সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ: সুলতান মাহমুদ

সুলতান মাহমুদ

তরুণ কবি সুলতান মাহমুদ।  সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার। পেশায় ব্যাংকার হলেও  লিখেন কবিতা, ছড়া, ছোট গল্প ও গান। পড়াশুনা করেছেন টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। ভালোবাসা দিতে চান, ভালোবাসা পেতে চান। খারাপের সাথে সঙ্গ সচেতনভাবে এড়িয়ে যান। বইপড়া ও লেখালেখিতেই তার আনন্দ। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের তক্তারচালা গ্রামে। বর্তমানে স্ত্রী জেসমিন মাহমুদকে নিয়ে  ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে বসবাস করছেন। এই তরুণ কবির মুখোমুখি হয়েছিল পরিবার ডটনেটের  বিশেষ প্রতিবেদক  শাওন মুকুল।

পরিবার ডটনেট: আপনার শৈশব ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে কিছু বলুন।

সুলতান মাহমুদ: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এ আমার নিজের কিছু কথা তুলে ধরার সুযোগদানের জন্য।

আসলে আমার শৈশব এবং বেড়ে ওঠা সবুজ পাতায় আচ্ছাদিত, পাখ-পাখালির কোলাহলে মুখরিত, অতি স্বচ্ছ জল ও বিশুদ্ধ বায়ুর অপরূপ সমন্বয়ের সহজ সরল গ্রামীণ আবহের এক সুন্দর পারিবারিক পরিবেশে। আমার বেড়ে ওঠার সময় মানে আশি থেকে নব্বইয়ের দশকে আমাদের গ্রামের পরিবেশ বেশ পরিপাটি এবং মনোরম ছিল। যদিও তখন আমাদের গ্রামে বিদ্যুতের আলো ছিল না, তবু মানুষের মাঝে মানবিক আলো জ্বলতো উজ্জল শিখার মতন।

আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবা-মায়ের সাথে পারিবারিক কাজে সাহায্য করে নিজের পড়ালেখা গুছিয়ে তারপর স্কুলে যেতাম। পাড়ার সব ছেলে মেয়ে দল বেধে স্কুলে যেতাম। স্কুলে যেতে যেতে গ্রামের পথের ধুলো উড়ানো আর দুষ্টুমি ছিল নিত্যদিনের চিত্র। স্কুল থেকে ফিরেই যে যার মতন খেলার মাঠে ছুটে যেতাম। সন্ধ্যা হলে নিজেই হারিকেনের চিমনি মুছে আলো ধরিয়ে পড়তে বসতাম। কাজের দিনে বাবা-মায়ের কাজে যে যার মতো সাহায্য করতাম।

পরিবার ডটনেট: আগের প্রজন্ম ও বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে কেমন পার্থক্য লক্ষ্য করছেন?

সুলতান মাহমুদ: আগের প্রজন্ম আর বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বিভিন্ন দিক হতে অনেক পার্থক্য দৃশ্যমান। আগে আমরা বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন রকমের মজার মজার খেলায় সময় কাটাতাম। বন্ধু-বান্ধব মিলে গল্প, আড্ডায়, গানের আসরে, বিভিন্ন সামাজিক,পারিবারিক উৎসবে মজা করে দিনাতিপাত করেছি।

বিশ্বায়নের যুগে বর্তমান প্রজন্ম  মোবাইল প্রীতিতে অতিমাত্রায় আসক্ত। ফলে তথ্য-প্রযুক্তির সুফলকে কুফলে রুপান্তরিত করছে। বেশিরভাগ সময় মোবাইল গেমস খেলছে, বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ অনুষ্ঠান উপভোগ করছে আর মানসিকভাবে অসুস্থ হচ্ছে। সহজ প্রাপ্য বিভিন্ন নেশার দ্রব্যে পারিবারিক সম্প্রীতি ও বন্ধনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। আগের মতো বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার ব্যাপারটা কেমন যেন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে।

পরিবার ডটনেট: সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য দেয়া উচিত?

সুলতান মাহমুদ: সন্তান লালন-পালন করা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে বাবা-মাকে সবসময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশে, কেমন আচরন করে, কিভাবে কথা বলে, কোন জিনিসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট, পড়ালেখার মান কেমন, স্কুলে তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ব্যবহার কেমন, কোন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে,খেলাধুলায় মনোযোগ কেমন ইত্যাদি বিষয় খেয়াল রেখে সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। মোট কথা সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।

পরিবার ডটনেট: সন্তানের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা ও বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের কি ভূমিকা রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

সুলতান মাহমুদ: সন্তানের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা ও বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। পরিবার থেকেই একটি সন্তান তার আচার ব্যবহার শিখে থাকে। তাই পারিবারিকভাবে ভালো পরিবেশে বেড়ে ওঠা যেকোনো সন্তানের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবার ডটনেট: আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব পরিবার ব্যবস্থার উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলছে?

সুলতান মাহমুদ: আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি পরিবার ব্যবস্থার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মোবাইল ও কম্পিউটারে ইন্টারনেটের নেতিবাচক ব্যবহারের প্রভাবে পারিবারিক বন্ধনে অনেকাংশে শৈথিল্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  ইন্টারনেটের বদৌলতে সহজেই ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে নানা অপসংস্কৃতি। যার ফলে মানুষের মাঝে অস্থিরতা, হিংসা-বিদ্বেষ, কলহের মতো নানান ধরনের সামাজিক ব্যধি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সমাজে মারাত্মকভাবে ডিভোর্সের সংখ্যা বেড়েছে অপসংস্কৃতির ফলে । যার ফল ভোগ করছে ছোট্ট ছোট্ট শিশু কিশোরসহ পরিবারের সবাই।

পরিবার ডটনেট: আপনি কি মনে করেন বর্তমান পারিবারিক অবক্ষয় চলছে? উত্তরনের উপায় কি বা কিভাবে উত্তরন সম্ভব?

সুলতান মাহমুদ: অবশ্যই,বর্তমানে পারিবারিক অবক্ষয় চলছে। পারিবারিক অবক্ষয় হতে সহজে উত্তরনের কোনো পথ নেই । তবে কিছু কিছু কাজ করলে হয়তো অনেকেরে চেয়ে ভালো থাকা যাবে। যেমন-পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে, পরিবারের সবার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে, পরিবারের সাথে বেশি বেশি সময় কাটাতে হবে, পরিবারের সদস্যদের জন্যে সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন-গান, গল্প, কবিতা, সুন্দর সিনেমা, নাটক ইত্যাদি পরিবারের সবাই মিলে উপভোগ করতে হবে।

ইন্টারনেট তথা মোবাইলের উপর অতিরিক্ত আসক্তি প্রত্যাহার করতে হবে। কুরুচিপূর্ণ,পারিবারিক বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো নাটক, সিনেমা, গল্প ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে। পরিবার এবং বাচ্চাদের নিয়ে বিভিন্ন বিনোদন পার্কসহ দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করতে হবে । সুযোগ থাকলে মাঝে মধ্যে পরিবার নিয়ে বাইরে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।

পরিবার ডটনেট: একটি সুখী পরিবার তৈরিতে কোন বিষয়গুলো জরুরি, আপনার নিজের পরিবারের আলোকে বলুন।

সুলতান মাহমুদ: একটি সুখী পরিবার তৈরিতে জরুরী বিষয় হচ্ছে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করা এবং সম্পর্কটাকে যথাযথ সম্মান বা যত্ন করা। আমার পরিবারের আলোকে বলতি পারি-পরস্পরের মধ্যে সহমর্মিতা থাকতে হবে। বাচ্চাদের সময় দিতে হবে, তাদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প শুনাতে হবে, তাদের পড়ালেখার খোঁজখবর নিতে হবে এবং বিভিন্ন উৎসব পার্বনে পবিবারকে সময় দিতে হবে । সর্বোপরি  ছাড় দেওয়ার মন-মানসিকতা থাকতে হবে।

পরিবার ডটনেট: পরিবার ডটনেটের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন…

সুলতান মাহমুদ: পরিবার ডটনেটের পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলবো-আপনারা পরিবারকে যথাযথ সময় দিন, পরস্পরকে সম্মান করুন, পরিবারের সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং পারিবারিক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা বজায় রাখুন। সবাই ভালো থাকবেন। পরিবার ডটনেটের প্রিয় সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি রইলো অসংখ্য শুভকামনা এবং আন্তরিক ধন্যবাদ।

সুলতান মাহমুদের কিছু কবিতা –

করোনা পাশ
পরীক্ষা হীন পাশ করাবেন
আনন্দ নেই মনে
করোনা পাশ বলে যদি
আঙুল তোলে জনে?
চাকরি পেতে শুনতে পারি
অটো পাশের ধিক্কার
মুখ বেঁকিয়ে বলতে পারে
পাশ টা ছিলো ভিক্ষার!
বেকার থাকলে কানাঘুঁষা
অটো পাশের ছাত্র
বিয়ের সময় হতেই পারি
হাসির খোরাক পাত্র।
গাড়ি ঘোড়া অফিস সভা
সবই যদি চলে
করোনা কি জেঁকে বসবে
পরীক্ষার ঐ হলে?
করোনার এই অজুহাতে
চাই না কোনো বাধা।
পরীক্ষা নেন প্রমাণ দিবো
নই যে মোরা গাধা।
১৪/১০/২০২০
ইচ্ছে জাগে
ইচ্ছে জাগে দূর মিনারে
আযানের সুর হই
সকাল বেলার পাখি হয়ে
সু- স্বাগতম কই।
ইচ্ছে জাগে ভোরের রাগে
আঁধার করি দূর
সবুজ শ্যামল বাংলাতে হই
নতুন স্বপ্নে ভোর।
ইচ্ছে জাগে ভোরের হাওয়া
গা জড়িয়ে লই
শিশির ভেজা পুষ্প হয়ে
হাসি মুখে রই।
ইচ্ছে জাগে শুধরে ফেলি
জীবনের সব ভুল
জীবনটাকে গড়ি যেনো
সদ্য ফোটা ফুল।
২১/১২/২০২০
পুরুষ মানুষ
ছেলে হয়ে জন্ম নিলেই পুরুষ হয় না সবে
শক্তি সাহস শৌর্য্য বীর্যে সুপুরুষ হয় তবে।
পুরুষ মানুষ নারী দেহের লোভে নাহি চলে
পর নারীতে দৃষ্টি যাহার কামুক তারে বলে।
বিপদ ঠেলে সামনে চলে সাহস ভরা বুকে
বীরের মতো ইচ্ছে যাহার পুরুষ বলে লোকে।
ভালো থাকার ছকের গুটি পুরুষ মানুষ ছাড়ে
পরিবার আর সমাজ তরে দায়িত্ব নেয় ঘাড়ে।
কষ্ট যারা বুকের ভিতর শক্তি বানায় নিত্য
আকাশ পাতাল দুনিয়াটা হযে থাকে ভৃত্য।
দৃষ্টি যাহার আকাশ ভেদে কন্ঠে বজ্র ঝরে
এমন পুরুষ ন্যয়ের সাথে যুদ্ধ করে মরে।
পুরুষ সাজা অতি সহজ পুরুষ হওয়া নয়
পুরুষ হওয়ার জন্য তেমন পৌরুষ থাকতে হয়।
২১/০৯/২০২০
পাঠশালা
মায়ের কোলে খোকা খুকি
প্রথম বুলি শিখে
বাবা মায়ের কাছে বসেই
কাঁচা হাতে লিখে।
জ্ঞানে মনে বড় হতে
পাঠশালাতে পড়ে
মানব শিশু মানুষ হয় যে
গুরুর দীক্ষা ধরে।
পাঠশালাতে শিক্ষা নিয়ে
দেশ বিদেশে ঘুরে
জ্ঞান বিজ্ঞানের আলো দিয়ে
আঁধার ঠেলে দূরে।
পাঠশালা এই জগৎ জুড়ে
শিক্ষা নিতে হবে
প্রকৃতির এই পাঠশালাতেই
আসল শিক্ষা ভবে।
১১/১০/২০২০
ক্ষমতা
ক্ষমতা এক কঠিন নেশা
একবার ধরে যারে
অহংকারের আগুন ঢেলে
ধ্বংস করে ছাড়ে।
চোখে পড়ায় রঙিন চশমা
দিলে মোহর মারে
বুকের ভিতর দম্ভ ভরে
সবার দৃষ্টি কাড়ে।
ধরা কে সে সরা জ্ঞানে
যা ইচ্ছে তাই করে
ক্ষমতার ঐ পাগলা ঘোড়া
নিজের বলয় গড়ে।
মোহে ফেলে অন্ধ করে
মনটা করে দাস
অপকর্ম করতে শেখায়
ডেকে আনে নাশ।
ক্ষমতারই হাওয়ার পালে
থাকে না তো ভয়
ভুলিয়ে দেয় চেয়ার টেবিল
চিরদিনের নয়।
২৭/১০/২০২০
গরুর গাড়ি
গাঁয়ের পথে চলতো গাড়ি
সেই গল্প কই
নতুন বউ আসতো বাড়ি
মাথায় দিয়ে ছই।
লোহায় ঘেরা কাঠের চাকা
চলতো মেঠো পথে
ধান সরিষা নিতাম হাটে
বস্তা শতে শতে।
নানার বাড়ি ফুফুর বাড়ি
যেতো গরুর গাড়ি
কাদা মাটির রাস্তা ধীরে
ঘুমে দিতাম পাড়ি।
সতেজ দুটো ষাড় থাকতো
টানতে গাড়ি রোজ
চারন ভরা সবুজ ঘাসে
হতো ওদের ভোজ।
গরুর গাড়ি হারিয়ে গেছে
কলের গাড়ি এসে
তবুও কিছু স্মৃতির রেখা
রয়েছে মন ঘেঁষে।
১৫/১০/২০২০
মহান নেতা শেখ মুজিব
সবার নেতা দেশের নেতা
মহান নেতা শেখ মুজিব
রক্তে রাঙা প্রভাত রবি
আলোকোজ্জ্বল একটি দীপ।
মাটি থেকে আকাশ পানে
হীরক জ্যোতি একটি নাম
দেশের তরে জীবন দিয়ে
মিটিয়েছেন প্রেমের দাম।
উচ্চ শিরে উড্ডীয়মান
জীবন্ত অই সবুজ লাল
দেশ প্রেমিকের হৃদয় জুড়ে
থাকবে বেঁচে চিরকাল।
১০/০১/২০২০
আমি বিজয় দেখি
আমি বিজয় দেখি
মায়ের কোলে ছোট্ট শিশুর হাসিতে
বাংলা জুড়ে সম্প্রীতির সুর বাঁশিতে।
চাষার গায়ে শুকনো ঘামের সৌরভে
পলাশ রাঙা শহীদদের লাল গৌরবে।
আমি বিজয় দেখি
টিএসসিতে তরুণ যুবার ভাষণে
আমজনতার রায়ে বসা আসনে।
প্রতিবাদী লাখো কন্ঠের দাবিতে
জুলুমবাজের অন্ধ তালার চাবিতে।
আমি বিজয় দেখি
শেখ মুজিবের ৭ ই মার্চের গর্জনে
দেশের তরে নিজের স্বার্থ বর্জনে।
বুকের ভিতর পাহাড় সম দৃঢ়তায়
বাঘের রাজ্যে ছাগল লড়ার মৃঢ়তায়।
আমি বিজয় দেখি
রণাঙ্গনের রক্তে ফোটা পদ্মতে
বীরাঙ্গনার যুদ্ধ জয়ের গদ্যতে।
হৃদয় আমার স্বাধীন চেতা থাকাতে
স্বাধীন বাংলার উন্নয়নের চাকাতে।
০৭/১২/২০২০
প্রশ্ন
তিন বছরের শিশু তুমি
প্রশ্ন হাজার মনে
নতুন কিছু পেলেই তোমার
প্রশ্ন ক্ষণে ক্ষণে।
কেমন করে এমন হলো
বাতাস কেমন দেখতে
কেমন করে বিমান চলে
চাও তুমি খুব শিখতে।
বাসে ট্রেনে চরলে তোমার
প্রশ্ন অবিরত
গাছ পালা ক্যান দৌড়ে চলে
রাস্তা বড় কত?
চাঁদ কেন হয় ছোট বড়
তারা কেন ছুটে
সূর্য কেন প্রতিদিনই
পুব আকাশে ওঠে?
আকাশ থেকে কেমন করে
বৃষ্টি নেমে আসে
মেঘের কোথায় শব্দ হলে
বিজলি এমন হাসে?
কেমন করে পানি ওঠে
লোহার কলে চেপে
সাগর জুড়ে কত পানি
দেখছো কি বাপ মেপে?
ফুল গুলো ক্যান ফোটে থাকে
ঝুপ জঙ্গলের ধারে
আমের ভিতর আঁটি কেন
বলতে কি কেউ পারে?
প্রশ্নে প্রশ্নে বেহাল দশা
প্রশ্ন হোক তাও আরো
জানার এমন ইচ্ছে নিয়েই
দিন দিন তুমি বাড়ো।
০৫/০৯/১৮
বিদেশ এসে
বুকের মাঝে কষ্ট চেপে
দেশটা ছেড়ে আসি
বিদেশ এসে বুঝতে পারি
কত্তো ভালো-বাসি।
সারাটা দিন কর্ম করি
বন্ধু সবে মিলে
হৃদয় খানি ভাসতে থাকে
পদ্ম ফোটা ঝিলে।
নিজের হাতে রান্না করি
দিনের বেলা শেষে
অশ্রু ভেজা প্রিয় মুখটা
উঠে তখন ভেসে।
কারো অধীন আদেশ মানা
কষ্ট কি যে বুঝি
ময়লা হাতে অশ্রু মুছে
বাবার ছায়া খুঁজি।
সুখের পাখি ধরতে মোরা
বিদেশ পড়ে থাকি
ঘামের জলে অশ্রু ঢেলে
হৃদে স্বপ্ন আঁকি।
২৩/১২/২০২০
শক্তি খুঁজি
লাল সবুজে
শক্তি খুঁজি
দেশটা আমার
স্বাধীন বুঝি।
একাত্তরের
ভয়াল ছবি
ভাবলে হৃদে
জাগে রবি।
ডিসেম্বরে
বিজয় এলো
আনন্দে দুখ
ভেসে গেলো।
বঙ্গবন্ধুর
ভাষণ শুনি
বুকের ভিতর
স্বপ্ন বুনি।
সুযোগ পেলে
দেশের তরে
জীবন দিবো
অকাতরে।
০৮/১২/২০২০
পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *