জাতীয় উন্নয়ন ও উন্নত জীবনের জন্যে শিক্ষা

মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই জ্ঞান অভিজ্ঞতা অর্জন করে। অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কলাকৌশলই শিক্ষা। শিক্ষা অর্জনের ক্ষমতা জন্মগত। তবে এ ক্ষমতার বিকাশ নির্ভর করে পরিবেশের উপর । বাঞ্ছিত পথে মানুষের ব্যবহারের যে পরিবর্তন তাকেই আমরা শিক্ষা বলতে পারি। অন্য কথায় অভিজ্ঞতা বা পারিপার্শ্বিকের প্রভাব সমাজ কর্তৃক কাঙ্খিত পথে মানুষের ব্যবহারের যে পরিবর্তন তাই শিক্ষা।

শিক্ষা কী?

(Adjustment is the best education) পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টাই বড় শিক্ষা। শিক্ষা ও জীবন অভিন্ন পরস্পর পরস্পরের সম্পূরক Life is education and education is life .“দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষাকাল” ক্রমাগত শিক্ষায় জীবন ধরে মানুষের অভিজ্ঞতা তথা শিক্ষার পরিবর্তন পূর্ণগঠন ও নিয়ন্ত্রণ (Education and reeducation) চলতে থাকে। তাই শিক্ষা বলতে সাধারণত আমরা যা বুঝি শিক্ষা শব্দের অর্থ তা থেকে অনেক ব্যাপক ।

শিক্ষা বলতে কী বুঝায়?

আভিধানিক বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থে শিক্ষা বলতে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করা বা বিশেষ কোন কৌশল অর্জন করাকে বুঝায়। সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞানই শিক্ষা। কিন্ত ব্যাপক অর্থে শিক্ষা একটি জীবন ব্যাপী প্রক্রিয়ায় লালন পালনের সাহায্যে শিশুকে বড় করে তোলার নামই শিক্ষা। শিশুর অন্তনির্হিত গুণাবলী বিকাশ এবং পারিপাশ্বিকতার প্রভাব যাতে বাঞ্ছিত পথে পরিচালিত হয় তার জন্য আমরা সাধ্যমত পারিপার্শ্বিককে নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করি এর নামই শিক্ষা ।ব্যাপক অর্থে শিক্ষাকে আমরা দুভাগে ভাগ করতে পারি।

শিক্ষার প্রকারভেদ

অপ্রত্যক্ষ শিক্ষা (Informal education) এবং প্রত্যক্ষ শিক্ষা (Formal education)। জীবনের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ফলে কিছুটা জ্ঞাতে কিছু অজ্ঞাতে মানুষের ব্যবহারের যে পরিবর্তন তাকে অপ্রত্যক্ষ শিক্ষা বলা যায়। আর যুগ যুগ ধরে সমাজ যে জ্ঞান সঞ্চয় করেছে, যে কৌশল আয়ত্ব করেছে এবং যে অভ্যাস ও চারিত্রিক গুণাবলীকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছে তা নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নাগরিকদের মধ্যে বিতরণের যে চেষ্টা তাকেই শিক্ষা বলে। প্রত্যক্ষ শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা। অবশ্য বর্তমানে প্রত্যক্ষ শিক্ষাদানের জন্য বিদ্যালয় ছাড়াও অন্য প্রতিষ্ঠানও স্থাপিত হচ্ছে।

শিক্ষার উদ্দেশ্য

শিক্ষা একটি উদ্দেশ্যমুখী সচেতন প্রক্রিয়া একটি গতিশীল ধারণা একটি চলমান ব্যবস্থা শিক্ষা হল আল্লাহতালার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের চাবিকাঠি এবং গতিপথের আলোকবর্তিকা জন্মের পার থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শিক্ষাকাল। দেশ ও কালভেদে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিবর্তিত হয়ে থাকে। জীবন দর্শনের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষাদর্শন পরিবর্তন লাভ করে। মোট কথা ব্যক্তিজীবনের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যম সমাজের কল্যাণ সাধনই শিক্ষার প্রদান উদ্দেশ্য।

আমাদের মনে রাখতে প্রতিটি মানব সন্তান বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই সম্ভাবনার লক্ষ্যমুখী বিকাশকেই উন্নত জীবন বলা যায়। যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে এই বিকাশ সাধন করা হয় তাকেই শিক্ষা বলা হয়। শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে জীবনবোধের জন্ম নেয় যার প্রতিফলন ঘটে তার জীবনাচরণে উন্নত জীবন বলতে তাই উন্নত জীবনবোধ এবং উন্নত আচরণকেই বুঝায়। এই উন্নত জীবন বলতে ব্যাষ্টিক এবং সামষ্টিক এই উভয়কেই বুঝতে হবে। কেননা ব্যক্তিকে নিয়েই সমাজ, আর সামাজিক পরিবেশেই ব্যক্তির জন্ম ও জীবনযাপন।

প্রকৃত উন্নত জীবন একমাত্র সেই সমাজেই বাস্তব হয়ে ওঠে যেখানে প্রতিটি মানুষ ব্যক্তি হিসেবে মর্যাদা পায়। যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষর নিশ্চয়তা আছে, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা আছে , যেখানে প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা আছে ,ন্যায়বিচার আছে, সম্পদের সুষম বন্টন আছে এবং পরস্পরের মধ্যে অকপট মিলন ও ভ্রাতৃত্ব আছে। সুতরাং মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জীবন উন্নত হলেই সমাজকে উন্নত বলা যাবে না। আবার সমাজ উন্নত না হলে ব্যক্তিজীবনের উন্নতিও সম্ভব নয়। দেশের শিক্ষা নীতি ও শিক্ষা পদ্ধতি নির্ধারনেও তার বাস্তবায়নে এ সব বিষয়ই বিবেচ্য।

শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীন বিকাশ সাধনে সহায়তা করাই আজ শিক্ষার উদ্দেশ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যও শিক্ষাথীদের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনে সহায়তা করে তাদেরকে সমাজের উপযোগী সদস্য বা দেশের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। সর্বাঙ্গীন বিকাশ বলতে শিক্ষার্থীর শারীরিক মানসিক নৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দিক এর বাড়নকে বুঝায়। শিক্ষাবিদগণ শিক্ষার্জনের উপর ভিত্তি করে শিক্ষাকে ৩টি ধারায় বিভক্ত করেছেন। ১। অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা।২। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা।৩। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা।

 অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা

শিক্ষার প্রথম ধারা হল অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এর মাধ্যমে শিক্ষার সূত্রপাত হয়। এই প্রক্রিয়া সারাজীবনব্যাপী অব্যাহত থাকে। জন্ম থেকে শুরু করে মৃর্ত্যু পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে দেখে, শুনে, কাজ করে, অনুসরণ করে চেষ্টা ও ক্রটি বিচ্যুতি এবং নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও নিজ নিজ পরিবেশের প্রভাবে যে শিক্ষা লাভ করা হয় তাকেই অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা বলা হয়। কামার, কুমার, তাতি, সুতার, স্বর্ণকার, জেলে, ধোপা, নাপিত, গোয়ালা ও মুচি ইত্যাদি পেশায় নিয়োজিত পরিবারের ছেলে মেয়েরা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্ব-স্ব পেশায় শিক্ষা প্রাপ্ত হয়। কিন্ত দেশের উন্নয়নে বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও উৎসাহী কর্মী সৃষ্টির জন্য অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সীমিত ভূমিকা পালন করে বিধায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার উদ্ভব হয়েছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত সুচিন্তিত ও সুসংগঠিত বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচী যার অধীনে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বম্প সময়ে উপযুক্ত শিক্ষা লাভে সক্ষম হয় তাহাই উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়।

গণশিক্ষা বয়স্ক শিক্ষা জনসংখ্যা শিক্ষা, সঞ্জীবনী শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, শস্য উৎপাদন ও সংস্যচাষ, মৎস্যচাষ ও পশু পালন, হাঁস মুরগীর খামার, নার্সারী, খাদ্য প্রস্তত ও সংরক্ষণ, বেসিক ট্রেডসমূহ যেমন অটোমেকানিক আর্কওয়েল্ডিং এন্ড গ্যাস ওয়েল্ডিং, মেনটেন্যান্স, বিল্ডিং এন্ড অর্কিটেকচারাল, ড্রাফটিং, কম্পিউটার অপারেটর, ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং, ফার্ম মেশিনারী, ফার্নিচার এন্ড কেবিনেট মেকিং, প্লাম্বিং এন্ড পাইপ ফিটিং এন্ড টেলিভিশন সার্ভিসিং ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মশালা এবং বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয় সমূহ।

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির সাথে জনগণের জ্ঞানের পরিধি সম্প্রসারিত হয়। সেই সঙ্গে আর্থ সামাজিক কর্মকান্ডেরও প্রসার ঘটে এবং নতুন নতুন সাংস্কৃতিক উপাদান এসে ভীড় জমায়। মানব সমাজের জ্ঞান ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, ভবিষ্যৎ নাগরিকদের মধ্যেও তা বিরণ ও উৎকর্ষসাধন এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি বা বিশেষজ্ঞ সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সুসংগঠিত ভাবে স্কুল কলেজের মাধ্যমে যে শিক্ষা কর্মসূচী উদ্ভাসিত এবং প্রবর্তিত হয়েছে সেটাকেই আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বলে নামকরণ করা হয়েছে।স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন ইনষ্টিটিউটের মাধ্যমে পূর্ব নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট বয়সে, নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রম অনুযায়ী স্তরে স্তরে যে শিক্ষা অর্জন করতে হয় তাকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বলে।

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অঙ্গনের বাইরে অগনিত জনগোষ্ঠী এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ যারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত, তাদের প্রয়োজন ভিত্তিক অল্প সময়েও অল্প খরচে ব্যাপক উপানুষ্ঠানিক কর্মসূচীর মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব। শিক্ষার আর একটি দিক হলো কর্মমুখী শিক্ষা।

কর্মমুখী শিক্ষা

আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অন্তর্ভূক্ত যে শিক্ষা কর্মসুচীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী প্রাত্যহিক জীবনে ছোট খাট কাজ সম্পাদনে নিজেই সচেষ্ট হতে শিখে এবং বিদ্যালয়, গৃহ, ক্ষেত-খামার, কল-কারখানা, ইত্যাদিতে কায়িক শ্রমের দ্বারা উৎপাদনশীল কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে তাকেই কর্মমূখী শিক্ষা বলে। ভিন্ন কথায় যে শিক্ষা দ্বারা শিক্ষার্থীর দেহ, মন ও বাস্তব কর্মের মধ্যে সমন্বয় ঘটে তাই কর্মমুখী শিক্ষা। সংক্ষেপে বলা যায়, কায়িক শ্রমের দ্বারা পেশার পূর্বদক্ষতার বিকাশ সাধন উপযোগী যে অংশটুকু আনুষ্ঠানিক সংযোজিত তাই কর্মমূখী শিক্ষা।

একটি দেশ ও জাতির প্রধান সম্পদ হল এর দক্ষ জনশক্তি। পরিকল্পনা ছাড়া জন সাধারণকে দক্ষ শক্তিতে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই শিক্ষাকে যথার্থ শিক্ষায় রূপান্তর ঘটানো যেতে পারে এবং জনগনকে জনসম্পদে পরিণত করাও সম্ভব হয়। এই দৃষ্টি কোন থেকে কর্মমুখী শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এটা ভূলে গেলে চলবেনা শুধুমাত্র তত্ত্ব এবং তথ্য সরবরাহ বা হস্তান্তর করাকে শিক্ষা বলা যায় না। শিক্ষার সাথে দীক্ষা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যে ব্যক্তি শিক্ষা গ্রহণ করে তর জীবনে যদি সেই শিক্ষার প্রতিফলন না ঘটে তবে তাকে প্রকৃতশিক্ষা বলা যায় না। এই কারণে প্রকৃত শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণের জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ ও ব্যবস্থা সুন্দর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ সৎ ও আদর্শ শিক্ষক, সুযোগ্য ও দক্ষ প্রশাসন, পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী ছাত্রছাত্রী ইত্যাদি।

শিক্ষাব্যবস্থার মূলকথা

শিক্ষাব্যবস্থার মূল কথা হল উপযুক্ত পরিবেশ। বীজ যেমন মাটিতে রোপিত হওয়ার পর আলো, বাতাস, জল পেলে অস্কুরিত হয়ে প্রথমে চারাগাছ এবং পরে ক্রমে সুবৃহৎ বৃক্ষে পরিণতহয়ে ফুলে ফলে বিকাশিত হয় মানব শিশুর বিকাশের জন্যও তেমনি সযত্ন লালিত পরিবেশের প্রয়োজন। পাশ্চাত্য জগতের জড়বাদী ও ভোগবাদী চিন্তা চেতনার দ্বারা প্রভাবিত হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কখনো ফলপ্রসু করা যাবে না।

জীবন কীভাবে অর্থপূর্ণ করে তোলা যায়, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলে কীভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, প্রতিটি ব্যক্তির সুপ্ত সম্ভাবনাকে কীভাবে বিকশিত করা যায় এবং সকলের মধ্যে কীভাবে মিলন, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহভাগিতার মনোভাব গড়ে তোলা যায় এসব বিষয়ে নীতি নির্ধারক ও জনগণের মধ্যে মতৈক্য থাকা প্রয়োজন।

শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়ম

আমাদের দেশে বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক অনিয়ম চলছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নানা জটিলতার আবর্তে পড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য সরকারীভাবে নানা ধরনের প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনা নেয়া হলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমার মতে তার মূল কারণ হচ্ছে সৎ ও সদিচ্ছাসম্পন্ন লোকের অভাব। মৌখিকভাবে অবশ্য অনেকে নীতিবাচক কথা বলেন এবং উপদেশ দেন কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রেই অনীহা দেখা যায়।

বিগত বছরগুলোতে আমাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে খুব বেশি উন্নতি হয়নি। পক্ষান্তরে শিক্ষার গুনগত মান অনেকটা কমে গেছে। সাক্ষরতার হার কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও নিরক্ষর লোকের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য আজো নিশ্চিত হয়নি বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নেই উপযুক্ত শিক্ষক নেই, শিশুদের মনস্তত্ত্ব সস্বন্ধে শিক্ষকদের বিশেষ ধারণা নেই শিশুদের সবার হাতে বই নেই নিয়মিত ক্লাশ হয় না শিক্ষার উপরণ নেই এবং অনেক স্কুলভবন জরাজীর্ণ। প্রথম শ্রেণী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে না যেতেই ৭১%শিশু ঝরে পড়ে।

একদিকে শিক্ষকের অভাব অন্যদিকে শিক্ষকতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ বেকার শিক্ষক নিয়োগে নানা ধরনের জটিলতা বিদ্যামান। শহুরে অভিজাত শ্রেণীর মুষ্টিমেয় স্বচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য কিছু কিছু স্কুল কলেজ আছে কিন্ত সেখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষালাভের কোন সুযোগ নেই। শিক্ষা বিস্তারের নামে অনেক কিন্ডরগার্টেন টিউটোরিয়াল কোচিং সেন্টর ইত্যাদি শুরু হয়েছে, কিন্ত এগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন। অনেক শিক্ষক হয়তো কোন প্রতিষ্ঠিত স্কুলে শিক্ষকতা করেন। কিন্ত তার স্ত্রী পরিচালনা করেন প্রাইভেট স্কুল। উক্ত শিক্ষকের সেই প্রতিষ্ঠিত স্কুলে সন্তন ভর্তি হতে পারবে এই আশায় অভিভাবকগণ সেই প্রাইভেট স্কুলে উচ্চ বেতনে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করান।

আবার শিক্ষকগণ নামী দামী স্কুলে ভর্তি করানোর লোভ দেখিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়ান। এভাবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে পুজি করে বিভিন্ন মহল অর্থ উপার্জনে লিপ্ত রয়েছেন। মাঝে মাঝে শোনা যায় এ ধরনের ব্যবসায়িক মনোভাবাপন্ন শিক্ষকরা গর্ব করে বলেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত বেতনের বাইরে তাদের মাসিক আয় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এ ধরনের কথা বলতে তারা বিন্দুমাত্র লজ্জ্বাবোধ করেন না। এ ধরণের শিক্ষকদের কাছ থেকে সমাজ বা জাতি কী আশা করতে পারে।

বর্তমান আমাদের দেশে শিক্ষক বা ছাত্রের মধ্যে সৃজনশীলতা ও মুক্ত চিন্তার কোন সুযোগ নেই। আছে শুধু মুখস্থ করে বা নকল করে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়ে ভাল সার্টিফিকেট অর্জন করার ধ্বংসাত্মক প্রতিযোগিতা। পত্র পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে ম্যাজিষ্ট্রেট এবং পুলিশবাহিনী দিয়ে নকল বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্ত অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা নিজেরাই নকল সাপ্লাই দেন এবং ছাত্র-ছাত্রীরা নকল করার দাবিতে সভা ডাকে বা মিছিল বের করে।

শিক্ষা যেন বাণিজ্যিক পণ্য!

অবিশ্বাস্য হলেও এসব সত্য এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরনের শিক্ষা কি জীবনকে আদৌ উন্নত করে যে শিক্ষা বিবেকবোধ জাগ্রত করে না সততা শিক্ষা দেয় না নকল করার মধ্যে লজ্জ্বাজনক কিছু আছে বলে মনে করে না তাকে কীভাবে শিক্ষা বলা যায় সারা দেশে আজ শিক্ষাকে যেন বাণিজ্যিক পণ্য করে তোলা হয়েছে। তা কি সমর্থনযোগ্য বিশ্ব আজ জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এই অগ্রযাত্রায় আমাদের অবস্থান কোথায়।

অনেক উন্নতি বলতে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অগ্রসরতাকেই বুঝে থাকেন। অর্র্থনীতি নিঃসন্দেহে মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কিন্ত সেটাই জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক নয়। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নত হলেই যে মানুষের সার্বিকজীবন উন্নত হবেতার নিশ্চয়তা কি? অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাপকাঠিতে পাশ্চাত্য জগত শীর্য স্থানে পৌচেছে। কিন্ত জড়বাদ বা বস্তুবাদ তাদেরকে মানবিক দিক দিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ আমরা দেখতে পাই অসংখ্য ভগ্ন পরিবার, বিকৃত যৌনাচার একক ও নিঃসঙ্গ জীবনযাপন মানসিক ব্যাধিগ্রস্ততা আত্মকেন্দ্রিকতা আধিপত্যবাদ ইত্যাদি। মানুষ নিজেই সম্পদস্বরূপ না হয়ে বিপুল সম্পদের অধিকারী হলেও তাতে তো তার বিশেষ কোন লাভ হয় না। সে উন্নত জীবনের অধিকারী হয় না। অনেক ধনী পরিবারের বাবা মায়েরা অহংকারীলোভী উগ্র বদমেজাজী হয়ে থাকেন। এসবের কু প্রভাব নিঃসন্দেহে সন্তানের উপর পড়তে বাধ্য।

পরিবার এবং স্কুল সমাজের বাস্তবতার দ্বারা প্রভাবিত দেশেরবর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কোন্দল দলাদলি প্রশাসনিক জটিলতা দুর্নীতি ঘুষ ধর্ষণ খুনখারাবি সন্ত্রাস দায়িত্বপালনে অবহেলা অস্বস্তিকর ও অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এগুলো সামাজিক পরিবেশকে দূষিত করে তুলেছে প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিকের সংখ্যা খুবই কম কূপমগুকতা সংকীর্ণ জাতীয়তা সাম্প্রদায়িকতা ধর্মান্ধতা ইত্যাদি সমাজকে ক্রমাগত গ্রাস করছে।

শিক্ষার উপর এসবের প্রভাব খুবই ক্ষতিকরক। এ কারনেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অধ্যবসায় সহকারে পড়াশুনায় মনোবিবেশ করার পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে গৃহশিক্ষকের সহায়তায় পরীক্ষায় নামতাত্র পাশকরা নকল করে বেশি নম্বর পেয়ে ভাল সার্টিফিকেট অর্জন করার চেষ্ট, ইত্যাদি প্রবণতা দেখা যায়। শিক্ষাদানের মতো একটি মর্যাদাসম্পন্ন পেশাকে আজ শিক্ষকরাই অমর্যাদা করছেন। স্কুল কলেজে আজকাল নিবেদিতপ্রাণ যোগ্য সৎ নীতিবান আদর্শ শিক্ষকের দারুণ অভাব চলছে।

প্রকৃত শিক্ষক ও শিক্ষকতা পেশা

প্রকৃত শিক্ষক শিক্ষকতা পেশাকে তার জীবনে আহ্বান হিসেবেই গ্রহণ করেন। লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে লাভ লোকসানের কথা বিবেচনা না করে তিনি নিজের জীবনাচরণে আদর্শ হওয়ার সাধনায় ব্যাপৃত থাকেন এবং তার হাতে অর্পিত ছেলেমেয়েদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়বদ্ধতা স্বীকার করে নিয়েই তার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকমন্ডলী এই আদর্শ হতে অনেক দুরে সরে গেছেন বলে মনে হয় ।

ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুখী ও সমৃদ্ধিশালী করে তোলার জন্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অর্থাৎ আমাদের বর্তমান চিন্তা চেতনা কর্মসূচি কর্মকান্ড পরিবেশ পরিস্থিতি নীতি সিদ্ধান্তের প্রয়োগ ইত্যাদি কতুকু উপযুক্ত তা বিবেচনার বিষয়। এসবের মূল্যায়নের ব্যবস্থা আছে কি? আমরা এগুলো নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক জীবনকে উন্নত করতে হলে এসবের নেতিবাচক দিকগুলো সম্বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এগুলো পরিবর্তনের জন্য দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

আজ আমরা যে অবস্থায় আছি, তেমন অবস্থায় চিরকল থাকতে চাই না। আগামী দিনে আরও ভাল অবস্থায় থাকার প্রত্যাশা করি। অর্থাৎ আমাদের জীবন ও পরিবেশ পরিবর্তন আনতে চাই। আসলে মানুষের জীবন ও পরিবেশে লক্ষনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন সাধনই উন্নয়ন। উন্নয়নের মূলকথাই পরিবর্তন। সাধারণ অর্থে মানুষের ব্যক্তি, সমাজ, সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সামগ্রীক উন্নয়নই জাতীয় উন্নয়ন। বিশ্বের সকল মানুষ চায় উন্নয়ন। উন্নয়নকামিতা মানুষের ধর্ম।

উন্নয়নকে ঘিরেই মানুষের যাবতীয় উদ্যম, পরিশ্রম ও কর্ম তৎপরতা পৃথিবীর ধনী দরিদ্র সকল মানেষের মুখে এখন একমাত্র শ্লোগান আমরা উন্নয়ন চাই। আবার এই উন্নয়নের অর্থ সকল দেশে এক নয়, বিভিন্ন। কোন দেশের নিকট উন্নয়নের অর্থ শিল্পায়ন। আমরা কোন দেশ উন্নয়ন বলতে সেখানকার সকল মানুষের জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি, নগরায়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দেশের আকাশচুরী দালাল নির্মান ইত্যাদি বুঝে থাকি। অনেক দেশে দারিদ্র বিমোচন, ক্ষুধা ও রোগ মুক্তি, নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে নিস্তার, দীর্ঘগড় আয়ু ইত্যাদিকে উন্নয়ন হিসাবে গণ্য করা হয়।

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সার্বভৌম কোন রাষ্ট্রের জনগনকে জাতি হিসাবে গন্য করা হয় কিন্ত উন্নয়নের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। এটা বহুমুখী, সফলতা,ও উৎকর্ষের বহিঃপ্রকাশ। মোটামুটিভাবে উন্নয়ন করার অর্থ উন্নতি সাধন, শ্রীবৃদ্ধি আনয়ন ও জীবনের সর্বাঙ্গীন উন্নতির পথে অগ্রসর হওয়া। কোন জাতি বড় বা উন্নত হয়-শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-গরিমায়, ত্যাগ-তিতিক্ষা, কায়িক পরিশ্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে। অলস ও কর্মবিমুখ জাতি উন্নয়নরূপ “সোনার কাঠির” সন্ধান কোন দিনও পায় না।

একটি জাতির সংস্কৃতি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সামাজিক, অর্থনৈতিক এক কথায় সার্বিক অগ্রগতিকে জাতীয় উন্নয়ন বলা হয়ে থাকে। সাধারন অর্থে জাতীয় উন্নয়ন অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বুঝায়। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন জাতীয় উন্নয়নের একমাত্র মাপকাঠি নয়। কেন না শুধুমাত্র জাতীয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলেই একটি দেশের সার্বিক উন্নতি সাধিত হয়েছে বলা বলে না। তাই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযক্তি, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, কৃষি, শিল্প, নৈতিক চরিত্র ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের দরকার।

কোনো দেশ বা জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও উন্নতি বিপুল জনসংখ্যা নিয়ে বিচার করা হয় না, বরং সে জাতি শিক্ষা দীক্ষায় কত উন্নত এর জনসম্পদ কত দক্ষ ও কর্মঠ, কল কারখানা, খেতে খামারে কত বেশি উৎপাদনক্ষম, ইহা কত আত্মনির্ভরশীল ও আত্মসচেতন, বিশ্বের কল্যানমূলক কাজে অবদান প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষাপটেই একটা জাতির উন্নতির শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপ করা হয়! শুধু ধন সম্পদেই নয়, একটি দেশ যখন কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে সমভাবে উন্নতি লাভ করে। তখনই সে দেশকে উন্নত দেশ বলা হয়।

শিক্ষাই শক্তি, শিক্ষাই জীবন, শিক্ষাই মুক্তি, শিক্ষাই প্রগতি। শিক্ষা ছাড়া সমাজ তথা মানব জীবনই অচল। শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষা মানুষের আত্মোন্নতি ও আত্মবিকাশের উপায়। একটি জাতির বাঁচা মরা উন্থান পতন নির্ভর করে সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উপর ।শিক্ষার দ্বারাই দায়িত্বশীল সুনাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব। জনগনের বিভিন্ন বাঞ্চিত ক্রিয়াকলাপের উপরই জাতীয় উন্নতি নির্ভরশীল।

একমাত্র সুশিক্ষিত দায়িত্ববান বিবেকবান জনসমষ্টির দ্বারাই রাষ্ট্রের কল্যান সাধন সম্ভব। কাজেই শিক্ষার মাধ্যমে দেশের জনগণ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে আত্মনিয়োগ করে জাতির অগ্রগতির ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই শিক্ষার প্রকৃতিই হল উন্নয়ন। শিক্ষা দেশের প্রতিটি কর্মক্ষম ব্যক্তিকে জনশক্তিতে পরিনত করে। শিক্ষার দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষি, শিল্প, বানিজ্য প্রভৃতি সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে জীবন যাপনের মান উন্নয়নের নামই জাতীয় উন্নয়ন।

উন্নত জীবন সবারই কাম্য। কিন্ত ব্যাপক অর্থে শিক্ষা ছাড়াউন্নত জীবন আশা করা যায় না। কথায় বলে, যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। প্রকৃতপক্ষে এই শিক্ষা চলে জীবনভর, কেননা ব্যক্তি কেননা ব্যক্তি ও সমাজের বিকাশের কোন শেষ নেই। বিভিন্ন মানদন্ডের বিচারে আমরা জাতি হিসেবে যে অনেক দিক দিয়ে পিছিয়ে আছি তা অনস্বীকার্য। তার কারণও বহুবিধ এর জন্য কাউকে এককভাবে দোষারোপ করা যায় না।

সার্বিকভাবে বলা যায় যে, জাতি হিসেবে উন্নত জীবন অর্জন করতে হলে সবার মধ্যে একটি জাগরণ আসা প্রয়োজন। নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে উন্নত জীবন লাভ করা অবশ্যই সম্ভব। তবে এ ব্যাপারে উদ্যেগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে সমন্বিত করার দায়িত্ব সমাজের নেতৃবর্গেরই বেশি। তারা যদি নিজের জীবনের আদর্শ দিয়ে অপরকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন তবে সবাই নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী সহযোগিতা দেবে। অতীতে আমরা কতটুকু বা কী পেয়েছি সেটা নিয়ে আক্ষেপ অনুযোগ না করে নতুন উদ্যম উদ্দীপনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে নিজ নিজ যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী দেশ ও জাতি গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করলে উন্নত জীবনের দিকে আমাদের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে। তবেই বর্তমান প্রজন্ম ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার পাত্র বলে বিবেচিত হবে।

সহায়ক গ্রন্থাবলী

১) অধ্যাপিকা সাফেরা খাতুন ,প্রবন্ধ সম্ভার ,প্রকাশকাল-১লা সেপ্টেম্বর২০০১ইং
২) সন্নাসব্রতীর শিক্ষাসেবা ,ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, মিজান পাবলির্শাস, আগস্ট ২০০৭
৩) শিক্ষার সমস্যা ও সম্ভাবনা ,মো: হাসমতুল্লাহ,জ্ঞানকোষ প্রকাশনী,জুন ২০০৩

 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.