয়ার মানসিকতা সম্পন্ন দেশপ্রেমিক ও বুদ্ধিমানরাই মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে। সমাজ ও দেশ শান্তিময় করতে পাওয়ার মনোভাব নয়, সেবার মনোভাব বাড়ান। সময়কে কাজে লাগান। বই পড়া ও ভ্রমণের মাধ্যমে নতুনত্বের সন্ধান লাভ হয়, অজানাকে জানা যায় অভিজ্ঞতা বাড়ে।

অনুসন্ধিৎসু মন, জ্ঞানপিপাসু হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে। যার মন যত বড়, মানুষ হিসেবেও সে তত বড়। সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে আন্তরিক হোন। দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকুন, আত্মবিশ্বাস বাড়ান  এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহসী হোন। মনের শক্তি জোরালো করে সমস্যা সমাধানে আত্মনিয়োগ করুন।  মানবতা ও মনুষ্যত্বের বন্ধু হোন। জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে অলসতা ও অতিরিক্ত আরামপ্রিয়তাকে বর্জন করুন। সময় অপচয় করে জীবনকে অবমূল্যায়ন করবেন না। সাধনা করুন ও অধ্যবসায়ী হোন।

লেখালেখি

কলমকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার বানান। বইপড়া, জ্ঞানার্জন, ভ্রমণ ও নানা অভিজ্ঞতা জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে, লেখার গুণগত মানকে উন্নত করে। মানবতা ও মনুষ্যত্বের বিকাশের চেষ্টা ও কল্যাণকর কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ হয়। লেখনী তৈরি জ্ঞানচর্চার উচ্চতর মাধ্যম। বক্তার বক্তৃতা শ্রোতা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও লেখকের লেখা অনন্তকাল ধরে অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছায়। ভালো একজন লেখক তাই লাভ করে চির অমরত্ব। প্রকৃতি যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনও জেগে থাকে জ্ঞানসাধক।

লিখতে হলে বেশি বেশি পড়ার বিকল্প নেই। গড়ে তুলতে হবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক লাইব্রেরি। বিশ্বকবি নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর১৬৩ গ্রন্থাগারকে ‘মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোলের’ সাথে তুলনা করেছেন। লেখক হতে হলে ছাত্র বয়স থেকেই শুরু করতে হবে। জাতির জাগরণের জন্য উপযুক্ত দেশপ্রেমিক ও যোগ্য লেখকরা বয়ে আনে দেশ জাতি ও মানবতার কল্যাণ।

অসুন্দরকে বর্জন

দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিংবা লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করা গর্হিত অপরাধ, চরম নীচু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। ইভটিজিং, অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ ও আপত্তিকর কাজ অগ্রহণযোগ্য। মুরব্বিদের সালাম দেয়া ও গুরুজনকে শ্রদ্ধা করা ন্যূনতম ভদ্রতা। মুরুব্বিদের সামনে ধূমপান, মেয়েদের দেখে শীষ বাজানো, বাজে শব্দ করা, সম্মানিতদের বিরুদ্ধে কটু কথা বলা ঠিক না। নামাজির সামনে নামাজ নিয়ে কটুক্তি করা, রোযাদারের সামনে ধূমপান করা কোনোভাবেই আধুনিকতা নয়।  ময়লাযুক্ত  পোশাক পরিধান,  গোসল না করা, মদ-গাঁজা-ফেন্সিডিল খাওয়া বা ধূমপান করে মুখে দুর্গন্ধ ও  দাঁত-ঠোট বিশ্রী দেখানো বেমানান। পড়াশুনা শেষে রোজগারের  অর্থ না দিয়ে, না জানিয়ে বিয়ে করে  বাবা-মার স্বপ্ন ভেঙে  দেয়া; নিজে শিক্ষার্থী হয়ে  আরেকজন শিক্ষার্থীকে আঘাত করা, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধু-বান্ধবীর সাথে চুটিয়ে আড্ডা দেয়া, কাজ ফাঁকি দিয়ে তাসের আড্ডা, মদের আসরে সময় কাটানো অসুন্দর কাজ।

আন্তরিক সমাজ তৈরি করুন

ধোঁকা দিয়ে অন্যায়ভাবে অন্যের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ, দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের সম্পদ লুট অগ্রহণযোগ্য। পরস্পরের মধ্যে আর্থিক লেনদেনে যথার্থতা থাকতে হবে, সৌজন্যমণ্ডিত ও সম্মানজনক উপায়ে লেনদেন করতে হবে। আয় বাড়াতে গিয়ে অপরের ভালোমন্দের কথা ভুলে গেলে মানবীয় বিবেকের মৃত্যু ঘটে। সন্দেহযুক্ত পথে আয়-উপার্জনে মনে জাগে অপরাধপোধ, আসে অভিশাপ ও অকল্যাণ। সুদ-ঘুষ খেয়ে, দুর্নীতি-প্রতারণা করে বা অবৈধ পথে আয় করে সুখ-শান্তি আশা করা, বিষ খেয়ে স্বাস্থ্যের উন্নতি আশা করার মতোই বোকামি।

আপনি অপছন্দ করেন এমন আত্মীয়-স্বজনের বিপদে-আপদেও আপনাকে আপনার কর্তব্যটুকু করতেই হবে, আপনার টাকায় তাদেরও অধিকার আছে। মুখ ঘুরিয়ে নিজ নিজ কাজে চলে না গিয়ে পরস্পরের সাথে সালাম বিনিময় করা, পারিবারিক অবস্থা জানা ও অপরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। এতে হাত না পাতলে বা মুখে সাহায্য না চাইলেও জানা যাবে- কার চাকরি নেই বা   চিকিৎসার খরচ নেই। গোপনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার মতো আন্তরিক সমাজ তৈরি করতে হবে। আপনার একজন আত্মীয় যার আপনার বাসা ছাড়া থাকার জায়গা নেই, তাকে আপনার বাসস্থানে আশ্রয় দেয়া আপনার দয়া নয় কর্তব্য।

অপরকে অগ্রাধিকার দিন

অপরকে অগ্রাধিকার দিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর মৌলিক সৌজন্যতা। যে শ্রমিকের যথাযথ মজুরি দিচ্ছে না, স্ত্রীর মোহর দিচ্ছে না, নিজের ঘরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করছে না- সে সমাজ বদলাবে কী করে! আগে পরিবার, ঘর, ঘরের চারদিকের পরিবেশে পরিবর্তন আনতে হবে। যারা ঘৃণা করতে চায়, তারা ঘৃণাই করবে; যারা ঠাট্টা করতে চায়, তারা ঠাট্টাই করবে। তর্কে জিততে চিৎকার করা, যুক্তিসংগত উত্তর না থাকায় হতাশ হওয়া, সাহস না থাকায় আঘাত করা- হেরে যাওয়ারই লক্ষণ। বাজে-খারাপ কথা শুনে সুুখ পাওয়া অসুস্থ মস্তিষ্কের লক্ষণ।

সময়কে অযথা নষ্ট করলে বা অমূল্য এই সম্পদটির অপচয় করলে সবচেয়ে খুশি হয় শয়তান। অন্য লোকের প্রশংসা বা নিন্দায় প্রভাবিত হবেন না, অন্যের চোখে নিজেকে দেখবেন না। বহু মানুষ আছেন, যারা একটু মাফ চাইতে হবে বলে, নিজের অহংবোধ ভুলতে হবে বলে আপনজনের সাথেও সম্পর্কই নষ্ট করে ফেলেন। দৃষ্টি প্রসারিত করলেই কেবল জীবনকে সহজভাবে দেখা যায়, বড়ো করে দেখতে চাইলেই কেবল বড়ো হয়ে দেখা দেয়; আর কম গুরুত্ব দিলে তাতে মনোযোগেরই প্রয়োজন হয় না। জাগতিক বেদনা কাটিয়ে উঠা যেমন কঠিন, আনন্দে মুখর হয়ে ওঠাও তেমন স্বাভাবিক; তবে এসবই ক্ষণস্থায়ী।

মানবিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিন

অর্থ উপার্জন, চাকরি ও ক্যারিয়ারের চেয়েও বিয়ে, সন্তান জন্ম ও পালন জীবনের মেজর ইভেন্ট ও টাস্ক। পুঁজিবাদ চায় সুন্দর সার্ভিস ও মুনাফা; এজন্যেই যাবতীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ; এতে করে সুন্দর জীবনটাই হারিয়ে যায়। সিলেবাস ভালো চাকরির জন্য; ভালো বাবা, ভালো স্বামী, ভালো সন্তান হবার গাইডলাইন কোথায়? নিজের জীবযাত্রা, চালচলনে এমন দৃশ্যমান পরিবর্তন আনুন; যাতে আগের ও বর্তমানের আপনার মাঝে পার্থক্য অন্যরাও করতে পারেন। আপনার ছোট দোষও অন্যের চোখে বড় হয়ে ধরা দেবে। তাই কথাবার্তা ও ব্যবহার হতে হবে উত্তম। পিতা-মাতার সাথে আরও নরম, ভাইবোনদের সাথে আরও আন্তরিক। বলে কয়ে শেখানোর চেয়ে করে দেখান, এমনিতেই শিখবে। পরিবর্তনের জন্য আপনার নিজের চেষ্টাই মুখ্য এবং তা শুরু করতে হবে এখনই, আজ থেকেই।

নিজেকে তৈরি না করেই হঠাৎ বিরাট কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন না। মনে রাখবেন স্ত্রীর ডিগ্রি স্বামীকে সুখী করবে না; উচ্চশিক্ষা, ডিগ্রি, কোর্স, চাকরি অশান্তির কারণও হতে পারে। যে চক্ষু শীতল করবে, নয়ন জুড়াবে, ভালোবাসবে তাকে বেছে নিন। বিয়ের ক্ষেত্রে বর-কনের রুচি, চাহিদা, অর্থনৈতিক অবস্থান, বংশ যোগ্যতা সব কিছু সমান সমানবা কাছাকাছি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বেশি ভিন্নতা হলে সুখী দাম্পত্যজীবন প্রতিষ্ঠা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। মানুষ বিভিন্ন সময় একাধিক বিষয়ের মধ্যে কোনটিকে গ্রহণ করবে সে ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। বিয়ের ব্যাপারেও সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হবার জন্য ইস্তেখারা করা যেতে পারে।

দোষ লঘু করে দিয়ে পারস্পরিক সুধারণা আবার তৈরি করা একটা আর্ট; পলিটিক্যালি হ্যান্ডল করতে হয়। স্বামীত্ব একটা ডিপ্লোমেটিক ও রাজনৈতিক পোস্ট। বিয়ের পর স্ত্রীর কাজের স্বীকৃতি ও পারিবারিক মর্যাদা দিতে হবে; খাবারে দোষ ধরা- যৌতুক-প্রহারের মতো আচরণ করা যাবে না। স্বামীর শ্রম লাঘব করতে যদি স্ত্রীর মন না চায়, তবে সেই স্ত্রী নিজের ভালোবাসাকে প্রশ্ন করুন। বউ-শাশুড়ি সম্পর্কটা হোক দুই প্রজন্মের বন্ধুত্ব। আপনার মেয়ের সাথে যেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন, ছেলের বউয়ের সাথেও তেমন আচরণ করা চাই। নিজেকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না, আস্থাভাজন হোন। সন্তান নেয়ার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রাণু ও ডিম্বানুর কোয়ালিটি বাড়াতে দুজনের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আনুন। ত্যাগ করুন- ধূমপানসহ যাবতীয় নেশা ও রাত জাগার অভ্যাস। দুজনেই প্রচুর পানি ও ফলমূল খান, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান ও টেনশন দূর করুন।

মন ও জবান নিয়ন্ত্রণ করুন

ইমাম গাযালী বলেছেন-‘লোভ, হিংসা ও অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, বিপদের সময় দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং সংকটে ধৈর্য ধারণ করার অভ্যাস মানুষের জন্য সর্বমুখী কল্যাণ ডেকে আনে। মানবজীবনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে তার ‘মন এবং জবানকে’ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সমর্থ হওয়া। দুই ধরনের লোক কখনও তৃপ্ত হতে পারে না- জ্ঞানের অম্বেষী এবং সম্পদের লোভী। আয়নায় নিজের চেহারা দেখ, যদি সুদর্শন হও তবে পাপের কালিমা লেপন করে ওকে কুৎসিত করো না! আর যদি কালো-কুশ্রী হয়ে থাক, তবে ওকে পাপ-পঙ্কিলতা মেখে আরও বীভৎস করে তুলো না। ক্রোধ মনুষ্যত্বের আলোকশিখা নির্বাপিত করে দেয়। শক্ত কথায় রেশমের মতো নরম অন্তরও পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। সাফল্যের অপর নামই অধ্যবসায়।’

শিক্ষার পরিবেশ দিন

দায়িত্বশীল বাবা-মা পারে তাদের সন্তানকে সুস্থ, সফল ও স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং দয়ালু, সৎ, সহানুভূতিশীল ও সাহসী বানাতে। শিশুকে এমন ভালো পারিবারিক পরিবেশ দিন, যেখানে বুলিং চর্চা হয় না। বুলিংয়ের শিকার হলে বিষণ্নতা, ভীতসন্ত্রস্ততা, খিটখিটে মেজাজ ও নিজেকে হেয় করে দেখার প্রবণতা তৈরি হয় এবং আচরণে পরিবর্তন আসে। যেমন- মুখে মুখে তর্ক করা, অন্যকে ছোট করা, অন্যায় স্বীকার না করা, সব সময় জেতার নেশা, ক্ষমতা দেখাতে চাওয়া, অন্যকে অপদস্থ করা এবং শীর্ষে থাকার চিন্তা-ভাবনা পোষণ করা। সন্তান যেন সকলকেই সমানভাবে সম্মান প্রদর্শন করে, সম্মানের চোখে দেখে সেদিকে দৃঢ় মনোযোগ দিন। ছেলে-মেয়ে লিঙ্গবৈষম্য যেন তাদের মধ্যে কোনোভাবেই প্রকাশিত না হয়। ভুল করা কোনো অপরাধ নয়।

ভুল থেকে কিছু শিখতে পারা, ব্যর্থতা থেকেও কিছু শেখাতে চেষ্টা করতে হবে। সন্তান যেন ভুল করতে কখনো ভয় না পায়। পরীক্ষায় আশানুরুপ ফলাফল না করলে খুব ক্ষেপে গিয়ে কঠোরভাবে তিরস্কার করা খুবই ক্ষতিকারক। সন্তানকে শিক্ষা দিতে হবে গ্রেডের চাইতে অর্জিত জ্ঞানই প্রয়োজনীয়, জ্ঞান বড়। খুব বেশি জোরাজুরি না করে সন্তানের বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে। ধীরে ধীরে সন্তানের কাছের মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন যেন যেকোনো বিপদে-আপদে সে আপনার কাছে আসতে পারে। সে যাতে বুঝতে পারে বাবা-মা কখনো শত্রু নয়। নিজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সন্তানের সঙ্গে শেয়ার করে তাকে শেখান যে সৎ ও সম্মানিত হওয়া যেকোনো কিছুর উর্ধ্বে। জনপ্রিয়তা পেতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তারা যাতে কাজ না করে।

সবকিছু বুঝে ফেলেছেন এমন মিথ্যে ভান করার চাইতে প্রশ্ন করা যে ঢের কৃতিত্বের এ ব্যাপারটা বোঝানোর জন্য শৈশব খুব ভালো সময়। তাই কিছু না বুঝলে প্রশ্ন করুন। একজন শিশু যেন কখনোই স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কথা বলতে জড়তাবোধ না করে। এ শিক্ষাটি পরিবার থেকেই দিতে হবে। গ্রেড এবং শিক্ষকের বকুনির চাইতে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া যে অবশ্য কর্তব্য এটি সন্তানকে ভালোমতন বুঝিয়ে দিন। পরিবেশকে সম্মান করার কাজটা পরিবার থেকেই শেখাতে হবে। নিজেই শুরু করুন এ অভ্যাসটি এবং অতঃপর সন্তানকে শেখান। সন্তানকে বয়স্ক মানুষ, শিক্ষক এবং নিজেক ‘না’ বলতে শেখান। যা তাকে একটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তৈরি করবে, না বলার অভ্যাস পরিপূর্ণ বয়সে তাকে সাহায্য করবে। পরিবারের অন্যদের প্রশংসা করুন। ইতিবাচক বার্তাগুলো নিজের সম্বন্ধে ইতিবাচক আত্মকথন করতে শেখায়, নিজের প্রতি ভালোবাসা-সম্মান দিতে শেখায়। হাসিখুশি থাকা অবস্থায় শিশুকে ইতিবাচক বার্তাগুলো বললে অনুভূতি শিফট করায় চমৎকার কাজ করে।

অতিরিক্ত শাসনও অস্থিতিশীলতা নয়

অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা সন্তানকে অতিরিক্ত নির্ভরশীল ও ভীতু প্রকৃতির করে ফেলে। অতিরিক্ত অনুমোদন প্রিয় মা-বাবা অতিরিক্ত স্বাধীনতা দিয়ে সন্তানকে স্বার্থপর, অবাধ্য, দায়িত্বহীন, স্বাধীনচেতা ও জেদী করে তোলে। মা-বাবার উদাসীনতা সন্তানদের নিরাপত্তাহীন, অসহায় এবং আস্থাহীন করে গড়ে তোলে। মা-বাবার অতিরিক্ত শাসনে সন্তানদের চরিত্রে নানারকম জড়তা, ভীরুতা ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়, পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ে। যে শিশু গণতান্ত্রিক ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশে মানুষ হয় তাদের মধ্যে মানসিক স্থিতিশীলতা বেশি থাকে, সক্রিয়-উদ্যোগী ও মিশুক হয়। পারিবারিক সংকটই সন্তানের অমনোযোগিতার জন্য অনেকাংশে দায়ী। উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারে বেকারত্বে পরিবারের মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা ও সম্পর্কে অবনতি দেখা দেয়। বাবা-মার বিবাহ বিচ্ছেদে সন্তানরা বন্ধু-বান্ধবদের ঠাট্টা ও মশকরার শিকার হয়, আর্থিক সংকটও দেখা দেয়। পারিবারিক কোন্দল সন্তানদের ওপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মা-বাবা যদি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকে তবে পরিবারে অর্থনৈতিক ও মানসিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বাবা বা ম য়ের মৃত্যু হলেও সন্তানদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।

সন্তানকে সংযত করুন

বয়স যাই হোক কেন, পিতা-মাতার কাছে সন্তানরা সব সময় ছোটই থাকে। নিজেরা সন্তানকে সংযত করতে না পরলে অন্য কেউ তাকে সংযত করবে এমন আশা না করাই বাঞ্ছনীয়। সন্তানের মাঝে থাকা নৈতিক গুণাবলী ও মূল্যবোধ অরাজক মুহূর্তে বা অবাঞ্চিত বন্ধু-বান্ধবের সংস্পর্শে ধুলিসাৎ হতে পারে। ঘরোয়া পরিবেশে আলাপ আলোচনায় মা-বাবা-সন্তানদের পারস্পরিক ভুল বুঝাবুঝি ও সংশয় দূর করে।

সন্তানের ব্যর্থতার জন্য কখনো অপরকে দোষারোপ করতে যাবেন না; তাহলে একদিন সে নিজের ব্যর্থতার জন্য আপনাকেই দায়ী করবে। মা-বাবা ব্যক্তিজীবনে যে পথ বা আদর্শ অবলম্বন করেন, ছেলে-মেয়েরা সেসব সচেতন-অবচেতন মনে শিখে থাকে। মা-বাবার মূল্যবাধ ও সন্তানের মূল্যবোধ এক না হলে তাদের সম্পর্কের ভিত্তি সুন্দর হয় না। বাবা-মার উচিত সন্তানদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন না করে যুক্তি তর্কের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের পথ দেখানো, নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেয়া, মনকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখা এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত করানো।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *