‘হৃদয়জয়ী নেতৃত্বের পথ বইটির প্রচ্ছদ অত্যন্ত সফল ও সার্থক হয়েছে’

‘আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে জন্মদিন বা অন্য কোনো উৎসব উপলক্ষে উপহার হিসেবে বইয়ের কথা চিন্তা করা হতো, সাথে থাকতো কার্ড অথবা ফুল। সময়ের পরিক্রমায় এখন অ্যানড্রয়েড ফোন এবং ইন্টারনেটের প্রভাবের কারণে এই ঐতিহ্যটা কমে গেছে। আগে পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগার দেখতাম, এখন সেটা খুব একটা দেখা যায় না। তরুণ সমাজ অনেকটা বই বিমুখ। যেই কারণে লেখকরাও অনেকটা লেখালেখি থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

এই রকম একটা কঠিন সময়েও যেসব মুষ্টিমেয় লোকজন লেখালেখির মধ্যে আছেন তাদের মধ্যে আমাদের আনিসুর রহমান এরশাদ ভাই একজন। তিনি অত্যন্ত সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন যে- এইরকম একটি সময়ে এইরকম একটি বই রচনার মাধ্যমে।

চটকদার বিষয় নিয়ে লেখালেখি করলে সহজেই জনপ্রিয় হওয়া যায়। কিন্তু আনিসুর রহমান এরশাদ তথাকথিত জনপ্রিয় কোনো বিষয়কে বেছে নেননি। জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে কঠিন ও জটিল টপিক নেতৃত্ব; তিনি সেই বিষয়টাকে বেছে নিয়েছেন। এজন্য লেখকের প্রতি আমার আন্তরিক ‍অভিনন্দন।

বইয়ের তিনটি বিষয় আমার ভালো লেগেছে। একটি হচ্ছে বইয়ের প্রচ্ছদ। নেতা এমন হবে যে সবার ভারটা সে বুক পেতে নিবে, তাদের ওজনটা বহন করবে, তাদেরকে স্বপ্ন দেখাবে, মোটিভেশন দিবে, স্বপ্ন ও বাস্তবতার মধ্যে সেতুবেন্ধনের কাজ করবে। প্রচ্ছদ অত্যন্ত সফল ও সার্থক হয়েছে।

দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় আমার খুব ভালো লেগেছে সেটি হচ্ছে- লেখক নিজেই ভূমিকাতে উল্লেখ করেছেন এই বই রচনার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ধর্ম, গোত্র বা গোষ্ঠী কারো প্রতি কোনো সহানুভূতি নিয়ে লেখেননি। কারো প্রতি বিরাগভাজন হয়ে লেখেননি। নিরপেক্ষভাবে লিখেছেন। বইটি পড়ে মনে হয়েছে লেখক যে দাবি করেছেন তা অত্যন্ত যথার্থ।

বইটিতে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি সারাবিশ্বের নানা বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিভিন্ন উদ্ধৃতি তিনি ব্যবহার করেছেন। আর সবচেয়ে ভালোলেগেছে যে তথ্যসূত্র। তিনি প্রচুর স্টাডি করেছেন। বইটি পড়লেই বোঝা যায় তিনি যেনতেনভাবে একটি বই নিজে চাপিয়ে দেন নাই। আসলে প্রবন্ধ-নিবন্ধ টাইপের বই লিখতে হলে প্রচুর স্টাডি করা দরকার; তিনি কাজটি করেছেন।

সবমিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় একটি বই তিনি রচনা করেছেন এবং এই বইটি থেকে যারা পড়াশুনা করবেন, জ্ঞানার্জন করতে চান, নেতৃত্বের গুণাবলীকে শাণিত করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান তাদের জন্য এই বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি লেখকের সাফল্য কামনা করছি যাতে এই বইয়ের মাধ্যমে তার পরিচিতি এবং গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতেও তিনি লেখালেখি অব্যাহত রাখবেন। আরো ভালো ভালো বই তার কাছে আমরা প্রত্যাশা করছি।’

ডা. আবু জিহাদ মুহাম্মদ সেলিম  স্বনামধন্য চিকিৎসক। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক্স বিভাগের কনসালটেন্ট। 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *