নিজেই নিজেকে শেখাও : ভিনসেন্ট চ্যাং

অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং ব্রাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা এবং প্রশাসনে  কাজের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। অধ্যাপক চ্যাং উচ্চপর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণা, ফরচুন ৫০০, ওয়াল স্ট্রিট, সিলিকন ভ্যালি ও ব্যবসায় উদ্যোগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন, পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিভিন্ন সময়ে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের জন্য ভিনসেন্ট চ্যাং এর পরামর্শ

অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং বলেন, ‘ব্যর্থতা, অবনতি, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েই মানুষ সবচেয়ে ভালো শেখে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি;  গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবের মতো প্রতিষ্ঠানের শুরু হয়েছে যেখানে, সেখানে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা না থাকলে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা তোমার পেছনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না। কারণ, তুমি বাধাকে কতখানি সুযোগে পরিণত করতে পারো, সে সম্পর্কে তারা ধারণা পাবে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তোমাকে সেই শিক্ষা দেবে না। কারণ, কীভাবে সফল হতে হয়ং, সব পাঠ্যক্রম সেটা শেখানোর জন্যই তৈরি। কীভাবে ব্যর্থ হতে হয়, সেটা কেউ শেখায় না।

ব্যর্থ হয়েই তোমাকে শিখতে হবে। সুতরাং নিজেই নিজেকে শেখাও।

ভিনসেন্ট চ্যাং এর  শিক্ষাজীবন

যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলেতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সে অধ্যাপক চ্যাং তাঁর প্রথম পিএইচডি লাভ করেন। তিনি দ্বিতীয় পিএইচডি করেন অর্থনীতিতে, এমআইটি থেকে। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন। তিনি তাইওয়ানের ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

ভিনসেন্ট চ্যাং এর কর্মজীবন

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে যোগদানের আগে তিনি চীনের শেনঝেনে অবস্থিত দ্য চায়নিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ে প্র্যাকটিসেজ অব ম্যানেজমেন্ট ইকোনমিকস বিভাগে অধ্যাপক এবং ইনস্টিটিউশনাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ছিলেন। এর আগে তিনি ওমানের মাসকটে ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস টেকনোলজিতে প্রতিষ্ঠাকালীন প্রেসিডেন্ট এবং পরিকল্পনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের দায়িত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন।

অধ্যাপক চ্যাং ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইক্যাপিটাল ফাইন্যান্সিয়াল, লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক জেনারেল ব্যাংক, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জে পি মর্গানের নিউইয়র্ক, লন্ডন ও সিঙ্গাপুর অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোং-এর হংকং ও বৃহত্তর চীন অঞ্চলে বিভিন্ন শীর্ষপদে কর্মরত ছিলেন।

ভিনসেন্ট চ্যাং কেন অনন্য

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসিদের প্রত্যেকেই যথেস্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন। কিন্তু ভিনসেন্ট স্যার সবচেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন।  তিনি ব্রাকে এসে প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রী থাকা লাগবে। বর্তমানে যেসব শিক্ষকের পিএচডি ডিগ্রী নেই তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহনে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হবে বলে আমি শুনেছি।

শিক্ষার্থীরা হলো হীরার মতো

অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং বলেন, ‘চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের তুলনায় এখানকার শিক্ষার্থীদের মান কোনো অংশে কম নয়। ‘মান’ বলতে আমি এখানে কাঁচামাল বোঝাচ্ছি। যেমন আপনি যদি হীরার দিকে তাকান, হীরা পাওয়া যায় খনি থেকে। খনির ভেতরে কিন্তু আপনি সুন্দর, মসৃণ হীরা পাবেন না। সেটা আপনাকে তৈরি করে নিতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরাও সেই হীরার মতো। কাঁচামাল হিসেবে খুব ভালো, এখন তাদের মসৃণ করার পালা।’

শিক্ষকদের কাজ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা

অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং বলেন, ‘শিক্ষকদের কাজ কিন্তু শুধু ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান দেওয়া নয়। বরং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা। অনেকে মনে করে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা হলো কাস্টমার। এ কথার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। শিক্ষার্থীরা তো হবে আমাদের পণ্য (প্রোডাক্ট)। শিক্ষার্থীরা হবে আমাদের তৈরি সেই হীরা, যাদের আমরা মসৃণ করার দায়িত্ব নিয়েছি। যে বিষয়েই পড়ুক না কেন, আমি চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো নাগরিক হোক। শুধু দেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও। শিক্ষা তো মানবতার জন্যই।’

পারব মানসিকতার মানুষ প্রয়োজন

অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং বলেন,  ‘আপনি দুই ধরনের মানুষ পাবেন। একধরনের মানুষ বলবে, নাহ, এটা বোধ হয় সম্ভব নয়। আমরা পারব না। আরেক দল বলবে, ঠিক আছে। চেষ্টা করেই দেখা যাক। আমাদের প্রয়োজন দ্বিতীয় ধরনের মানুষ—যাঁদের মধ্যে পারব মানসিকতা আছে।

তথ্যসূত্র

প্রথম আলো
সমকাল
এনটিভি অনলাইন
ইত্তেফাক

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *