আত্মীয়তার বন্ধন অটুট থাকুক

আনিসুর রহমান এরশাদ

‘আত্মীয়’ শব্দের অর্থ হচ্ছে স্বজন, জ্ঞাতি, কুটুম্ব। এর আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে আর-রাহিমু বা যুর রাহিমে। আত্মার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে আত্মীয় বলা হয়, যারা পরস্পরের সাথে সম্পর্কে জড়িত। মানুষের মাঝে ভালোবাসা, দয়া, সহযোগিতার মূল ভিত্তি হচ্ছে  আত্মীয়তার সম্পর্ক। আত্মীয় ছাড়া এ জীবন অচল। আত্মীয়দের সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়েই মানুষ এ পার্থিব জীবনে বেঁচে থাকে। সম্পর্কের শীর্ষে  ‘আত্মীয়তা’। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে আত্মীয়তার সম্পর্ক সর্বতোভাবে জড়িত। আত্মার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকেও আত্মীয় বলা হয়। সাধারণত রক্ত, বংশ কিংবা বৈবাহিক সূত্র থেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। আত্মীয়তার সম্পর্ক বলতে বুঝানো হয়, পিতামাতা, ভাইবোন, ছেলেমেয়ে এবং এসবের উর্ধ্বতন ও অধঃস্তন আত্মীয়।

সদাচরণ ও সুসম্পর্ক রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

মা ও বাবার দিক থেকে  আরহাম বা রক্ত সম্পর্কীয় বা বংশীয় আত্মীয়রা সুসম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে বেশি হকদার। আজীবন এ সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মা, নানী, নানীর মা, দাদী, দাদীর মা ও তাদের উর্ধ্বতন নারীগণ। পিতা, দাদা, দাদার পিতা, নানা, নানার পিতা ও তাদের উর্ধ্বতন পুরুষগণ। ছেলে, মেয়ে, তাদের সন্তান-সন্ততি এবং তাদের অধস্তন ব্যক্তিবর্গ। ভাই-বোন, তাদের সন্তান-সন্ততি ও তাদের অধস্তন ব্যক্তিবর্গ। চাচা, ফুফু, মামা, খালা ও তাদের সন্তানগণ।

বিবাহ সম্পর্কীয়  আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছে- শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা ইত্যাদি। স্ত্রীর নিকটাত্মীয়গণ স্বামীর নিকটাত্মীয় নয়। অনুরূপভাবে স্বামীর আত্মীয়গণ স্ত্রীর নিকটাত্মীয় নয়। তবে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা এবং তাদের সাথে সদাচরণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভালোকাজের অন্তর্ভুক্ত।

পরিত্যক্ত সম্পদের অধিকারী হওয়ার দিক দিয়ে আত্মীয় দুপ্রকার। (১) উত্তরাধিকারী, যেমন- পিতামাতা, ভাইবোন, স্ত্রী, পুত্র-কন্যা প্রভৃতি (২) উত্তরাধিকারী নয়, যেমন- চাচা-চাচী, মামা-খালা ইত্যাদি। নিকটাত্মীয়ের মধ্যে ভাইবোনও অন্তর্ভুক্ত। তবে ভাইবোন বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় হয়ে থাকে। আবার সম্পর্কের কারণে তারা দূরবর্তীও হয়। যেমন চাচাত, মামাত, খালাত, ফুফাত ভাই। স্থানের দূরত্বের কারণেও স্তরের ভিন্নতা হয়। যেমন নিজ মহল্লা ও নিজ শহরে বসবাসকারী আত্মীয় নিকটের। পক্ষান্তরে ভিন্ন মহল্লায় ও ভিন্ন শহরে বসবাসকারী আত্মীয় দূরের অন্তর্ভুক্ত।

প্রত্যেকের আলাদা আলাদা অধিকার

মাতা-পিতার পরে প্রথমেই আত্মীয়-স্বজনের অধিকার বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে। আত্মীয়-স্বজনের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা অধিকার রয়েছে। নম্র ব্যবহার, সদ্ভাব-সম্প্রীতি স্থাপন ও পরস্পর ভালোবাসার সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মীয়তার বন্ধন অটুট-অক্ষুণ্ন রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে, সৌহার্দ্য-দৃঢ়বন্ধন-ঐক্য  প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে নিকটাত্মীয়ের অধিকার অধিক। আত্মীয়দের ভিন্নতার কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার হুকুম ফরজ, সুন্নত ও মানদুব বা বৈধ হয়ে থাকে।

বাবা-মায়ের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা ফরজ। অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা সুন্নত। অমুসলিম বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের সুসম্পর্ক বজায় রাখা বৈধ। পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা ও কৃতজ্ঞ হওয়া স্রষ্টার কাছেও পছন্দনীয়। তারা বার্ধক্যে উপনীত হলেও ‘উফ’ বলা ও ধমক দেয়া যাবে না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলতে হবে, সদ্ব্যবহার করতে হবে। পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া ও তাদের অবাধ্য হওয়া কবিরা গুনাহ।

বংশীয় দিক দিয়ে নিকটাত্মীয় হচ্ছেন পিতা-মাতা। তবে এর মধ্যে মায়ের স্তর ঊর্ধ্বে। মা কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছেন, দুবছর দুধ পান করিয়েছেন। একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার মার, তারপর বাবার। আত্মীয়তা-সম্পর্ক বিনষ্ট করার সবচেয়ে বড় নমুনা হলো পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা। তারপর যে সবচেয়ে কাছের তার সাথে।

আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্টে বিনষ্ট হয় সমাজ

আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হলে সমাজ বিনষ্ট হয়। আর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় না থাকলে জীবন হয়ে যায় নীরস, আনন্দহীন, একাকী ও বিচ্ছিন্ন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলনের সেতুবন্ধ তথা সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর ফলে পারস্পরিক বন্ধন নষ্ট হয়, বংশীয় সম্পর্ক ক্ষুণ্ন হয়, শত্রুতা ও বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়, বিচ্ছিন্নতা ও একে অপরকে পরিত্যাগ করা অবধারিত হয়। এটা পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি, হৃদ্যতা ও ভালোবাসা দূর করে, অভিশাপ ও শাস্তি ত্বরান্বিত করে, জান্নাতে প্রবেশের পথকে বাধাগ্রস্ত করে, হীনতা ও লাঞ্ছনা আবশ্যক করে। কেননা মানুষ যার নিকট থেকে ভালো ব্যবহার, কল্যাণ ও সুসম্পর্ক কামনা করে, তার পক্ষ থেকে কোনো বিপদ এলে সেটা অধিক পীড়াদায়ক ও অসহনীয় হয়।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা অপরাধ

জ্ঞাতি সম্পর্ক ছিন্নকারীদের পরিণাম হবে ভয়াবহ। সমাজের কিছু মানুষ শুধু নিজের পরিবার পরিজন নিয়েই ব্যস্ত থাকে এবং আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে থাকে উদাসীন। আবার এমন বহু লোক আছে, যারা নিজের পরিবার-পরিজনের কথা ভুলে অর্থকড়ি বন্ধু-বান্ধবের পেছনেই ব্যয় করে। যদি কোনো আত্মীয়ের মধ্যে অহংকার, আত্মগৌরব, শত্রুতা ও বিরোধীভাব পরিলক্ষিত হয় অথবা কেউ যদি এই আশঙ্কা করে যে, তার কোনো আত্মীয় তাকে প্রত্যাখ্যান করবে ও তার সাথে বাড়াবাড়ি করবে, তাহলে তার সাথে নম্রতা অবলম্বন করা অথবা তাদের থেকে এমনভাবে দূরত্ব বজায় রাখা যে, সেটা যেন তাদের কোনো কষ্টের কারণ না হয়।আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিণতি ভয়াবহ। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা শুধু একটি মারাত্মক অপরাধই নয়, রবং একটি সামাজিক, মানবিক ও আত্মিক ব্যাধি;যা একটি সুস্থ সমাজ, সুন্দর পরিবেশ ও মানবতাবোধকে হত্যা করে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধকে ব্যাহত করে। তাইতো আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্টকারীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি এবং কঠিন আজাব ও শাস্তির কথা ঘোষণা করে তীব্র ভাষায় তাদের ভর্ৎসনা করেছেন আল্লাহ।

অনেকেই তার আত্মীয় স্বজনের সাথে কোনো পরিচয়ই রাখে না। এমনকি কোনো প্রকার সম্পদ ব্যয় করে অথবা ব্যক্তিগত সদ্ভাব রক্ষা করে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে না। এ ধরণের লোকও আমাদের সমাজে বিরল নয় যে, সাধারণ বিষয় নিয়েও রাগ করে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও অনেকে আত্মীয়-স্বজনের খবর নেয় না, তাদের সাথে দেখা সাক্ষাতের কোনো ধার ধারে না এবং দীর্ঘ দিন কথাবার্তা বন্ধ রাখে। আবার কোনো কোনো লোক এমনও রয়েছে যে দূরের লোকের সাথে সম্পর্ক রাখে অথচ তার নিকটাত্মীয়ের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে। আবার কেউ আছে যে আত্মীয় স্বজনের সাথে ঠিক তখনই সম্পর্ক রাখে যখন তারা তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলে, আর যখন তারা সম্পর্ক রাখে না তখন তারাও সম্পর্ক ঠিক রাখে না। এটাকে প্রকৃতপক্ষে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা বলা যেতে পারে না।

সমাজের অনেকেই পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য ও আত্মীয়-স্বজনের অধিকার সম্পর্কে একেবারেই অসচেতন। অনেকে আত্মীয়রা সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন না বলে দায়িত্ব এড়াতে চান। অথচ নিকটাত্মীয়রা সুসম্পর্ক রাখায় যে ব্যক্তি তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে সে প্রকৃতপক্ষে সম্পর্ক রক্ষাকারী নয় বরং নিকটাত্মীয়রা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার পরেও যে ব্যক্তি তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখে সে-ই প্রকৃতপক্ষে সম্পর্ক রক্ষাকারী। আত্মীয়-স্বজনের অধিকার ক্ষুন্ন করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। অথচ অনেকেই সাধারণ বিষয় নিয়েও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কথাবার্তা বন্ধ রাখে। এমনকি অনেকে রাগ করে সারাজীবন দেখা-সাক্ষাৎ কথাবার্তা বন্ধ রাখে।

আত্মীয়দের কল্যাণ কামনায় বাড়ে মর্যাদা

আত্মীয়দের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখার  অর্থ হচ্ছে স্বজন-আপনজনের সার্বিক কল্যাণ কামনা করা, ভালো-মন্দের খোঁজ-খবর রাখা, তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা, তাদের অবস্থা সম্পর্কে লক্ষ্য রাখা, তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা, তাদের প্রতি অনুগ্রহ-অনুকম্পা প্রদর্শন করা, তাদের মধ্যে যারা দরিদ্র প্রয়োজনে তাদেরকে দান করা, তার অধিকার দিয়ে দেয়া, তাদের প্রতি সদয়-সহানুভূতিশীল হওয়া, তাদের হক আদায় করা, উপহার-উপঢৌকন প্রদান করা, তাদের বিয়ে-শাদিতে অংশগ্রহণ করা, তাদের যথাযথ সম্মান করা ও মর্যাদা দেওয়া, তাদের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা, দুঃখ-দুর্দশায়-বিপদাপদে পাশে থাকা, তাদের জন্য দোআ করা, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা করে সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা, তারা রোগী হলে তাদের সেবা করা, মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযায় শরিক হওয়া, দূরে চলে গেলে কিংবা খারাপ আচরণ করলেও ভালো আচরণ করা। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে রিজিক প্রশস্ত হয় বা জীবিকায় সচ্ছলতা দেয়া হয়, আয়ু বৃদ্ধি পায় বা দীর্ঘায়ু দেয়া হয় এবং স্রষ্টার সাথেও সম্পর্ক রক্ষা হয়।

সহানুভূতিশীল ও দয়ার্দ্রচিত্ত হওয়া আবশ্যক

আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে এলে তাদেরকে সানন্দে ও সম্মানের সাথে গ্রহণ করা, যথাসাধ্য আপ্যায়ন করা, তাদের দাওয়াত গ্রহণ করা, মাঝেমধ্যে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো, কোনো অভিযোগ থাকলে তা শোনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, সুসংবাদে শরিক হওয়া ও দুঃসংবাদে সহমর্মী-সমব্যথী হওয়া, নিরাপত্তা দেয়া, সংশোধনের চেষ্টা করা, বিবদমান বিষয় দ্রুত মীমাংসা করা, সম্পর্কোন্নয়ন ও মজবুত করণে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখা। আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, সাধ্যমত সেবা-শুশ্রুষা করা, কোনো আত্মীয় দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত কবুল করা, সহানুভূতিশীল ও দয়ার্দ্রচিত্ত হওয়া আবশ্যক।

অবহেলা-উপেক্ষা না করে খোঁজখবর নিতে হবে

শুধু সম্পদশালী ও প্রভাবশালী স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে হবে না; কোনো আত্মীয় অসহায়-গরিব-মূর্খ হলেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে, এড়িয়ে না চলে খোঁজখবর নিতে হবে, ভালোবাসতে হবে হৃদয়ের গভীর থেকে এবং অবহেলা-উপেক্ষা করা যাবে না। শ্রদ্ধা, স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি যখন তার কোনো আত্মীয়ের সাক্ষাৎ করার কারণে ঐ আত্মীয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে, এটাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা বলে না বরং এটা হচ্ছে প্রতিদান স্বরূপ। অনুরূপভাবে যদি কোনো কাজে সহযোগিতা ও প্রয়োজন পূর্ণ করা হয় আত্মীয়ের অনুরূপ কাজের বিনিময়ে তাহলে এটাকেও আত্মীয়তা রক্ষা করা বলা হবে না। এটাও হচ্ছে প্রতিদান বা বিনিময়।

দুর্ব্যবহার করলেও সদাচরণে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা 

প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষা হচ্ছে সম্পর্ক ছিন্ন করা হলেও যে তা বজায় রাখে। আত্মীয় দুর্ব্যবহার করলেও যে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে,  খোঁজখবর নেয়, তারা তার সাথে অসদাচরণ করলেও সে উত্তম আচরণ করে। আত্মীয়রা আপনার সাথে দুর্ব্যবহার করার পরও যদি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন তখনই আপনি তাদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেছেন বলে প্রমাণিত হবে। কোনো মুসলমানের জন্য তিন দিনের বেশি তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বন্ধ রাখা জায়েয নেই। হযরত আনাস (রা.) বলেছেন, রাসূল (সা.) নিজের আত্মীয়-স্বজনকে যেভাবে ভালোবাসতেন তেমন আর কাউকে ভালোবাসতে দেখেননি।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

One Comment on “আত্মীয়তার বন্ধন অটুট থাকুক”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *