চিন্তা স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলে পরিবার

কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিত্বগঠনে উদারতার প্রয়োজনীয়তা বেশি। মানুষ রূপ পাল্টায়। সুবিধার জন্য স্বার্থপরতা ও চতুরতার আশ্রয় নেয়। তাই শুধু রূপ আকর্ষণের একমাত্র উপায় নয়। রূপের পরিপূর্ণ রহস্য উন্মোচন করেই গুণের সন্ধান পেতে হয়। সৃষ্টিশীল মানুষের স্বপ্ন থাকে, নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার তীব্র আগ্রহ থাকে, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস থাকে। এদের বিশাল চিন্তা ও মুক্তমন অন্যদেরও নতুন প্রেরণায় উজ্জীবিত করে। কী পেয়েছেন না ভেবে কী দিয়েছেন ভাবুন।

ক্যালভিন কুলিজ বলেছেন মানুষ যা পেয়েছে, তার জন্য তাকে সম্মান জানানো হয় না, মানুষ পৃথিবীকে যা দিয়েছে তার জন্যই তার সম্মান। অবাস্তব প্রতিশ্রুতি প্রদান থেকে বিরত থাকুন, দ্ব্যর্থকতা ও অস্পষ্টতা ত্যাগ করুন, কাজকে উপভোগ করুন, দায়িত্ব সহজভাবে গ্রহণ করুন। নেয়ার চেয়ে দেয়ার মানসিকতা রাখুন, প্রখর আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হোন। নিজে কষ্ট করেও অন্যের প্রয়োজন পূরণ করুন। নিঃস্বার্থ মনই সৌভাগ্যবান। সাহসিকতা-ধৈর্য-পরিশ্রম ও সহজ-সরল জীবন যাপন জীবনকে সুন্দর ও সফল করে। বড় মনের অধিকারী হয়ে নিঃস্বার্থ সেবাদানে আনন্দ খুঁজুন।

শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণীত হয় কর্মফল দ্বারা। ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে ওঠে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করলে উদার হওয়া সম্ভব। সবার মাঝে মানবতাবোধকে জাগাতে হবে। অসম্ভবকে সম্ভব করা, অসাধ্যকে সাধ্য করা যায় প্রচেষ্টা দ্বারা, সাধনার মাধ্যমে। সুখের নীড় গড়তে ত্যাগ স্বীকারের বিকল্প নেই। উদ্যোক্তার অভাব দূর হলে উদ্যোগেই অনেক কাজ সমাধা হয়ে যায়। উদ্যোগ না থাকার কারণেই বারবার সামনে চলার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে পেছনে চলে যেতে হয়। তাই বেশি বেশি উদ্যোক্তা সৃষ্টি হতে হবে। ভালো ভালো উদ্যোগ নিলে তা সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতা করতে অনেকেই এগিয়ে আসবে। নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দেয়ার উদার মন-মানসিকতা ও সবাইকে আপন করে কাছে টানার মত বিশাল হৃদয়ের প্রয়োজন। উদারমনের স্বল্পতা উন্নতি ও অগ্রগতির প্রতিবন্ধক। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের কারণে বৈষম্য নয়, সব মানুষকেই ভালোবাসতে শিখতে হবে।

সতর্কতা অবলম্বন

কাজকর্মে যারা বেশি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে তাদের সিদ্ধান্ত বেশি ভুল হয়।  ফলে পায় নিন্দা,  হয় সর্বনাশ, বয়ে আনে কলঙ্ক। মানুষ নিজেই মনের অজান্তেও নিজের ক্ষতি ঢেকে আনে আর উদার মনের আনন্দ সংকীর্ণমনের বোধগম্য হয় না। স্বার্থপরতা মানুষের দৃষ্টিকে ছোট্ট পরিসরে বন্দী করে রাখে, পরিসরকে বিস্তৃত করতে পারে সাহসীরাই। সমস্যার ভিড়েও সম্ভাবনা খুঁজে নিতে পারে আশার আলো দেখতে সক্ষমরাই। সত্যের চেয়ে মিথ্যার মূল্য বেশি হলে ষড়যন্ত্র বৃদ্ধি পায়, বিবেকের চেয়ে বুদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দিলে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতি থাকা আকর্ষণে অতি আবেগীদের বিপথগামী হবার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলা যাবে না, সাফল্য-সার্থকতাও আসবে না। একটি ভুল সিদ্ধান্ত জীবনের অনেক বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই এ ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, বিভ্রান্ত হবেন না।

কাজ করলেই হবে না, কর্মের ফলাফলের কথাও ভাবতে হবে। কখনোই ক্রুদ্ধ হওয়া যাবে না; কেননা ক্রুদ্ধ মানুষ যুক্তির সাথে চিন্তা করতে পারে না। অন্তর্নিহিত অর্থের চেয়ে বাহ্যিক অর্থের ব্যাপারে বেশি সচেতনতা সামগ্রিক বিচারে কল্যাণকর নয়। অন্ধ বিশ্বাস, গোঁড়ামি ও অন্ধ আবেগের কারণে বিভক্তি ও বিরোধ বাড়ছে। অসহায়, দুর্বল, দারিদ্র্য, পরমুখাপেক্ষী থাকা সম্মানজনক নয়। দরিদ্র্যতা শুধু বস্তুগত সম্পদহীনতাই নয়; বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে দক্ষতার অভাবও দরিদ্র্যতার অংশ। তাই সচেতনতা বাড়ান, সামনে এগিয়ে চলুন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন। এগিয়ে যেতে হলে সচেতন হোন। অসচেতন ব্যক্তির গভীর সংস্পর্শ সচেতন ব্যক্তির বড় বিড়ম্বনা। সমস্যার কাছে আত্মসর্মপণই সমাধানের বড় প্রতিবন্ধকতা,  সমাধানের প্রচেষ্টায় থেমে যাওয়া যাবে না। যেখানে ঝুঁকি বেশি, সম্ভাবনা ও সফলতা সেখানে বেশি। সংকীর্ণ চিন্তা নিয়ে বৃহৎ কিছু করা যায় না। তাই সাফল্য পেতে স্বপ্ন ও সাধনার কোনো বিকল্প নেই ।

আচরণগত জ্ঞান

নিজে সদা সচেতন ও সতর্ক থাকুন। যোগ্যতা, দক্ষতা ও ক্ষমতাকে স্রষ্টার পক্ষ থেকে আশীর্বাদ ভাবুন। আশীর্বাদকে অভিশাপে পরিণত করবেন না। আত্মমর্যাদাশীল মানুষ আত্মমর্যাদাকে কখনোই লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে বিকিয়ে দিতে পারেন না। পৃথিবীতে খুব কম সংখ্যক মানুষেরই কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকে। সেই সংখ্যার মধ্যে যারা পড়েন নিঃসন্দেহে তারা সৌভাগ্যবান। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হয় স্বকীয়তার বিনির্মাণ ও ব্যক্তিত্বের বিকাশের মধ্য দিয়ে। তবে অহংকার ও গর্ব থেকে মুক্ত হয়ে অপরকে মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। কেননা নিজের প্রভাববলয়কে শক্তিশালী করার একরোখা-মানসিকতা নানা অসন্তোষ ও বিরোধের সূত্রপাত ঘটায়। ভালো মানুষের ভান করে নয় ভালো মানুষ হয়েই জীবনে পথ চলতে হবে। কাক্সিক্ষত আচরণ করুন; বাস্তবতাকে মেনে নিন।

শুধু নিজেকে নিয়ে নয়, অন্যের জন্য ভাবুন। নিজের মনে আলো না জ্বেলে অন্যের মনে আলো জ্বালাতে চাওয়াটা ঠিক নয়। নিজে আলোকিত হলেই অপরকে আলোকিত করা সম্ভব। সকল আলোকিত মানুষই শিক্ষিত কিন্তু সকল শিক্ষিত মানুষ আলোকিত মানুষ নন। নিজের ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করুন এবং  বাস্তবতার আলোকে ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করুন। নিজেকে ক্ষুদ্র পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশ ও দশের সম্পদরূপে নিজেকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন।

সমস্যার ভিড় দেখেও হতাশ না হওয়া, বিপদের পাহাড় দেখেও ভেঙে না পড়া, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতেও বুদ্ধি লোপ না পাওয়া-এগুলো সফলতা অর্জনে প্রয়োজনীয় গুণ। বিদ্যা-বুদ্ধির কারণে সমাজের নিম্ন শ্রেণী থেকেও অনেকে ব্যক্তিত্বশালী মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন আবার নির্বুদ্ধিতা-অজ্ঞতা-মূর্খতার কারণে উচ্চবিত্ত শ্রেণী থেকেও মর্যাদাহীন নগণ্য ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। কেউ যদি শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় পারদর্শী হয় তার জ্ঞান থেকে যদি মানবতা কোনো উপকৃত না হয় তবে তা অগ্রহণযোগ্য।

মনের চোখ

অন্তর্চক্ষুকে শক্তিশালী করুন, প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগান। মনের চোখ শক্তিশালী না হলে কোনো দেখাই পরিপূর্ণ হয় না। তীব্র অনুভূতিশীল চেতন হৃদয়েই ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুত সম্ভব। বিবেকের ক্রিয়াশীলতা নৈতিক অনুভূতির সংস্পর্শে থাকলে মানবতার আশীর্বাদ রূপে গণ্য হয়। অন্তর্চক্ষু দিয়ে  দেখার ক্ষমতা অর্জন, অন্ধকেও চক্ষুষ্মানের উপর শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেয়। আর জীবনে সুযোগ বারবার আসে না, তাই প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগান। যখন দেখবে আশা-স্বপ্ন-জীবনের লক্ষ্য সব ভেঙে পড়েছে, সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও হয়তো দেখবে লুকিয়ে আছে একটি সুবর্ণ সুযোগ। ব্যক্তিত্বের বিকাশে সচেষ্ট হোন; অহংকার নয়।

মনের চোখ দিয়ে বাস্তবতাকে দেখতে শিখুন। ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যান। কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের উন্নতি তখনই সম্ভব হবে যখন জ্ঞানের আলো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। মনের সম্পূর্ণ কল্যাণ নিহিত জ্ঞান অর্জনের প্রবল প্রয়াসের মধ্যে। মেপে মেপে ঠোঁট নাড়ার অনুশীলন করুন। কোনো কিছু অর্জনের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করবেন না। ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়াতে শক্তি বৃদ্ধি ও সুবিধা বাড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। অর্জিত জ্ঞান-অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করুন। নিজেকে চিনুন, জানুন এবং জ্ঞানচর্চা করুন। কেননা জ্ঞানচর্চার উপরই ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে।

হিম্মত

প্রয়োজনীয় হিম্মতের অধিকারী হোন। জীবন বাঁচানোর খাতিরে কর্তব্য পালনে ত্রুটি করলে আয়ু দীর্ঘতর হবে না। সুতরাং মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে কাজ করে যেতে হবে, প্রয়োজনীয় হিম্মত থাকতে হবে। উপযুক্ত সাহস না থাকলে অনেকগুণে গুণান্বিত মানুষও অযোগ্য বিবেচিত হয়। আত্মবিশ্বাসের উপর নির্ভর করার সামর্থ্য ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস ব্যক্তিকে সম্মানিত করে। সাহস না থাকলে বড় কাজ অসম্ভব। মূল্যবান রত্নের আলাদা যত্ন নিন। যেখানে ঝুঁকি বেশি, সম্ভাবনা ও সফলতাও সেখানে বেশি- এটা ভুলবেন না।

দরকার হচ্ছে- ভালোবাসার প্রসারতায় ভরা চক্ষু, সাধ্যানুযায়ী আলোর মশাল জ্বালানো, হিম্মতের সাথে মহৎ ও কল্যাণকর কাজ বাস্তবায়ন, কর্মে আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া, সর্বদা কামিয়াবি হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং মনুষ্যত্বের বিকাশ-সাধনে ক্রমাগত প্রয়াস। দায়িত্বে অবহেলা বড় প্রতিবন্ধকতা। জ্ঞানের শক্তি আছে, মূল্য আছে; তাই সব দুর্ভোগের মূল অজ্ঞতাকে তাড়ান।

নিরক্ষরকে স্বাক্ষরজ্ঞান দানকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিন। আলোকিত মানুষ গড়ার প্রয়াসে আত্মনিয়োগ করুন। জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উজাড় করে দিন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রযোজনীয় প্রস্তুতি নিন। কাজ নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করতে চাইলে চর্চার কোনো বিকল্প নেই, সাহসেরও দরকার আছে।

জীবন্ত লাশ

জীবন্ত লাশ হবেন না। সংকীর্ণতার কারণে জ্ঞানহীন মানুষের হৃদয় পাথরের মতো শক্ত-কঠিন। তার থেকে কল্যাণ আশা করাটাও অযৌক্তিক। সে কল্যাণ করতে চাইলেও অজ্ঞতার কারণে অকল্যাণ করে বসবে, উপকার করতে চেয়েও ক্ষতি করে ফেলবে। লোভ, স্বার্থপরতা ও কামনার সমন্বয়ে জীবনের প্রতি অতিরিক্ত মায়া যাকে অমানুষ করে ফেলে তার মাঝে হিংস্রতা তীব্র রূপ ধারণ করে।

শান্তির আশায় মানুষ অনেক মত ও পথ খুুঁজে নেয়। বেশি শান্তি-সুখ খুঁজতে গিয়েই অনেকে অশান্তি বাড়ায়। কেউ সে সাগর সাঁতরে কূল কিনারা খুঁজে নেয় আবার কেউ সেখানে ডুবে মরে, আত্মাহুতি দেয়। জীবন সাগরে অনেক সুখের ভেলা অহরহ ভেসে চলে যা সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু অতিরিক্ত লোভ, লোলুপতা, স্বার্থপর মানসিকতা মানুষের দৃষ্টিকে সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ করায় সুখ অন্বেষণ করতে গিয়ে জীবনটাকেই ব্যর্থ করে।

বড় চিন্তা

বড় চিন্তা করুন; পরিশ্রমী হউন। নিজের মতের উপর স্থির থাকা ভালো যদি সে মত সঠিক হয়। পাহাড়, পর্বত, বৃক্ষরাজি শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্থির অস্তিত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে। ধীর স্থির থাকায়ই কল্যাণ।  ঘন ঘন মত বদলানো বোকামি। শুধুমাত্র খরকুটোই উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে চলে। উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করুন, সিদ্ধান্তে অটল অবিচল থাকুন, দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হোন, কঠিন প্রতিজ্ঞা নিন। কথা কম বলা ভালো; তাই বলে পরামর্শ বিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা প্রয়োজনেও মুখ না খোলার অভ্যাস ভালো না। অতিরিক্ত কথা বলার অর্থই চিন্তা কম করা, যা কম বুদ্ধিমানেরাই করে থাকে। যে ক্ষুদ্র চিন্তা করে তার কাছ থেকে বৃহৎ কিছু আশা করা যায় না।

যে বড় চিন্তা করবে, বাস্তব চিন্তার আলোকে কর্মপ্রচেষ্টা চালাবে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে ছুটবে সে ছোট থাকবে না। কারো চিন্তা বুঝতে পারলে সে কোন্ মাপের মানুষ তা বুঝাও সহজ। ইচ্ছের শেষ নেই, সব ইচ্ছা পূরণ হবার নয়। ইচ্ছে অপূরণ থাকে বলেই মানুষ আরো বেঁচে থাকতে চায়। বেঁচে থাকতে চায় বলেই নানা কর্মপ্রচেষ্টা-তৎপরতা-সংগ্রাম চালায়। যদি ইচ্ছাই না থাকে তবে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না, জীবনে স্থবিরতা নেমে আসে, অনিশ্চিত হয়ে পড়ে জীবনের গতিপ্রবাহ।

কাজে আনন্দ

আনন্দের সাথে কাজ করুন। মুখ গোমড়া করে থাকবেন না। পাণ্ডিত্য প্রকাশে হাসিমুখ কোনো বাধা নয়। আলোকিত ব্যক্তিত্বের হাস্যোজ্জ্বল মুখ দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। হতে হবে জ্ঞানে সমৃদ্ধ, ব্যক্তিত্ববান ও গভীর চিন্তাশীল। থাকতে হবে হাসিমুখে। ইচ্ছা থাকলেই সব কিছু হয় না; উপায়টা জানলে ও সঠিক পন্থায় কাজ করলে ইচ্ছে পূরণ হয়। মনে-প্রাণে ইচ্ছে করলেই আসে ইচ্ছা পূরণের নানা সুযোগ। তাই ইচ্ছাশক্তিকে সর্বদা সজাগ রাখুন।

অধম না হয়ে উত্তম হয়ে বেঁচে থাকুন। যা ভালো, সুন্দর, কল্যাণকর তা যদি না চেনা যায় তবে জীবনটা অর্থবহ হবে না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করুন, ব্যস্ত থাকুন। সত্যিকারের কর্মপাগল ব্যস্ত মানুষের ব্যস্ততার অজুহাত দেয়ার সময়ও থাকে না, পরিশ্রমপ্রিয় মানুষেরা সর্বদা কাজ খুঁজে বেড়ায়; কাজ-কর্ম-ব্যস্ততা না থাকাটাই তার অস্বস্তির কারণ। কমব্যস্ত মানুষেরাই ব্যস্ততার অজুহাত দেয় বেশি।

বড় স্বপ্ন

বড় স্বপ্ন দেখুন; চিন্তাশক্তি ব্যবহার করুন। আলো থাকলেই না আলোকিত করা যায়। নিজের না থাকলে তা অপরকে বিলানো যায় না। অপরকে সক্রিয় করতে হলে আগে নিজের মধ্যকার নিস্ক্রিয়তা দূর করতে হবে। চিন্তার অগ্রগতি হলেই সামগ্রিক অগ্রগতি হবে। চিন্তাশক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। চিন্তার রাজ্যে বিপ্লব হলে সে বিপ্লবের ঢেউয়ে সকল রাজ্যই প্লাবিত হয়। তাই চিন্তার ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের বিকল্প নেই। মানসিক সংকীর্ণতা নিয়ে জগতের বড় কিছু সাধন করা যায় না। তাই বড় স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্নপূরণের পরিকল্পনা নিন ও উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তুলুন।

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন, যারা মূর্খ, যারা কোনোকালেই কিছু করবে না, তারাই শুধু বলে ‘অসম্ভব’। এ জগতে মানুষের ‘অসম্ভব’ বলে কিছুই নেই। অধিকাংশ মানুষ বড় হতে পারে না কারণ তারা সাহস  করে আকাশের মত সুউচ্চ টার্গেট ঠিক করে আকাশের দিকে তাকাতে পারে না। সুস্পষ্ট ও সুউচ্চ টার্গেট মানুষের সাধনা ও গতিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। মনের ভেতরে যে শক্তি আছে পৃথিবীর কোনো ক্ষমতাই তার তুল্য নয়। এ বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন। বড় স্বপ্ন দেখে তা পূরণে উপযুক্ত পরিকল্পনা নিলে অনেক কিছুই বদলে দেয়া যায়।

বড় পরিকল্পনা করতে হবে। ক্ষুদ্র পরিকল্পনায় মানুষের রক্তে তরঙ্গ তোলার ইন্দ্রজাল নেই। বড় পরিকল্পনা, লক্ষ্য উঁচুতে রাখা, আশা ও কর্মোদ্যম নিয়ে ক্রমাগত চেষ্টা মানুষকে সফল করে। লক্ষ্যের ক্ষেত্রে যে লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে, সেই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে সফল হওয়ার থেকে, যে লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হওয়াও ভালো।’ স্বপ্নদর্শীদের স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় নানা মহান কীর্তি। তবে ঘুমিয়ে যার বড় স্বপ্ন দেখার অভ্যাস, আজীবন সে ছোটও থাকতে পারে। ঘুমাতে দেয় না এমন স্বপ্ন দেখায় বড় হবার সম্ভাবনা লুক্কায়িত। বড় স্বপ্নদর্শী যিনি নন তাকে কেউ বড় করতে পারে না। নিজে স্বপ্ন দেখলে, স্বপ্ন পূরণে সিদ্ধান্ত নিলেই কেবল পরামর্শ ও সহযোগিতা কাজে লাগে। না হলে তা নীরস, অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ে। তাই বড় স্বপ্ন দেখুন, পরিকল্পিত জীবন গড়ুন।

দৃষ্টিভঙ্গি

সুখ, শান্তি, উন্নতি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন অপরিসীম। প্রতিটি মানুষই সাধারণত জানে তারা কোথায় যেতে চায়, কিন্তু তারা জানে না কেন সেখানে পৌঁছতে পারছে না। সাফল্য লাভের আকাক্সক্ষা সবারই আছে কিন্তু সবাই সে আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারে না। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি সচেতন হয়, সাফল্য লাভে সর্বশক্তি নিয়োগ করে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন হয় তবে দেশের অগ্রগতি না হয়ে পারে না।

ব্যক্তিগত পরিসরে সাফল্য লাভের হার বৃদ্ধিই সামগ্রিক পরিসরে জাতির সামনে এগিয়ে চলাকে ত্বরান্বিত করবে। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্নদের দ্বারা বৃহত্তর কল্যাণ হাসিল অসম্ভব। সফল জীবনের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন হওয়াকে তাই অগ্রাধিকার দিতে হবে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই সফলতার চূড়া স্পর্শ করার ক্ষেত্রে উদ্দীপ্ত রাখে।  ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সফলতার চূড়া স্পর্শ করার ক্ষেত্রে জাতিকে উদ্দীপ্ত রাখার প্রধান উপায়।

 

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *