নেটওয়ার্ক সোসাইটিতে সাংবাদিকতা

আনিসুর রহমান এরশাদ

ক্রমবর্ধমান উন্নত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহযোগিতায়  গড়ে উঠছে নেটওয়ার্ক সোসাইটি। যোগাযোগ ক্ষেত্রে ভয়েস ও ডাটা ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে ।  এখানে সংযোগ উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং সামাজিককরণের মাধ্যম অর্থনৈতিক উন্নয়নে পেয়েছে অপ্রতিরোধ্য গতি। উচ্চ মানসম্পন্ন নেটওয়ার্কিং কাঠামো তৈরি হচ্ছে।  সার্ভারভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে ক্লাউড সিস্টেম অবকাঠামো গুরুত্ব পাচ্ছে। নেটওয়ার্ক সোসাইটি  হয়ে উঠছে উদ্ভাবনের নতুন মাধ্যম, সমৃদ্ধির নতুন উপায়, একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির সেরা মাধ্যম। ব্রডব্যান্ড, মোবিলিটি এবং ক্লাউড মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করছে। এমতাবস্থায় সাংবাদিকতায়  সম্ভাব্য নতুন ব্যবসায়িক মডেলগুলো অন্বেষণ করা হচ্ছে।  ডিজিটাল যুগের উপযোগী স্মার্ট সাংবাদিকতার পথ  খোঁজা হচ্ছে।  ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন নতুন গবেষণাও হচ্ছে।

সাংবাদিকতার বর্তমান থেকে ভবিষ্যত

আমরা যদি আজকের মিডিয়া ক্রাইসিসের পেছনে তাকাই তাহলে দেখি- দিন দিন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, সাংবাদিকদের আরো স্মার্ট হবার প্রয়োজন হচ্ছে, কিছু কিছু কাজে রোবট ব্যভহার করেই সম্পন্ন হচ্ছে, ব্যবসার নতুন নতুন মডেল আসছে, নতুন নতুন আইডিয়া বাস্তবায়নের কারণে তাল মিলাতে না পেরে প্রচলিত অনেক মিডিয়াই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছে।  মিডিয়ার ভয়াবহ চাপ ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে। ইন্টারনেট মিডিয়া সংস্থাগুলিকে হত্যা করছে। মিডিয়াকর্মীরা কাঁদছে। সোস্যাল মিডিয়ার তীব্র জোয়ারে ক্রমাগত হুমকি বাড়ছে, বাড়ছে ঝুঁকি! কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে বুঝা যায়- আজকের এই সংকট মূলত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকেই পথ নির্দেশ করছে।

সংবাদের উৎস যোগাযোগমাধ্যম

বর্তমানেই ইন্টারনেট মিডিয়া সংস্থাগুলির জন্য হুমকি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ত্রৈমাসিক আয়ের প্রতিবেদন সংক্রান্ত নিবন্ধ প্রস্তুত করতে সফ্টওয়্যার ব্যবহার করছে।  জাতিসংঘ একটি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে ৩৬০-ডিগ্রি প্রতিবেদন তৈরি করতে প্রথমবারের মতো ভিআর ব্যবহার করেছে। মানুষ ডেস্কটপগুলির চেয়ে মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারেই  বেশি সময় ব্যয় করছে। বিশ্বের প্রায়  ৪০ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সংবাদের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে, ল্যাতিন আমেরিকায় এই সংখ্যা ৫০ শতাংশ। এমতাবস্থায় টিভি এবং অনলাইন মিডিয়াগুলোর ভবিষ্যত আসলে কী?

অমীমাংসিত ব্যবসায়িক মডেল

১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারনেট মিডিয়া সংস্থাগুলির জন্য হুমকিরূপে আবির্ভূত হয়েছিল । ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় এমন একটি বিশ্বাস তৈরি হয় যে তথ্য সংক্রান্ত কনটেন্টগুলির সরবরাহ বিনামূল্যেই হওয়া উচিত। সাবস্ক্রিপশন সংকুচিত  হওয়ায় এবং বিজ্ঞাপনের আয়গুলি কমে যাওয়ায় বিকল্প আয় তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই  ১৯৯০ সাল থেকে ৩০০ এরও বেশি সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত  নিউজরুমের কর্মীদের সংখ্যা ৫৬৪০০ থেকে কমে  ৩২,৯০০ হয়েছে। যদিও এই প্রবণতা  সর্বজনীন নয়, সবদেশে একইরকম পরিস্থিতি নেই।  মুদ্রিত সংবাদপত্রের সার্কুলেশন এবং আয় ভারতসহ কয়েকটি দেশে বৃদ্ধিও পেয়েছে।  তবে এটাই বাস্তবতা যে-মিডিয়ার ডিজিটাল রুপই শেষ পর্যন্ত সমস্ত মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমকে প্রতিস্থাপন করবে; কারণ এটি দ্রুততর, সস্তা এবং ব্যক্তিগতভাবেও করা সহজ।

গ্রাহকভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল

বিজ্ঞাপননির্ভরতার মডেল থেকে সংবাদমাধ্যমের ব্যবসায়িক মডেলের রূপান্তর ঘটাতে হবে ভোক্তানির্ভর মডেলে। ভোক্তারা অর্থের বিনিময়ে সংবাদমাধ্যমের গ্রাহক হবেন; তাঁদের সাবস্ক্রিপশন ফি বা গ্রাহক মাশুলই হবে সংবাদমাধ্যমের আয়ের প্রধান উৎস। এই ব্যবসায়িক মডেলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ২০২৫ সালের মধ্যে ডিজিটাল গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমেরিকায় ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ অনেক সংবাদপত্রের ডিজিটাল গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে এবং আরও বেড়ে চলেছে। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের গার্ডিয়ান এবং জার্মানির ডের স্পিগেলসহ প্রায় সব বড় পত্রপত্রিকাই গ্রাহকভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ব্যক্তিভেদে পছন্দানুযায়ী সংবাদ

প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকও আশাব্যঞ্জক।  প্রযুক্তি মিডিয়া সংস্থাগুলি এবং স্বতন্ত্র সাংবাদিকদের আরও ভাল কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম করছে। কয়েক বছর ধরে ইয়াহু ও গুগল ব্যক্তিগতকৃত নিউজ সাইটগুলি অফার করছে – যেখানে প্রতিটি ব্যবহারকারীর পছন্দসই বিষয়বস্তু প্রথম পৃষ্ঠায় দেখায়, যা অনুসন্ধানের ইতিহাসের ভিত্তিতে একটি অ্যালগরিদম দ্বারা কাস্টমাইজ করা হয়। সংবাদ অনুসন্ধানগুলি অনুসন্ধানের ইতিহাস অনুসারেও পরিবর্তিত হয়। একটি স্মার্ট সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনুধাবন করতে পারে- কোনও গল্পের কোন অংশটি কার কাছে উপস্থাপন করবে। প্রত্যেক পাঠক-দর্শকের আলাদা পছন্দ-আগ্রহ-রুচি বুঝে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট সামগ্রী বুঝার এই সম্ভাবনা সাংবাদিকতা এবং পরিষেবার মধ্যকার দেয়ালকে অস্পষ্ট করে দেবে।

লেখা-ছবি-ভিডিও-অডিও সমন্বয়

ইদানীং মুদ্রিত কাগজের ডিজিটাল সংস্করণের চেয়েও  অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল বেশি মানসম্মত লেখা-ছবি-ভিাডও-অডিও কনটেন্ট দ্রুত  প্রকাশ করছে।  কিন্তু তারা কি সমস্ত নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। সাধারণত আপনি যখন একটি ভিডিওতে ক্লিক করেন তখন একজন ব্যক্তিকে যা বলতে শুনেন,  নিবন্ধে পড়ার সময়ও ঠিক তেমনই দেখেন; যা সত্যিই কোনো অর্থপূর্ণ কাজ হয় না মিডিয়া সংস্থাগুলি মান বাড়াতে আরও ভালো ভিডিও এবং ইন্টারেক্টিভ গ্রাফিক্স ব্যবহার করতে পারে।

 উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সামর্থ্য

বেসিক ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন পাঠকদেরকে  যে কোনো পর্দায় প্রতিটি গল্পে  ভিআর নিউজ প্রদর্শন করে নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ইউএসএ টুডে।  ভিআর ব্যবহারে টুডি চিত্রের মাধ্যমে নিউজ পড়ার ক্ষেত্রে গল্পের আরও গভীরে টেনে নিতে পারে পাঠক ও দর্শকদের। একটি প্রচলিত মিডিয়া সংস্থার দিকে তাকালে আপনি  অনেক সংবাদ সংস্থারই  একাধিক ক্ষেত্র কভার করার চেষ্টা এবং সামর্থ্য দেখতে পাবেন। একটি জাতীয় বা আঞ্চলিক ছাপানো পত্রিকায় আন্তর্জাতিক সংবাদ থেকে আর্ট পর্যন্ত এমন বিভাগ রয়েছে যার  যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা নেই; প্রায় সব মিডিয়ায়ই একইরকম। ফলে গ্রাহকরা তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় তথ্যের বেশিরভাগ চাহিদা পূরণের জন্য শুধুমাত্র একটি কাগজ বাছাই করতে পারেন।  খুব কম  টিভি নেটওয়ার্কেরই এয়ারওয়েভের স্টেশন রয়েছে।

স্বল্প ব্যয়েও সচল সংস্থা

ইন্টারনেট সবকিছু আমূল বদলে দিয়েছে। গ্রাহকরা যেকোনো সময় ক্রীড়া সংক্রান্ত সংবাদ পড়তে  পারেন এবং কখনও কোনো পররাষ্ট্র নীতির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের ভাবনা জেনে নিতে পারেন। প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকের ব্যবহারিত মানের ক্যামেরা ও স্মার্টফোন দিয়ে ছবি-ভিডিও  তৈরি করে স্বল্প ব্যয় করেই স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো চলতে পারে।

সাংবাদিক সংজ্ঞায়নে  নির্দিষ্ট বিধি নেই

একদিকে সাংবাদিকতা সহজ নয় এবং সকলেই ভালো সাংবাদিক হতে পারে না। অন্যদিকে, সাংবাদিককে ঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা সম্পর্কে কোনো নির্ধারিত বিধিও নেই। সাংবাদিকতাকে একটি নির্দিষ্ট শিক্ষা-ডিগ্রি দ্বারা বা কোনো সংস্থার মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দ্বারাও সংজ্ঞায়িত করা হয় না। একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- পাঠকরা কীভাবে জানবে কাকে বিশ্বাস করা উচিত আর কে বিশ্বাসযোগ্য নয়।  এমন কি কল্পিত রিপোর্টের মাধ্যমে বড় বড় সংবাদ সংস্থাগুলিকেও বোকা বানানো হয়েছে।

নাগরিক সাংবাদিকতা

আজ সারা বিশ্বে মিডিয়ার অনেক বিভাগই  নাগরিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে সম্পন্ন হতে দেখছি আমরা। অথচ  বহু দশক ধরে নাগরিক সাংবাদিকতার আওতাভুক্ত ক্ষেত্রগুলোকে বৃহৎ মিডিয়া সংস্থাগুলি অবহেলা করে এসেছে।

সর্বত্র সংবাদ

এখন ডেস্কটপগুলির চেয়ে মোবাইল ডিভাইসগুলি বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।  সংবাদ  পড়া এবং সংবাদ  দেখার জন্যও মোবাইলই বেশি ব্যবহারিত হচ্ছে।  মিডিয়া সংস্থাগুলি এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে এখনও  নিজেদের উন্নয়ন  ঘটাচ্ছে।  বেশিরভাগ বড় সংবাদ সংস্থাগুলিরই এখন স্মার্টফোনের পাশাপাশি ট্যাবলেটগুলির জন্য অ্যাপ রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা সম্ভবত আরও সংবাদ সংস্থাগুলিকে কনটেন্টকে ভোক্তার উপযোগী বা  ভোক্তাবান্ধব করতে দেখব। 

পাঠকবান্ধব দর্শকবান্ধব

প্রতিটি সংবাদ আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে এমনভাবে পরিবেশিত হবে যে- সংবাদের ওপর আপনি কোনো মন্তব্য করতে চাইলে করতে পারবেন, কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্যের জন্য অনুসন্ধান করতে চাইলে করতে পারবেন এবং পাঠক-দর্শকের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত-উন্মুক্ত হবে। সংবাদগুলি সম্ভবত হবে প্রাথমিক কনটেন্ট যা বিভিন্ন স্ক্রিনে  বিভিন্ন ভাবে প্রদর্শনের উপযোগী করে তৈরি করা হবে। মোবাইলের সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে মিডিয়ার এখনও অযুত সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ  সন্ধান

পাঠক-দর্শক ফেসবুক-টুইটারসহ অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংবাদ খুঁজছে। সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার না করে বিভিন্ন মাধ্যম-পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এটি সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দিয়েছে , কারণ মানুষ তাদের আকর্ষণীয় ও প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট বেছে নেওয়ার জন্য অন্যদের বেশি বিশ্বাস করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

একজন সাংবাদিকের জায়গা কি একটি কম্পিউটার দখল করতে পারে? এই সম্ভাবনাটি সাংবাদিকতা পেশার ক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  অন্যদিকে কিছু উত্সাহী মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসাবে দেখেন। কম্পিউটারগুলি খুব শীঘ্রই মানুষের জায়গা দখল করবে না।  তবে মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে,  অনেক কাজকেই সহজ করবে সফ্টওয়্যার, এদের সহায়তায় অল্প মানুষও বেশি কর্মীর কাজ করে ফেলবে। এখন  ভাবা হচ্ছে- কীভাবে মিডিয়া সংস্থাগুলি এবং স্বতন্ত্র সাংবাদিকদেরকে সীমিত সামর্থ্যে আরও ভালো কাজ করতে রোবট সহায়তা করতে পারে? সহজভাবে বুঝতে গেলে ব্যাপারটি এমন যে-  ইভেন্টগুলিতে অংশ নেওয়া মানুষ ফলাফল-প্লেয়ার-গোল সংক্রান্ত তথ্যগুলো দিবে এবং সফ্টওয়্যার  প্রাসঙ্গিক ডেটাগুলি  ব্যভহার করে প্রতিবেদন তৈরি করবে।

মানুষের আবেগও বুঝে সফটওয়্যার 

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ধারণ করা যাবে মাইক্রোফোন ও ক্যামেরার মাধ্যমেই। প্রতিক্রিয়া জানতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ-সিদ্ধান্ত-পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে। আইবিএম এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট ওয়াটসন  অ্যালগরিদম ব্যবহার করে মুখের অঙ্গভঙ্গি থেকেই   মৌলিক মানবিক অনুভূতিগুলি সনাক্ত করতে পারে। কম্পিউটার দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করতে এবং রিপোর্ট করতে পারবে।

রাজস্ব ভাগাভাগি

গুগল, ফেসবুকসহ যেসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংবাদমাধ্যমের বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে, তাদের কাছ থেকে রাজস্ব ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হতে পারে। গুগল, ইয়াহু, এমএসএন (এখনকার ‘বিং’)— ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন ও ব্রাউজার কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে মারডক অর্থ দাবি করেছিলেন এ জন্য যে তারা তাদের ওয়েবসাইটগুলোতে মারডকের মিডিয়া সাম্রাজ্য ‘নিউজ করপোরেশন’–এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের লেখা সংবাদ, ভিডিও চিত্র ইত্যাদি কনটেন্ট ব্যবহার করে। অস্ট্রেলিয়া সরকার বিজ্ঞাপনের বাজারে ‘ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সবার জন্য সমান সুযোগ’ প্রতিষ্ঠার আইনি উদ্যোগ নিতে চলেছে। দেশটিতে গুগল, ফেসবুকসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের তৈরি সংবাদ, ভিডিও চিত্র ইত্যাদি তথ্যমূলক উপকরণ (নিউজ কনটেন্ট) ব্যবহারের জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে। ‘কোড অব কনডাক্ট’ নামের এই খসড়া বিধানে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ফেসবুকের নিউজ ফিড ও গুগলের সার্চ রেজাল্টে প্রতিটি ক্লিকের জন্য ফেসবুক ও গুগল সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদান করতে বাধ্য থাকবে।

 

 

 

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *