সাংবাদিকের দেখা করোনাকাল

২০২০ সালের ২৬ মার্চ অফিস অন্দরে ডুকলো! বাসা থেকে অফিসের কাজ করার ক্ষেত্রে অনলাইনই হয়ে ওঠলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। আন্তর্জাতিক পাতায় কাজ করতাম বলে ওয়ার্ক ফ্রম হোমে কাজের গুণগতমানের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেললো না। ৪ আগস্ট পর্যন্ত এভাবেই বাসা থেকে অফিসের কাজ চালিয়েছি।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

করোনা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন

করোনা পরিস্থিতি চলাকালে করোনায় আক্রান্ত বিশ্ব শীর্ষক প্রতিবেদনটি নিয়মিত তৈরি করতাম। যেখানে বিশ্বের দেশে দেশে করোনাকে ঘীরে যেসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে গুরুত্ব পেয়েছে সেসব তুলে ধরা হতো। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের শেষদিন পর্যন্ত নিয়মিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছি।

তখন অধিকাংশ অফডেতেও ছুটি নিতাম না। প্রতিবেদনটিকে সাধ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ মানের করার চেষ্টা করতাম। নিয়মিতই নির্ধারিত সময়ের আগেই পাঠিয়েও দিতাম। খুবই সতর্ক থাকতাম যাতে এই প্রতিবেদন নিয়ে নিউজ এডিটরকে বিন্দুপরিমাণ দুশ্চিন্তা করতে না হয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে হোম অফিস

করোনা পরিস্থিতিতে সার্জিক্যাল মাস্ক পরলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল। তাছাড়া নানান বিধিনিষেধ ছিল। মহামারির সঙ্কটে টিকে থাকতে বা অস্তিত্বের লড়াই চালাতে হোম অফিস বেশ সহায়ক হয়েছিল ।

আন্তর্জাতিক ডেস্কের কাজ বাসা থেকে করতে গিয়ে বুঝেছিলাম- কর্মক্ষেত্র অফিস না হলেও ভালো কাজ করা যায় আর যথাসময়ে কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে অফিসে গিয়েই কাজ করার ব্যাপারটি অনিবার্যও নয়। প্রথম পাতায় দীর্ঘদিন লীড স্টোরিও হয়েছে ।

অতিরিক্ত কাজের সুযোগ সৃষ্টি

প্রতিদিন যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার বিড়ম্বনার অবসান হলো। ফলে বাড়তি সময়ে অতিরিক্ত কিছু কাজের সুযোগ সৃষ্টি হলো; যার ফলাফল পরিবার ও হৃদয়জয়ী নেতৃত্বের পথ বই।

মনে উঁকি দেয়া নানাবিধ ভাবনা

করোনাকালে সাংবাদিকতা পেশার পরিবর্তনের গতিধারা ও আগামী নিয়ে নানাবিধ ভাবনা মনে উঁকি দিতো। তখন সেসব চিন্তা-ভাবনা লিখেওছিলাম। বদলে যাচ্ছে সাংবাদিকতার চিরচেনা জগত শীর্ষক লেখা www.bdviews.net প্রকাশ করেছিল। সাংবাদিকতায় মানুষের বদলে রোবট শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল BD DARPAN.

poribar.net এ চারটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল- ১. আগামীর সাংবাদিকতায় নতুন সম্ভাবনা ২. নেটওয়ার্ক সোসাইটিতে সাংবাদিকতা ৩. করোনায় নতুন ব্যবসা, নতুন বিকল্প, নতুন সম্ভাবনা ৪. স্বার্থপরতার সংস্কৃতিতে সুস্থতা নেই। আধুনিক সাংবাদিকতায় একাডেমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষক লেখা প্রকাশ করেছিল shikshabarta.com

এছাড়া www.bd24online.net দুটি লেখা প্রকাশ করেছিল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ ও ঝুঁকি এবং আগামীর সাংবাদিকতা, পরিবর্তন ও সম্ভাবনা। natorekantho.com প্রকাশ করেছিল করোনা পরিস্থিতি ও আগামীর সাংবাদিকতা।

www.muktobak.com প্রকাশ করেছিল অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিপজ্জনক প্রবণতা শীর্ষক লেখা। www.gnewsbd.com প্রকাশ করেছিল সহ-সম্পাদকের কর্মক্ষেত্র ও যাপিত জীবন। www.bargunaonline.com প্রকাশ করে কেমন হবে করোনা পরবর্তী বিশ্ব শীর্ষক লেখা।

পরের কল্যাণ চিন্তা

করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেই অর্থনৈতিক টানাপড়েনে থাকাদের কল্যাণ চিন্তা করেছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায়ও এগিয়ে এসেছেন। অনেকে দলীয়ভাবে বা সমন্বিত উদ্যোগে বিপদগ্রস্তদের সহযোগিতা করেছেন।

বিভিন্ন সমিতি, ক্লাব ও অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি আপদকালীন কল্যাণ তহবিল মানবিক সহায়তা গ্রহণকারীদের পরিচয় উন্মুক্ত না করেই কাজ করেছে। কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে কাজ করেছে।

করোনার ইতিবাচক প্রভাব

করোনা মহামারি দুর্যোগের এই অস্বাভাবিক আপদকালীন সময়ে পৃথিবীর পরিবেশে বা জলবায়ুতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। প্রকৃতিকে গলা চেপে ধরা উন্নয়নকে টেকসই করার সচেতনতা বেড়েছিল। মানুষের অহেতুক খরচ কমেছিল। আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করা কমেছিল। মানবতা জেগে ওঠেছিল। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়েছিল। সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস বেড়েছিল।

করোনার নেতিবাচক প্রভাব

সরকারি চাকরিজীবী, মাল্টিন্যাশনাল ও বড় কোম্পানিতে কাজ করা কিছু মানুষ বাদে মধ্যবিত্তদের অধিকাংশই ভয়াবহ সংকটে ছিলেন৷ অনেকেরই নিয়মিত বেতন হতো না, অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, অনেকে চাকরি হারিয়েছিল; অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলক অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায়েছিল৷

অনেকেই এমন ছিলেন- কাজ ছিল না, আয় ছিল না, হাতে পয়সা ছিল না, সঞ্চয় ছিল না, খাবার মজুদ ছিল না । তৈরি পোশাকের দোকানি, পুস্তক ব্যবসায়ী, কনফেকশনারি দোকানি, দুগ্ধজাত খামার, শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষেরা ভবিষ্যত নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন।

অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল বিশ্ব

মহামারিতে দেশে দেশে মানবতাকে যেমন জেগে ওঠতে দেখা গেছে, তেমনি থমকে যেতেও দেখা গেছে! পত্রিকায় এসেছে মৃত্যুর আগে বাইরে থেকে দরজার ছিটকানি লাগিয়ে দেন স্ত্রী-সন্তান, পানি চেয়েও পাননি! করোনা আক্রান্তকে একা রেখে স্বজনেরা চলে গেছে! লাশ দিনের পর দিন পরে থেকেছে! করোনায় এমন স্বার্থপরতা বিশ্বকেই অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল!

বিপর্যস্ত জীবন ও জীবিকা

শাটডাউন আর লকডাউনে সুযোগের জানালা প্রতিদিনই একটু একটু করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। মানুষের জীবন ও জীবিকা কেড়ে নিচ্ছিল। আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত ও বিপন্নদের মানবিক সঙ্কট দেখা দিচ্ছিল। অনেকের খাবার কেনার টাকাও কাছে ছিল না।

দেশে দেশে সারি সারি লাশ চরম অসহায়ত্ব প্রমাণ করছিল, অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় যাচ্ছিল, মৃত্যুকুপ বানিয়ে ফেলেছিল। জনপদগুলো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছিল। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছিল। বাড়িতে মারা যাওয়া প্রিয়জনের লাশ রাস্তায় ফেলে গেছেন স্বজনরা! হাসপাতালের সামনে ও রাস্তায় পড়ে থেকে বেঘোরে প্রাণ যেত! শত শত গণকবর খুঁড়ে রাখা হতো! লাশের জন্য হাজার হাজার ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হতো!

করোনা তাণ্ডবে সঙ্কটময় পরিস্থিতি

মানুষ ঘরবন্দি হয়েছিল! চিকিৎসক রোবট নামিয়েছিল! লকডাউন টহলে পুলিশ রোবট মোতায়েন করেছিল! লকডাউন ভাঙায় গুলি করা হয়েছিল! অর্থের অভাবে আশ্রয় হারিয়েছিল! মানুষ বেকার হয়ে পড়েছিল!

করোনা তাণ্ডবে বেড়েছিল- স্থবিরতা, নাজেহাল অবস্থা, খাবারের জন্য হাহাকার, দুঃখের দামামা, নাকানি-চুবানি খাওয়া। চিকিৎসা সরঞ্জামের আকাল পরিস্থিতিকে করে তুলেছিল আরও সঙ্কটময়।

জীবন বাঁচাতে জীবন দান

করোনাকালে জীবন বাঁচাতে জীবন দানও করেছেন অনেকে। করোনাযোদ্ধা হিসেবে সেবা দিতে গিয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবীরা। করোনার দুর্যোগকালে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন মানুষকে সেবা দিয়েছেন সাহসী ও লড়াকু চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা।

 বদলে গিয়েছিল পৃথিবী

করোনা ঝড় পৃথিবীর গতিপথ ও চরিত্রও বদলে দিয়েছিল! আতংকে লাখ লাখ মানুষ নিজ দেশে ফিরেছিল। স্বাস্থ্য পরিষেবা পদ্ধতি থেকে শুরু করে অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সংস্কৃতির গতিপথে লেগেছিল পরিবর্তনের হাওয়া।

অভিজাত শহরগুলোও লাশের শহরে পরিণত হয়ে নির্জন-অচেনা-অদ্ভুত-ভূতুরে রূপ ধারণ করেছিল। করোনা ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা, নেতা-কর্মী, মালিক-শ্রমিক সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছিল।

উন্মোচিত হয়েছিল জনস্বাস্থ্যের কঙ্কালসার চেহারা

দেশে দেশে মহামারীতে বিপর্যস্ত হয়েছিল স্বাস্থ্যব্যবস্থা! জনস্বাস্থ্যের কঙ্কালসার চেহারা উন্মোচিত হয়েছিল। জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর-দুর্বল, কতটা বিশৃঙ্খল, নতুন নতুন সমস্যা মোকাবেলায় কতটা অক্ষম তা প্রমাণিত হয়েছিল।

মৌলিক চিকিৎসাসেবার অভাবে রাস্তায় রাস্তায় মানুষ মরে পড়েছিল! করোনা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত জনগণের অসহায়ত্ব ও আর্তনাদ বাড়িয়েছিল! সুস্পষ্ট স্বাস্থ্যনীতির অভাবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে, স্বাস্থ্য সচেনতার অভাবে, স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ ও সরঞ্জামের শোচনীয় অবস্থার কারণে পরিস্থিতি হয়েছিল ভয়াবহ।

অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে বেড়েছিল জনদুর্ভোগ

সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতিহীনতার কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছিল। জরুরি সেবা-দুর্যোগে গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা অত্যাবশ্যকীয় হলেও তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলো ও তাদের পরিবারের অন্যদের সুরক্ষার বিষয়টি অনেকটা উপেক্ষিতই ছিল!

স্বভাবজাত অতি আত্মবিশ্বাসী অনেকেই বিপদকে গুরুত্ব না দিয়ে- ‘আমার করোনা হবে না, হওয়ার কোনো কারণ নেই ‘এমন বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়েছিলেন।

কমে গিয়েছিল জীবনের মূল্য

যে যাই বলুক- করোনায় মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছিল। মৃত্যুমিছিল চলছিল! দেশে দেশে লাশ আর লাশের ছবি দেখা যাচ্ছিল! বেওয়ারিশ লাশ! কফিনের সংকট! কবর দিতে গিয়েও হিমশিম! দ্রুত লাশ দাফনের জন্য বিশাল-বিশাল গণকবর! জীবনের মূল্য যেন কমে গিয়েছিল!

মহামারি থেকে রক্ষায় টিকা

করোনার আলফা-গামা-বেটাসহ বিশেষ করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়েছিল অর্থনীতি, বাড়ছিল বেকারত্ব ও দারিদ্র্য। সরকারগুলো মহামারির হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে গণটিকাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। অদৃশ্য শত্রুকে পরাস্ত করতে দেশে দেশে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়েছে মানুষকে।

করোনাকালে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি

করোনাকালে কঠোর স্বাস্থ্যবিধির কারণে ধর্মীয় উৎসবগুলো হয়েছিল নিরানন্দের। শুধু সৌদি নাগরিকদের নিয়ে সীমিত আকারে উদযাপিত হয়েছিল হজ। রথযাত্রা বা রথের মেলাও জমজমাট হয়নি। লকডাউনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বন্দিত্ব মেনে নিয়ে ঘরে থেকেছিল মানুষ।

বাণিজ্য মেলা, বৈশাখী মেলা, চৈত্রসংক্রান্তি মেলা, সাংস্কৃতিক মেলা, সাহিত্য মেলা, নাট্য মেলাসহ কোনো সভা-সমাবেশ, অনুষ্ঠানই দেখা যায়নি; ছিল না মানুষের আনন্দ-কোলাহল। অনুষ্ঠিত হয়নি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের জমকালো অনুষ্ঠান, রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পূর্বনির্ধারিত জমকালো আয়োজনও বাতিল হয়েছিল।

মনের ভেতরের কষ্টগুলো বেড়েছিল

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অহর্নিশি কাজ হওয়ার পরও করোনা মহামারিতে অনেক মানুষকে হারাতে হয়েছে তাদের প্রিয় বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে।

ঘর হতে বের হবেন না- আহ্বান করে মাইকিং হয়েছিল। একটি শোক সংবাদ- জানিয়ে মাইকিং মনের ভেতরের কষ্টগুলো বাড়িয়ে দিয়েছিল। হাসিখুশি ভরা সুন্দর পৃথিবী ফিরিয়ে দিতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনাও বেড়ে গিয়েছিল।

অন্যরকম জীবনযাপনে মানুষ

দেশে দেশে ব্যাপক পরিসরে এমন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং জীবন বাঁচানোর তাগিদে মাস্ক, স্যানিটাইজার, ফেসশিল্ড, হ্যান্ড গ্লাভ্স, সাবান ও অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনার এমন প্রচেষ্টা আগে কখনো দেখা যায়নি ।

সব মিলিয়ে চিরচেনা পৃথিবীকে তখন আর খুঁজে পাওয়া যেত না। মানুষ সম্পূর্ণ অন্যরকম জীবনযাপন করছিল। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল।

হোম কোয়ারান্টিন ও  ঘরবন্দি সময়

করোনাকালে অনেকক্ষেত্রে হোম অফিস বাধ্যতামূলক হয়েছিল। চেহারাগুলো ছিল আতঙ্কিত! ভয় ছিল! অনেকে স্বেচ্ছায় আবার অনেকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টিনেও ছিলেন! কেমন এক নিস্তেজ আর অসহায়ত্ব! কতজনের কত প্ল্যান ভেস্তে গিয়েছিল!

এক নাগাড়ে বাসায় থাকায় অনেকের মন খানিকটা বিক্ষিপ্ত ছিল! করোনা আতঙ্কে কোনো সময় বা মুহূর্তই যেন উপভোগ করার ছিল না! চরম ব্যস্ত পৃথিবী নিথর-নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল৷ তবে অনলাইনে লাইভ অনুষ্ঠানের দর্শক বেড়ে গিয়েছিল। অনেকে করোনাকালের পূর্বে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দের স্মৃতি রোমন্থন করেও কাটিয়ে দিতেন ঘরবন্দি থাকার সময়টা৷

সামাজিক দূরত্ব নাকি শারীরিক দূরত্ব

পাশ্চাত্য থেকে আমদানি করা ‘সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং’ ‘সামাজিক দূরত্ব’ শব্দটি খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে সামাজিক মেলামেশার প্রতিটি স্থানেই একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের ন্যূনতম ‘শারীরিক দূরত্ব’ বজায় রাখা বড় প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছিল।

তবে আমি মনে করতাম- শারীরিক দূরত্ব মানে সামাজিক দূরত্ব নয়, বিপদে-আপদেতো সামাজিক নৈকট্যই বেশি প্রয়োজন। তাই লিখেছিলাম- সামাজিক নৈকট্য বজায় রাখুন; সামাজিক দূরত্ব কমান, শারীরিক দূরত্ব বাড়ান।

স্বাস্থ্যবিধি মানা ও না মানা

অনেকেরই স্বাস্থ্যবিধি মানতে খুব অনীহা ছিল। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাইরে বেরিয়ে নিরাপদে থাকা যায়নি। পথে-ঘাটে, দোকান-পাটে, বিদ্যালয়-পাঠাগারে, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কিংবা মসজিদ-মন্দিরে শারীরিক দূরত্ব মানা যে সামাজিক দায়বদ্ধতাই অংশ এটা অনেকে মনেও করেনি। ফলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল করোনা সংক্রমণ।

তবে পেটের দায়ে শ্রমজীবী যেসব মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারেনি, তাদের পাশে দাঁড়ানো ছিল সামর্থ্যবানদের জন্য নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব; সেই দায়িত্ব কম জনই পালন করেছিল।

পিপিই পরে শেষরক্ষার চেষ্টা

অবশ্য অনেকে পিপিই পরে শেষরক্ষার চেষ্টা করছিল! ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পার্সনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট পিপিই খুবই জরুরি দরকার হয়ে পড়েছিল ডাক্তারদের, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের, নার্স-আয়া-বুয়াদের, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারদের জন্য। পুলিশ সদস্যদের, গণমাধ্যমকর্মীদের, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের, র‌্যাব-সেনাবাহিনীর, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

এছাড়াও যারা এমন জায়গায় কাজ করতেন যেখানে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাদের জন্যও পিপিই ছিল আবশ্যক। কারণ এক্ষেত্রে শুধু তারাই সংক্রমিত হতেন না, বরং তাদের মাধ্যমে আরো অনেকেই সংক্রমিত হবার আশংকা ছিল।

About আনিসুর রহমান এরশাদ

শিকড় সন্ধানী লেখক। কৃতজ্ঞচিত্ত। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ভেতরের তাগিদ থেকে লেখেন। রক্ত গরম করতে নয়, মাথা ঠাণ্ডা ও হৃদয় নরম করতে লেখেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাক্ষিক-মাসিক-ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংকলন, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও জাতীয় দৈনিকের সাথে সম্পর্ক। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পড়েছেন মিডিয়া ও জার্নালিজমেও। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা গ্রামে।

View all posts by আনিসুর রহমান এরশাদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published.