শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পবিত্র বন্ধন

আনিসুর রহমান এরশাদ

মা-বাবা শিশুকে জন্মদান করে, লালন করে; মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকই সকল মেধা-শ্রম ও সাধনা দিয়ে মানব সন্তানকে শিক্ষিত করে  প্রকৃত-পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে তৈরি করেন; শিক্ষার আলো দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন এবং সামনের পথ চলাকে সুদৃঢ় করেন। শিক্ষক শিক্ষকই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক জীবনের কোনো এক পর্যায়ে হলে তা সারা জীবনের জন্যই।  হোক না প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, গ্রাজুয়েট বা পোস্টগ্রাজুয়েট লেভেলে; ক্লাসে,  বাসায়, কোচিংয়ে কিংবা ট্রেনিং প্রোগ্রামে। শিক্ষকদের স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) শিক্ষক হিসেবে গর্ব অনুভব করতেন এবং দোয়ায় বলতেন, হে আল্লাহ! শিক্ষকদেরকে ক্ষমা করুন, তাদেরকে দান করুন দীর্ঘজীবন।

সভ্যতার অভিভাবক

শিক্ষা ও উন্নয়নে, সচেতনতা ও উপলব্ধি সৃষ্টিতে  বিশেষ ভূমিকা রাখেন শিক্ষকরা। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিনির্মাণে  ভূমিকা রাখেন। ন্যায়সঙ্গত ও গুণগত শিক্ষা অর্জনের  চালিকাশক্তি।  শিক্ষকের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই শিক্ষার্থীর মন-মনন, মানসিক উৎকর্ষ সাধন হয়, আচার আচরণ, মন ও আত্মার ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ঘটে, মেজাজ ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের প্রভাব ফেলে। শিক্ষক সভ্যতার অভিভাবক, সমাজের অভিভাবক। একজন আলোকিত, জ্ঞানী-গুণী ও বুদ্ধিদীপ্ত শিক্ষক সভ্যতার বিবর্তনের অনুঘটকের দায়িত্ব পালন করেন।  তাই শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের যথাযথ সম্মান করা কর্তব্য।

সমাজ বিবর্তনে অনুঘটক

শিক্ষক আচার-আচরণ, মন ও মননে নিজেই বটবৃক্ষের প্রতীক।  পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, নির্মল চারিত্রিক গুণাবলি, জ্ঞান সঞ্চারণে আন্তরিক সদিচ্ছা-প্রচেষ্টা তাকে প্রিয় মানুষে পরিণত করে। শিক্ষার্থীকে শিখন প্রক্রিয়ায়, জ্ঞান অন্বেষণ ও আহরণে, মেধা বিকাশ ও উন্নয়নে, শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনে, নৈতিক ও মানসিক গুণাবলি অর্জনে এবং সমাজ বিবর্তনে অনুঘটক ও সুশীল সমাজ তৈরিতে সহায়তা করেন।

আদর্শ শিক্ষক মানুষকে চূড়ান্ত কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন,  শিক্ষার্থীর জ্ঞানবৃক্ষকে তৈরি ও সমৃদ্ধ করেন।  শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব-আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে  শিক্ষার্থীর উপর প্রভাব বিস্তার করে, সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে জাতির উন্নয়নে নিযুক্ত করে; চিন্তা-চেতনা ও মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। একজন শিক্ষক তার ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও কর্মের গুণে শিক্ষার্থীর কাছে আদর্শ ও অনুকরণীয় হয়ে ওঠেন।

মহৎ পেশায় বৃহৎ সেবা

মহৎ পেশা শিক্ষকতা অন্য সকল পেশার জননী,  নিঃসন্দেহে  বৃহৎ সেবা। শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিখন প্রক্রিয়া উন্নয়ন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ বিনির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।  সমাজের প্রত্যাশা মোতাবেক একজন শিক্ষক হবেন জ্ঞান তাপস, মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত, ব্যক্তিত্ববান, চৌকস, শ্রেণিকক্ষে আগ্রহী পাঠদানকারী ও জ্ঞান বিতরণে আন্তরিক।

শিক্ষক হবেন সুবিচারক, সুপরীক্ষক, শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রক, যুক্তিবাদী, গবেষক, উদ্ভাবক, সঠিক পথের দিশারী, পথ প্রদর্শক। অবশ্যই সৎ ও ধার্মিক। শিক্ষক সহজ হবেন, সরল হবেন, নির্মল হবেন, হবেন অকুতোভয় সত্যবাদী। সপ্রতিভ ব্যক্তিত্ববান, সমাজ হিতৈষী, পরোপকারী এবং আধুনিকতামনস্ক বিচক্ষণ সমাজ সংস্কারক। শিক্ষক হবেন চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন, পরিশ্রমী, নিরপেক্ষ, হাস্যোজ্জ্বল, সুপরামর্শক ও প্রাণবন্ত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.