বেয়াদবের বেয়াদবি ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ 

বেয়াদবির কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। বেয়াদবেরও কোনো উচিত-অনুচিত জ্ঞান নেই। যে বেয়াদবের পক্ষ নেয়, সে বেয়াদবিকে অনুমোদনের মাধ্যমে মূলত বেয়াদবকে বেয়াদবি করতে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করে। বেয়াদবের এমনিতেই কোনো আদব নেই, আর আশকারা পেলে তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

বেয়াদবির ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ শিষ্টাচার

যেখানে বেয়াদবি করলেও ক্ষমা চাইতে হয় না, সেখানে বেয়াদবকেও অনুশোচনায় ভোগতে হয় না। কেউ কেউ নিজের সাথে বেয়াদবি করলেও চুপ থাকেন, ধৈর্য ধারণ করেন; কারণ একটি বেয়াদবির পর পাল্টা বেয়াদবি করাতো আর ভদ্রতা হতে পারে না। অথচ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেও বেয়াদবি হয়ে গেলে সেই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করা সাধারণ শিষ্টাচার।

বেয়াদবকে  সংশোধনে বুঝানো

সবসময় বেয়াদবির পরও চুপ থাকা ঠিক না। কিছু সময় চুপ থেকে পরিস্থিতি শান্ত হলে শান্তভাবে কথা বলে বুঝানো উচিত। কারণ বেয়াদব যদি কখনো বুঝতেই না পারে যে সে বেয়াদবি করছে, তাহলে কখনো সংশোধন হবে না। অনেকে বেয়াদবিকে সাহসিকতা মনে করেন, সৌজন্যতাবোধ বিবর্জিতভাবে বললেও উচিত-স্পষ্ট কথা বলতে পারঙ্গম ভেবে ঔদ্ধত্যপনা করেন।

বেয়াদবি করলে শাস্তি কল্যাণকর

বেয়াদবি কারো সঙ্গে এমন ধরনের দুর্ব্যবহার যা অসচেতনতা ও দায়িত্বহীনতার চরম দৃষ্টান্ত। বেয়াদবি করায়- শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের মারধর, সন্তানকে বাবা-মায়ের শাসন আখেরে কল্যাণকর। সাধারণত কাণ্ডজ্ঞানের অভাবে বা আচরণ জ্ঞানের অভাবে বেয়াদবদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। তাইতো আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ভুল হবার পরও আম্পায়ারের সাথে বেয়াদবি করলে শাস্তি হয়!

বেয়াদবিতে বিদ্বেষ ও মিথ্যাচার

অনেকে বিড়ম্বনা এড়াতে বেয়াদবকে সহ্য করেন। এতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় বেয়াদবেরই। কারণ কর্মকাণ্ডে বেয়াদবি ও মিথ্যাচার প্রকাশ পেলেও যদি বাঁধার সম্মুখীন না হয় তাহলে সে ভবিষ্যতেও বেয়াদবিতে মেতে উঠে। আর বেয়াদবিতে মেতে উঠা মানে বিদ্বেষে মেতে উঠা, মিথ্যাচার করায় মেতে উঠা!

বেয়াদবি থেকেই গুণ্ডাগিরির মানসিকতা

কোনো একটি দলের যদি অধিকাংশ সদস্য বেয়াদব থাকে তাহলে ‘বেয়াদব দল’, কোনো পরিবারের অধিকাংশ সদস্য যদি বেয়াদব থাকে তাহলে ‘বেয়াদব পরিবার’ হিসেবে পরিচিতি পায়! প্রতিবাদও ভদ্র ভাষায় করা যায়, যা খুশি তাই করা শালীনতা নয়! কেউ বেয়াদবি করে যদি কখনো প্রতিবাদ-প্রতিরোধের সম্মুখীন না হয়, ধীরে ধীরে সে গুণ্ডাগিরি করার মতো মানসিক দৃঢ়তা অর্জন করে।

বেয়াদবকে পুরস্কৃত করায় বেয়াদবেরও ক্ষতি

উশৃঙ্খল আচরণকারী সমালোচিত হওয়ারই যোগ্য, প্রশংসিত হবার যোগ্য নয়। বেয়াদবকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা না করে যদি পুরস্কৃত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সে যোগ্যতার চেয়ে তার বেয়াদবির জন্যই বেশি পরিচিতি পাবে। একজন সম্মানিত ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছেন এমন সময় যদি কেউ হাসাহাসি করে, মনোযোগ দিতে বললে বেয়াদবি করে- তা উপস্থিত সবাইকেই রাগান্বিত করবে।

বেয়াদবি  শিষ্টাচার পরিপন্থী আচরণ

বেয়াদবি করলে কেউ বেয়াদব বলে ক্ষোভ ঝাড়েন, খারাপ-বাজে মানুষ হিসেবে একসাথে না চলার সিদ্ধান্ত নেন। বেয়াদব বড়দের সম্মান করে না। বড়দের সাথে ঠাট্টা-মশকরা করে, মুখে মুখে তর্ক করে, কথায় কথায় ভুল ধরে, কথা শেষ না হতেই থামিয়ে দিয়ে নিজে কথা বলা শুরু করে তথা শিষ্টাচার পরিপন্থী আচরণ করে।

বেয়াদব অভদ্র উচ্ছৃঙ্খল বেহায়া

বেয়াদব শব্দের অর্থই অভদ্র বা উচ্ছৃঙ্খল। অভদ্র আর উচ্ছৃঙ্খল টাইপের লোকদেরকে বেয়াদব বলে। বেয়াদব হচ্ছে- আদবহীন, বেহায়া, লজ্জাহীন, অবাধ্য। বেয়াদবের ডিকশনারীতে ভদ্রতা বলে কোনো শব্দ নেই, অভদ্রতা সবসময় করে। তার আদব-কায়দা জানা নেই বা জানলেও মানে না। সে বড়দের মুখের ওপর কথা বলে, যাকে যেটা বলার অধিকার তার থাকে না সেটাও বলে, কথা বলার কোনো লাগাম থাকে না।

বেয়াদবের আচরণ  ধৃষ্টতাপূর্ণ

যার মধ্যে আদবের লেশমাত্র নেই, সেই দুর্জন-চরিত্রহীন ব্যক্তি ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করে। বেয়াদব কর্মী নেতাদেরকেও চোখ রাঙিয়ে কথা বলেন। বড্ড বেয়াড়া শিক্ষার্থী শিক্ষকের সাথেও অশিষ্টতা প্রকাশ করেন। বেয়াদব নিয়ম-নীতিকে তেমন পাত্তা দেন না, বাবা-দাদার বয়সীদের সাথেও ভদ্রতা দেখান না, মুরুব্বিদের প্রতি সামান্য সৌজন্যতা না দেখিয়ে নির্লিপ্ত থাকেন, অন্যের প্রতিক্রিয়া কি হয় তা দেখার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন অনুভব করেন না। অধিকাংশেই এদের উপেক্ষা করে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়াতেই নিরাপদ বোধ করেন।

বেয়াদবের বেয়াদবি চিন্তায় কর্মে মননে

বেয়াদবের চিন্তায়-কর্মে-মননে এমনভাবে বেয়াদবি স্থান করে নেয় যে, বেয়াদবির জন্য তাকে প্রস্তুত হতে হয় না, প্রস্তুতি নিতেও হয় না; এমনকি অবচেতন মনেও সে বেয়াদবি করে বেড়ায়। বেয়াড়া সবসময় এমন এক ধরনের উত্তেজনা নিয়েই থাকে যে- কোনো ঝামেলা না করলে বা অন্যকে কটুকথা না বললে তার পেটের ভাত হজম হয় না। সে নিজে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায় অথচ অন্যের প্রতিক্রিয়াকে বিন্দুমাত্র সহ্য করে না।

বেয়াদবের পরিণতি অস্বস্তির ও অশান্তির

বেয়াদব জীবনের কোনো একটি পর্যায়ে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তিতে পুড়ে মরে নীরবে গোপনে! কারণ তার আচরণই যে খারাপ পরিণতির জন্য দায়ী- এমনটি তার মনে হতে থাকে। অনেক বেয়াদব বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে দুনিয়া-আখিরাত বরবাদ করেন, শিক্ষক-সিনিয়রদেরকে যন্ত্রণা দিয়ে ক্যারিয়ার নষ্ট করেন। বেয়াদব বেয়াদবির মানসিকতা নিয়ে যেখানেই যাক না কেন, যেখানেই থাক না কেন- সেখানেই অশান্তি থাকবেই।

বেয়াদবের বন্ধুত্ব বেয়াড়ার সাথেই

বেয়াদব অন্যের বদান্যতাকে অসহায়ত্ব বা দুর্বলতা মনে করে। সে খারাপ আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে রাজি হয় না, সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে নিতে চায় না, নিজের ভুল স্বীকারও করতে চায় না। বেয়াদবের বন্ধুত্ব হয় আরেকজন বেয়াড়ার সাথেই। একজন বেয়াদব আরেকজন বেয়াদবের মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখে না, ভয়ের কিছু দেখে না, উশৃংখলতার কিছু দেখে না।

বেয়াদবের অস্ত্র গালিগালাজ ও রাগারাগি

বেয়াড়া যদি কখনো অনুশোচনায় পুড়তে পুড়তে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করে ক্ষমা চান তা তার ব্যাপক পরিবর্তন ও বিনয় হিসেবে চিহ্নিত হয়! কারণ যেসব ঘটনায় তার দোষে অন্যরা লজ্জা পেয়েছে তা স্বীকার করতে পারা মানেই মানবতার উন্নত ও মহৎ রুপটাকে অনুধাবন করতে পারা। যখন-তখন যত্র-তত্র বেয়াদব বলে গাল দেয়াও একধরনের বেয়াদবি; গালিগালাজ-রাগারাগি করে এসব সমস্যার সমাধান হয় না!

বেয়াদব ধৈর্যহীন ও অসংবেদনশীল

বেয়াদব লোকদের ধৈর্য ধরতে বললে, তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। নিজেই সংবেদনশীল না এমন অনেকেও বেয়াদব বলে। কর্মক্ষেত্রে নতুন কিছু শেখার মানসিকতা না থাকায় বেয়াদবির দৃশ্য দেখা যায়; ফলে ফিটফাট অফিসেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। এসব এড়ানো যায়-বয়সে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা রাখায়, নতুন ধারণা গ্রহণের মানসিকতা থাকায়, মতামত চাপিয়ে না দিয়ে যুক্তি দিয়ে বোঝানোয়, বড়দের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ না করে বিনয়ী হওয়ায়।

বেয়াদবের ভাষা অসৌজন্যমূলক ও অশালীন

অসৌজন্যমূলক ও অশালীন ভাষায় কথা বলা কোনো সুস্থ মানুষের আচরণ নয়। অথচ দেখবেন কোনো অফিসে ছোটখাটো একটা খিটিমিটি কিছু বেধে গেলে ফুঁসতে ফুঁসতে বিড়বিড় করে বয়োজৈষ্ঠ বলেন-‘সেদিনের ছেলে বলে আমি বুঝি না! দুই যুগের অভিজ্ঞতা আমার। চুপ বেয়াদব, আমাকে বিধি শেখাও!’ উত্তেজিত হয়ে প্রচণ্ড রেগে তরুণ সহকর্মী বলেন- ‘আনস্মার্ট বুড়ো! আদিকালের ধ্যানধারণা নিয়ে বসে আছে।’

বেয়াদবি অশান্তির বিষক্রিয়া ছড়ায়

বেয়াদবকে জন্ম দিয়ে কোনো মা কখনো গর্বিত হন না। অশান্তির বিষক্রিয়া ছড়ানো বেয়াদবের প্রতি ঘৃণা জন্মে নিকটজনদেরও। কুলাঙ্গার বেয়াদব ভুলকে মনে করে শুদ্ধ, বেহায়াপনাকে মনে করে সাহস, ভয়-ভীতি দেখায়ে স্তব্দ করে দিতে পারাকে মনে করে বিজয়। বেয়াদব ভাবে- তার কোনো অপরাধ নেই, নিজের চেয়ে উন্নত রুচি-মানসিকতা-দৃষ্টিভঙ্গি-আচরণের কেউ নেই। স্বার্থ তাকে অন্ধ করে, বখাটেপনাদের সঙ্গ তাকে শক্তিশালী উন্মাদে পরিণত করে।

বেয়াদবি করা অযোগ্যতা

বেয়াদবি করার জন্য বিশেষ কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। প্রশ্ন হতে পারে- বেয়াদবকে শিক্ষা দেয়ার উপায় কী হবে? অনেকে বেয়াদবি করায় মারধর করেন। অনেকে বেয়াদবি করায় ক্লোজড্ হন। অনেকে বেয়াদবি করায় গ্রেফতার হন। অনেকে বেয়াদবি করায় বকাঝকা করেন। অনেকে বেয়াদবির শাসনে পেটান।

বেয়াদবিতে বদদোয়া মিলে

নেতার সাথে বেয়াদবি করা কর্মীকে পদে পদোন্নতি দিলে দলের চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে যায়। দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্রোহীপ্রার্থী হলে তাদেরও দলে চরম বেয়াদব হিসেবে দেখা হয়। বেয়াদবি করা যায় যে কারো সাথেই। তবে অনেক বেয়াদবরা বাবা-মা ও শিক্ষকদের বদদোয়া পাওয়ায় কখনো মানুষ হতে পারে না!

বড়দের সাথে বেয়াদবি করে ছোটরা

আমাদের সমাজে সাধারণত ছোটরাই শুধু পারে বড়দের সাথে বেয়াদবি করতে! সাধারণত বেয়াদবি বলতে : বড়দের সম্মুখে ধূমপান করা, ধূমপানরত অবস্থায় বড়দের কেউ দেখলেও স্থান থেকে সরে না পরা, বড় কেউ দেখার পরও সিগারেটের বাকী অংশটুকু লুকিয়ে না ফেলা, বড়দের উপদেশ শোনার সময় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অযৌক্তিক কথা বলার চেষ্টা করা, ছোটদের কেউ কোনো বলিষ্ঠ যুক্তি উপস্থাপন করে বড়দের খোড়া যুক্তি ধরিয়ে দেয়া, বড়দের হুকুম-আদেশকে নিজেদের মত-চিন্তা-ভাবনার সাথে না মেলায় মেনে না চলা, বড়দের সাথে কোথাও দেখা হলে সালাম না দেয়া বা কুশল জিজ্ঞাসা না করা, আঙুল তুলে কথা বলা, কোনো প্রশ্ন করলে চুপ থাকা বা জবাব না দেয়া,নিজের অপরাধের জন্য বড়দের অভিযুক্ত করা, বেফাঁস মন্তব্য করা ইত্যাদি বুঝায়।

বেয়াদবির পরিধি ব্যাপক

আমি বেয়াদবিকে আরো ব্যাপক অর্থে বুঝাতে চেয়েছি। যেমন- কেউ কেউ আল্লাহর সাথে বেয়াদবি করেন। কেউ কেউ নবীজির সাথে বেয়াদবি করেন। কেউ কেউ কুরআনের সাথে বেয়াদবি করেন। কেউ কেউ মসজিদের সঙ্গে বেয়াদবি করেন। খেলোয়াড় কোচের সঙ্গে বেয়াদবি করেন। সহকর্মীদের মধ্যেও চরম বেয়াদবি হয়। কেউ কেউ আলেম-উলামাদের সাথে বেয়াদবি করেন। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী-কর্মীদের মধ্যেও বেয়াদবি দেখা যায়।

বেয়াদবি রীতি ও ঐতিহ্য পরিপন্থী

কেউ কেউ শিক্ষকের সাথে বেয়াদবি করেন। কেউ কেউ যাত্রীর সাথে বেয়াদবি করেন। কেউ কেউ চিকিৎসকের সাথে বেয়াদবি করেন। কেউ বড়ভাই-বড়বোনের সাথে বেয়াদবি করেন। অনেক সময় পেশাজীবীরাও সেবা-পণ্য গ্রহীতাদের সাথে বেয়াদবি করেন। অথচ প্রবীণদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা রীতি-ঐতিহ্য পরিপন্থী। বড়দের অসম্মানকারী কখনই ভালো মানুষ নয়।

কাউকে অসম্মান করা বেয়াদবি

আদব শব্দটির পুর্বে ‘বে’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে, বেয়াদব শব্দটি তৈরী হয়েছে এবং এর পর ‘ই’ প্রত্যয় যোগে হয়েছে ‘বেয়াদবি’। আদব শব্দের অর্থ সম্মান, এবং এর পূর্বে ‘বে’ উপসর্গ যোগে এটি না-বোধক বিশেষণে পরিণত হয়েছে এবং ই প্রত্যয় যোগে হয়েছে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য। তার মানে কাউকে অসম্মান করার ক্রিয়া ‘বেয়াদবি’।

মানুষকে অসম্মান করা হয়- একান্ত ব্যাক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, স্বাধীন মতামত ব্যাক্ত করার অধিকার কেড়ে নিয়ে, নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা প্রসূত সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দিয়ে, কোনো ধরনের সিদ্ধান্তকে তার উপর চাপিয়ে দিয়ে, কোনো কথা-কাজ দ্বারা শারীরিক-মানসিকভাবে আঘাত করে।

বেয়াদব হয় নিঃস্ব ও বঞ্চিত

বড়দের সর্বদা ভক্তি-শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হয়। বিশেষ করে তাদের সাথে যেন কখনও বেয়াদবি না হয়ে যায়- সেদিকে খুব খেয়াল রাখতে হয়। আদব স্বর্ণ-রৌপের চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আদব দ্বারা ওলীআল্লাহ তৈরী হয়। আর বেয়াদবি দ্বারা দেওলিয়া (নিঃস্ব) হয়ে যায়। বেয়াদব আল্লাহর রহমত মুবারক হতে বঞ্চিত। অসৌজন্যমূলক আচরণ করা তথা বেয়াদবির পরিণতি কখনো ভালো হয় না।

বেয়াদবের জীবনে সার্থকতা নেই

বেয়াদবির শাস্তি হয় তিলে তিলে, সময় নিয়ে। কেউ কেউ তা বুঝে; অধিকাংশে বুঝে না। কারো বেয়াদবি বড়দের ছোট করে না, বড় জোর কষ্ট দেয়। কেউ কেউ বেয়াদবি বরদাশত করার ক্ষমতা অর্জন করে ব্যক্তিত্বের গভীরতা অর্জন করেন। কিন্তু বেয়াদব অনেক কিছুই অর্জন করতে পারলেও প্রকৃত সাফল্য ও সার্থকতা অর্জন করতে পারে না। সে যেসব বড়দের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, কর্কশ ও অপমানমূলক ভাষায় কথা বলে, কথাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না, দেখা হলে সালাম বিনিময় করে না, তুই বলে সম্বোধন করে।  বড়রা তার অহংকারী মনোভাবে কষ্ট পায়, যা মহাঅন্যায়।

বেয়াদবি করে শয়তান হয়

উত্তম আদবে মানুষ আউলিয়া হয়, আর বেয়াদবি করে শয়তান হয়। উত্তম নৈতিক চরিত্র ও আচার-ব্যবহার দামি আমল। আর অশ্রাব্য গালমন্দ ও কটুকথা বলা ঘৃণিত আমল। বয়সে বড় অধীনস্থ কর্মচারীদের সঙ্গে বেয়াদবি করা অন্যায়। তাদের ধমক বা রাগের সুরে কথা বলা উচিত নয়। বেয়াদবী আর দুষ্টুমি এক নয়। দুষ্টুমি অনেকেই করে কিন্তু বেয়াদবি করে না! দুষ্টুরাও ভালোবাসা পায় কিন্তু বেয়াদবকে কেউই পছন্দ করে না; ফলে বেয়াদব হলেই বিফল!

এক বেয়াদবি থেকে বহু অপরাধ

দুঃখজনকভাবে বর্তমান প্রজন্মের অনেকে বেয়াদবিকে শিল্প মনে করে। অথচ নিজেকে নিজের কাছে সবচেয়ে বড় ভেবে কেউ যথার্থ বড় হতে পারে না। বেয়াদবির পর ভুলের অনুভূতি জাগলে ও সংশোধনের প্রত্যয় আসলে সেটা ভুল। আর বেয়াদবির পর বাহাদুরি-আস্ফালন দেখালে, বেয়াদবির ঘটনা আরো ঘটালে ও বেয়াদবিতে তৃপ্তি-মজা অনুভব করলে- তা বড় অপরাধ ও বহু অপরাধের জননী। বেয়াদবি বেয়াদবের চিন্তা, ভাবনা, কর্ম, স্বপ্ন এবং লক্ষ্যকেও বেয়াদবিময় করে তুলে। যেসবের উল্লাস খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না, খেসারত হিসেবে ভয়াল জিল্লতি ভোগ করতে হয়। বড়দের সাথে বেয়াদবি করলে বড়সড় মাশুল গুণতে হয়।

About আনিসুর রহমান এরশাদ

শিকড় সন্ধানী লেখক। কৃতজ্ঞচিত্ত। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ভেতরের তাগিদ থেকে লেখেন। রক্ত গরম করতে নয়, মাথা ঠাণ্ডা ও হৃদয় নরম করতে লেখেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাক্ষিক-মাসিক-ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংকলন, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও জাতীয় দৈনিকের সাথে সম্পর্ক। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পড়েছেন মিডিয়া ও জার্নালিজমেও। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা গ্রামে।

View all posts by আনিসুর রহমান এরশাদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published.