অশ্লীলতা বন্ধ হওয়া জরুরি

অশ্লীলতার সয়লাব সমাজকে কলুষিত করছে, যুবচরিত্র নষ্ট হচ্ছে। দাম্পত্য জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। পারিবারিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। অবৈধ বিবাহও বাড়ছে আবার অহরহ বিবাহ বিচ্ছেদও ঘটছে। অবৈধ সম্পর্ক ও পরকিয়া বাড়ছে, পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ায় খুন বাড়ছে। ইভটিজিং থেকে শুরু করে ধর্ষণ বাড়ছে। কেউ ইভটিজিং-এর শিকার হয়ে, কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, কেউ সংসার ভেঙ্গে যাওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ও বহুগামিতায় লিপ্ত হয়ে সিফিলিস, গণোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয় মোনিলিয়াসিস, ট্রাইকোমোনিয়াসি ব্যাকটেরিয়াল ভেজাইনোসিস, জেনিট হার্পিস, জেনিটাল ওয়ার্টস, এইডস ও এ্যাবোলা প্রভৃতি যৌনবাহিত রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। ওপেন সেক্স মানুষকে মানুষ বানাচ্ছে না, তাকে পশুতে পরিণত করছে। তাই অশ্লীলতা থেকে নিজে বাঁচতে হবে, অন্যকেও বাঁচাতে হবে। অশ্লীলতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

‘অশ্লীলতা’ শব্দের আরবি প্রতিশব্দ ‘ফাহশা’ ও ‘ফাহেশা’। অশ্লীলতা মানে কুৎসিত, জঘন্য, অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও কদর্য রুচি। লজ্জাহীনতা, রুচিহীনতা, অসুন্দর, অশোভন—এসবের সামষ্টিক রূপই হলো অশ্লীলতা। অশ্লীল কাজ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ। কারো গোপনীয় চরিত্র বা স্থিরচিত্র প্রকাশ করাও জঘন্যতম অশ্লীল কাজ। তাই অশ্লীলতার প্রচার-প্রসার রোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা সময়ের অপরিহার্য দাবি।

অশ্লীলতা মানব চরিত্র ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার। অশ্লীলতা পাপ ও অবাধ্যতাকে বৃদ্ধি করছে। মন্দ স্বভাব বাড়াচ্ছে। অসামাজিক, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও দেখে দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নৈতিকতা হারিয়ে বিপথগামী হচ্ছে । মানহীন ভিডিও উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের কুপথে নিচ্ছে, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হচ্ছে। এভাবে যদি যুব সমাজের মাঝে অশ্লীলতা বাধাহীনভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে তবে এ জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে।

টিকটক ও লাইকিতে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি আর অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে তৈরি করা ভিডিওয়ের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের লাগামহীন প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনে। যে ধরনের আচরণ সংস্কৃতিতে কখনই ছিল না, সে ধরনের আচরণ উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের মাঝে ক্রমাগতই বেড়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন-তেন মানহীন ও খারাপ কনটেন্ট পোস্ট নিয়ন্ত্রণ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

অশ্লীলতা প্রসার লাভ করছে- ধূমপান-মদ-নেশাদার দ্রব্য পানের মাধ্যমে। মদ অনেক অনিষ্টের মূল, বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় সহায়ক। গানে কুরুচিপূর্ণ উত্তেজক কথা থাকলে যুবক-যুবতীরা অবৈধ কর্মের প্রতি ধাবিত হয়। টিভি-সিনেমায় নাচ-গান-মুভিতে যৌনতা-নগ্নতা থাকলে তা অশ্লীলতা ছড়াতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন বিনোদন স্পটে নির্বিঘ্নে কুকর্ম করার পরিবেশ থাকলে দেদারসে চলে বেলেল্লাপনা। মেয়েদের প্রাইভেট পড়ানোর জন্য পুরুষ গৃহ শিক্ষক নিয়োগ করা, নগ্ন-অর্ধনগ্ন নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা, উল্লম্ফন, গান-নাচ অশ্লীলতা প্রসারের কারণ

আধুনিকতার নামে যারা চরিত্রহীন হচ্ছে, মাদকাসক্ত হচ্ছে, পর্নোসাক্ত হচ্ছে; তারা নিজেদের সহজেই বিলিয়ে দিচ্ছে আনন্দ-ভোগ-বিলাসিতায়। ফিনফিনে ও স্কিনটাইট কাপড় পরিধানও এক প্রকারের নগ্নতা; কারণ এতে বস্ত্রাবৃত হয়েও নগ্ন থাকছে! অপরকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতে নির্লজ্জ অঙ্গভঙ্গি ও বেহায়া সাজুগুজুও এক ধরণের অশ্লীলতা! বিনোদনের নামে অপসংস্কৃতি অশ্লীলতা অনাচার যেভাবে মানবিক মূল্যবোধকে গিলে খাচ্ছে; এ থেকে উত্তরণের উপায় সত্য-সুন্দর-মানবিক কনটেন্ট বাড়ানো।

বাজে পোশাক পরিধান করে বাসা থেকে বের হলেই সে আধুনিক হতে পারে না। ফিল্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যা পরিধান করে তা পরিধান করলেই স্মার্ট হওয়া যায় না। উলঙ্গপনায় স্মার্টনেস বাড়ে না। স্মার্টনেস বাড়ে যোগ্যতায়, রুচিশীলতায়, মননশীলতায়, উন্নত জীবনাচরণে। প্রেমলীলার আমেজ , যৌনতার লীলাখেলা, বিশ্রী প্রর্দশ্রনী, অবৈধ সর্ম্পক, অসামাজিক কর্মকান্ড এদেশীয় সংস্কৃতিতে কোনোভাবেই বৈধতা পেতে পারে না।

ইউটিউবে চ্যানেল খুলে টাকা উপার্জনের সহজ মাধ্যম হিসাবে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের দিয়ে বিশ্রী ভিডিও তৈরি করা কোনো স্মার্টনেস নয়। বির্তকিত বিষয় নিয়ে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা, যৌন সুড়সুড়িমূলক কথাবার্তা বলা, অর্থহীন গালগপ্পোর অনুষ্ঠান করা, গান-ফানে বেসামাল বিনোদিত জীবনের দীক্ষা দেয়া-নেয়া যেকোনো উপায়ে বন্ধ হওয়া উচিত। অশালীন নানা কথা-মন্তব্য- ইঙ্গিত, অন্যের চরিত্রহরণ করার অরুচিকর আয়োজন চলতে দেয়া ঠিক না।

অশ্লীলতা নানা কারণেই ছড়াচ্ছে। আবাসিক হোটেল বা ছোট-বড় পতিতালয়গুলো যারা যায় তারা সুযোগ পেলেই ধর্ষণ করে, ইভটিজিং করে। প্রবাসী যেসব বাংলাদেশি নারী-পুরুষ চরিত্র নষ্ট করে, তারাও দেশে এসে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট করে। পরকীয়ায় লিপ্তরা অতি নীরবে অশ্লীলতা ছড়ায়। নেশাসক্তরা নেশার টাকা জোগাতে দেহব্যবসায় লিপ্ত হয়।

পার্ক-ক্লাবে অবাধ মদ-যৌনতা বিনোদনের নামে অশ্লীলতা ছড়ায়। গানে-ছবিতে-ভিডিওতে অশ্লীলতা মন-মগজ নষ্ট করে। পর্ন প্রচার-প্রসারের কারণে নগ্নতা সহজ হলে অশ্লীল নেশায় মত্ত হয় দর্শক । খারাপ পরিবেশে ভালো থাকা যেকারো জন্যই তুলনামূলকভাবে বেশি কঠিন। তাই অপসংস্কৃতি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতাকে আল্লাহ হারাম করেছেন। কোরআনের আলোকে অশ্লীলতা হচ্ছে, অন্যের মন্দ কথা প্রকাশ করা, অনর্থক বিষয়ে কথা বলা, এমন অপবাদ ছড়ানো যে বিষয়ে নিজেদের জ্ঞান নেই, চারজন লোকের চাক্ষুষ সাক্ষী ব্যাতিত জেনার অপবাদ দেয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া ইত্যাদি। সাধারণত শয়তান মানুষকে মন্দ ও অশ্লীল কাজের প্ররোচনা দেয়। তাই অনেকেই অশ্লীলতা পুনরাবৃত্তি করে, অশ্লীল কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে বা আনন্দ-সুখ নেয়ার চেষ্টা করে; যা সবচেয়ে নিকৃষ্ট পন্থা।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *