নেতৃত্বের শিল্পকলা

শক্তিশালী ভিশন তৈরি 

নেতাকে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হতে হয়। শক্তিশালী ভিশন তৈরি করতে হয়। ভিশন বাস্তবায়নে নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য বা ভিশন হচ্ছে একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বক্তব্য যা একটি সংগঠন মধ্যবর্তী বা দীর্ঘমেয়াদে অর্জন করতে চায়। আর উদ্দেশ্য বা মিশন হচ্ছে লক্ষ্য পূরণে সংগঠনটি মধ্যবর্তী মেয়াদে বা দীর্ঘমেয়াদে কী কী কাজ সম্পাদন করবে। সহজ কথায় ভিশন হচ্ছে স্বপ্ন দেখা আর মিশন হচ্ছে স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ়তার সঙ্গে কিছু কাজ সম্পাদন করা। এ স্বপ্নটা কিন্তু কোনো ব্যক্তির বা বহিঃপ্রেরণাকারীর স্বপ্ন নয়; এ স্বপ্ন দেখতে হবে সংগঠনের সব মিলে ফলে তার বাস্তবায়নও হবে সবার অংশীদারিত্বে।

লক্ষ্য ঠিক করা

ভিশন হলো আপনার চূড়ান্ত অবস্থানের জন্য মনের মাঝে একটি চিত্র তৈরি করা। নেতাকে দূরদর্শীতার অনুশীলন করতে হয়, কর্মীদের প্রাণবন্ত রাখতে হয়, প্রয়োজনে সহায়তা করতে হয়, যথেষ্ট উৎসাহ দিতে  হয়এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে হয়।

সমস্যার সমাধান করা

কিছু সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি চর্চা করলে বড় সমস্যাও সহজে সমাধান করা যায়। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর পদ্ধতি জানা জরুরী । সমস্যার সমাধান করতে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা, মনোযোগ দিয়ে শুনা, বোঝার চেষ্টা করা এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করা জরুরি। প্রথমে আসল সমস্যাটা চিহ্নিত করুন। জরুরি সিদ্ধান্তগুলো আগে নেয়া। সমস্যাগুলোকে ভেঙে ফেলা। কী জানেন আর কী জানেন না তার তালিকা করা। সম্ভাব্য একাধিক সমাধান ঠিক করে রাখা। ‘রিসোর্স এলোকেট’ করা। মস্তিষ্ক এবং হৃদয়, দু’দিকেরটাই শুনা। অন্যের থেকে উপদেশ  নেয়া। অগ্রগতি নিরীক্ষা করা। পেছনের সমস্যাটা বের করা।

অজুহাত না দেয়া

নেতা অজুহাত দেখাতে বা  ‘অজুহাত’ খুঁজতে ব্যস্ত  হবেন না। অজুহাত দাঁড় করিয়ে কোনো লাভ নেই। আর নেতারতো অজুহাত দেখানো চলে না। অন্যের অজুহাত দেখানো বন্ধ করতেও ভূমিকা রাখতে হয় নেতাকেই। তাই নানা অজুহাত

অধীনস্থদের শেখানো

নেতা অধীনস্থদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। অধীনস্থদের  জুলুম-অত্যাচার করবেন না। অধীনস্থদের সাথে খুবই ভালো ব্যবহার করবেন। অধীনস্থদের প্রতি হৃদ্যতা প্রকাশ করবেন। সদয় হবেন। উত্তম আচরণ করবেন। কোনো অস্থাতেই অসদাচরণকারী হবেন না।  খেয়াল রাখবেন যাতে- অধীনস্থরা সহজে ন্যায্য অধিকার লাভ করতে পারে এবং সবদিক থেকে সুরক্ষা পায়। অধীনস্থদের সাথে প্রতারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় । অধীনস্থদের কল্যাণে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেউ কোনো ভুল করে থাকলেও বুঝিয়ে দিবেন পরম যত্নে। কখনো অধীনস্থদের প্রতি বিরূপ আচরণ করবেন না। 

দোষ স্বীকার করা

ভুল বা দোষ স্বীকার না করা অহংকারের বহিঃপ্রকাশ। নেতা নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হবেন,  ক্ষমাপ্রার্থনা  করবেন, না হলে নেতা  শ্রদ্ধাবোধ হারাবেন। একজন উৎকৃষ্ট নেতা কর্মীবৃন্দ ও নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করেন। দোষ স্বীকার করা দুর্বলতার প্রকাশ মনে করেন অনেকে। অথচ ভুল স্বীকার করা দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য খুব প্রয়োজনীয়।

কীভাবে আন্তরিকভাবে ভুল স্বীকারে উদ্যোগী হওয়া যায়, এ জন্য রয়েছে চারটি যুক্তি। কেউ আপনার ব্যবহারে বা কর্মে আহত হলে তাঁদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের আঘাতে সমব্যথি হওয়া। এমন ঘটনার জন্য পুরো দায়দায়িত্ব নিজে নেওয়া। আমরা বক্তৃতায় বলি, ‘কৃতিত্ব সব আপনাদের, ব্যর্থতা যা তার দায় আমার।’ কিন্তু সত্যি তা আমরা মন থেকে কজন বলি? নিঃশর্তভাবে বলা যে ‘আমি সত্যি দুঃখিত।’ যা গোলমাল হলে একে স্তম্ভিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা। হয়তো আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থনার শেষে বলা যায়, ‘আমি আর কী করতে পারি আপনার জন্য।’

ভুল, অন্তর দিয়ে স্বীকার করা, মহত্ত্বের প্রকাশ, একটি সদ্গুণ, নিজের ভেতরের সংহতি ও শক্তির প্রকাশ। বিপদে, বিপর্যয়ে, দুঃসময়ে নিজের গুণের প্রকাশ ঘটানো বরং মহৎ গুণ। একজন নেতার মধ্যে নিজের ভুল স্বীকার করার মতো শক্তি, বিশ্বাস ও সচেতনতা থাকা মহত্ত্বের লক্ষণ।

সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করা

নেতাকে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করতে হয়। অন্তর্নিহিত কারণসমূহ চিহ্নিত করতে হয়। সীমাবদ্ধতাকে মােকাবেলা করেই কামিয়াবী নিশ্চিত করতে হয়। সীমাবদ্ধতাকে নিয়ন্ত্রণ করা , চিহ্নিত করা  এবং সচেতন হওয়া নেতার কাজ।

উদাহরণ সৃষ্টি করা

নেতাকে ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। পরিশ্রম করে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে।  সমাজে উদাহরণ হিসেবে দাঁড়াতে হবে।  নতুন  নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করলে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। নেতাকে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করতে হয়। অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করা, সচেতনতা সৃষ্টি করা ,  কর্মসূচি ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অধীনস্থদের নেতা হিসেবে গড়ে তোলা

ব্যর্থদের পুনরায় সাহস জোগানো

মূল সমস্যাটি খুঁজে বের করা

সিস্টেমকে আরো উন্নত করা

সফলতার পথে দীর্ঘযাত্রার জন্য তৈরী হওয়া

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *