পরিবারে নেতৃত্বের বিকাশ যেভাবে

আনিসুর রহমান এরশাদ

নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পরিবারের। সততা, নিষ্ঠা, ধৈর্য, সহনশীলতা, দয়া ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা- অনেকটাই পাওয়া যায় পরিবার থেকে। ফসলের জন্য যেমন জমি কর্ষণ করতে হয়, বীজ রোপণ করতে হয়, পরিচর্যা করতে হয়, তেমনি নেতৃত্বের যোগ্যতাও অর্জন করতে হয়। নেতৃত্ব আপনা-আপনি আসে না। মৌল মানবিক গুণাবলি আকাশ থেকে পড়ে না। পরিবারে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন বা অন্যকে অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পরিচালিত করতে পারার শিক্ষা লাভ হয়, সমাজের গুণগত পরিবর্তনের চিন্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

নেতৃত্বের যোগ্যতা তৈরি

পরিবারে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া, পরের কল্যাণে কাজ করা, অন্যদের আস্থা অর্জন, সাহস, বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগ করার শিক্ষার মাধ্যমেই নেতৃত্বের যোগ্যতা তৈরি হয়। আশাবাদী মনোভাব, ভালো মন, সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া, অন্যের পছন্দনীয় আচরণ, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি, কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও নমনীয়তা, বিশ্বাসযোগ্যতা আদায়, নিজের কাজকে ভালোবাসা, দরকারি কাজে ব্যস্ত থাকা, দায়সারা না করে যথাযথভাবে কাজটি করা, কাজের প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থাকা, নিজস্ব বিশ্বাস, উদ্যোগী মানসিকতা, সাফল্য লাভ ও অস্তিত্ব বজায় রাখার স্বার্থে সৃজনশীলতার অনেক কিছুই পরিবারে শেখা হয়। মন খোলা রাখা, নমনীয় হওয়া, ক্রমাগত উন্নতির চেষ্টা করা ও বিভিন্ন ধরণের সম্পর্ক রক্ষা করা, নিজের দায়িত্ব সর্বতোভাবে পালন করার দায়িত্বশীলতা, ইতিবাচক সংস্কৃতিতে অভ্যস্ততা, ইতিবাচক মানসিকতা, স্বচ্ছ অর্šÍদৃষ্টি তৈরি, সঠিক যোগাযোগের যোগ্যতা, ভালোভাবে সমন্বয় রক্ষা করা, অন্যদের আইডিয়াকে গুরুত্ব দেয়ায় স্বচ্ছন্দবোধ করার মানসিকতাও তৈরি হয় পরিবারে।

বাবা-মার নেতৃত্বগুণের প্রভাব

বাবা-মার মাঝে দুঃসাহসিকতা ও বাস্তববাদিতার মতো নেতৃত্বগুণ থাকলে তা সন্তানের ভিতর জাগিয়ে তোলা সহজ হয়। সত্যিকারের নেতা অনন্য, অসাধারণ, অতুলনীয়, অভাবনীয় কিছু সৃষ্টি করেন, বড় কাজ করেন। সম্পদকে সফলভাবে সমন্বয় সাধন করে তা থেকে সর্বাধিক লাভ তোলা, যে কোনো পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে সফল হওয়া, প্রত্যাশা পূরণ করা, শোনার ও পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা, সব স্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনা শুরু করায় উৎসাহদানের জন্য নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতাকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষমতা, জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে নিজেদের মূল্যবোধ ও দূরদর্শিতাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা নেতাদের থাকতে হয়।

যথাযথ বোধ সম্পন্ন হওয়া

শুধু বুদ্ধিমত্তার উপর ভরসায় বিদ্রোহী মনোভাব দেখা দেয়, শুধু মানবিকতার ব্যবহার দুর্বলতার জন্ম দেয়, অবিচল বিশ্বাস থেকেও দেখা দিতে পারে মূর্খতা। সাহসের শক্তির উপর নির্ভরতা রূপ নিতে পারে হিংসায়, অতিরিক্ত শৃঙ্খলাবোধ এবং কঠোরতা থেকে জন্ম নিতে পারে নিষ্ঠুরতা। এসব বোধ যথাযথ হলেই মানুষ নেতা হয়ে উঠতে পারেন। নেতা অন্যের সৃজনশীলতা, ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তি বিকাশের এবং তা কাজে লাগানোর প্রচেষ্টায় অদম্য ও অপ্রতিরোধ্যভাবে নিবেদিত হন।

ভালো নেতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণাবলি বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করেন, ভালো কাজ করার আগ্রহ যোগান, সঠিক দিক নির্দেশনা দেন এবং কাজটা যতক্ষণ না পর্যন্ত শেষ হচ্ছে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করেন, অন্যদেরকে কাজের জন্য প্রভাবিত করা ও সঠিক নির্দেশনা দেয়ার ক্ষমতা রাখেন, অন্যের কথা ভেবে কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেন না, জটিল বিষয়েও সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।

মৌল মানবিক গুণাবলি অর্জন

পরিবারের মধ্যে কেউ না কেউ নেতৃত্বের হাল ধরেন, অন্যরা তার নেতৃত্ব মেনে নেন এবং তিনিই পরিবার পরিচালনা করেন। পরিবারেও নেতৃত্বের সুপ্ত গুণাবলি প্রকাশ পায় ও নেতৃত্ব বিকশিত হয়। অন্যকে অনুপ্রাণিত করা, প্রভাবিত করা, উৎসাহ দেওয়ার মন-মানসিকতা রাখা এবং সমাজের পরিবর্তন ও উন্নয়নে কাজ করার দরকার হয়। সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করতে বুদ্ধিমান, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি হতে হয়, ঘটনার প্রতি কৌতূহল ও যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হয়। নেতাকে চিন্তা করতে হয়, ঝুঁকি নিতে হয়, অনুসারীদের কাছ থেকে শিখতে হয়; যা তিনি প্রয়োজনে প্রয়োগ করেন। এসব মৌল মানবিক গুণাবলি অর্জিত হতে পারে পরিবার থেকেই।

যোগ্যতার উৎকর্ষ সাধন

নেতার আত্মসচেতনতা ও কথা বলার সময় সচেতন থাকা জরুরি। যোগ্য নেতা না জেনে কথা বলেন না, কথার সাথে কাজের মিল থাকে। নেতৃত্বের সুপ্ত গুণাবলি ও যোগ্যতা বিকশিত করে উৎকর্ষ সাধন করা এবং তা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অনুপ্রাণিত করার জন্য প্রশিক্ষণ ও পড়ালেখার প্রয়োজন হয়। এজন্য পরিবারের সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে।

নেতাকে জ্ঞানী হতে হয়, লক্ষ্য নির্ধারণে দৃঢ়তা ও আবেগ থাকতে হয়, জ্ঞানচর্চার জায়গাটি উন্মুক্ত রাখতে হয়, পরমতসহিষ্ণুতা রাখতে হয় এবং মানুষের সাথে মিশতে হয়। পরিবার থেকেই সমাজের বিভিন্ন অপকর্ম, বাল্যবিবাহ, ইভ টিজিং, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতন হলে বা আত্মকর্মসংস্থানের কাজে আগ্রহী হলে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়ে।

মর্যাদা ও শ্রদ্ধা বজায় রেখে সৎ ও নীতিবান থাকতে সুশিক্ষার প্রয়োজন হয়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার কাজটি পরিবারের সিদ্ধান্তেই হয়ে থাকে।

স্বীকৃতি থেকে উৎসাহ

পরিবার যদি সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা হয় তবে সেই পরিবারের মননশীল সদস্যরা সাংস্কৃতিক আন্দোলনে বেশি আগ্রহী হন। যে কোনো ভালো কাজের প্রাথমিক স্বীকৃতি পরিবার থেকে এলে ভালো কাজে উৎসাহিত হয়। সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বোঝেন, কালোটাকার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন না। পরিবারে বড়রা সততা ও মূল্যবোধের চর্চা করলে কর্মক্ষম, সৃজনশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল ছোটরাও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে বা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে আদর্শকে বিসর্জন দেন না। যে পরিবারে নীতি- নৈতিকতার বালাই নেই সেখানে সুশিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ তৈরি হয় না।

সমস্যা মোকাবিলা

পরিবারে সততা না শিখলে সবাইকে নিয়ে করা কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, অপচয়-দুর্নীতি না করা ও সমস্যা মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া সাধারণত সম্ভব হয় না। স্নেহ-মমতার মাধ্যমে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয় ও পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে অন্যের অংশগ্রহণকে স্বীকৃতির মানসিকতা তৈরি হয়।

পরিবারেও অন্যের প্রশংসা অর্জনের ক্ষমতা, মানবীয় গুণাবলি, আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা, আনুগত্য ও শঙ্খলা, দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন, আস্থা সৃষ্টি, মেধাবী হওয়া, সাহসী ও দৃঢ় মনোবল, আমানতদার হওয়া, ধৈর্য ও সংযমী হওয়া, শালীনতা, দয়া ও ক্ষমাশীল হওয়া, শক্তিমত্তা থাকা, স্বভাবজাত আকর্ষণ ও ব্যক্তিত্ব, মানসিক শক্তি, দৃঢ় সংকল্প ও স্থিতিশীলতা, নম্র ও সদ্ব্যবহার, অল্পে তুষ্ট ও ত্যাগী হওয়া, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া ও দায়-দায়িত্ব গ্রহণের মানসিকতায় থাকার বৈশিষ্ট্য বিকশিত হতে পারে।

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ

উন্নত আমল, শৃংখলা মানা, সময়ানুবর্তিতা, আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন, সৃজনশীলতা, পরামর্শভিত্তিক কাজ করা, সামাজিক হওয়া, অপরের অধিকারকে প্রাধান্য দেয়া, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করা, সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করা ও একত্রে অনেক কাজ করা ও অপরের প্রতি সদয় হওয়ার শিক্ষা দেয়া যেতে পারে পরিবারে। পরিবারে যদি কেউ বড় হয় বিলাসপ্রিয় হয়ে, অন্যায়ের প্রশ্রয় পেয়ে, স্বজনপ্রীতি-স্বেচ্ছাচারিতা দেখে তবে  তার পক্ষে মিতব্যয়ী ও দুর্নীতিমুক্ত থাকা কঠিন হবে। তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের যে কোনো পেশার প্রতি সম্মান থাকা, কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকা, কৃতকর্মের দায়কে কাঁধে নিতে প্রস্তুত থাকা, সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকা, ধৈর্য ধারণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ও অন্যকে বোঝায় কৌশলী হতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মূর্খতা, অহমিকাবোধ, দায় এড়ানোর প্রবণতা, অতি আবেগ ও রাগ দমনে ব্যর্থতা, সংকীর্ণতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা মুক্ত মন গঠন করা প্রয়োজন। বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বাসযোগ্যতা, মানবিকতা, আন্তরিকতার সাথে ভুল সংশোধন, ভালো কাজে উৎসাহ প্রদান, স্বপ্ন দেখা ও দেখানো, আত্মত্যাগ, শ্রম ও সাধনার মানসিকতা তৈরি, উদারতা, দানশীলতা, পরের কল্যাণ চিন্তা ও বীরত্বপূর্ণ মনোভাবসহ মৌলিক মানবীয় গুণাবলীর বিকাশ দরকার। মানুষকে আলোকিত করে, ভালো কাজে সহযোগিতা করে, সঠিক সময়ে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং লক্ষ্য অর্জনের ধারাবাহিকতা ও সমন্বয় করে নেতা এগিয়ে যায়।

সবার স্বার্থ রক্ষা

একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা মানুষকে পরিচালিত করেন, অনুপ্রাণিত করেন, সর্বোত্তম ডিসিপ্লিন শিখান, সত্য ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করেন, অনুগামীদের ভালোবাসেন, উদারতা ও প্রচুর দরদ দেখান, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখেন, অন্যের স্বার্থে নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করেন, পরামর্শের দরজা উন্মুক্ত রাখেন, দায়িত্ববোধ সম্পন্ন ও খোলা মনের হন এবং একে অন্যের বিশ্বাসী ও আস্থাভাজন হন।

ভালো নেতার ক্ষমতা থাকে- দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার, মানুষের সমস্যা বুঝার, দক্ষতার সাথে যোগাযোগের, দূরদর্শী পরিকল্পনা করার, জবাবদিহিতার, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ও আমানতের খেয়ানত না করার। ভালো নেতা হন না প্রতিহিংসাপরায়ণ, দেন না ধোঁকা, করেন না মিথ্যা ওয়াদা, দেখান না কৃত্রিম সমস্যার ভয়  ও নিজের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাকুল বরং সমাজের সবার স্বার্থে কাজ করেন। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করেন। স্পষ্ট নির্দেশনা দেন এবং সমস্যাগুলোকে সফলভাবে মোকাবিলা করেন। অন্যদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের পদক্ষেপ নেন।

অন্যায়ের প্রতিবাদ করা

সন্তানের জন্য প্রশ্নফাঁসের মতো খারাপ উদ্দেশ্য যদি বাবার থাকে, ব্যক্তি স্বার্থে পরের হক নষ্ট করেন, সুযোগ পেলেই অবাধ দুর্নীতি করেন, মা যদি খারাপ নৈতিকতা সম্পন্ন হন, পরকীয়া করেন; তাহলে চরিত্রহীন ও  দুর্নীতিবাজরা সন্তানের কাছ থেকে পারফেক্ট কাজ আশাই করতে পারেন না। যে পরিবারের বড়রা প্রতিবেশীর দুর্ভোগ বাড়ায়, আত্মীয় স্বজনের সাথে প্রতারণা করেন, ক্রমাগত মিথ্যা বলেন, অন্যকে ঠকানোর চেষ্টা করেন, স্বজনপ্রীতি করেন; এসব অসৎ ভণ্ডরা তাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও পিছিয়েই  দিবে। পক্ষান্তরে বাবা-মা যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হন, ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়তা দেখান ও অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ না করেন তা সন্তানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেও প্রভাব ফেলবে।

সঠিক ব্যবস্থাপনা জ্ঞান

ভালো নেতা হতে আত্মসচেতনতা, আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছা থাকতে হয়। দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়, অন্যদের সাথে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা থাকতে হয়, সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হয়, প্রতিনিধিত্ব করার দক্ষতা থাকতে হয়, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন নতুন পদ্ধতি বের করতে হয়, সমস্যার মোকাবেলা ও অন্যদের আকৃষ্ট করতে সৃজনশীল হতে হয়, সমস্যা এলে সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এছাড়া সম্পদ, সময় ও জনশক্তি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকতে হয়।

কার্যকর পরিকল্পনা করার দক্ষতাও থাকতে হয়। কোন কাজে ক্ষতি হবে এবং কোন কাজে লাভ হবে তা মূল্যায়ন করার ক্ষমতা থাকতে হয়। নিজেকে সামলাতে বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হয়, অন্যকে সামলাতে হৃদয়কে কাজে লাগাতে হয়। সঠিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিও জানতে হয়। ঝুঁকি গ্রহণ করার মানসিকতাও থাকতে হয়। আর  এসব রাতারাতি হঠাৎ করে অর্জন করা যায় না।

আত্মবিশ্বাস জাগানো

নেতৃত্ব প্রদান করতে হলে ভিতরের আত্মবিশ্বাসকে জাগানো, ইতস্ততবোধ দূর করা, ভিতর থেকে উৎসাহ বাড়ানো, নিজের দায়িত্ব ও কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি, নতুন প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া, নিজের সেরাটা দেয়া, সৎ ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতা হিসেবে সঠিক ব্যক্তিকে বাছাই করা, পেশাদার সংগঠনগুলোতে অংশ নেয়া, নিজের উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরা, অর্জিত জ্ঞান অন্যকে জানার সুযোগ করে দিতে প্ল্যাটফর্ম খোঁজা, নিজেকে প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে রাখা, অপ্রিয় মুহূর্তে ইমোশনাল না হয়ে মাথা গরম না করে পেশাদার মনোভাব দেখানো, কর্মপদ্ধতির কৌশলে ভিন্নতা আনা, কেন এগিয়ে যেতে চান নিজেকে প্রশ্ন করা, পেশাদার মনোভাব নিয়ে নিজেকে তৈরি করা প্রয়োজন।

থাকতে হয় সাহস

প্রকৃত নেতার কাছে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ, অনুযোগ, ব্যক্তিগত কথা-বার্তা, পারিবারিক সমস্যা নিয়ে অনেকেই আসেন। প্রত্যেকের সমস্যাই মনোযোগ সহকারে শুনতে হয়, আবেগময় বিষয়গুলোতে সমবেদনা জানাতে হয়, কর্মীদের দুঃখে সমবেদনা জানাতে হয়, দক্ষ শ্রোতা হতে হয়, অন্যের প্রশংসা করতে হয়, নিজের ভুল স্বীকার করতে হয়, ভুল থেকে শিখতে হয়, ভালোকে প্রশংসার সাথে গ্রহণ করতে হয়, সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে আপসহীনভাবে এগিয়ে যেতে হয়, নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে থেকে জয়যাত্রা চালিয়ে যেতে হয় এবং জবাবদিহিতা-দায়িত্বশীলতা-স্বচ্ছতা থাকতে হয়, সম্ভাবনাকে হাতছাড়া না করতে ঝুঁকিগ্রহণের মানসিকতা থাকতে হয়, কঠিন সময় পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, হার না মানার মানসিকতা থাকতে হয়, গতানুগতিক ব্যবস্থা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সাহস থাকতে হয়, ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকতে হয়, অন্যকেও ত্যাগের মহিমায় দীক্ষিত করতে পারতে হয়।

নিজের স্বার্থ ত্যাগ

নেতার মধ্যে সততা ও নিষ্ঠা, আত্মবিশ্বাস, কর্মনিষ্ঠা, দূরদর্শিতা, উদারতা ও সৃজনশীলতার মতো মানবীয় গুণ  থাকতে হয়, প্রবল আবেগ থাকতে হয়। ভালো নেতা সুবিধার চেয়ে প্রত্যয়কে বেছে নেন, সুবিধার ঊর্ধ্বে নীতিকে স্থান দেন, বৃহত্তর অর্জনের জন্য স্বেচ্ছায় ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করেন। আত্মস্বার্থ ও উৎসর্গের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হলে দ্বিতীয়টিকে প্রাধান্য দেন। আত্মবিশ্বাস-সাহসিকতা এবং অনমনীয়তার শক্তি থাকতে হয়, দ্বিধাহীনভাবে শিখতে হয়।

বইপত্র পড়ে, চারপাশের পরিবেশ আর মানুষ থেকে শিখতে হয়। মানুষকে তাদের সামর্থ্য ও দুর্বলতা বুঝতে হয়, নিজের অভিজ্ঞতা ছাড়াও অন্যের অভিজ্ঞতা থেকেও শিখতে হয়, মানুষ চিনতে হয়, মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও ভেতরের সুপ্ত ক্ষমতাকে বুঝতে পারার ক্ষমতা থাকতে হয় এবং সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হয়। কিভাবে কথা বলতে হবে বা কাকে কিভাবে বুঝাতে হবে তা বুঝতে মানুষের সাথে মেশতে হয়, কথা বলতে হয়, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এমন যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির ভিত গড়ে দিতে পারে পরিবার।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *