বৈচিত্র্যসম্পন্ন ভূপ্রকৃতির দেশ ইসরাইল

আনিসুর রহমান এরশাদ

ইসরাইল বিশ্বের অষ্টম শক্তিশালী দেশ। ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে গঠিত ইহুদি রাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত উন্নত শিল্পপ্রধান। ৩২ তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। এশিয়ার ৩টি উচ্চ-আয়ের রাষ্ট্রগুলির একটি। বিশ্বের ৩৯টি অগ্রসর অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশগুলির একটি। দেশটির জীবনযাত্রার মান সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ, এশিয়াতে ৫ম এবং বিশ্বে ১৯তম।

আয়তনের দিক থেকে ইসরাইল বিশ্বের মধ্যে ১৫০ তম আর জনসংখ্যার দিক থেকে ৯৭ তম। মাথাপিছু আয় ৪২,১১৫ ডলার। প্রায় অর্ধেক জনগণের বিশ্ববিদ্যালয় বা তার সমপর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, যা বিশ্বের ৩য় সর্বোচ্চ। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, পরোক্ষভাবে ইহুদিরাই বিশ্বকে শাসন করছে। বলা হয়ে থাকে, আমেরিকা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে আর আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে জুইশ কমিউনিটি।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

একনজরে

পুরো নাম: ইসরাইল
রাজধানী ও বৃহত্তম শহর: জেরুসালেম
স্বাধীনতা ঘোষণা: ১৪ মে, ১৯৪৮ সালে
জাতিসংঘে যোগদান: ১১ মে, ১৯৪৯ সালে
শাসন পদ্ধতি: ইউনিটারী পার্লামেন্টারি কনস্টিটিউশনাল রিপাবলিক
আইনসভা: নেসেট

আয়তন: ২২ হাজার ১৪৫ বর্গকিলোমিটার (মতান্তরে ২৭ হাজার ৭৯৯ বর্গ কিলোমিটার)
জনসংখ্যা: ৯০ লাখ ৫৩ হাজার
মুদ্রা: ইসরাইলি শেকেল
মাথাপিছু আয়: ৪৩ হাজার ৬০৪ ডলার

প্রধান ধর্ম: ইহুদি
ভাষা: হিব্রু ও আরবী
প্রধানমন্ত্রী: বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
রাষ্ট্রপতি : রেয়োভান রিভলিন

অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি

পৃথিবীর সর্বনিম্ন অঞ্চলে অবস্থিত ইসরাইল। ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব তীরে ও লোহিত সাগরের উত্তর তীরে অবস্থিত। দেশটির উত্তর স্থলসীমান্তে লেবানন, উত্তর-পূর্বে সিরিয়া, পূর্বে জর্দান ও ফিলিস্তিনি-অধ্যুষিত ভূখন্ড পশ্চিম তীর, পশ্চিমে ফিলিস্তিনি ভূখন্ড গাজা উপত্যকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মিশর অবস্থিত। ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল ধরে সমভূমি অবস্থিত। দক্ষিণে রয়েছে বিশাল নেগেভ মরুভূমি আর উত্তরে আছে বরফাবৃত পর্বতমালা। দক্ষিণে লোহিত সাগরে এক চিলতে প্রবেশপথ আছে। দেশটির প্রায় ৬০% এলাকা হচ্ছে মরুদ্যান বা মরুভূমি, তবে ইসরাইলের ভূপ্রকৃতি সার্বিকভাবে বৈচিত্র্যসম্পন্ন। ইসরাইলের মোট আয়তনের ২.১% জলসীমা এবং ৮.৩% এলাকা বনভূমি এবং প্রতিবছর ০.৬৫% বনায়ন করে ইসরাইল তার বনভূমি বাড়িয়ে চলেছে ।

জনসংখ্যা

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশটিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৮১ জন অধিবাসী বাস করে। জনসংখ্যার প্রায় ৭৫% বা তিন চতুর্থাংশ হলো ইসরাইলি আর ২০% আরব। অন্যান্য জাতি ও ভাষাগোষ্ঠী বাকি ৫% মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে ।

অর্থনীতি

ইসরাইলের অর্থনীতি আধুনিক পশ্চিমা অর্থনীতির সমপর্যায়ের। দেশটির মানুষের জীবনযাত্রার মান খুবই উন্নত। ইসরাইলের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারের ভালো সদিচ্ছা থাকার কারণে দেশটিতে বেকারত্ব খুবই কম।

রাজনীতি ও সরকার পদ্ধতি

ইসরাইলের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা তার উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নেসেট নামের আইনসভার উপর ন্যস্ত। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে স্বাধীন।

ভাষা ও সংস্কৃতি

ইসরাইলে ৩৩টির মত ছোট-বড় ভাষা ও উপভাষা প্রচলিত। ইসরাইলের দুটি সরকারি ভাষা হিব্রু এবং আরবি। ইংরেজি তাদের আধা-সরকারি ভাষা। হিব্রু প্রধান ভাষা ব্যবহৃত হয় জেরুসালেমসহ পুরো ইসরাইলে। ইসরাইল-আরব নাগরিকদের ব্যবহৃত মূল ভাষা আরবি। ইসরায়েলের সংস্কৃতি পশ্চিমা ঘরানার।

রাজধানী ও প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ

ইসরাইলের রাজধানী হলো পবিত্র ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেরুসালেম শহর। শহরটির অবস্থান ভূমধ্যসাগর ও মৃত সাগর এর মধ্যবর্তী যোধাইয়ান পর্বতের মালভূমিতে। এটি একটি পবিত্র শহর হিসেবেও বিবেচিত।

তবে ইসরাইলের প্রধান অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত কেন্দ্র হলো তেল আভিভ শহর । ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত তেল আভিভ দেশটির অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রাণকেন্দ্র এবং বৃহত্তম নগর এলাকা।
ইসরাইলে ছয়টি জেলা হলো- জেরুসালেম জেলা, উত্তর জেলা, হায়ফা জেলা, মধ্য জেলা, তেল আবিব জেলা এবং দক্ষিণ জেলা এবং জুডিয়া এ্যান্ড সামারিয়া এলাকা।

ধর্ম-ব্যবস্থা

ইসরাইলের রাষ্ট্রধর্ম হলো ইহুদি। ধর্মের দিক থেকে ৭৫ ভাগ মানুষ ইহুদী। ২য় বৃহত্তম ধর্ম হলো ইসলাম। প্রায় ১৮% মানুষ ইসলামে বিশ্বাসী। এছাড়া ইসরাইলের প্রায় ২% মানুষ খ্রিস্টান ও ১.৬% মানুষ দ্রুজ ধর্ম পালন করে। আর বাকি ৪% নাস্তিক ও অন্যান্য । তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইহুদীদের অনেকেই মানবিক ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাসম্পন্ন এবং ধর্মের ব্যাপারে উদাসীন।

ইতিহাস

১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আর্থার জেমস বালাফর ফিলিস্তিন ভূখন্ডে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক ইহুদি ফিলিস্তিনে এসে বসবাস শুরু করে। ১৯১৯ সালে ফিলিস্তিনে ইহুদির সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ১৯৩১ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার হয়। ১৯৪৮ সালে সেখানে ইহুদিদের সংখ্যা ছয় লাখে উন্নীত হয়। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিতকরণ সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনের ৪৫ শতাংশ ভূমি ফিলিস্তিনিদের এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদিদের দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

ইসরাইল রাষ্ট্রের ইতিবাচক দিক

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে অনন্য দেশ

পৃথিবীর অন্যতম প্রযুক্তিধর দেশ ইসরাইলে ৪ হাজারেরও বেশি প্রযুক্তি কোম্পানি রয়েছে। সিসকো, পেপাল, মাইক্রোসফট, গুগল, ফেসবুক, অ্যাপল কিংবা ইনটেল হচ্ছে এমন কিছু কোম্পানি, যারা ইসরাইলে নিজেদের নতুন পণ্য উৎপাদন ও গবেষণার কাজ করে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রধান ৫০০টি টেক জায়ান্টের ৮০টিরই গবেষণাকেন্দ্র এবং নব্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্র রয়েছে ইসরাইলে!

টেক স্টার্টআপের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির ঠিক পরেই রয়েছে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের নাম, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি কেন্দ্র। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত টেক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের জন্য তৈরি ন্যাসড্যাক স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় ইসরাইল রয়েছে ৩ নাম্বারে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র আর চীনই রয়েছে ইসরাইলের উপরে। জার্মানি, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সের সম্মিলিত প্রযুক্তি কোম্পানির তালিকাও রয়েছে ইসরাইলের পিছনে!

পরবর্তী মডেলের আইফোনের হার্ডওয়্যারের বেশিরভাগই তৈরি করা হচ্ছে ইসরাইলে। নতুন প্রযুক্তি গবেষণা, আবিষ্কার আর তা বাস্তবে তৈরি করার দিক থেকে সবার উপরে রয়েছে ইসরাইল। গুগলের নতুন প্রযুক্তিগুলোর অনেকগুলোই তৈরি করেছে এই ইসরাইলিরা। ইনটেল, বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রসেসর তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান, মাইক্রোচিপ নিয়ে গবেষণার জন্যও ইসরাইলের গবেষকদের মুখাপেক্ষী।

ইসরাইলের ইনটেল কারখানায় কাজ করে ১১ হাজারেরও বেশি কর্মী, যেটি দেশের অন্যতম বড় প্রযুক্তি কারখানা। বিল গেটসের মাইক্রোসফটকেও ধরা হয় একটি আধা-ইসরাইলি কোম্পানি হিসেবে, অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারে চালিত উইন্ডোজ সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করতেও অবদান রয়েছে কোনো ইসরাইলি প্রযুক্তিবিদের।

ইসরাইলের আয়ের অন্যতম বড় একটি অংশই আসে এই প্রযুক্তি খাত থেকে। আইবিএম, পেপাল, সিসকো, আমাজন, ফেসবুকসহ বড় বড় কোম্পানিগুলোর ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ সেক্টরে কাজ করার ফলে এবং প্রযুক্তি আমদানির ফলে যে অর্থ আয় হয়, তা ইসরাইলের জিডিপির ১২.৫%! ইসরাইলকে এখন ধরা হয় উদ্যোক্তাদের রাজধানী হিসেবে, এবং পরিসংখ্যানুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানির প্রতিটি কর্মীর পিছনে প্রতি বছর ১৫০ মার্কিন ডলার করে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। এটি স্পেনের একজন উদ্যোক্তার পেছনে বিনিয়োগের তুলনায় ৪০ গুণ বেশি!

শিক্ষা ও গবেষণায় অপ্রতিরোধ্য গতি

ইসরাইলের বিরাট সাফল্যের মূল কারণ হচ্ছে এর শিক্ষাব্যবস্থা। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা হওয়ার ৩০ বছর আগেই ইহুদিরা জেরুজালেমে প্রতিষ্ঠা করে ‘দ্য হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেম’। বর্তমানে কলেজ ডিগ্রি অর্জনের দিক থেকে ইসরাইল রয়েছে একেবারে প্রথমসারিতে। আর অন্য দেশ থেকে ইসরাইলকে যা আলাদা করা হয়েছে তা হলো এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ইসরাইলের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে একেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে আবার রয়েছে বিভিন্ন বৈদেশিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ফলে একজন শিক্ষার্থী যে শুধুই শিক্ষা গ্রহণ করে তা-ই নয়, বরং একইসাথে পেশাদার গবেষক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে। এর ফলে ছাত্রাবস্থাতেই বের হয়ে আসে একেকজন উদ্যোক্তা, যার মাথায় ঘুরতে থাকে অসাধারণ সব আইডিয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এসব গবেষণা আর উদ্ভাবনের মাধ্যমেই ইসরাইল নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিধর দেশ হিসেবে। আশির দশকের বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে ইসরাইল তাদের জনসংখ্যা দুই গুণ বাড়িয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে চার গুণ, জিডিপির দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে স্পেন কিংবা ইতালির মতো উন্নত দেশকে।

বিপুল ফরেন রেমিটেন্স

কোনো দেশের জনসংখ্যা অভিবাসীদের উপর নির্ভরশীল, প্রশ্নটির উত্তর নিঃসন্দেহে হবে ইসরাইল। আদতে প্রতি ৩ জন ইসরাইলির একজন বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে! এবং প্রতি ১০ জনের ৯ জনই অভিবাসী এবং অভিবাসীদের সন্তান-সন্ততি। স্বাধীনতার সত্তর বছরের মধ্যে একটি দেশের জনসংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে গেল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরতদের মাধ্যমে এবং দেশে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা

ইসরাইলের প্রধান ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা দ্য ইন্সিটিটিউট অফ ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস। প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৪৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। তখন নাম ছিল দ্য সেন্ট্রাল ইন্সিটিটিউট ফর করডিনেসন। সদর দপ্তর তেলআবিবে। কর্মীর সংখ্যা আনুমানিক ৭০০০। সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক ইয়োসি চোয়েন। এর কাজের রিপোর্ট ও গোয়েন্দা তথ্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হয়।

ইসরাইলের সীমানার বাইরে গোপনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলি যাতে বিশেষ ধরনের অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা এবং দেশে-বিদেশে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুর উপর হামলার ষড়যন্ত্র আগাম প্রতিরোধ করা, যেসব দেশে ইসরাইলের অভিবাসন সংস্থা আইনত সক্রিয় হতে পারে না, সেই সব দেশ থেকে ইহুদিদের ইসরাইলে নিয়ে আসার দায়িত্ব পালন করে ‘মোসাদ’।

শক্তিশালী সামরিক বাহিনী

ইসরাইলের সশস্ত্র বাহিনী (ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস, সংক্ষেপে আইডিএফ) তিনটি মিলিটারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত। সংস্থাগুলো হচ্ছে স্থলবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী। তিন বাহিনীকে এক বাহিনী ধরা হয়; এই বাহিনী দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন।

এই বাহিনীর অস্ত্র ও প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে- মারকাভা মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক, উজি সাব মেশিনগান এবং গালিল ও টাভর অ্যাসল্ট রাইফেল। আইডিএফ’র উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য যেসব খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থসহযোগিতা করে- এফ-১৫১ জেট বিমান, টিএইচ, লকহিড মার্টিন এফ -৩৫ লাইটনিং দ্বিতীয়, এফ -১৬ ফাইটনিং ফ্যালকন, ম্যাকডনেল ডগলাস এফ -১৫ ই স্ট্রাইক ইগল ও এফ-১৫ ঈগল ইত্যাদি।

সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক অস্ত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী এক দেশ। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ। পৃথিবীর সবচেয়ে গোপনীয় ও সবচেয়ে অস্বচ্ছ পরমাণু কার্যক্রম চালায় দেশটি। ইসরাইলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রতিহত করতে পারে।

ইসরাইলে প্রাপ্ত বয়স্ক সব নাগরিকের জন্যই সেনা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। সুতরাং দেশটিতে যতজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক সেনাসদস্যও এক অর্থে ততজন। সেনাপ্রশিক্ষণও স্বল্পমেয়াদি হয় না। সব প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেকে ৩ বছরের এবং মেয়েকে অন্তত ২ বছরের প্রশিক্ষণ নিতে হয়।

অযুত সম্ভাবনাময় পর্যটন

ইসরাইলের পর্যটন মূলত ইহুদী, ইসলাম ধর্মের পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দেশটির সর্বত্র ইহুদী ধর্মের ও সভ্যতার স্মৃতিবিজড়িত নানা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইহুদীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর এবং মুসলিম ও খ্রিস্টানদেরও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হল জেরুসালেম শহর। জেরুসালেমের ইহুদী মন্দির ও পশ্চিম দেওয়াল বিখ্যাত।

এছাড়া আছে যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান বেথেলহেম, বাসস্থান নাজারেথ। এখানে হারাম আল শরীফ তথা আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ যা মুসলিমদের প্রথম কিবলা হিসাবে পরিচিত। ভূমধ্যসাগরের তীর জুড়ে রয়েছে অনেক অবকাশ যাপন কেন্দ্র।

জেরুসালেমের একটু দক্ষিণে, জর্দান নদীর পশ্চিম প্রান্তেই আছে লবণাক্ত মৃত সাগর নামক লবণাক্ত হ্রদ, যার পানিতে ভেসে থাকা যায়। সমূদ্রপৃষ্ট থেকে এই সাগর ১৫ ফুট নিচে অবস্থিত মৃত সাগরে মাটিতে বিশেষ একটি উপাদান রয়েছে যা ত্বকের জন্য খুব উপকারী। তাই এই সাগরে আসা পর্যটকরা পুরো শরীরে এই মাটি মেখে রুপচর্চা করেন। লোহিত সাগরের উপকূল এবং গ্যালিলির সাগরের উপকূলেও অনেক অবকাশ কেন্দ্র আছে।

ইসরাইল রাষ্ট্রের নেতিবাচক দিক

মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তির মূলে রয়েছে ইসরাইলের কূটচাল। এটি জবরদখলকারী এক রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং জীবাণুযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার দেশটিকে বেয়ারা ও ঘৃণিত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করেছে। ইসরাইলের এমন কিছু দুর্বলতা রয়েছে যা রাষ্ট্রটির জন্য বয়ে এনেছে অমর্যাদা এবং রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য অসম্মান।

দখলদার হিসেবে পরিচিতি

১৯৪৭ সালে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রদান করে এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদিবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়। ১৯৪৯ সালে ইসরাইল, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী আয়তন ২০ হাজার ৭৭০ বর্গকিলোমিটার হলেও ইসরাইলের আয়তন এখন ২৭ হাজার ৭৯৯ বর্গকিলোমিটার।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ ও ৩৩৮ নম্বর প্রস্তাবে জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর ও বাইতুল মোকাদ্দাস তথা জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে অভিহিত। এসব প্রস্তাব অনুযায়ী, তেল আবিবকে বিনা শর্তে এই দুই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। তার পরও তেল আবিব জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন করে হাজার হাজার ইহুদি বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

ইসরাইল সমগ্র জেরুসালেম শহরকে তার রাজধানী হিসেবে দাবী করে আসছে। শহরের পশ্চিমভাগ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এখানে দেশটির সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি অবস্থিত।

বিশ্ববাসীর সমর্থন লাভে ব্যর্থতা

ইসরাইল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে জেরুসালেমের পশ্চিম অর্ধেক দখল করে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল বাকি অর্ধেকাংশ তথা পূর্ব জেরুসালেম দখল করে। ১৯৮০ সালে ইসরাইল জেরুসালেম আইন পাস করে। ইসরাইলের জেরুসালেম দখলকে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকার করে না। দু-একটি দেশ ছাড়া কোনো দেশই জেরুসালেমের কোনো অংশকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকার করে না।

এখনো বিশ্বের বেশকিছু দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি কিংবা দেশটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত রয়েছে। সেসব দেশগুলো হলো : আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, ভুটান, ব্রুনাই, কোমোরোস, জিবুতি, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, উত্তর কোরিয়া, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেন।

বর্বর আচরণে অভ্যস্ততা

ফিলিস্তিনিদের প্রতি বর্বর আচরণের জন্য ইসরাইল কুখ্যাত। দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন করেই চলেছে। এমনকি ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেমিদের বিদেশী অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে, যেখানে তাদের জন্ম সেখানে তাদের কোনো জন্মগত অধিকার নেই।

প্রতিবেশীদের সাথে বৈরিতা

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বলন্ত সমস্যা ইসরাইল আমেরিকার মদদেই শক্তিশালী। প্রতিবেশীদের সাথে চরম বৈরিতায় নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। মুসলমানদের প্রথম কেবলা বায়তুল মোকাদ্দাস দীর্ঘ দিন ধরে দখল করে রেখেছে, মানবিক বিপর্যয় ঘটিয়েছে। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি, বিশ্বসম্প্রদায়ের আহ্বান, কোনো কিছুই আমলে নেয় না ইসরাইল।

যৌন বাণিজ্য ও নারী সেনাদের পতিতাবৃত্তি

ইসরাইলে নারী ও পুরুষ সেনাসদস্য অর্থের অভাবে পতিতাবৃত্তিতে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করে মিশেল রোজিন নামে ইসরাইলের এক নারী সংসদ সদস্য। এলেম-ইয়ুুথ ইন ডিসট্রেস ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের শতকরা ৩০ শতাংশ তরুণ-তরুণী মারাত্মক অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে পতিতাবৃত্তিতে জড়িত এবং যাদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছর।

গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নারী গোয়েন্দারা, ইসরাইলের রাজনৈতিক নারী নেত্রীরাও বিভিন্ন সময়ে আরব নেতৃবৃন্দের সাথে বন্ধুত্ব ও শারীরিকভাবে অন্তরঙ্গতা স্থাপন করে তাদের নৈতিকভাবে ধ্বংস করতে ও ইসরাইলের বিরোধিতার পথ থেকে বিরত রাখতে সফল হয়েছে। ইসরাইলের নৈতিকতাবিরোধী এ কৌশল নিন্দিত হয়েছে।

যৌন বাণিজ্যেই ইসরায়েলের বার্ষিক রাজস্ব আয় ৫০০ মিলিয়ন ডলার! ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অর্ধেকের বেশি সেনা গাঁজা সেবন করে। ইসরাইলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, গেলো বছর সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ সেনা গাঁজা খায়।

গোঁড়ামি ও চরম জাতীয়তাবাদী

পৃথিবীতে ইসরাইল হলো একমাত্র দেশ যার নাগরিকত্ব পেতে পারে ইহুদিরাই। বিশ্বের যেকোনো ইহুদির ইসরাইলে বসবাসের অধিকার আছে এবং ইসরাইলের ল অব রিটার্ন অনুসারে তারা ইসরাইলি নাগরিকত্ব পাবে; তাই ইসরাইলকে বলা হয় প্রমিজ ল্যান্ড। ইসরাইলের রাষ্ট্রধর্ম হলো ইহুদি। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল ১৪ হাজার ফিলিস্তিনির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে।

দাবির সাথে বাস্তবতার অমিল

ইসরাইল জেরুসালেমকে তার অবিভক্ত রাজধানী বলে দাবি করে কিন্তু সেখানে যারা বাস করেন তাদের সাথে এ দাবির কোনো মিল নেই। ফিলিস্তিনিরা বর্ণবাদসদৃশ পরিস্থিতিতে বাস করে, সেখানে ইসরাইলিরা স্বাভাবিক জীবন কাটায় যার নিশ্চয়তা বিধান করে রাষ্ট্র।

নেতৃত্বে শুধুই দুর্নীতিবাজ ও চরিত্রহীনেরা

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্ট, সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী এহুদ বারাক, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লিকুদ পার্টির সাবেক নেতা অ্যারিয়েল শ্যারনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মুশে কাতসা যৌন কেলেঙ্কারির কারণে কারাভোগ করেছেন। ইসরাইলের প্রায় সব কর্মকর্তাই কোনো-না-কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন

আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি ভঙ্গকারী ইসরাইল। ইসরাইলের অনেক বিমান হামলায় মারাত্মক ক্যান্সার-জীবাণুবাহী বোমাবর্ষণ জাতিসঙ্ঘের অস্ত্র আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতির বিরোধী। ফিলিস্তিনের নারী, পুরুষ, শিশুসহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের টার্গেট করা আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন, গণহত্যারও নির্দেশক। জাতিসঙ্ঘও ইসরাইলের অবরোধ আরোপকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

দ্বিমুখী নীতি

মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বোমার একমাত্র মনোপলি ইসরাইলের। ইসরাইলের ডিমোনা আর হাইফায় নিউকিয়ার কার্যক্রম চলে, ইসরাইলকে বিশাল আকারের সেন্ট্রিফিউজও বানাতে হয়নি। কারণ হাইলি ইনরিচড ইউরেনিয়াম আর প্লুটোনিয়াম তারা আমেরিকার কাছ থেকে সরাসরি পেয়ে থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

আইনস্টাইন প্রেসিডেন্ট হননি

নোবেল বিজয়ী জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিনিধন বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ইসরাইল তার কথা শুধু কৃতজ্ঞচিত্তে মনেই রাখেনি, তাকে সম্মানও জানাতে চেয়েছিল প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে। ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আইনস্টাইন।

ঈশ্বরের কাছে চিঠি

ইসরাইলের মানুষ সত্যি সত্যিই ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে প্রচুর চিঠি লিখে। প্রতিবছর জেরুসালেমের ডাক বিভাগ এমন অন্তত হাজার খানেক চিঠি পায় যেখানে প্রাপকের জায়গায় লেখা থাকে ‘ঈশ্বর’!

জেরুসালেম যা যা সয়েছে: ইতিহাস বলছে, ফিলিস্তিনের রাজধানী জেরুসালেমে এ পর্যন্ত ২৩ বার ভয়াবহ আগুন লেগেছে আর বহিঃশক্তির আক্রমণের শিকার হয়েছে ৫২ বার। জেরুসালেম দখল এবং পুনরুদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে ৪৪ বার।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ নোট

ইসরাইলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে বিশেষ মুদ্রা। ‘ব্রেইল’-এর মতো বর্ণের সহায়তায় কাগুজে নোটগুলোতে লেখা থাকে বলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কেনাকাটা বা মুদ্রা বিনিময়ে কোনো অসুবিধা হয় না। সারা বিশ্বে ইসরাইল ছাড়া ক্যানাডা, মেক্সিকো, ভারত আর রাশিয়াতেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এই বিষেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *