সময়ের সদ্ব্যবহারই সফলতার সোপান

মো.তৌহিদ হোসেন : বিরামহীনভাবে চলছে ঘড়ির কাটা। প্রতিটি মুহুর্ত মিলিয়ে যাচ্ছে অতীতের গহ্বরে। কারো জন্য অপেক্ষা নয়- শুধু নিরন্তর পথচলা। এ যেন বহতা নদীর মতো স্রোতের টানে এঁকে বেঁকে সে চলে যায় নিরুদ্দেশ যাত্রায়; সীমাহীন অজানায়। এজন্যই বোধহয় কবি বলেন, ‘নদী আর কালগতি একই সমান, অস্থির প্রবাহে করে উভয়ে প্রয়াণ। ধীরে ধীরে নীরব গমনে গত হয়; কিবা ধনে, কিবা স্তবনে ক্ষণেক না রয়’।

কোনটি ঐ জিনিস যার পিছু ফিরবার কোনো ফুরসত নেই, নির্দিষ্ট গতিতে শুধু সামনে চলমান। হ্যাঁ! এটাই সময়- যা সবচেয়ে বেশি দ্রুতগামী। যদিও তা সবচেয়ে বেশি ধীরগতি, সবচেয়ে দীর্ঘ। কারণ এর বিস্তৃতি অনন্তকাল প্রসারিত। আবার জীবন সবচেয়ে ছোট, কারণ কেউই তার জীবনের সকল কাজ সমাপন করে যেতে পারে না। আমরা সকলেই পৃথিবী নামক গ্রহে সময়ের পান্থশালায় পরিভ্রমণরত। মানবজীবনের সুখ-দু:খ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, ধনাঢ্যতা-দরিদ্রতা, সম্মান-অসম্মান সবকিছু সময়ের মাঝেই নিহিত।

সময়ের গুরুত্ব

পৃথিবীর অন্তহীন পথচলার মাঝে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ববহ অনুষঙ্গ হলো সময়। ধর্মবাণী তথা কোরআন-হাদীসের বাণী, মণীষীদের অমৃতবচন, আর উপনিষদও এরই সাক্ষ্য বহন করছে। মানবজাতির সত্য ও সুন্দরের পথ প্রদর্শক পবিত্র কোরআনে সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধির জন্য একাধিকবার জ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

‘কসম সময়ের। নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কেবল তারাই না, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, হকের উপদেশ দিয়েছে এবং ধৈর্যধারণ করেছে।’ সূরা-আসর।
‘শপথ! রাত্রির যখন সে আচ্ছন্ন করে, শপথ দিনের যখন সে আলোকিত হয়।’ আল-লাইল, (১-২)।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল কোরআনে ৭৪ বার রাতের এবং ৫৪ বার দিনের কসম খেয়ে মানুষকে সময়ের সদ্ব্যবহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

রাসূল (স.) বলেছেন, ‘দু’টো মূল্যবান জিনিসের ব্যবহারে অনেকে ধোঁকায় নিমজ্জিত, একটি সুস্থতার সময় এবং অপরটি অবসর সময়।’

‘দু’জন ফেরেশতার এরূপ আহ্বান ব্যতীত একটি প্রভাতও আসে না। হে আদম সন্তান, আমি একটি নতুন দিন এবং আমি তোমার কাজের সাক্ষী। আমার সর্বোত্তম ব্যবহার করো। শেষ বিচার দিনের আগে আমি কখনও ফিরে আসবো না।’

আবুল আলা আল মাআরী (রা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিসের কোনো প্রত্যাবর্তন নেই- সময়, সৌন্দর্য ও যৌবন।’

ইয়াহইয়া ইবনে হুরাইরাহ (রা.) বলেছেন, ‘সর্বাপেক্ষা মূল্যবান যে জিনিসটির হেফাযত করা উচিত তা হলো সময়। অথচ সেটিই সহজে তোমার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।’

ফ্রাংকলিন বলেন, ‘সত্যিই কি তুমি জীবনকে ভালোবাস? তাহলে তোমার সময় তুমি নষ্ট করো না। কেননা সময়ই হলো জীবনের সার-নির্যাস।’

ভিকটর হুগো বলেছেন, ‘সময়কে যখন আমরা পরিকল্পনাহীন স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিই, তখন বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ে।’

সময়ের যথার্থ গুরুত্বের উপলব্ধি যাদের ছিল তাদের মাঝে দু’জনের বক্তব্য উল্লেখ করা যায়।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি আর কোনোকিছুৃর জন্য এতটা অনুতপ্ত হইনি, যতটা হয়েছি ঐ দিনের জন্য, যে দিনের সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে, আমার আয়ু থেকে কিছু সময় কমে গেছে। কিন্তু আমার আমলনামায় কিছুই যোগ হয়নি।’

ইমাম আল্লামা যামাখশারী বলেন, ‘স্ত্রীর সাক্ষাত লাভ ও তার সঙ্গে মধুময় মিলনের চেয়েও আমার কাছে অধিকতর আনন্দময় হলো রাত জেগে জ্ঞানসাধনা করা।’
বেদবাক্যও সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাওয়ার সাধনার অনুবর্তী। এগিয়ে যাবার প্রেরণা সময়ের সাথে সাথে মানুষকে দেবে মুক্তির দীক্ষা।

‘অস্তে ভগ অসিনস্যোদ ধৃস্তিষ্ঠতি শেতে নিপদ্য মনস্য চরতি চরতো ভগো চরৈবেতি চরৈবেতি। অর্থাৎ অলসজনের ভাগ্যও অলস। যিনি জাগ্রত তার ভাগ্যও জাগ্রত। যিনি বসে পড়েন, তার ভাগ্যও বসে পড়ে। যিনি এগিয়ে যান, তার ভাগ্যও এগিয়ে চলে। এর দ্বারা বুঝা যায়, সময় অমূল্য সম্পদ। একবার অনাদর আর আবহেলায় চলে গেলে সময় আর ফিরে আসে না। জীবনের সব উপার্জন উপহাররূপে নিবেদন করেও সময়কে ধরে রাখা যায় না। যেমন করে বলেছেন বিখ্যাত কবি Ralph Hodgson এর কবিতায়-

Time, You Old Gypsy Man

will you not stay,

Put up your caravan

Just for one day?”

যেভাবে জীবনের সময় বয়ে যায়

আমাদের দেশের ৫৪ বছর বয়সী একজন কর্মক্ষম সাধারণ মানুষের জীবন নদী বয়ে চলার গতিকে নিম্নরূপ ছকে উল্লেখ করা যায়:
ঘুমিয়ে কাটানো সময় ২১ বছর
জীবিকা উপার্জনে ব্যয় ১৩ বছর
ডিগ্রী অর্জনসহ অন্যান্য লেখাপড়া করে ৫ বছর

টেলিভিশন দেখে ৪ বছর
খাবার/নাস্তা খেতে ৪ বছর
বাসে/গাড়িতে যাতায়াত করে ২ বছর
গোসলখানায় ব্যয়িত সময় ১০ মাস

বাসস্ট্যান্ডে/ শহরে জ্যামে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সময় ১ বছর
দাঁত মাজা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জনে ১ বছর
টেলিফোনের ডায়াল ঘুরিয়ে ১ বছর
নাপিতের দোকানে ৩ মাস

জুতার ফিতা বাঁধাসহ পোশাক পরিধান করে ৩ মাস
খেলাধুলা করে ব্যয়িত সময় ৮ মাস
সর্বমোট = ৫৪ বছর

প্রতিদিন ১৫ মিনিট মানে বছরে পূর্ণ ১১ দিন, প্রতিদিনের ৩০ মিনিট মানে বছরে পূর্ণ ২২ দিন; এ সময় একমাসের মূল কর্মঘন্টার চেয়ে বেশি। সুতরাং মূল্যবান কিছু সম্পাদন করতে চাইলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাফিক এই সময়ের মাঝেই করতে হবে। অন্যথায় ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সাফল্যের সাথে সহায়ক নয় এমন সহস্র ঘটনার বেড়াজালে সময় চলে যাবে।

সময় অপচয় রোধে কী করবেন?

দৈনন্দিন কাজে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় কারণেই আমাদের সময় অপচয় হয়। অভ্যন্তরীণভাবে সময় অপচয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ছাড়া সময় ব্যয় করা, কোনো কিছুতে ‘না’ বলতে পারা এবং পরবর্তী দিনের জন্য কাজ ফেলে রাখা মূলত দায়ী। আর বাহ্যিকভাবে সাক্ষাৎপ্রার্থী, টেলিফোন, অনুষ্ঠানাদি, যোগাযোগ ও মতবিনিময়, টেলিভিশন ইত্যাদিতে সময় অপচয় হয়ে থাকে এক্ষেত্রে নিম্নরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়:

সাক্ষাৎপ্রার্থী

প্রতিদিন অসংখ্য সাক্ষাৎপ্রার্থীর সাথে যোগাযোগ করতে সময়ক্ষেপণ না করতে করণীয় হচ্ছে-
সপ্তাহে ১/২ দিন বাসায় এবং প্রতিদিন অফিসে নির্দিষ্ট সময় সাক্ষাৎপ্রার্থীদের সময় দান করা।
অফিসে আরামদায়ক অতিরিক্ত আসন না রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোচনা না করা।
সবসময় সাক্ষাতের জন্য দরজা খোলা না রাখা এবং ব্যক্তিগত সহকারী দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা।
বিচক্ষণতা ও ভদ্রতার সাথে ওজর পেশ করা অথবা না বলা এবং অন্যের কাজে নিজে দায়িত্ব না নেয়া। মনে রাখতে হবে, সকলকে খুশি করা সম্ভব নয়; এক্ষেত্রে নিঃসঙ্কোচবোধ এবং স্পষ্টভাষী হওয়া প্রয়োজন।

ফোন ব্যবহার

পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাপ এনি’র বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মানুষ তাদের মোবাইল ফোনে প্রতিদিন গড়ে ৪ দশমিক ৮ ঘণ্টা করে সময় ব্যয় করেছে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের দিনের প্রায় ৫ ভাগের ১ ভাগ চলে যাচ্ছে শুধু মোবাইল ফোনে।

সে ক্ষেত্রে নিম্নরূপ নীতিমালা অনুসরণীয়ঃ
ভ্রমণ এড়ানো, তথ্য জানা এবং জানানোর প্রয়োজনে টেলিফোন করা।
কাগজে লিখে সংক্ষিপ্ত অভিবাদন ও আলাপ সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় টেলিফোন করা।
সহকর্মীদের টেলিফোন ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

অনুষ্ঠানাদি

বাস্তব প্রয়োজন ছাড়া অনুষ্ঠানে না যাওয়া অথবা বৈঠাকাদি না করা।
যথাসময়ে অনুষ্ঠান শুরু ও শেষের ব্যবস্থা করা।
আলোচ্যসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তা এড়িয়ে চলা।
কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, বন্টন এবং তত্ত্বাবধান করা।

যোগাযোগ ও মতবিনিময়

এক জরিপে দেখা যায় যে, কোনো সংস্থার পরিচালক/ব্যবস্থাপকগণ তাদের সময়ের ৭০ ভাগ যোগাযোগ তথা পত্রালাপ, কথোপকথন, পড়ালেখা, শ্রবণ করা ইত্যাদিতে কাটিয়ে থাকেন। যোগাযোগের মূল সমস্যা সৃষ্টি হয় ভুল বুঝা অথবা না বুঝা থেকে। বক্তা তার কথা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আর শ্রোতা ব্যস্ত থাকেন বক্তার বক্তব্যের বিষয় নিয়ে। বক্তা ভাবেন আমি শ্রোতাকে যথাযথভাবে আমার বক্তব্য বলেছি। অথচ শ্রোতা নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে ভিন্নভাবে বুঝেন, ফলে যোগাযোগে কম সময়ে কাঙ্খিত সাফল্য আসে না।

এক্ষেত্রে নিম্নরূপ প্রস্তাব অনুসরণীয় :

বক্তা বিস্তৃত ব্যাখ্যাসহ বক্তব্য প্রদান করবেন।
শ্রোতাকে বক্তব্য বিষয় বুঝার জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করবেন।
যোগাযোগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা, অর্থাৎ বক্তার বক্তব্য শ্রোতার গ্রহণ অথবা বর্জন বা প্রত্যাখান করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া।

আগামীকাল/পরের দিনের জন্য কাজ ফেলে না রাখাঃ
কাজে সফল না হওয়া সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো কাজ পরবর্তী দিনের জন্য ফেলে রাখা। সময়মতো কাজ সম্পাদন করতে পারলে সফলতা অনিবার্য। এক্ষেত্রে কাজ জমিয়ে রাখার অভ্যাস স্বীকার করে দেরী করার সমস্যা কী এবং পরিত্রাণের উপায় কী হতে পারে তা নির্ধারণ করতে হয়।
সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, অগ্রাধিকার নির্ণয় এবং প্রতিদিন যতটুকু কাজ আঞ্জাম দেয়া প্রয়োজন তার তালিকা তৈরি করে কাজ করলে কাজ জমে থাকে না।

টেলিভিশন দেখা

পাশ্চাত্য পন্ডিত ‘ফ্রেড ওর’ তার ‘কিভাবে কাজে সফল হবেন’ বইয়ে লিখেছেন, ‘টেলিভিশন আমাদের চারপাশের্^র জগত সম্পর্কে তথ্য দেয় ঠিকই কিন্তু বাস্তব সত্য এই যে, টেলিভিশনের অধিকাংশ অনুষ্ঠান বিনোদনমূলক চিত্তাকর্ষক হওয়ায় তথায় কর্তব্য অচেতন হয়ে বসে থাকতে হয় যা সময় অপচয়’।

টেলিভিশন দেখার ক্ষেত্রে নিম্নরূপ পরামর্শ কাজে লাগানো উচিতঃ
টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসূচি দেখে শুধুমাত্র উপকারী অংশ দেখা।
টেলিভিশন দেখাকে আরামহীন ও অস্বস্তিকর কাজে পরিণত করুন। যাতে প্রয়োজনীয় অংশ দেখেই উঠে যেতে পারেন।
যখন সংবাদ কিংবা ছোট অনুষ্ঠান দেখবেন তখন বসা থেকে বিরত থেকে দাঁড়িয়ে দেখবেন।

সময় বাঁচাবেন কিভাবে ?

সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে সপ্তাহের শুরুতে কাজের পূর্ণ তালিকা তৈরি করা। সময় বণ্টনের সাথে যথার্থ সঙ্গতি রেখে প্রতিদিন সকালে লিখিতভাবে পরিকল্পনা করা এবং কাজ শেষে একটি একটি করে কেটে দেয়া।
প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিনেই শেষ করা, কোনো অবস্থাতেই পরবর্তী দিনের জন্য কাজ ফেলে না রাখা। পাঁচ মিনিটের কম সময়ের কাজ হলে তাৎক্ষণিক করা, অন্যথায় অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যতালিকা তৈরি করে করা।
টেলিফোনে না জানিয়ে অথবা নিশ্চিত না হয়ে কোনো প্রয়োজনে বন্ধু, আত্মীয় বা কাক্সিক্ষত ব্যক্তির নিকট না যাওয়া।

চিঠি, টেলিফোন, ফ্যাক্স বা ই-মেইলের মাধ্যমে সেরে নেয়া যায় এমন কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে যাবেন না।
জীবনের টার্গেট নির্ধারণ করা এবং সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম করা।
বেহুদা ও অর্থহীন বৈঠকাদি এড়িয়ে চলা।
কাগজ, কলম বা ছোট্ট নোটবুক সবসময় পকেটে রাখা; যেন অবসর সময়ে বা হঠাৎ মনে আসা জরুরি চিন্তা বা পরিকল্পনা লিখে রাখা যায়।

কারো সাথে সাক্ষাৎ করার সময় নির্ধারণ সম্পর্কে উভয়েই যেন ভালোভাবে সময়সূচি বুঝে নোট করে নেন সেদিকে খেয়াল রাখা।
সবসময় ফেসবুক, ইন্টারনেট ব্যবহার না করে সুনির্দিষ্ট সময়ে তা চালানো।
সব কিছুতেই বেশি বেশি সৌজন্যবোধ বা বাহুল্য পরিহার করা।
দূরে যাওয়া অথবা নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে যোগদান করতে সম্ভাব্য সময়ের চেয়ে বেশি সময় হাতে রেখে রওয়ানা করা; যেন অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটলেও যথাসময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

সময়কে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যয় করার স্বাদ গ্রহণ করা।
রান্না-বান্না, প্রবন্ধ লেখা, বক্তৃতা প্রস্তুত করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রস্তুতির সময় সকল প্রয়োজনীয় উপায়-উপাদান হাতের কাছে রাখা।
নিজের গাড়িতে ভ্রমণে বের হলে গাড়ির ইঞ্জিনের অবস্থা, তেল আছে কিনা ইত্যাদি ভালোভাবে পরখ করে যাত্রা শুরু করা। তেল না থাকলে স্বল্পদূরের ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে নেয়া।
রিক্সা ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, গাড়ি পার্কিং, টেলিফোন করা ইত্যাদির জন্য সবসময় খুচরা টাকা- পয়সা সঙ্গে রাখুন।

কেনা-কাটার জন্য লিখিত প্ল্যান করে স্বল্প দূরত্বে কাজ সারা; যেন একই কাজে একাধিকবার যেতে না হয়।
ব্যস্ততম কর্মময় মহান ব্যক্তিদের কাহিনী পড়া এবং সেই অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালানো।
সময়ক্ষেপণ করতে পারে এমন আত্মকেন্দ্রিক, চিন্তাশূন্য লোক এড়িয়ে চলা।
পরিশ্রমী, মেধাবী, বুদ্ধিমান ও সময় সচেতন ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে থাকা।

সবসময় অধিক পরিশ্রম করার প্রচেষ্টা চালানো।
প্রতিটি কাজের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া এবং কঠোরভাবে মেনে চলা।
কাজের প্রতিটি দিক তালিকাবদ্ধ করে এমন ২০% কাজ আগে করা যা করলে ৮০% কাজের সমান হয়।
সপ্তাহের নির্দিষ্ট কোনো দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বাসায় অবস্থান করে লোকদের সাক্ষাত প্রদান।

অপেক্ষাকালীন সময়ে কী করবেন ?

আজকাল অপেক্ষা করা যেন জীবনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাড়িতে চড়তে জ্যামে পড়া, সুপার মার্কেট, ডাক্তার খানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত সর্বত্র ভিড় আর ভিড়। প্রতিদিন এরূপ অপেক্ষাকাল থেকে ২ ঘন্টা সময় বের করলে বছরে ৭৩০ ঘন্টা সময় বাঁচতে পারে যা প্রায় ৩ মাসের কর্মদিবসের সমান। এসময়ে কোরআন-হাদিসের বহু অংশ অথবা অন্যান্য মূল্যবান গ্রন্থের মূল্যবান অংশ মুখস্ত করতে পারেন।

দ্রুত পড়ার কৌশল শিখতে পারেন;
বিদেশি ভাষা শিখতে পারেন;
ফুল বা ফলের বাগান করতে পারেন;
একটি বিষয়ে ডিপ্লোমা করতে পারেন।

এক্ষেত্রে নিম্নরূপ পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে :
সবসময় কিছু বই সঙ্গে রাখুন যেন কোনোকিছু মুখস্ত করে অথবা গঠনমূলক কিছু করে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারেন; এক্ষেত্রে একাকী চলা বেশি সুবিধাজনক।
ভিড়ের সময় কেনাকাটা না করা। অফিসে উপস্থিত হতে সময়সূচির ১৫ মিনিট আগে বের হওয়া। সকলের বিদায়ের সময় থেকে ১৫ মিনিট পরে বের হওয়া।
কিছু অজানা শব্দার্থ বা মূল্যবান কিছু লিখে পকেটে রেখে মুখস্ত করতে থাকা।

সময়ের মূল্যবান ব্যবহার

সময় নেবেন চিন্তা করতে, যা আপনাকে নতুন কাজের শক্তি যোগাবে।
সময় নেবেন পড়তে, যা আপনাকে জ্ঞানী করবে।
সময় নেবেন লিখতে, যা আপনাকে অনন্ত যৌবনের অধিকারী বানাবে।
সময় নেবেন প্রার্থনা করতে, যা আপনাকে সবচেয়ে শক্তিশালী করবে।

সময় নেবেন ভালোবাসতে এবং ভালোবাসা প্রদান করতে, যা আপনাকে বিশ্বাসের পরিপূর্ণতা দেবে।
সময় নেবেন বন্ধু হয়ে যেতে, যা আপনাকে সুখী করবে।
সময় নেবেন হাসতে, যা আপনাকে করবে আকাশের মতো উদার।
সময় নেবেন কাজ করতে, যা আপনাকে পৌঁছে দেবে সফলতার শীর্ষে।
কিন্তু সময়ক্ষেপণের জন্য সময় নেবেন না। মহানবী (সা.) বলেছেন- ‘যার দুইটি দিন একইরকম যায় নি:সন্দেহে সে অভিশপ্ত।’ (আল হাদিস)।

শেষ কথা

হৃদয়ের টিক্ টিক্ শব্দ বলতে থাকে জীবন হলো কিছু সেকেন্ড, কিছু মিনিট, কিছু ঘন্টার সমষ্টি। মানব শিশুর পৃথিবীতে আগমনীবার্তায় মৃত্যুপরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু করে। সম্ভবত এজন্যই একজন মনীষী বলেছেন ‘Life is the beginning of death and Death is the beginning of life’. তাই জীবনের প্রতিটি মুহুর্তের যথার্থ ব্যবহারই দুনিয়াতে মর্যাদার জিন্দেগী এবং মুত্যু পরবর্তী জীবনের অফুরন্ত সুখের নিশ্চয়তা।

হে পথিক! যদি গ্রীষ্মের উষ্ণতা, শরতের শুষ্কতা ও শীতের আর্দ্রতা তোমার কষ্টের কারণ হয়; আর বসন্তের সৌন্দর্য তোমাকে বিমোহিত করে রাখে এবং বর্ষায় ঝরনা সুমুধুর কলকল ধ্বনি যদি তোমাকে ঘরে আটকে রাখে তাহলে তোমার জীবনের মূল্য কোথায়? মনে রেখো এই কথামালা-
‘জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা, হেলায় তাদের যত হোক অবহেলা’।

 

 

 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.