আগামীর কর্মক্ষেত্র: বিচিত্র পেশা, ক্যারিয়ার সম্ভাবনা ও চাকরির বাজার

সময়ের প্রয়োজনে বাড়ছে পেশার বৈচিত্র্য আর কাজের সুযোগ। হচ্ছে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র ও নতুন পেশা। কর্মক্ষেত্রেও নানা সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন নতুন পেশার বিকাশ ঘটছে শিল্প-ব্যবসা বাণিজ্যে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি থেকে শুরু করে সব কাজেই এখন আধুনিক প্রযুক্তির দাপট। ভবিষ্যতেও চাকরির বাজারে প্রযুক্তির দাপট থাকবে। টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তির আমূল পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। প্রযুক্তির কারণেই অনেক সহজ হচ্ছে, প্রযুক্তির সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা কাজ বাড়ছে, নতুন নতুন কাজের উদ্ভবে নতুন পেশা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানেরও কিছু কিছু পেশার বিশেষায়িত রূপ আগামীতে দেখা যাবে। মানুষ এক পেশা থেকে আরেক পেশায়ও চলে যাবে।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

স্বাধীন উদ্যোগ নাকি চাকরি জীবন?

ভবিষ্যৎ চাকরির বাজার অনেক বদলে যাবে। রুটিন বেস কাজগুলো ক্রমেই কমবে। সফটওয়্যার তথা প্রযুক্তি সম্পর্কিত কাজ বিষয়ক পেশাগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। একজন মানুষ যদি প্রযুক্তি বিষয়ে খুব বেশি জানে তাহলে ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারে সে নিরাপদ।  প্রোগ্রামার এবং সফটওয়্যার ডেভেলপারের পেশা বেশি বেড়েছে। এরপরেই রয়েছে আইটি ডিরেক্টরস ও বিজনেস অ্যানালিস্টের পেশা।  নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে এবং হচ্ছে। বাড়ছে নার্স, স্কুল শিক্ষক ও সেবাদাতাদের পেশাও। এমতাবস্থায় নিজের উন্নতি, উন্নত জীবন ও উন্নত দেশ গড়তে আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে হবে, আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে, আত্মকর্মসংস্থানের উপায় জানতে হবে সঠিকভাবে। বেকার জীবন থেকে মুক্তি পেতে এবং বেকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আগামীর চাকরিজীবন সুন্দর করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চাকরির খবর রাখার  পাশাপাশি ইউনিক বিজনেস আইডিয়া থাকলে ব্যবসায়িক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সাহস করে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করতে হবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ

ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তির কাজ হবে অভিবাসন সম্পর্কিত সকল তথ্যের বিচার-বিশ্লেষণ করা, অভিবাসন প্রত্যাশীদের আকাঙ্ক্ষিত গন্তব্য নির্ণয় করে দেওয়া কিংবা কোনো দেশের সরকারকে সঠিক অভিবাসী নির্বাচনে সহায়তা করা। মানুষ একদিকে চাইছে অভিবাসনকে বেছে নিতে অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোর সরকার চাইছে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঠিক নিয়ন্ত্রণ করতে। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তি এ দুই সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে।

নষ্টালজিস্ট

ভবিষ্যতে নষ্টালজিস্ট পেশাজীবীদের কাজ হবে ৮০ থেকে ১০০ বছর আগে ঘটে যাওয়া মূল্যবান কিছু স্মৃতি পুনরায় ফিরিয়ে আনা। যারা ইন্টেরিয়র ডিজাইনের দক্ষতা ও ডিজিটাল গবেষণা মিলিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পুরানো অভিজ্ঞতা নতুন করে তৈরি করবে।

মেমোরি অপ্টিমাইজার

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ডিজিটাল ইমপ্ল্যান্ট প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হবে মেমোরি অপ্টিমাইজারদের প্রধান কাজ। তাদের গবেষণার ফল দেখে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীরা আগামী প্রজন্মকে পছন্দের চাকরি বেছে নেওয়ার সুযোগটা আগেভাগেই দিতে পারবেন।

ডিজিটাল দর্জি

ভবিষ্যতে অনলাইনে ডিজিটাল দর্জির চাহিদাও দেখা দিবে। এদের কাজ হবে ক্রেতাদের থেকে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে জামাকাপড় তৈরি করা। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাপড়, ফ্যাশন, স্টাইল এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে ধারণা এবং পরামর্শ দেওয়াও হবে এ কাজের অন্তর্ভুক্ত।

অর্থ বিষয়ক পরামর্শক

অর্থ বিষয়ক পরামর্শক বলতে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে যথাযথ পরামর্শ প্রদানকারীকে বোঝায়। দেশ বিদেশের নানা ধরনের মুদ্রার পাশাপাশি চালু হয়েছে ভার্চুয়াল মুদ্রা- বিটকয়েন। নতুন মুদ্রা ব্যবস্থার আবির্ভাবের দরুন ভবিষ্যতে অর্থ বিষয়ক পরামর্শকের চাহিদা দেখা দিতে পারে। অর্থ উপদেষ্টার কাজ ভবিষ্যতে ভালোমানের কাজ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

কার্বন ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ

কার্বন ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞর কাজ হবে কলকারখানার কার্বন নির্গমন হ্রাস-নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা। বিশ্বজুড়ে কার্বন নির্গমন ঠেকাতে সঠিক পরিকল্পনা করা।

জেনেটিক নার্স

ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আলঝেইমারসের মতো জেনেটিক্যাল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচর্যাকারী জেনেটিক নার্স। এদের কাজ হবে মানুষকে জেনেটিক্যাল রোগসমুহ সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণা সম্পর্কে অবগত করা, জেনেটিক্যাল রোগে আক্রান্তদের জীবন যাত্রায় সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করে পাশে থাকা। ভবিষ্যতে পেশাটি জনপ্রিয় কাজের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

ডি-এক্সটিনশন জেনেটিসিস্ট

পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এমন প্রাণীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে  ডি-এক্সটিনশন জেনেটিসিস্ট পেশার উদ্ভব হবে। মৃত প্রাণীর ক্লোন করে অনেক বিলুপ্ত প্রজাতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে ডি-এক্সটিনশন জেনেটিসিস্টরা।

ফিজিওথেরাপিস্ট- নার্স -ডেন্টিস্ট-চিকিৎসক

ফিজিওথেরাপিস্টদের কাজ বাড়বে। নার্সিংকেও ভবিষ্যতের অন্যতম পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভেটেনারি নার্স ও ডেন্টিস্ট পেশার বাজার আগামীতে আরো অনেক ভালো হবে। দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এপিডেমিওলোজিস্টদের চাহিদা ও বেতন বহুলাংশেই বাড়বে। আগামীতে ওষুধ তৈরিকারী অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্টদের মূল্য বহু গুণেই বাড়বে।

মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্টে দক্ষ

মেডিকেল ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় দক্ষ পরিচালকদের চাকরিতে চাহিদা দিন দিন বাড়তেই থাকবে। মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্ট বিশ্লেষকদের কদর বাড়বেই। পণ্য ও চাহিদা সম্পর্কে বাজার গবেষণা করে নতুন নতুন বিজনেস আইডিয়া দিতে পারা লোকদের পেছনে ঘুরবে চাকরিদাতারা। সফল উদ্যোক্তা সফল হওয়ার উপায় হিসেবে নতুন নতুন আয়ের খাত, আয়ের নানা ধরনের উপায় ও সময়োপযুগী আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে।

ফুড কেমিস্ট- লজিস্টিশিয়ান

বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন কাজে জড়িত লোক ও ফুড কেমিস্টদের কাজ ও বেতন বাড়বে অন্তত ৬৫ শতাংশ। স্বল্প পরিসরে অফিস সাজানো-গোছানো থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে দক্ষ লজিস্টিক সাপোর্টার লজিস্টিশিয়ানদের চাহিদা বাড়ছে ।

ইন্টারনেটভিত্তিক মুক্ত পেশা ও ফ্রিল্যান্সিং

ইন্টারনেটভিত্তিক মুক্ত পেশা ফ্রিল্যান্সিং বৃদ্ধি পাবে। ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করে স্বাবলম্বী হবে। ইন্টারনেটভিত্তিক মুক্ত পেশার কারণে কর্মসংস্থানে আমূল পরিবর্তন আসবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে গৃহিণীদেরও আয়ের পথ খুলবে।গ্রাফিক্স-ওয়েব ডিজাইন থেকে শুরু করে আর্টিকেল লেখার মতো সৃজনশীল কাজ ও ফ্রিল্যান্সিং খুবই জনপ্রিয়তা পাবে।

ইথিকাল হ্যাকার

হ্যাকার মানেই সাইবার অপরাধী নয়। কম্পিউটার সিস্টেমের ত্রুটি খুঁজে বের করে বিভিন্ন কোম্পানিকে সহায়তা করে ইথিকাল হ্যাকাররা। এখন স্বল্প পরিসরে তারা কাজ করলেও পরে তাদের কাজের ক্ষেত্র অনেক বড় হবে। যেসব হ্যাকাররা হ্যাকিং জ্ঞানকে পজিটিভ অর্থে কাজে লাগিয়ে হ্যাকারদের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানের তথ্যকে রক্ষা করে এসব নৈতিক হ্যাকারদের হায়ারিং এখন বাড়ছে ৮৭ শতাংশ।

কম্পিউটার ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটর

কম্পিউটার ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটরের প্রধান কাজ হবে প্রযুক্তি নির্ভর তথ্যের বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ পেশায় কাজ করতে প্রশাসনিক এবং প্রযুক্তিগত উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে।

সাইবার সিকিউরিটি নিনজা

সাইবার সিকিউরিটি নিনজার মূল কাজ হবে ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং সাইবার অপরাধের কবল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে নিরাপদ রাখা। এছাড়াও কম্পিউটার ভাইরাসের আক্রমণ বৃদ্ধির কারণে সাইবার সিকিউরিটি নিনজা হয়ে উঠতে পারে একটি প্রয়োজনীয় এবং লাভজনক পেশা।

ডাটা ডিটেকটিভ

ডাটা ডিটেকটিভ হবেন এমন একজন ব্যক্তি যার রহস্য উদ্ঘাটনের দক্ষতা হয়েছে। মূলত জটিল প্রযুক্তিগত তথ্যের রহস্য উদ্ঘাটন করে তথ্যের বর্ণনা দেওয়াই হবে ডাটা ডিটেকটিভের মূল কাজ। এদের সামনে এগিয়ে যাওয়া, সাফল্য লাভ ও সার্থকতা  আসবে মূলত উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার সাহায্যেই

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষক

সংগৃহীত তথ্যের যাচাই, বাছাই ও বিচার-বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সফলতার হার নির্ণয় করাকে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিসিস বলা হয়।  ভবিষ্যতে এটি হতে পারে একটি প্রয়োজনীয় পেশা যাদের কাজ হবে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের পূর্বে ঝুঁকি এবং সফলতার হার বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।

চাইল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট রোবট প্রোগ্রামার

খেলার সময় বাচ্চার নিরাপত্তার ভার নেবে রোবট। কথা বলা রোবটে ইচ্ছামতো প্রোগ্রাম সেট করে বাচ্চাদেরকে মূল্যবোধ, নিয়ম ও আদর্শ শেখানো যাবে। ভবিষ্যতে রোবট বাচ্চাদেরকে ছড়া বলবে, গল্প শোনাবে, সংখ্যা ও অক্ষর জ্ঞান দেবে, ভাষাগত দক্ষতা বাড়াবে ও কোডিং গেইম ব্যবহার করে বাচ্চাদেরকে কোডিং শেখাবে।

গৃহকাজ সম্বন্ধীয় সমস্যার সমাধানকারী

গৃহস্থালির নানা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে এ পেশার মূল কাজ। স্মার্ট ফোন, ভয়েস কন্ট্রোল অটোমেটিক অডিও সিস্টেম, অটোমেটিক গার্ডেন ওয়াটারিং সিস্টেম, হোম নেটওয়ার্কিং সিস্টেম এবং রোবোটিক ভ্যাকুম ক্লিনারের মতো যন্ত্র আমাদের ঘরের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। তবে এসব যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও এসব যন্ত্রের সমস্যা সমাধান করাও হয়ে উঠতে পারে একটি চাহিদা সম্পন্ন পেশা।

ওয়েবসাইট-এপ্লিকেশন-সফট্ওয়্যার ডেভেলপার

ওয়েবসাইট ডেভেলপার ও চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে সফট্ওয়্যার তৈরি, সমস্যা-সমাধান ও পরামর্শকদের কদর ততই বাড়ছে ও বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে ওয়েব ও সফট্ওয়্যার খাতের লোকদের প্রয়োজন আরও ৭৬ শতাংশ বাড়বে। এপ্লিকেশন ডেভেলপার বা অ্যাপ ডেভেলপারদের চাহিদা বাড়বে। কম্পিউটার ও তথ্য সিস্টেম বিশ্লেষক-ম্যানেজার তথা কীভাবে কোথায় কোন সিস্টেম ভালো কাজ করবে তা বুঝায় বা তথ্য সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকরী পদ্ধতি নেয়ায় পারদর্শী লোকের চাহিদা বাড়বে।

টেকনোলজিক্যাল ইনোভেশন

আগামীতে প্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে। তাই নিজেকে বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন, নতুন কী সুযোগ আসবে সেগুলো খোঁজ শুরু করা, কী ধরে রাখবেন আর কী ছেড়ে দেবেন তা বুঝা দরকার। সামনে কী হচ্ছে, কী হবে, সে সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। নিজের দক্ষতাগুলো প্রকাশ করেই সুযোগ তৈরি করতে হবে।নতুন কিছু শিখতে পারেন,  টেকনিক্যাল দক্ষতা বাড়াতে পারেন,  নেটওয়ার্কের সুপ্ত সংযোগগুলো-সম্পর্কগুলো ফোন করে বা ই–মেইলে যোগাযোগ করে পুনরায় সক্রিয় করুন।

পার্টটাইম কনসালট্যান্ট

ইন্টারনেটের কল্যাণে কাজ বা ব্যবসা আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ জন্য নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খন্ডকালীন পরামর্শকদের ব্যস্ততা বেড়েছে অনেক। বেড়েছে ঘরে বসে কাজ (সেলফ অফিস, হোম অফিস) করার সুযোগ। সফটওয়্যার নকশা ও নির্মাণ-সম্পর্কিত কাজে পরিধির সঙ্গে বৈচিত্র্য বেড়েছে বেশ। হিসাবরক্ষণ পেশাতেও বিশেষায়িত পেশাজীবীদের কদর।

আউটসোর্সিং ও সৃজনশীল পেশা

নানামুখি কাজের মধ্যে সফটওয়্যার শিল্প ,আউটসোর্সিং ও কলসেন্টারে, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কাজের নতুন অনেক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সৃজনশীল পেশায় কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়ছে বেশ। গণমাধ্যমে নাটক, চলচ্চিত্রসহ নানা অনুষ্ঠান নির্মাণ, চিত্রনাট্য লেখা, আলোকচিত্র, অনুবাদ, নকশা, কার্টুন ও ছবি আঁকায় অনেক নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মার্চেন্ডাইজিং

বাংলাদেশে  পোশাকশিল্পে মার্চেন্ডাইজিং বিষয়ের বেশ বিস্তৃতি হয়েছে। কাজ বেড়েছে রিয়েল এস্টেট, আবাসন ও নির্মাণশিল্পে। বৈচিত্র্য  এসেছে বিভিন্ন  খাতের বিপণন ও বিক্রয়ে। এদেশে কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাটা এখন অনেক বেশি।  চাকরি প্রত্যাশীদের পছন্দে আছে- বিসিএস, ব্যাংকিং, টেলিকমিউনিকেশন, মার্কেটিং, এনজিও, করপোরেট হাউজ ও মিডিয়া।

উপযুক্ত আইডিয়াবাজ

প্রতিযোগিতায় তারাই বেশি এগিয়ে যাবে যারা নতুন আইডিয়া তৈরি করতে পারবে।  ইউনিক বিজনেস আইডিয়া ব্যবসায় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেবে। যেকোনো ব্যবসায় উদ্যোগ, সম্ভাবনাময় শিল্প উদ্যোগ, উন্নয়ন পরিকল্পনা, নতুন নতুন ব্যবসায় পরিকল্পনা, সম্ভাবনাময় ব্যবসা এগিয়ে নেয়া হলেই বেকারত্ব থেকে মুক্তি মিলবে। বেকারত্ব সমস্যার সমাধান, কর্মক্ষেত্র তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কর্মদক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন নতুন আইডিয়ার কোনো বিকল্প নেই।

বিচিত্র পেশা, বিচিত্র কাজ

এসব খাতের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থেকে  ভাবুন, বুঝুন তারপরে কাজে লেগে পড়ুন। প্রতিটি মুহূর্ত নতুন সুযোগ আবিষ্কারের জন্য ব্যয় করুন কিংবা বর্তমানকেই নতুন সুযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করুন। আগে কাজের এত সুযোগ ছিল না। অফিসে গৎবাঁধা চাকরি না হয় ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার নয়তো আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত হতেন পড়াশোনা শেষে। অথচ এখন বিচিত্র সব পেশায় নিয়োজিত হয়ে চমৎকার সমৃদ্ধ উন্নত জীবনযাপন করছেন অনেকেই। ভবিষ্যতে আসছে আরো বিচিত্র পেশা, আরো বিচিত্র কাজ।

ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হিসাব-নিকাশ অটোমেটিক হলে, তথ্য বিশ্লেষণে মানুষের প্রয়োজন না হলে ফুলটাইম কাজ করা মানুষের সংখ্যা কমবে। একজন মডারেটর অনেক ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে কাজ করবে। তাই দক্ষ ম্যানেজারের গুরুত্ব কমবে না, নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন ব্যক্তির কদর থাকবেই।

থ্রিডি প্রিন্টিং

১৫০ বছর আগে আমেরিকানদের দুই-তৃতীয়াংশ ছিল কৃষক। ২০০০ সালেও চাকরির বাজারে সবচেয়ে বেশি ছিল ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন চাকরির সিংহভাগ চলে গেছে সেবাখাতে। ঢাকা শহরেও রাইড শেয়ারিং-সহজ-পাঠাও-উবারের মতো সার্ভিসে অনেকের চাকরির অভাব মিটেছে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, কাজের ধরণে পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুততর। থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি আসলে যে যার পছন্দ মতো কাপড়-জুতা প্রিন্ট করে পরবে। তখন থ্রিডি প্রিন্টারের কোম্পানি হবে, কর্মসংস্থান হবে, থ্রিডি প্রিন্টারের জন্য কাঁচামালের ব্যবসা হবে।

রোবট রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা

মাছধরা রোবট, মাইনার রোবট, কৃষক রোবট, গার্ড রোবট, শ্রমিক রোবট, শিক্ষক রোবট, যোদ্ধা রোবট কিংবা রাজমিস্ত্রী রোবট কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন আনবে। তখন রোবট বানানো, রোবট চালানো, রোবটের সার্ভিসিং, রোবট ব্যবহার নিয়ে ট্রেনিং দেয়া, রোবটের জন্য ফ্যাশনসম্মত পোশাক তৈরি করায় মানুষের নতুন নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে।

শিক্ষকতা

শিক্ষকতা পেশার দ্বার কিন্তু খুলে যাবে অনেকটা। নতুন নতুন বিষয় আসবে আর বাচ্চাদের তা শেখাতে শিক্ষকতার প্রয়োজন থাকবে আজীবন। সবকিছুই একসাথে যুক্ত হতে চলেছে। এজন্য দরকার নতুন নতুন সিস্টেম তৈরি করা। সৃজনশীল কাজের মূল্য থাকবে তাই সবচেয়ে বেশি। প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসায়িক মডেল বাড়বেই।

সঙ্গপ্রদানকারী

পৃথিবীর ৬০ ভাগেরও বেশি ব্যক্তিগত সম্পদ ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের দখলে। ভবিষ্যতে এদের সংগ দেয়ার কাজে বিনিয়োগ বাড়বে। বয়স্কদের দেখাশুনার নতুন পেশা আসবে সঙ্গ প্রদানকারী।

ড্রাইভারবিহীন গাড়ি

ড্রাইভারবিহীন গাড়ি হোম ডেলিভারির কাজ নিয়ে নেবে। এই গাড়ির জন্য ইঞ্জিনিয়ার বা দেখাশোনার লোকের দরকার হবে, জরুরি অবস্থার জন্য সাপোর্ট টীম প্রস্তুত রাখতে হবে।

 

সূত্র:

https://www.forbes.com/,

https://www.monster.com/,

https://www.kiplinger.com/,

https://www.businessinsider.com/,

https://www.weforum.org/,

https://hbr.org/

https://www.huffpost.com/

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *