কোনো অজুহাতই যেন লক্ষ্যচ্যুত না করে : ল্যারি পেইজ

গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অ্যালফাবেটের সিইও ল্যারি পেইজ বলেন, ‘ভাবনার ডালপালা মেলতে ১০০ জন কর্মীর একটা বিশাল প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। গুগল, অ্যাপল, ডিজনি, অ্যামাজন স্বনামধন্য এসব প্রতিষ্ঠানেরই জন্ম হয়েছিল গ্যারেজে। তেমন পুঁজি ছিল না, একদল কর্মী ছিল না, বিশাল অফিস ছিল না, তবে স্বপ্ন ছিল। একটা সফল উদ্যোগ নিতে হলে ওই স্বপ্নই সবার আগে জরুরি।

বিশ্বাস, দৃঢ়তা ও পরিশ্রম থাকলে স্বপ্নপূরণ হবেই। পর্যাপ্ত জনবল নেই বলে ল্যারি পেজ, স্টিভ জবস, ওয়াল্ট ডিজনি কিংবা জেফ বেজোসরা যদি পিছিয়ে পড়তেন, তাহলে নিশ্চয়ই তারা আজকের সফলতা পেতেন না। কোনো অজুহাতই যেন লক্ষ্যচ্যুত না করে। নিজের ওপর বিশ্বাস না রাখা পর্যন্ত কখনো জানবেন না, আপনি আসলে কী করতে পারেন।

আমাদের লক্ষ্য ছিল, যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করা এবং তথ্যগুলোকে কাজে লাগানো। সাফল্যের পেছনে অন্যতম কারণ হলো, গন্তব্য কোথায় তা জানা। গন্তব্য জানলে পথচলাটা সহজ হয়। এক বাক্যে বলুন, আপনার লক্ষ্য কী? আসলে কী করতে চান? যদি এক বাক্যে বলতে না পারেন, তবে লক্ষ্য আপনার কাছে পরিষ্কার নয়।

যখন আমরা শুরু করেছি, সবাই বলেছিল, ‘তোমরা ব্যর্থ হবে। কারণ ৫টা সার্চ ইঞ্জিন ইতিমধ্যে আছে।’ আমরা বলেছিলাম, হ্যাঁ। আমরাও একটা সার্চ ইঞ্জিনই তৈরি করছি। কিন্তু আমরা হব অন্য রকম। নতুন একটা প্রতিষ্ঠানকে সফল করার মূলমন্ত্র এটাই।

আপনার প্রতিযোগীদের তুলনায় আপনি ব্যতিক্রম কেন? এই প্রশ্নের একটা জুতসই জবাব খুঁজে বের করুন। প্রতিযোগিতায় থাকা জরুরি। প্রতিযোগিতা না থাকলে এগোতে পারবেন না। প্রতিযোগীদের দিকে নজর রেখে লক্ষ্য ঠিক করলে সব সময় এক ধাপ এগিয়ে থাকতে পারেন। আপনার ‘ব্র্যান্ড’ এর চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব সময় গ্রাহককে নতুন কিছু দিন, যা আপনার প্রতিযোগী দিচ্ছে না।

মানুষকে শ্রদ্ধা করলে আপনিও শ্রদ্ধা পাবেন। একটা প্রতিষ্ঠানে কর্মীরাই সবচেয়ে বড় সম্পদ, এটা কখনোই ভুলে গেলে চলবে না। প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের যতটা গুরুত্বসহকারে দেখেন, কর্মীদেরও ততটা গুরুত্ব দেয়ার বিনিময়ে তাদের সেরা কাজটা পাবেন। ভালো কাজের জন্য কর্মীকে পুরস্কৃত করুন, যেন সবাই মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে উৎসাহিত হন।

পৃথিবী বদলাতে চাইলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করুন, যা মানুষের সমস্যার সমাধান দেবে, প্রয়োজন মেটাবে। মানুষের উপকার করতে পারার মানে ঠিক পথে আছেন। মানুষের কাজে এলে আয় স্বাভাবিকভাবেই হবে।

প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি পরিবার হয়ে ওঠা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেন কর্মীরা নিজেকে প্রতিষ্ঠানের একটা অংশ ভাবতে পারেন। প্রত্যেক কর্মী যেন নিজের গুরুত্বটা বোঝেন। উদ্যোক্তাকে তাঁদের প্রয়োজন বুঝতে হবে, বুঝতে হবে কাজের ক্ষেত্রে তাঁরা কী কী সমস্যায় পড়ছেন। সবাই শুধু নিজের কাজটা করলে সফলতা আসলেও দীর্ঘস্থায়ী হবে না। একটা দল হয়ে উঠলে, কাজে আনন্দ পেলে; তবেই অনন্য সাধারণ হবেন।

ডিগ্রির পেছনে ছুটতে গিয়ে কত মানুষ যে তাদের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন! সফল মানুষরা কখনোই তাঁদের লক্ষ্য আর শিক্ষাকে আলাদা করে দেখেননি। বরং লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত শিখেছেন। সেই শিক্ষায় ডিগ্রি আসুক বা না আসুক, তারা পরোয়া করেননি। সফল উদ্যোক্তা হতে হলে নিজের মধ্যে শেখার আগ্রহ তৈরি করুন। বাঁচো, শেখো, ভালোবাসো-এসবই তো জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কিছুটা সময় বই পড়ার পেছনে ব্যয় করুন।

একসময় মনে হতে পারে পুরো পৃথিবী এক দিকে আর আপনি এক দিকে, কিন্তু কখনো কখনো একটু পাগল হতে হয়। কৌতূহলকে অনুসরণ করুন, লক্ষ্যে অনড় থাকুন। স্বপ্ন হারাবেন না। পৃথিবীর আপনাকে প্রয়োজন।

স্বপ্নপূরণ কিংবা লক্ষ্যে পৌঁছানোর আনন্দের সঙ্গে আর কোনো আনন্দেরই তুলনা হয় না। অতএব নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে না পারলে টিকে থাকতে পারবেন না। বিশ্বাস আদায় করে নিতে হয়। গ্রাহকের সঙ্গে মিশুন, কথা বলুন, তারা কী চান বুঝুন। গ্রাহকের কাছাকাছি থেকে মানসম্পন্ন সেবা দিতে পারলেই লোকে বিশ্বাস করবে।

আপনার কাজ যেন একই সঙ্গে কঠিন ও রোমাঞ্চকর হয়। ব্যবসার ক্ষেত্রে আরাম-আয়েশ হলো সবচেয়ে বাজে বন্ধু। যদি মনে হয় সবকিছু খুব সহজে হয়ে যাচ্ছে, তাহলে নিজের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিন। আরও একটু বেশি পরিশ্রম করুন।

আপনার প্রতিটা দিন, প্রতিটা কাজ যদি রোমাঞ্চকর হয়, তাহলে কেউ আপনাকে আটকাতে পারবে না। একটা লক্ষ্য পূরণ হলেই আরেকটা লক্ষ্যের পেছনে ছুটুন।’

 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *