জনহিতৈষী কাজে এগিয়ে বিল গেটস

আনিসুর রহমান এরশাদ

১৬ বছর পৃথিবীর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ছিলেন বিল গেটস। তার দুটি পরিচয় জনপ্রিয়। এক. তিনি মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। দুই. তিনি শীর্ষ ধনীদের তালিকায় বরাবর ওপরের দিকেই থাকেন। তবে এ দুটি পরিচয় ছাপিয়ে সবচেয়ে কাজের কাজটা করছেন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। যা বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারী দাতব্য সংস্থা। স্ত্রী মেলিন্ডার সঙ্গে পূর্ণোদ্যমে দাতব্য কাজে সময় দিচ্ছেন।

দাতব্য তহবিল

জনহিতকর কাজ ও গবেষণায় অর্থ দান করছেন। তিনি মারা যাওয়ার ২০ বছরের মধ্যেই তার উপার্জিত সম্পদের ৯৫ শতাংশ সম্পদ দাতব্য তহবিলে চলে যাবে। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিপুল সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে তার সন্তানরা পাবে না। তারা পাবে মাত্র এক কোটি ডলার করে। নিয়মিত বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দেখা করছেন, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সোচ্চার আছেন, প্রতিদিন নিয়ম করে পড়াশোনা জারি রেখেছেন, পাশাপাশি লিখছেনও দুহাত খুলে। আজ জানাব মানবিক ধনকুবের বিল গেটসের মানুষের পাশে দাাঁড়ানোর অসাধারণ গল্প।

জন্ম

উইলিয়াম হেনরি গেটস তৃতীয় এর জন্ম ওয়াশিংটনের সিয়াটলে ১৯৫৫ সালের ২৮ অক্টোবর একটি উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে। ১৯৭৫ সালে তিনি বন্ধু পল অ্যালেনের সাথে মাইক্রোসফ্ট প্রতিষ্ঠা করেন। ১২ বছর পর তিনি বিশ্বের কনিষ্ঠতম শত-কোটিপতি হন। ২০০০ সালের জানুয়ারিতে সিইও হিসাবে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে কোম্পানিটির নেতৃত্বে ছিলেন।

মাইক্রোসফট

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি মাইক্রোকম্পিউটার বিপ্লবের অন্যতম সেরা উদ্যোক্তা এবং পথিকৃৎ। কো-চেয়ারম্যান ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ব্র্যান্ডেড এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্ক। চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা মো টেরাপাওয়ার। চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা মো ক্যাসকেড ইনভেস্টমেন্ট। মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা। এখন ৮৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক।

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন

বিল গেটস ও তার স্ত্রীর পরিচালিত ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ গেটস ফাউন্ডেশন নামেও পরিচিত। সংস্থাটি বেসরকারি খাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দাতা সংস্থা। ২০০০ সালে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে যাত্রা শুরু করে। ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত জনসেবামূলক কাজে দান করেছে ৪১ বিলিয়ন ডলার। ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক লক্ষ্যগুলি হলো, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি ও চরম দারিদ্র্য হ্রাস; এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাগত সুযোগগুলি প্রসারিত করা এবং তথ্য প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বা প্রবেশের সুযোগ প্রদান।

পৃথিবীতে যেকোনো দুর্যোগে কিংবা মহামারীতে ফাউন্ডেশনটি সবার আগে দাতব্য কাজে এগিয়ে আসছে গত দুই দশক ধরে। জনহিতৈষী হিসেবে পরিচিত বিল গেটস শুধু দাতব্য কাজে নিজে একা যুক্ত থাকেননি, পৃথিবীর অন্য ধনকুবেরদেরও নিজের প্রতিষ্ঠিত মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করেছেন। তার মতো মহৎপ্রাণ দানবীর পৃথিবীর আঁধার দূর করার জন্য যে অবদান রেখে যাচ্ছেন, সেজন্য পৃথিবীবাসী তার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে চিরকাল।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গেটস কেমব্রিজ বৃত্তি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সামাজিক, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার বিভিন্ন উন্নয়নের বুদ্ধিদীপ্ত অলঙ্করণ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে। এশিয়া-আফ্রিকার অনুন্নত দেশসমূহে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সচেতন, শিক্ষিত ও স্বাস্থ্যবান বিশ্ব গড়ে তোলা এ সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।

সংস্থাটি টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা, অনুন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য খাতে অনুদান, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, প্রাণঘাতী ব্যাধির ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিনিয়োগ ও অনুন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সাহায্য দিয়ে থাকে। দাতব্য সংস্থাটি কোনো ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদের দাতব্য কাজ চালায় না, পৃথিবীর প্রতি নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এমনটা করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে পিছিয়ে পড়া ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বৃত্তি দেয়। স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০০ সালে বিল গেটস ‘গেটস কেমব্রিজ’ বৃত্তি চালু করেন। ’গেটস কেমব্রিজ’ বৃত্তি বর্তমান পৃথিবীতে আর্থিক অনুদানের দিক দিয়ে সর্ববৃহৎ ও সেরা শিক্ষাবৃত্তি। এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শতাধিক মেধাবী মেধাবৃত্তি পেয়ে থাকে।

সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়নেও খরচ করে। ভারতীয় উপমহাদেশ ও আফ্রিকার অনুন্নত ১০ দেশে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতিকল্পেও অনুদান প্রদান করে। এমআইটিসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুলে প্রতিবছর শিক্ষা বিস্তার ও আধুনিকায়নেও ব্যয় করেন বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

অনগ্রসর দেশসমূহে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দ্য বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন প্রচুর পরিমাণ অর্থ দান করে থাকে। গেটস ফাউন্ডেশন গাবিকে (প্রাণঘাতী রোগের ভ্যাকসিন ও টিকা আবিষ্কারে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা) আর্থিক সহায়তা দেয়। এসব অনুদানের মাধ্যমে পৃথিবীর অনুন্নত ৭৪টি দেশ স্বাস্থ্যখাতে সাহায্য পেয়ে থাকে প্রতিবছর। তাদের এ অর্থ মূলত নিউমোনিয়া, পোলিও, ম্যালেরিয়া রোগের ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অনুদান দিয়েছে পোলিও প্রতিরোধের জন্য। এইডস, টিবি এবং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধকল্পে বৈশ্বিক তহবিলে আর্থিক অনুদান দিয়েছে। ‘গ্লোবাল টিবি ভ্যাকসিন ফাউন্ডেশন’কে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। বর্তমানে মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

আফ্রিকা মহাদেশের ১০টি দেশ এবং ৪৫টি জাতির মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি, স্যানিটেশন রোগ প্রতিরোধ, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনটি। এছাড়া সারা বিশ্বে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, নতুন জন্ম নেয়া শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথেই কাজ করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনটি। পৃথিবী জুড়ে নিরাপদ পানি, মানসম্মত টয়লেট নিশ্চিতকরণে কাজ করছে তারা।

কৃষির আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নের জন্য বিল গেটস যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য তিনি কৃষিখাতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ সাহায্য দেন। ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে সরকারের সাথে সমন্বয় করে ফাউন্ডেশনটি কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের তিনটি রাজ্যে কৃষিখাতের আধুনিকায়ন ও ফলন বৃদ্ধিতে কাজ করছে তারা।

কৃষিতে চারটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে- ১. কৃষিজাত উৎপাদন বৃদ্ধি। ২. কৃষকদের আয় বৃদ্ধি। ৩. কৃষকদের বছরব্যাপী নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা। ৪. কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। পৃথিবীর পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর অবস্থার উন্নতি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কৃষিখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে ফাউন্ডেশনটি ।

সমগ্র পৃথিবীর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করার জন্য ফাউন্ডেশনটি কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রচুর অর্থ সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশে গেটস ফাউন্ডেশনের মালিকানা আছে। বাংলাদেশে আর্সেনিকমুক্ত পানির জন্য গ্রহণ করা প্রকল্পে অর্থায়ন করছে গেটস ফাউন্ডেশন। মস্তিষ্কের প্রতিচ্ছবি বিশ্লেষণ করে বুদ্ধি নির্ণয়ের যে গবেষণা করছে বাংলাদেশ তাতেও অর্থায়ন করেছে সংস্থাটি।

সাধারণ জীবন-যাপন

বিল গেটস খুবই সাধারণ জীবন-যাপন করে থাকেন। বিল গেটসের হাতঘড়িটির দাম মাত্র ১০ ডলার। এখন জানাব বিল গেটসের দৈনন্দিন কার্যতালিকা ও জীবনযাপন রীতি। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের মেডিনার বিশাল বাড়িতে ঘুম ভাঙে। ঘুম থেকে ওঠার পর গেটস সচরাচর ট্রেডমিলে খানিকক্ষণ শরীরচর্চা করেন। অনুশীলনের সময় তিনি দ্য টিচিং কোম্পানির গ্রেট কোর্স সিরিজ থেকে ভিডিও দেখেন।

কোকোয়া পাফস ব্র্যান্ডের চকলেট সিরিয়াল দিয়ে সকালের নাশতা সারেন। প্রতি সকালে সংবাদপত্র পড়েন। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ইকোনমিস্ট পড়েন তিনি। সচরাচর শিরোনামগুলোতে চোখ বোলান। গণস্বাস্থ্যবিষয়ক লেখাগুলোতে তার আগ্রহ বেশি। আর সময় পেলেই নিজের ব্লগ গেটস নোটস কিংবা টুইটারে নিজের ভাবনা শেয়ার করেন।

বিল গেটস তার কাজগুলোর ফাঁকে পাঁচ মিনিটের বিরতি নেন। প্রতিটি মুহূর্ত যত্ন নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়। দিনটাকে সৃজনশীল করার সব চেষ্টাই থাকে তার। প্রচুর কাজও করেন। আর প্রতিটি কাজের হিসাব এবং নতুন ধারণা মনে রাখার জন্য সব সময় নোট নেন। দুপুরের খাবারে বিল গেটসের বিশেষ পছন্দ চিজবার্গার। অবসরে প্রচুর বই পড়েন তিনি। সময় পেলেই পড়েন। নতুন নতুন বই সম্পর্কে নিজের পর্যালোচনা জানিয়ে মানুষকে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন।

যখন পড়ছেন না কিংবা কাজ করছেন না, তখন সময় কাটান তিন সন্তানের সঙ্গে। অদ্ভুত অদ্ভুত সব জায়গায় ভ্রমণে যাওয়ার বাতিক আছে। কখনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে তো কখনো মিসাইল উৎক্ষেপণকেন্দ্র দেখতে যান। পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাতে ভালোবাসেন। ছুটির দিনগুলোতে ব্রিজ খেলাও তার পছন্দের। রাতে এমনভাবে ঘুমাতে যান, যেন সকালে চোখ মেলার আগে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর মতো সময় পান।

প্রেম ও বিয়ে

সাত বছর প্রেম করার পর ১৯৯৪ সালে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চকে বিয়ে করেন। তারা একসময় সহকর্মী ছিলেন। বিল গেটস যে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা, মেন্ডিলা সেখানকার প্রোডাক্ট ম্যানেজার ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিল গেটস তিন সন্তানের পিতা এবং তার স্ত্রী সহ সুখী ও সরল জীবনযাপন করেন। বড় মেয়ে জেনিফার ক্যাথেরিন গেটসের জন্ম ১৯৯৬ সালে, ছেলে ররি জন গেটসের জন্ম ১৯৯৯ সালে আর ছোট মেয়ে ফিবি অ্যাডেল গেটসের জন্ম ২০০২ সালে। অন্যরা সাহায্য করতে চাইলেও নিজের কাজ নিজের হাতে করতে বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

যথেষ্ট দায়িত্বশীল

খাওয়া-দাওয়ার পর নিজের থালা বাসন নিজের হাতেই পরিষ্কার করেন। বিশেষ করে রাতের খাবারের পর নিজের প্লেট নিজে ধুয়ে ফেলেন। সন্তানদের পিতা হিসেবে তিনি একজন আদর্শ মডেলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সন্তানদের বয়স ১৪ বৎসরের আগে কোনো ধরণের মোবাইল ফোন দেননি। তিনি নিজেই তার সন্তানেরা কখন এবং কতক্ষণ প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করবে তা নির্ধারণ করে দেন। ঘুমের জন্যও একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা আছে। সেই সময়ের মধ্যেই বিছানায় যেতে হয় সবার। স্বামী হিসেবে স্ত্রীর প্রতি যথেষ্ট রোমান্টিক। পরিবারের কর্তা বা প্রধান হিসেবে তিনি যথেষ্ট দায়িত্বশীল।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *