সবচেয়ে শান্ত ও সুখী জনপদ নরওয়ে

আনিসুর রহমান এরশাদ

অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি, উন্নত জীবনমান, অসাধারণ জীববৈচিত্র্য, উন্নত জনপদ, অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইতিহাস-সংস্কৃতি, প্রচুর অর্থ আর বিত্ত বৈভবের দেশ নরওয়ে। ছবির চেয়ে সুন্দর অপরূপ সৌন্দর্যের দেশটিতে মানবতা ও শান্তির সখ্য অতুলনীয়। সবাই যেন শান্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করেই চলছে। দীর্ঘায়ু, শারীরিক সুস্থতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সামাজিক সহায়তার জন্য জনগণ শান্তির আধারে বাস করেন। মানুষগুলো শান্ত ও খুবই মানবিক। একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে চলাই যাদের দিনান্তের ঘটনা।

শান্তির দেশের মধ্যে সেরা দেশটিতে কোথাও কোনো অপরাধের দেখা পাওয়া ভার। অপরাধ প্রবণতা একেবারে কম এবং এই দেশটি জীবন ধারনের জন্য নিরাপদ। চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতি হয় না। রাতে চলাচলে সবচেয়ে নিরাপদ; মানুষ রাতে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে না। আজ জানাব ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রাভেল ডেস্টিনেশন এবং বিশ্বের সবচেয়ে শান্ত জনপদ নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়ে সম্পর্কে।

একনজরে নরওয়ে

সরকারি নাম: কিংডম অফ নরওয়ে বা নরওয়ে রাজ্য
রাজধানী ও বৃহত্তর শহর: অসলো
সরকারি ভাষা: নরওয়েজীয়
সরকার: সাংবিধানিক রাজতন্ত্র

রাজা: হ্যারল্ড ৫
প্রধানমন্ত্রী: এরনা সুলবার্গ
সংবিধান: ১৭ই মে, ১৮১৪
সুইডেন ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা: ১৯০৫ সালের ৭ জুন

আয়তন: ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২০৭ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা: ৫৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৬৯ জন
মুদ্রা: নরওয়েজীয় ক্রোন (এনওকে)

নরওয়ে সবচেয়ে শান্ত জনপদ। মধ্যরাতের সূর্যের দেশ। বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রুপকথার গল্পের মত সুন্দর সব সমুদ্র, তুষার ঢাকা বিস্তৃত মালভুমি আর অবিশ্বাস্য সুন্দর সব পর্বতমালা। বাগান থেকে বৃক্ষরাজির ফাঁক দিয়ে দেখা যায় সাগরের কোল ঘেঁষা পাহাড়ের সারি। সূর্যের অস্তের সময় সোনালি রঙের টলটলে পানি। খুবই পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন। সুন্দর জায়গাগুলো শান্তি ও প্রশান্তি এনে দেয়। বাড়িগুলো আলোকিত, আধুনিক, বিশাল কাচে ঢাকা। বেশিরভাগ নরওয়েজিয়ানের আছে নিজস্ব বাড়ি। রয়েছে সাধ্যের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, বেকারত্বের হার নামমাত্র। কর্মক্ষম প্রায় প্রত্যেকেরই আছে চাকরি।

অবস্থান

নরওয়ে উত্তর ইউরোপের একটি রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ১৯টি রাজ্য (কাউন্টি) নিয়ে গঠিত। নরওয়ের রাজার পদিব নরওয়েস কিং, কিং অব নরওয়ে নয়। এর অর্থ তিনি দেশের মালিক, দেশ তার মালিক নন। নরওয়ে উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ার পশ্চিম অংশে অবস্থিত। নরওয়ের পূর্বে সুইডেন, দক্ষিণে ফিনল্যান্ড ও পশ্চিমে রাশিয়া অবস্থিত।

নরওয়ের সুইডেনের সঙ্গে ১,৬১৯ কিলোমিটার, ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ৭২৭ কিলোমিটার, এবং পূর্ব রাশিয়া সঙ্গে ১৯৬ কিলোমিটার সীমানা আছে। নরওয়ের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে ব্যারেন্টস সাগর, নরওয়েজিয়ান সাগর, উত্তর সাগর, এবং স্কাজেররাক অবস্থিত। নরওয়ে ইউরোপের দ্বিতীয় জনবহুল রাষ্ট্র।

ডার্ক পিরিয়ড

নরওয়ে বছরের আট মাস বরফের নিচে ঢাকা থাকে। বছরের দুই মাস এখানে সূর্য ওঠে না। নভেম্বরের ২১ তারিখ থেকে জানুয়ারির ২১ তারিখ পর্যন্ত সময়টাকে তাই ডার্ক পিরিয়ড বলা হয়। এই সময় আকাশে নর্দার্ন লাইট বা অরোরা বুরিয়াল দেখা যায়। আকাশে লাল, সবুজ রঙের আলোর খেলা। এই অরোরা দেখতে অনেক পর্যটক এই সময়ে এখানে আসেন।

শ্বেতরাত্রি

আর বছরের দুই মাস এখানে আবার সূর্য অস্ত যায় না। মের ২১ তারিখ থেকে জুলাইয়ের ২১ তারিখ। এই সময়টাকে বলা হয় মিডনাইট সানের সময়। প্রাকৃতিক এই ঘটনাটিকে হোয়াইট নাইট বা শ্বেতরাত্রি বলেও উল্লেখ করা হয়। একটানা সূর্যের আলো বিদ্যমান থাকে এবং রাতের অন্ধকারের পরিবর্তে আকাশে গোধূলির আলো ফুটে থাকে। রাত ২টার সময়েও ঝকঝকে রোদ দেখা যায়। সামারের সময় যদি আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রকৃতি এক অদ্ভুত সৌন্দর্য ধারণ করে। চোখ ধাঁধানো সুন্দর।

অর্থনীতি

১৯৯০ সালের পর থেকেই দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সঞ্চিত অর্থ ফুলেফেঁপে উঠছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম সার্বভৌম তহবিল নরওয়েয়ের। নরওয়ে সরকার তেল বিক্রির সমুদয় অর্থ সঞ্চয় করে রেখেছে। রাষ্ট্রীয় অয়েল ফান্ড দুই ভাগে বিভক্ত। একটি ছোট অংশ দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগ করা হয়। এই অর্থ বয়স্ক ও সামাজিক বিমাখাতে ব্যয় করা হয়।

বাকি বড় অংশটা বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়। সবচেয়ে বেশি তেল ও গ্যাসের খনি রয়েছে নরওয়েতে। নরওয়ে তার বৈদ্যুতিক শক্তির ৯৮-৯৯% পায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। জলবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বিবেচনায় এটি বিশ্বে সর্বোচ্চ। স্যামন মাছ রপ্তানিতে নরওয়ে বিশ্বে প্রথম।

অসলো

অসলো একটি বৈশ্বিক শহর। বিটা ওয়ার্ল্ড সিটি। ইউরোপীয় বড় শহরগুলির মধ্যে জীবনমানে রয়েছে প্রথম স্থানে। নরওয়ের রাজধানী এবং সর্বাধিক জনবহুল শহর। নরওয়ের অর্থনৈতিক ও সরকারি কেন্দ্র। শহরটি নরওয়েজিয়ান বাণিজ্য, ব্যাংকিং, শিল্প ও জাহাজ চলাচলের একটি কেন্দ্রও।

অসলো বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ও সমৃদ্ধ শহর। বিশ্বের সবুজতম জীবন্ত শহর। অসলোর একটি বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী অর্থনীতি রয়েছে। ভবিষ্যতের ইউরোপীয় বড় শহরগুলির মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। এটি ব্যবসায়িক বন্ধুত্বের বিভাগে এগিয়ে গেছে।

অসলো একটি নিবিড় শহর। ইউরোপীয় টেকসই সিটি অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে। এটি ইউরোপের সামুদ্রিক শিল্প ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শহরটি সামুদ্রিক খাতের অনেক সংস্থার আবাসস্থল। ইউরোপ কাউন্সিল ও ইউরোপীয় কমিশন আন্তঃসংস্কৃতিক শহর কর্মসূচীর একটি পথপ্রদর্শক শহর।

সেরা কিছু খাবার ও রেস্তোরাঁর জন্য বিখ্যাত এই শহর। রাতে ঘোরার জন্য এই শহর বেশ নামকরা। বিভিন্ন জায়গায় গানের আয়োজন করা হয় বিনোদনের জন্য। সাইক্লিং বা পায়ে হেঁটেও এই শহরের ভ্রমণের স্বাদ নেয়া যায়।

ভাইকিং মিউজিয়ামে প্রায় ১২০০ বছরের আগের ভাইকিং অভিযাত্রীদের ব্যবহৃত কাঠের নৌকা ও সরঞ্জাম সংরক্ষিত আছে। এই যাদুঘরে ভাইকিংদের বস্ত্র, সরঞ্জাম ও ব্যবহার্য সামগ্রী এবং তাদের সমাধিতে পাওয়া বিভিন্ন জিনিস সংরক্ষিত আছে যা আপনাকে সেই পুরনো যুগে নিয়ে যেতে বাধ্য করবে।

ফিয়র্ড

লম্বা, সরু ও পর্বতঘেরা উপসাগর বা সামুদ্রিক খাঁড়িকে বলে ‘ফিয়র্ড’। নরওয়েতে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেখা মেলে হরহামেশাই। অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অসাধারণ উৎস।

নোবেল পিস সেন্টার

নরওয়ে বললে নোবেল শান্তি পুরস্কারের কথাও মনে আসে। রাজধানী অসলোতে রয়েছে ‘নোবেল পিস সেন্টার’। সেখানে শান্তিতে নোবেলজয়ীদের বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। অসলোর গ্র্যান্ড হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দর্শকদের অভিনন্দন গ্রহণ করেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীরা।

অপেরা হাউজ

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অসলো অপেরা হাউজ থিয়েটারটি অন্যতম আকর্ষণ। ২০০৮ সালে এটি তার সৌন্দর্যের জন্য ‘ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার ফেস্টিভ্যাল’-এ একটি অ্যাওয়ার্ড পায়। এছাড়া ২০০৯ সালে ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রাইজ ফর কনটেম্পোরারি আর্কিটেকচার’ পুরস্কার জেতে এই অপেরা।

ফ্রাম মিউজিয়াম

দেখা মেলে ইতিহাস গড়া কাঠের জাহাজ। ‘ফ্রাম’ নামে ওক গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি নৌকাটিই ‘সবচেয়ে শক্তিশালী কাঠের জাহাজ’। কারণ এটা দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর সবচেয়ে দূরে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। কাঠের তৈরি অন্য কোনো বাহন দিয়ে যা সম্ভব হয়নি। পুরো জাহাজটিই এখন সংরক্ষণ করা হচ্ছে অসলোর ‘ফ্রাম মিউজিয়াম’-এ।

ভাইকিং শিপ মিউজিয়াম

‘ওসেব্যার্গ শিপ’ এ দুজন নারীর কঙ্কাল পাওয়া গেছে। ৮৩৪ সালে অর্থাৎ প্রায় ১,১৭৯ বছর আগে এই জাহাজে ঐ দুই নারীকে সমাহিত করা হয়। সঙ্গে দিয়ে দেয়া হয় অলংকার, নিত্য-ব্যবহার্য জিনিস আর কিছু প্রাণী। ১৯০৪-০৫ সালে জাহাজটি উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে সেটি অসলোর ‘ভাইকিং শিপ মিউজিয়াম’-এ রাখা আছে।

হোলমেনকোলেন স্কি জাম্প

উপর-উঁচু থেকে অসলো দেখার মজাই আলাদা। অসলো গিয়ে পর্যটকরা সেই আনন্দ নিতে পারেন ‘হোলমেনকোলেন স্কি জাম্প’ স্থাপনাটির শীর্ষে উঠে। স্কি জাম্পিং-এর জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক স্থান এটি। পর্যটকদের কাছে অসলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাও এটি।

 ভিগেলান্ড পার্ক

নরওয়েজিয়ান শিল্পী ইমানুয়েল ভিগেলান্ডের স্থাপত্যকর্মের সংগ্রহশালা ভিগেলান্ড পার্ক। এটারও স্থান অসলোতে।

বারগেন

নরওয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং দেশের অন্যতম প্রধান সমুদ্র বন্দর বারগেন। শহরটি প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুদের স্বর্গরাজ্য। সব কিছুই যেন শিল্পীর হাতে আঁকা ছবির মতো সুন্দর! এখানকার মানুষজন খুবই নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলেন।

উডেন সিটি বা কাঠের শহর বললে ভুল হবে না বার্গেন শহরকে। এই শহরের বেশিরভাগ স্থাপত্যই কাঠের। ঐতিহাসিক ৬০টি ভবনসহ বিখ্যাত সাতটি পাহাড়ের সমাবেশ আছে এখানে। টাটকা সামুদ্রিক খাবারের সাথে বিখায় বেশ কিছু মিউজিয়াম আর ফটো স্টুডিও পাবেন এখানে ।

লফোটেন দ্বীপ

ছবির মত সুন্দর লফোটেন দ্বীপকে বলা হয় পোষ না মানা দ্বীপ। এই দ্বীপপুঞ্জ হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি সরু লম্বা আকৃতির একটি দ্বীপপুঞ্জ যার এক প্রান্ত মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত। এর চারপাশে তাই সমুদ্র। এখানে মাছ ধরার জন্য বেশ খ্যাতি আছে। যারা মাছ ধরতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই শহর হতে পারে পছন্দের জায়গা।

সরু এই দ্বীপ থেকে একবার সমুদ্র আর একবার ভূ-খন্ডে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অভিভূত করে। নরওয়ের সৌন্দর্যের আধার বলা হয় উত্তর নরওয়েতে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জকে। এখানে দৃষ্টিনন্দন বেলাভূমি থেকে শুরু করে আরও রয়েছে সুউচ্চ পর্বত শ্রেণি, রহস্যময় সমুদ্র খাড়ি, ছবির মত সুন্দর জেলেদের গ্রাম আর সবুজের সমারোহ।

ট্রমসো

মেরু অঞ্চলের সমস্ত সৌন্দর্য্য নিয়ে আছে ট্রমসো। এখানের ট্রমসাভায়া শহরের জন্যে এই অঞ্চল বিখ্যাত। এটিতে শহুরে ভাব থাকলেও মেরু অঞ্চলের সৌন্দর্য একইরকম আছে। পোলার সেন্টার আর পোলার মিউজিয়াম এখানে। এর সাথে আছে ওয়্যার লিফটের সুযোগ। চমৎকার এডভেঞ্চারাস সময় কাটাতে পারবেন।

গাইরেঞ্জারফিয়র্ড

প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময় গাইরেঞ্জারফিয়র্ড আকর্ষণ অন্যরকম। এটি ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং সুউচ্চ ও ঘন সবুজ পাহাড় দিয়ে ঘেরা। এখানে বিভিন্ন জলপ্রপাত আছে। এখানের পাহাড়গুলোর উচ্চতা প্রায় ১০০০ মিটারের বেশি। হাইকিং করা যায়। ছবির মতো সুন্দর গ্রাম ও পাহাড়গুলো আকর্ষণ করে ।

ফ্লাম

ফ্লাম কল্পনার সুন্দরের মতোই সুন্দর। নরওয়ের অরল্যান্ডসফিওর্ডের ছোট্ট গ্রাম ফ্লাম। মূলত ফাম অর্থ কাল্পনিক সুন্দর। এই গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগে ট্রেনে করে ঘুরে আসা যায়।

শ্বেত ভাল্লুক

স্বালবার্ডকে বলা হয় মেরু ভাল্লুকের রাজ্য। পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর প্রাণি শ্বেত ভাল্লুকের সাক্ষাতে যেতে হবে স্বালবার্ডে। নরওয়ের এই জায়গা মেরু ভল্লুক, তিমি, সিল, আর্কটিক শিয়াল, হরিণ ইত্যাদি দেখতে পারবেন। এখানে লাশ কবর দেওয়া নিষেধ।

কারণ এখানে এত কম তাপমাত্রা যে মৃতদেহে পচন ধরে না। স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৩০০০ শ্বেত ভালুক রয়েছে। এছাড়াও সিন্ধু ঘোটক দেখতে পাওয়া যায় যা ইউরোপের অন্য কোনো স্থানে দেখতে পাওয়া দুষ্কর।

লঙ্গইয়ারবিয়ান

লঙ্গইয়ারবিয়ান শহরটিতে নানা মজার মজার তথ্য পাওয়া যায়। দেখতেও খুব চমৎকার

ট্রন্ডহাইম

বলিউডের নানা গানের মধ্যে দেখে থাকবেন সারিসারি বিভিন্ন রঙ এর বাড়ি যতদূর দৃষ্টি যায়। ট্রন্ডহাইম এরকমই একটি জায়গা। রঙ বেরঙের সারিসারি বাড়িতে সমৃদ্ধ এই শহর। লাইভ মিউজিক ক্যাফের উৎস এই শহর। মনে রোমান্টিক হাওয়া বইয়ে দেয় এই শহরের দৃশ্য। ট্রনডেলাগ প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেয়ার জন্য পাবেন প্রচুর ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ।

স্ট্যাভ্যানজার শহর

সমুদ্র তীরবর্তী স্ট্যাভ্যানজার শহর প্রায় ৫০ বছর ধরে নরওয়ের জ্বালানি তেলের যোগান দিয়ে আসছে। হাইকিং এর জন্য বেশ পরিচিত এই শহরটি। নানা রঙের ভবন অবশ্য এখানেও পেতে পারেন। এখানে লাইফিওর্ড এবং প্রাইকেস্টোলেন নামের দুটো বেশ নাম করা মালভূমি আছে।

নর্ডকেপ

নর্ডকেপ এক অনন্য সুন্দর জায়গা। বছরের ১৮ মে থেকে ২৯ জুলাই এখানে সূর্য অস্ত যায় না কখনোই। আর্কটিক মহাসাগর থেকে এটি প্রায় ১০০০ ফুট উপরে অবস্থিত। ফলে এখানে যদি আরোহণ করতে পারেন তাহলে পৃথিবীর শীর্ষে আরোহণ করার অভিজ্ঞতা পেয়ে যাবেন প্রায়।

প্রতি বছরই প্রায় ২ লক্ষের বেশি অভিযাত্রী এখানে এসে থাকেন। এটি ইউরোপের এমন একটি কেন্দ্র যেখানে আন্তর্জাতিক সড়কের মিলনস্থল।

নয়নাভিরাম হ্রদ

নরওয়েতে রয়েছে হাজার হাজার নয়নাভিরাম হ্রদ। মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি এ সকল হ্রদে পাওয়া যায় ইউরোপের সবচেয়ে সুস্বাদু স্যামন মাছ। নরওয়ে এই সুস্বাদু স্যামন বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে রপ্তানি করে থাকে। হ্রদের কিনার ধরে রয়েছে জেলেদের সারি সারি কেবিন।

এছাড়াও ইউরোপের সবচেয়ে গভীর হ্রদ নরওয়েতে অবস্থিত। ইউরোপের গভীরতম হ্রদ হরনিনদাল নরওয়েতে অবস্থিত। হ্রদটির গভীরতা প্রায় ৫১৪ মিটার। দেশটি জুড়ে থাকা অসংখ্য নয়নাভিরাম হ্রদে পাওয়া যায় ইউরোপের সবচেয়ে সুস্বাদু ও প্রোটিন সম্বৃদ্ধ স্যামন মাছ।

স্থাপত্য

নরওয়ের শহর এবং নগরগুলো সার্বজনীন এবং নজর কাড়া স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্থাপত্যে ভরপুর। স্থাপনাগুলোর মধ্যে ফ্রেডরিকস্ট্যাড দূর্গ, স্ট্যাইভ চার্চ, নিডারোস ক্যাথেড্রাল, পোলার মিউজিয়াম ও জার্মান স্থাপনার আদলে তৈরি বাণিজ্যিক ভবন উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ পথ যা ২৪.৫ কি.মি. দীর্ঘ। এই সম্পূর্ণ পথটি চারটি ভাগে বিভক্ত যা তিনটি রঙ্গিন আলোময় সুড়ঙ্গ দ্বারা পৃথক করা রয়েছে যাতে করে এই টানেলটি পার হওয়া চালকদের জন্য কম অস্বস্তিকর হয়।

প্রাণী বৈচিত্র্য

নরওয়ের প্রাণী বৈচিত্র্য অসাধারন এবং অবিশ্বাস্য। এখানে রয়েছে তুষার শুভ্র সুমেরু শিয়াল থেকে শুরু করে বল্গা হরিণ, তিমি, সাদা লেজ যুক্ত ঈগল, মেরু ভালুক, সিন্ধু ঘোটক এবং আরও অনেক ধরনের প্রাণী। আর্কটিক ল্যান্ডস্কেপ, উত্তরে বনাঞ্চল আর জটিল উপকূল ভূমির কারণে উত্তর নরওয়েতে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী দেখতে পাওয়া যায়।

নরওয়েতে প্রায়ই ধূসর ও লালচে রঙের বলগা হরিণের দর্শন মেলে। বলগা হরিণ তার মাথায় থাকা গাছের ডালের মতো আঁকাবাঁকা শিংয়ের কারণে সবার কাছেই সুপরিচিত। এছাড়াও নরওয়ে তুষার শুভ্র সুমেরু শেয়াল, মেরু ভালুক, সাদা লেজ বিশিষ্ট ঈগল, সিন্ধু ঘোটক ও তিমি সহ প্রাণীকুলের অন্তর্গত অসংখ্য বিচিত্র প্রাণীর আবাসস্থল।

অরোরা বোরিয়ালিস

নরওয়েতে অন্ধকারাচ্ছন্ন শীতের আকাশের আরেকটি বিস্ময়কর বিষয় অরোরা বোরিয়ালিস। সৌর বায়ু থেকে আসা পরমাণু পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে বায়ুমন্ডলের গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া ঘটায়। এই বিক্রিয়ার ফলে বর্ণিলসব আলো উৎপন্ন হয়।

রাতের আকাশে দৃশ্যমান বিস্ময়কর এই আলোর নাচন অরোরা বোরিয়ালিস, নর্দার্ন লাইটস বা সুমেরুপ্রভা নামে পরিচিত। নরওয়ে এখানে প্রতি বছর শীতকালে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতি অন্ধকার রাত্রিতে সকল উচ্চ অক্ষাংশ অঞ্চল সমূহ হতে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।

লোফোতেন দ্বীপপুঞ্জ

উত্তর নরওয়ের লোফোতেন দ্বীপপুঞ্জকে এই দেশের সৌন্দর্যের আধার বলা হয়। এখানকার হ্রদগুলোর পাশেই গড়ে উঠেছে ছবির মতো সুন্দর জেলেদের অসংখ্য গ্রাম।

খাদ্য

নরওয়েতে খাদ্যের দাম পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি। এখানে খাদ্যের দাম এত বেশি যে, সুইডেন সীমান্তের নিকটে অবস্থানকারী নরওয়েবাসী নিজের দেশ ছেড়ে সুইডেন থেকে খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে। নরওয়ের কারাগারে প্রত্যেক হাজতির ইন্টারনেটের ব্যবস্থা আছে। তারা ওখানে প্রায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে। সবচেয়ে উচ্চ নিরাপদ কারাগারের প্রতিটি কক্ষে রয়েছে পাঁচ তারকা হোটেলের সুযোগ-সুবিধা।

প্রকাশনা

গড়ে নরওয়েজিয়ানের পুস্তক ক্রয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে। প্রতিবছর নরওয়েতে ২০০০ এর অধিক পুস্তক প্রকাশিত হয়। নতুন কোনো বই প্রকাশ হলে নরওয়ে সরকার ১০০০ বই ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন পাঠাগারে প্রদান করে। নরওয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন পৃথিবীর যে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য ফ্রি।

বিনামূল্যে খাবার

অভুক্তরা টাকা না থাকলেও খাবারের দোকানে গেলেই খাবার পান। রেস্তোরাতে খাবারের দাম আগেই অপরিচিত একজন মিটিয়ে গেছেন। কোন দিন মুহূর্তের জন্য দেখাও হয়নি। কিছু মানুষ নিজেদের পকেট থেকে, নিজেদের অর্জিত রোজগার থেকে, কিছু অজানা মানুষের খাওয়ার জন্যে পেমেন্ট করেন। আর কিছু গরীব, দুস্থ মানুষ বিনা পেমেন্টে নিশ্চিন্তে খাওয়া দাওয়া করেন। দিনভর চলে এই কান্ড। কেউ জানে না কারুর পরিচয়। না দাতা জানে গ্রহীতার পরিচয়, না গ্রহীতা জানে দাতার পরিচয়। অভুক্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেয়া হচ্ছে একেবারেই গোপনে।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.