পরিবার থেকে বৃহত্তর জীবনে

স্বার্থের প্রেমে মানবপ্রেমের বিলুপ্তিও ঘটে।  প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ বড়ই অসহায়। শিশু, নারী ও বয়সের ভাড়ে নুইয়ে পড়াদের করুণ অবস্থা হয়। আর্তমানবতার করুণ দৃশ্যে  সবারই ব্যথিত হবার কথা। কিন্তু নিষ্ঠুর-নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে অসহায় বিপন্ন মানবতার জন্যে বরাদ্দ ত্রাণ সামগ্রীও চুরি করে অনেকে। পুকুরের বাঁধ ভেঙ্গে যখন মাছ ছড়িয়ে পড়ে সে মাছ ধরার আনন্দ অনেকের উৎসবে পরিণত হয়। অথচ এ পুকুরটিই যার বেঁচে থাকার অবলম্বন, আয়-রোজগারের একমাত্র মাধ্যম তার দুঃখ-কষ্টে একটু সহানুভূতি ও সমবেদনা জানায়ে সান্তনা দেয় ক’জন। সামাজিক বিশৃঙ্খলা-মারামারি এসব অশান্তি অনেকের জন্য অভিশাপ মনে হলেও কেউ কেউ আশীর্বাদ মনে করে। উপরি আয়ের ধান্ধা যারা করেন, তারা বেশি বেশি টাকা-পয়সা উপার্জন না হলে তৃপ্ত হন না। অথচ কতজনের অশান্তির মধ্য দিয়ে অসৎ মানুষটি শান্তি লাভ করছেন সে চিন্তা তিনি অনেক সময়ই করছেন না। প্রতিটি পেশাতেই ভালো-মন্দ পেশাজীবীরা আছে, মানব দরদি চেতনা সম্পন্ন মানুষও আছে। পরিবার  থেকে শুরু করে বৃহত্তর জীবনেও অমানবিক ও অযৌক্তিক আচরণ কাম্য নয়।

সুন্দর সমাজ গঠন

সুন্দর সমাজ গঠনে চাই সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের মানুষ। যারা পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নিয়ন্ত্রণ করবে। কাক্সিক্ষত পরিবেশ বজায় থাকা ব্যক্তির আচরণের রূপরেখা সঠিকভাবে গড়ে ওঠায় সহায়ক। তবে ব্যক্তির আচরণ পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা, বিদ্যমান বাস্তবতা দ্বারাই যে নির্ণিত হয় না তার প্রমাণ একই পরিবেশে লালিত-পালিত মানুষেরও ভিন্ন আচরণ করা। পরিবেশ পরিবর্তনেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখে মানুষই। আচরণ হতে হয় যৌক্তিক, স্বাভাবিক, গ্রহণযোগ্য ও ভালো।

অল্প কিছু ভালো মানুষই শত ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ, প্রতিকুলতার সাথে সংগ্রাম করেও স্বমহিমা নিয়ে টিকে থাকে, পরিবেশকেই নিয়ন্ত্রণে আনে, প্রতিকুলতাকে অনুকুলে ফিরিয়ে আনে। যারা গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে ও সুন্দর মনের মানুষ হয়। দৃষ্টি বিশাল হয়ে গেলে সংকীর্ণ কিছুতে তৃপ্ত থাকা অত সহজ নয়। মনের চোখ বা অর্ন্তচক্ষু যার শক্তিশালী নয় তার সীমিত পরিসরেই সক্রিয় অস্তিত্ব। তাই অজ্ঞতার কারনে, অযোগ্যতা ও দুর্বলতা ও অসচেতনার কারনে যে তৃপ্তির সৃষ্টি হয় সেই ধরনের প্রশান্ত আত্মাকে সৌভাগ্যবান বলা যুক্তিহীন।

কর্মতৎপর থাকা

সুন্দর প্রকৃতির নয়ন জুড়ানো দৃশ্য দেখুন। আকাশের বিষণ্নতা, প্রকৃতির উদারতা দেখে মুগ্ধ হবেন। মাঝে মাঝে দেশের গান শুনুন। শ্রবণেন্দ্রিয়, দর্শনেন্দ্রিয় ও চিন্তাশক্তির আধার মস্তিষ্ককে ব্যবহার করুন। যে নাক ডেকে অধ্যয়ন করে, আর যে রাতজেগে ঘুমায় দু’জন সমান নয়। রাস্তায় বের হলে মানুষের সাথে কথা বলুন, তাদের সমস্যা-সম্ভাবনা জানুন। সমাজ- সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনাচরণ বুঝার মাধ্যমে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বাস্তবতাকে উপলব্ধি করুন। দুঃখী অসহায় কাউকে সামর্থানুযায়ী সহযোগিতা করা, সান্ত্বনা দেয়া,  হতাশ কাউকে আশার বাণী শুনানো,  উৎসাহিত করা, অনুপ্রাণিত করা, কর্মব্যস্ত থেকে সময় কাটানো গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

চোখ দিয়ে দেখার সাথে মন ও চিন্তাশক্তির যোগসূত্র থাকতে হয়; কেউ মায়ের পেট থেকে বের হয়, পরে একসময় মাটির পেটে ঢুকে। এর মাঝে অতিক্রান্ত সময়টা চোখ মুখ বুঝে কাটায়। আরেকজন পেট থেকে কবরে যাবার পথে অনেক কর্মব্যস্ত থাকে, সর্বশক্তি ব্যবহার করে, থাকে কর্মতৎপর ও স্বতঃস্ফুর্ত। কর্মই মূলত শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয় করে, একজন থেকে আরেকজনকে আলাদা করে।

উদ্দেশ্য বিবেচনা

উদ্দেশ্য বিবেচনায় এনেই শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করুন। সংখ্যাধিক্যের মতামতই সব সময় সঠিক হয় না, অধিকাংশের মতামতও সম্পূর্ণ ভ্রান্ত হতে পারে। অতি লোভ নয়; জীবনকে ভালোবাসুন। প্রত্যাশা যাতে সীমা না ছাড়ায়। নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতন না হয়ে নিজের পরিণতি, অবস্থার জন্য অন্যকে দোষারোপ করবেন না। নিজের পরিবর্তন না করে অন্য কারো পরিবর্তন আশা করবেন  না। সুস্থ শরীরের পাশাপাশি মন সুস্থ রাখতে নৈতিকতার ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে বিজয়ও অন্তসারশূন্য হওয়ার ফলে মেলে নিন্দা ও তিরস্কার। ছোটরা বড়দের অনুকরণ করে, বড়রা ছোটদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তাই কাংখিত আচরণ করুন; বাস্তবতাকে মেনে নিতে অভ্যস্ত হোন, ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। সচেতন হোন, সঠিক বিচার-বিবেচনা করার বোধসম্পন্ন হোন, আন্তরিক হোন ও বিবেকবান হোন। অনেকের পরামর্শ থেকে বেছে সঠিক সিদ্ধান্তটা উঁচু স্তরের বুদ্ধি সম্পন্নরাই নিতে পারেন। এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও উপযুক্ত ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে।

কথা-কাজে মিল

কথা ও কাজে যার মিল নেই, তাকে বিশ্বাস করা যায় না, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে আস্থা রাখা যায় না, যোগ্য না হলে দায়িত্ব দেয়া যায় না, সচেতন না হলে জাতির বৃহৎ কল্যাণে নিবেদিত হওয়া যায় না, আত্মশুদ্ধিকে গুরুত্ব না দিলে  আত্মকেন্দ্রিকতার বলয় থেকে বের হওয়া যায় না, মৌল মানবীয় গুণসম্পন্ন না হয়ে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ করা যায় না, আস্থা অর্জনের প্রক্রিয়া আয়ত্ত না করে সম্পর্ক ধরে রাখা যায় না এবং আত্মসমালোচনা না করে অন্যের সমালোচনা করে আত্মন্নোয়ন করা যায় না।  বড় মনের অধিকার হোন, প্রকৃত মানুষ হউন। যতবেশি সম্ভব নিজেকে সামাজিক অঙ্গনে সংযুক্ত করুন। বিশ্বাস ও কর্মে বৈপরীত্য নয়; ভিতরে দ্বিমুখী চেতনা কখনো নয়।

বিশ্বাসে চাই গভীরতা, কারণ বিশ্বাসের প্রতিফলন কর্মে ঘটে। বিশ্বাসী মন অত্যন্ত শক্তিশালী। সরল ও জটিল চিন্তার মানুষের পার্থক্য তাদের বাস্তব কাজ-কর্মেই প্রকাশ পায়। যা বলা হয়, যা চিন্তা করা হয়, যা বিশ্বাস করা হয়, যা আশা করা হয়, তার মধ্যে মিল থাকতে হয়। ভেতর ও বাহিরটা সম্পূর্ণ একই রকম হওয়াটাই সমীচীন। শক্তিশালী মানুষের বিশ্বাস শক্তিশালী আর দুর্বল যিনি তার বিশ্বাসও দুর্বল। বিশ্বাস যার মজবুত-গভীর-শক্তিশালী কর্মক্ষেত্রে তার সফলতা তত বেশি।  বিশ্বাস হতে হবে বাস্তবতার আলোকে, বাস্তবসম্মত। কল্পনাবিলাস ক্ষতিকর। সততা বজায় রেখে কাজ করুন, সততা বিসর্জন দিয়ে বড় হতে চেয়ে আরো ছোট হতে হয়।

বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা

সফলতার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পরিকল্পনা নিন। শুধু স্বপ্ন ও কল্পনার জগতে বড় না হয়ে কাজকর্মে বড় হতে হোন। ভবিষ্যৎ নিয়ে ধ্যান করে বর্তমান সময়কে নিষ্কর্মভাবে কাটিয়ে দিলে তা মূর্খতার পরিচয়ই বহন করে। যিনি শুধু কল্পনাবিলাসী বাস্তবিক জীবনে তিনি চলার অযোগ্য। ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে ধ্যানী সাজলে পেটের ক্ষুধা মিটবে না। প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখাও যত সহজ, স্কুলের কেরানি হওয়াও বাস্তবে অত সহজ নয়। তাই সময়ের মূল্য দিয়েই সফল হতে হয়। সফলতা কখনোই অলসদের জীবনে আসে না।

উদ্দেশ্য মহৎ কি-না সে ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব মহৎ হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তিদের পক্ষেই। মহৎ কাজ করার জন্য বিশাল হৃদয়ের প্রয়োজন। মনের চোখ শক্তিশালী হলেই স্বপ্ন, বাস্তবতা ও পরিকল্পনার যৌক্তিক দৃঢ়তা অনুধাবন করা সম্ভব। রঙ্গিন চশমা দিয়ে কখনোই সত্যিকারের রং প্রত্যক্ষ করা যায় না। বড় মনের মানুষ মাত্রই সাদা মনের মানুষ। সৃষ্টির আনন্দ অফুরন্ত ও সৃষ্টির জয়গান সর্বত্র। জীবনের লক্ষ ঠিক করুন, বড় স্বপ্ন পূরণে পরিকল্পনা নিন, বড় মানুষ হতে কাজকে ভালোবাসুন এবং জীবনকে আলোকিত ও বিকশিত করার চ্যালেঞ্জ নিন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিন। আবেগে পরিপূর্ণ অন্তরই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে পারে। তাই আবেগের সাথে বিবেকের সমন্বয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। আর মহৎ উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র প্রয়াসকেও বিশালতার পর্যায়ে উন্নীত করতে পারে। অপরিকল্পিত জীবন যাপনে শুধু সাধারণ মানুষই তৃপ্তি পায়। মানুষ তার স্বপ্ন আশার সমান বড়। বিশাল স্বপ্ন বড় কাজে সাফল্য অর্জনে সাহায্য করে। স্বপ্ন ও পরিকল্পনা ছাড়া প্রকৃত সফল ও বড় মানুষ হওয়া অসম্ভব।

সম্মানজনক জীবন গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে চাই পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। মূল্যহীনভাবে টিকে থাকার চেয়ে সম্মানের সাথে জীবনাবসান বেশি মর্যাদার। যাদের বিশ্বাস অতি দুর্বল, খুব সহজেই অন্য কোনো ব্যক্তি বা ভিন্নরকম ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন তাদের মৌলিকত্ব নেই। নিজস্ব কিছু না থাকলে পরনির্ভরশীল হয়ে মুক্তবুদ্ধির অধিকারী চিন্তাশীল হয়ে গড়ে উঠা যায় না। স্বকীয়তার বিনির্মাণ না হলে মূল্যায়ন থাকে না। বড় যারা হয় তাদের সিদ্ধান্ত বেশ ভারী হয়। তারা হয় সাহসী, আত্মবিশ্বাসী ও বাধা বিপত্তিতেও টিকে থাকার মত সংগ্রামী; থাকে পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার শক্তি সামর্থ্য। যার মন-মানসিকতা, চিন্তা, রুচিবোধ ও জ্ঞানের গভীরতা যেমন সে অনুযায়ীই সে সবকিছুকে বিচার করে।

যৌক্তিক বোধ

সদা যৌক্তিকবোধের সরব অস্তিত্ব কাম্য।  বোধজ্ঞানহীন সফল মানুষও দুর্বল খুঁটির উপর নির্মিত বিশাল প্রাসাদের মতো । শক্তি সামর্থ্য ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ীই দায়িত্ব নিতে হবে। সাময়িক প্রাপ্তির আনন্দে নয়; ভবিষ্যৎকে ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। সরলতার মধ্যেই প্রকৃত সুখের সন্ধান করুন। অন্যের চিন্তায় চিন্তা করা, অন্যের ভাবনায় ভাবা, অনুকরণ-অনুসরণপ্রিয় মানসিকতা তৈরি মোটেই কল্যাণকর নয়। বাস্তব জগৎ চিন্তা-ভাবনার জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে নিজেকে জানুন, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন, উদ্যমীদের সাথে মেলামেশা করুন, ইতিবাচক হোন, স্বাভাবিক থাকুন, অবসরকে উপভোগ করুন। সংঘাত এড়িয়ে চলতে অভিযোগের ব্যাপারে সবসময় সচেতন থাকুন, ভুল ধরায় সতর্ক হোন, কোনো সমস্যাকে আন্তঃব্যক্তিক সমস্যা ভাববেন না, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিন, সমস্যা মিটিয়ে ফেলুন, নিজে উদ্যোগ নিন, সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, প্রতিবাদের ভাষা যাতে যৌক্তিক হয়, বন্ধুত্বে হাত বাড়িয়ে দিন।  দেহকে প্রদর্শনী না করে  যোগ্যতা বাড়িয়ে গুণী মানুষ হোন।

যৌক্তিক আচরণ

অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগে সদা সক্রিয় থাকুন। শরীর ও মন মিলে মানুষ। কখনো মন যা চায় শরীর তাতে সায় দেয় না; কখনো শরীর চায় তবে মনের সম্মতি মিলে না। কারো মন দ্বারা শরীর নিয়ন্ত্রিত হয়, কারো শরীর দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয় মন। যার মন শরীরের চেয়ে শক্তিশালী সেই শ্রেষ্ঠ। বাজে-গুরুত্বহীন ও অর্থহীন কাজকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিলে মূল্যবান সময়ের অপচয় হয়। ভালো-গুরুত্বপূর্ণ-প্রয়োজনীয় কাজের কারনেই ব্যক্তির মূল্যায়ন হয়। তাই সুঅভ্যাস গড়ে তুলুন ও উত্তম আচরণকারী হোন।

পিতা হিসেবে সন্তানের সাথে , মালিক হিসেবে শ্রমিকের সাথে, স্বামী হিসেবে স্ত্রীর সাথে, বস হিসেবে সহকর্মীদের সাথে আচরণ সম্পর্কের ভিন্নতার কারণেই ভিন্ন হয়। বিনয়, নম্র আচরণ ও মোলায়েম স্বরে কথা বলার কারণে ব্যক্তির ভাষার ব্যবহার, চোখের ব্যবহার, কণ্ঠস্বরের স্কেল গ্রহণযোগ্য থাকে। সাহসী, সহজ-সরল কিংবা কেউ বুদ্ধিমান।

বিলাসিতার জন্য অর্থ ব্যয় অনেকের কাছে বেহুদা খরচ, অনেকের কাছে স্মার্টনেস-ফ্যাশন-আভিজাত্য। সুঅভ্যাস ও সুন্দর আচরণ করে এমন মানুষের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে, সমাজ সুন্দর-শান্তিময় হবে। গম্ভীর চেহারা কঠিন চরিত্রের লোক বলে পরিচিত করায়; খোলামেলা আলাপ-আলোচনায় আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটায়।

পরিবর্তন আনয়ন

অনেকে যে প্রথা, সমাজ, সংস্কৃতি, চর্চার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তার বিরুদ্ধেই লড়েছেন, সংস্কার করেছেন, পরিবর্তন এনেছেন। অর্থাৎ ব্যক্তিই সমাজ ও সংস্কৃতিকে নিজের মতো করে গড়েছেন, আমূল পরিবর্তন না হলেও নানান সংস্কার করেছেন। তবে অধিকাংশ ব্যক্তিই পারিপার্শ্বিক বিদ্যমান বাস্তব জগৎ দ্বারাই প্রভাবিত হন ও বিরাজমান ছাঁচে নিজেকে গঠন করেন; নিজের স্বকীয়তা, বিশেষ সত্তা ও নিজস্বতার প্রভাব সমাজ-সংস্কৃতিতে ফেলতে পারেন না। খুব কম সংখ্যক মানুষই বিদ্যমান ছাঁচকে পরিবর্তন করে  সমাজের চেয়ে শক্তিশালী তথা সমাজ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অযৌক্তিক-অমানবিক আচরণ কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অনেককে দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়ে জীবন সংগ্রামে অনেক পরিশ্রম-ত্যাগ স্বীকার করে বড় হয়েছেন আবার অনেকে সুখ-শান্তি-ভোগ-বিলাস-আরাম-আয়েশে জীবন কাটিয়ে দুঃখ ডেকে এনেছেন; অর্থাৎ কেউ ছোট থেকে বড় হবার দিকে এগিয়েছেন, কেউ বড় থেকে ছোট হওয়ার জন্য পিছিয়েছেন। কেউ পরিবেশকে প্রতিকূল করে ফেলেন, কেউ প্রতিকূল পরিবেশকে অনুকূলে আনেন। কেউ পরিবেশকেই নিয়ন্ত্রণ করেন। সব মানুষের যোগ্যতা সমান নয়, সমান শক্তিধর নয়। যে নিয়ন্ত্রিত হয় আর যে নিয়ন্ত্রক তাদের আচরণ একই রকম হয় না, তাদের ভূমিকাও একই রকম থাকে না।

মানুষ পেটসর্বস্ব জীব নয় যে সে খেয়ে পরে বেঁচে থাকলেই হলো। মৌল মানবিক অধিকার পূরণ ও সমাজ-সংস্কৃতি-নীতি-নৈতিকতা মেনে সম্মান ও মর্যাদার সাথে জীবন যাপনের মাধ্যমেই অর্থপূর্ণ হয় মানব জীবন।

আশাবাদ

শান্তিময় সমাজ গঠনে  চাই  আশাবাদী  নতুন প্রজন্ম। বড় হবার জন্য প্রয়োজন আত্মশক্তির। শক্তিশালী হাতিকে সামান্য রশির সাহায্যে খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়। বাচ্চা বয়সে চেষ্টা করে শিকল খুলতে বিফল হওয়ায় এই অভ্যাস তাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। সে শক্তি প্রয়োগ করে না। আর এভাবেই নানান সংকট-সমস্যা-প্রতিবন্ধকতার কারণে অকালেই নক্ষত্রের পতন ঘটে, সম্ভাবনার অপমৃত্যু হয়। বড় কাজ করার যোগ্য ব্যক্তিও ছোট কাজ করেই প্রশান্তিতে থাকে।

তাই দিকভ্রান্ত মানবতাকে পথের দিশা দিতে ও পথহারাকে পথ দেখাতে প্রকৃতির মত উদার ও আলোকে উদ্ভাসিত হৃদয় দরকার। সঠিক পথে যিনি নিজেই চলতে ব্যর্থ তিনি অপরকে সঠিক সুন্দর পথের দিকে আহ্বান জানালে বা সত্য বলতে ও সত্য পথে চলতে উৎসাহিত করলে তা ফলপ্রসূ হবে না বরং দৃষ্টিকটু হবে। নিজে আমল না করে অন্যকে জীবন সুন্দর করার পরামর্শ দেয়া বোকামি। অমানুষ আরেকজনকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলতে পারেন না। চন্দ্র-সূর্য যেমন সবাইকে আলো বিলিয়ে থাকে,  প্রাকৃতিক রূপ সৌন্দর্য সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য,  স্রষ্টা যেমনি সবার জন্যে; সৃষ্টিও তেমনি সবার, জ্ঞানও সবার। জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত হৃদয় উদার মুক্ত আকাশের মত বিশাল; যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ, সংকীর্ণতা, হীনমন্যতার ছোঁয়া থাকতেই পারে না।

আত্মসম্মানবোধ

আত্মসম্মানবোধই ব্যক্তিত্বকে আকর্ষণীয় করে। আত্মমর্যাদা সংকটে ভোগে বিশালতাকে উপলব্ধি করা যায় না। আচরণে প্রকাশ পায় ব্যক্তির রুচিবোধ, মন-মানসিকতা, ব্যক্তিত্ব।  কে কত বড় মহৎ, বড় মাপের মানুষ তা ফুটে উঠে তার ব্যবহার ও আচার-আচরণে।  যার জ্ঞানের কোনো আলো নেই, সামাজিক কোনো মর্যাদা নেই, ব্যক্তিত্বের ইমেজ নেই সে মূল্যবান অনেক কাজই করতে পারে না।  জ্ঞানে অর্থে বড় হবার অনুপাতে হৃদয়কে বড় করতে হয়। ছোট-সংকীর্ণ মন নিয়ে ভালো কিছু করা যায় না। অনুগ্রহ, অনুকম্পা, দয়া-দাক্ষিণ্য, অনুদান, ঋণ নিয়ে পরনির্ভরশীল হয়ে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। নামে নয় গুণের মাধ্যমেই নামকরণকে অর্থপূর্ণ ও সার্থক করে তোলা যায়।  স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা ও সংকীর্ণ মানসিকতা সম্পন্নদের আত্মমর্যাদা নেই।

কর্মোদ্দীপনা

ক্ষুদ্র থেকেই বৃহৎ কিছুর সৃষ্টি হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দেহ বাড়ে মন বড় হয়, জ্ঞান বাড়ে চিন্তাশক্তি তীব্র হয়। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণটা সমান হয় না। অর্থ বাড়লেও অনেক কঞ্জুস দিলের অবস্থা অপরিবর্তনীয় থেকে যায়। সব মানুষ সমান নয়। জ্ঞান, সম্পদ, ক্ষমতা নানা পার্থক্য সৃষ্টি করে। তবে প্রত্যেক ব্যক্তিত্বই স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্ব মহিমায় চিরভাস্বর, কেউ কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কাউকেই তুচ্ছ মনে না করে উপযুক্ত সম্মান করতে হবে, মূল্যায়ন করতে হবে। বড় হবার জন্যে নিজেকেই উদ্যোগ নিতে হয়, প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালাতে হয়, সাধনা করতে হয়। সবাই সমান সফলতা অর্জন করতে পারে না।

এটাকে শুধু কপালের লিখন, ভাগ্য বলে চালিয়ে দেবার প্রচেষ্টা অযৌক্তিক। ফুলে সুরভী আছে, সৌন্দর্য আছে, হৃদয় মন কেড়ে নেয়ার আকর্ষণীয় ক্ষমতা আছে। ফুলের পেছনে মালির ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে ফুলের সাথে তো আর মালির তুলনা চলে না। যারা কৃতিত্বপূর্ণ জীবনের সন্ধান লাভ করেন তাদের সফলতার পেছনে অনেকের অবদান থাকতে পারে। তবে নিজেকে গড়ার জন্য সবচেয়ে নিজের ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পৃথিবীর সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালায়েও কেউ ছোট থাকতে চাইলে জোর করে কিছুতেই বড় বানাতে পারবে না। তবে কেউ যদি বড় হবার চেষ্টা করে তার সাথে অন্যদের সহযোগিতা যোগ হয়ে বিরাট কল্যাণ হাসিল হতে পারে।

সুদূরপ্রসারী চিন্তা

সুদূরপ্রসারী চিন্তা অর্থবহ জীবন গড়ায় সহায়ক। স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অসচেতনতা নয়।  না খেয়ে কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে যদি শরীর রোগাক্রান্ত-দুর্বল হওয়ার ভোগান্তি অনেক। শারীরিক দুর্বলতা থাকলে জ্ঞানার্জন করা যায় না, মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় না, মনোযোগের সাথে কাজ করা যায় না। নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে উদাসীনতা বা অমনোযোগী  হওয়া অনাকাক্সিক্ষত। পরের জন্যে ত্যাগ স্বীকার করা, নিজের চেয়ে অপরের স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। নিজের চিন্তাশক্তি, শারীরিক-মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করুন।

ব্যক্তিগত অসচেতনতার কারণে শুধুমাত্র ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, অন্যের অধিকার পূরণ না হওয়ায় বৃহত্তর ক্ষতিও হয়। সংকীর্ণ চিন্তা ও আবেগ নির্ভর সিদ্ধান্ত সুফল বয়ে আনে না। স্রষ্টাকে যে ভালোবাসে সে সৃষ্টিকেও ভালোবাসে। আর সৃষ্টিকে যে ভালোবাসে, দৃষ্টিকে প্রসারিত করে, গভীর অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে ভাবে সে সংযত হয়ে থাকে। অর্থ সম্পদ যা পারে না, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা দিয়ে তা লাভ করা যায়। তাই ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেই ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হতে হবে ।

লাইব্রেরি ও বইপড়া

লাইব্রেরিকে ভালোবাসুন; বেশি বেশি বই পড়ুন। লাইব্রেরির নিরিবিলি পরিবেশ চিন্তাশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তব জীবন ও জগৎ সম্পর্কে কৌতূহল বাড়ানোয় সহায়ক। জ্ঞানের জগৎটা  বিশাল। জীবন ও জগৎ থেকে, প্রকৃতি থেকে, বাস্তবতা থেকে শিখার আছে। জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার জন্য শুধু বই পড়াই যথেষ্ট নয়, তবে বইয়ের কোনো বিকল্পও নেই। বই হচ্ছে আনন্দ ও অবসরের সঙ্গী। জ্ঞানের আলোকে সর্বস্তরে ছড়ায়ে দিতে হলে জ্ঞানাহরণের পদ্ধতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। পৃথিবীতে অনেকেই নিজেকে সীমাবদ্ধ একটা পরিসরে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলতে চায় না, সীমানা বা সীমারেখাকে অতিক্রম করে যায়।

লাইব্রেরির সংস্পর্শ দেয় বিশালতার সন্ধান। মহানায়কদের ঘটনা বিরাট পরিধিতে কার্যক্রম পরিচালনার মানসিক প্রস্তুতি জোগায়। প্রেরণা নেয়ার এ এক সর্বোত্তম ঠিকানা যেখান থেকে চর্মচক্ষুর চেয়ে মনের চক্ষু বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। নতুন আশা, বিশ্বাস, উদ্দীপনা পাওয়া যায়। নিজের সীমাবদ্ধতা দুর্বলতা আবিষ্কার করা, সম্ভাবনার বিশালতা অনুধাবন করা, হতাশা ভুলে আশায় স্বপ্ন দেখা ও দারুণ এক অসাধারণ তৃপ্তি লাভ হয় লাইব্রেরিতে। মানসিক প্রশান্তি শরীরকেও সতেজ করে। জ্ঞান লাভে আনন্দের জন্য শান্তি সুখের নীড় লাইব্রেরি। কিছু মানুষ আছে যারা বইপ্রেমিক, বই তাদের ভালোবাসা, বই তাদের প্রেম।

ব্যক্তিগত লাইব্রেরি সমৃদ্ধ হওয়া মানেই জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া ব্যাপারটি এমনও নয়। অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে, লাইব্রেরিতে, পরিচিতদের কাছ থেকে ধার এনেও বই পড়া যায়। তারপরও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগে পাঠাগার গড়ে তুলুন। কিছু বই বারবার পড়লেও পড়ার ইচ্ছে শেষ হয় না। এমন বইতো ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকতে পারে। যা রুচিবোধ, মননশীলতা, চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ করবে। নিজের বই ইচ্ছামত পড়া যাবে, আন্ডারলাইন করা যাবে। ইচ্ছে করলে পাশে মন্তব্য বা নোটও লিখা যাবে।

অব্যাহত প্রচেষ্টা

পিছিয়ে না থেকে ব্যক্তিত্ববানরূপে নিজেকে গড়ে তুলুন। চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি, রুচিবোধসহ অভ্যন্তরীণ গুণাবলিই ব্যক্তির স্বকীয়তা বিনির্মাণ করে বা পরিচয় সুস্পষ্ট করে।  ব্যক্তির কর্মপরিসর, জীবন-প্রণালী সামগ্রিক কার্যক্রমেই প্রমাণিত হয় ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা বা দক্ষতা কতটুকু। সে কোন মাপের, কোন মানের বা কোন পর্যায়ের। সবাই মানুষ কিন্তু সমান উন্নতি অর্জন হয় না। কেউ এগিয়ে যায়, কেউ পিছিয়ে পড়ে। আত্মপরিচয় সংকট সবচেয়ে বড় অভিশাপ। আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাহীন ব্যক্তিরা কখনোই বড় ব্যক্তিত্ববানরূপে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন না। আর যে নিজের আত্মপরিচয় দিতে ইতস্তত বোধ করে, দ্বিধা-সংকোচ থাকায় সে একটি নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করতে পারে না। ব্যক্তির এগিয়ে যাওয়া কিংবা পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যক্তির কার্যক্রমই তার অবস্থান তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়ক। নিজেকে গড়ার যাবতীয় প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা নিজের পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট হয়। তবে কেউ যদি নিজে পরিবর্তন চায়, নিজেকে গড়তে চায়, সে জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালায় পারিপার্শ্বিক অনেক শক্তিই তার সহায়ক হয়। উদ্যোগী হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ঘটনা শুধু প্রত্যক্ষ না করে ঘটনা সৃষ্টিও করতে হবে। পিছিয়ে থাকা নয় সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

কাজেই পরিচয়

নামে নয় কাজের মাধ্যমে পরিচয় দিন। যার মন যত বড়, মানুষ হিসেবে সে তত বড়। হৃদয়ের বিশালতা দিয়েই ব্যক্তির বিশালতা অনুধাবণ করুন। যে জিনিসের যে কাজ। সে জিনিসের দ্বারা যদি সে কাজ না হয় তবে তা মূল্যহীন, কাজে ব্যবহৃত হতে অক্ষম। পরিচয়ের জন্য গুণ অর্জন করতে হয়। কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। নামে নয় গুণেই পরিচয়। কাজে-কর্মে বাস্তবায়ন করেই পরিচয়টা যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হয়। সর্বজন গ্রহণযোগ্য আত্মপরিচয় থাকতে হবে।

সময় অপচয় করা, মেধা-মনন ও চিন্তাশক্তি কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার না করা অপূরণীয় ক্ষতি। কর্মহীন ব্যক্তির অলস মস্তিষ্কের উৎপাদন কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না। তাই খারাপ কাজে সম্পৃক্ত, মানুষের ভালোবাসা বঞ্চিত, সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিহীন নিষ্ক্রিয়দের মনটাকে জাগাতে হবে। গঠনমূলক ভাবনা ও ভালোকাজ দিয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে। কাজের এমন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে যাতে সময়ের সঠিক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *