বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত দেশ কাজাখস্তান

আনিসুর রহমান এরশাদ

নতুন-পুরানে ঘেরা, রহস্য-রোমাঞ্চে ভরা কাজাখস্তান পরিণত হয়েছে মধ্য এশিয়ার অন্যতম-প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্যে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সুবিশাল দেশটি। বিস্তীর্ন প্রান্তরে প্রান্তরে প্রকৃতি নানা রূপে নিজেকে প্রকাশিত করেছে। অনেক পর্বতসারি আর পর্বতের চূড়ায় জমে থাকা বরফ যেন সাদা টুপি পরে থাকা পর্বতমালা। দেশটির বিচিত্র শোভা পর্যটকমাত্রকেই প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

আপেলের উৎপত্তি হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম কাজাখস্তান। অর্থনৈতিকভাবেও মধ্য এশিয়ার নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্র। পুরো অঞ্চলের ৬০ শতাংশ জিডিপি এই দেশটির। বিশ্বের বৃহত্তম ভূমি পরিবেষ্টিত দেশটি সুপ্রাচীন বাণিজ্যপথ সিল্ক রুটের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। জলভর্তি গভীর গিরিসঙ্কট, মাইলের পর মাইল তৃণভূমি আর রুক্ষ শুষ্ক মরুভূমির দেশ।

একনজরে

পুরো নাম : রিপাবলিক অফ কাজাখস্তান বা কাজাখস্তান প্রজাতন্ত্র
রাজধানী ও সর্ববৃহৎ শহর : নুরসুলতান
সরকারি ভাষা : কাজাখ, সহ-সরকারি ভাষা: রুশ
সরকারপদ্ধতি : প্রেসিডেন্ট শাসিত প্রজাতন্ত্র

প্রেসিডেন্ট : কাসিম জোমরাত তোকায়েভ
প্রধানমন্ত্রী : আসকার উজাকবায়োলি মামিন
আইনসভা : উচ্চকক্ষ সিনেট, নিম্নকক্ষ মাজিলিস
সার্বভৌমত্ব ঘোষণা : ২৫ অক্টোবর ১৯৯০

প্রজাতন্ত্র ঘোষণা : ১০ ডিসেম্বর ১৯৯১
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা : ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯১
স্বীকৃতি : ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯১
আয়তন : ২৭ লাখ ২৪ হাজার ৯০০ বর্গকিলোমিটার

জনসংখ্যা : এক কোটি ৮৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৭ জন (বিশ্বে ৬৪তম)
মুদ্রা : কাজাখস্তানি টেংগে (কেজেডটি)
জাতিসংঘে যোগদান : ১৯৯২ সাল

আয়তন

এশিয়ার প্রজাতান্ত্রিক দেশ কাজাখস্তান আয়তনে বিশ্বের নবম বৃহত্তম এবং বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। এর উত্তরে রাশিয়া, পূর্বে চীন, দক্ষিণে কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান এবং পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়া অবস্থিত। কাজাখস্তানের বেশির ভাগ এশিয়া মহাদেশে পড়লেও দেশটির উরাল নদীর পশ্চিমের কিছু অংশ ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে।

ইতিহাস

রাশিয়া ১৮৭০ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে কাজাখস্তান দখল করে নেয়। রাশিয়ার জারের অধীনে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত ছিল। ১৯২২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

রাজনীতি

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি প্রেসিডেন্ট শাসিত। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং দ্বিকাক্ষিক আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত। ১৯৯৫ সালে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়, যাতে রাষ্ট্রপতিকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়।

অর্থনীতি

অর্থনৈতিকভাবে মধ্য এশিয়ার অন্যতম ধনী দেশ কাজাখস্তান। খনিজসমৃদ্ধ দেশটির মূল সম্পদ তেল ও গ্যাস। প্রধান কৃষিপণ্যের মধ্যে রয়েছে শস্য, গোল আলু, শাক-সবজি ও গবাদি পশু। অঢেল খনিজসম্পদও রয়েছে। প্রধান রফতানি পণ্য- গম, বস্ত্র ও গবাদি পশু। শীর্ষস্থানীয় ইউরেনিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। কাজাখস্তানের আপেলের প্রাচীন জাতটা হলো ম্যালাস সিভারসি। কাজাখস্তানের স্থানীয় ভাষায় এটাকে আলমা বলা হয়।

জাতিগোষ্ঠী

দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কাজাখ। রাশিয়ান বংশোদ্ভূত এক-চতুর্থাংশ। দেশটির ১৩১টি জাতিগত গ্রুপের মধ্যে প্রধান জনগোষ্ঠী কাজাখ নামের তুর্কীয় জাতি। অন্যান্য মুসলিম নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীগুলো হলো উজবেক, উইঘুর এবং তাতার।

ধর্ম

অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের ফলে এই অঞ্চলে ইসলাম পরিচিতি লাভ করে। ইসলাম প্রথমে দক্ষিণের তুর্কেস্তানে প্রতিষ্ঠা লাভ করে, তারপর উত্তর দিকে বিস্তার লাভ করে। আয়তনের দিক দিয়ে বৃহত্তম মুসলিম দেশটির প্রধান ধর্ম ইসলাম। জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম। বাকী ৩০ ভাগ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। বড় বড় শহরগুলোতে মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়াদী দেখভাল করেন একজন প্রধান ইমাম। তাকে ‘ইমামে শহর’ বলা হয়।

দেশটির প্রায় ৯০ ভাগ যুবকই ধর্মভীরু। এই ৯০ ভাগের ৮৬ ভাগই মুসলমান। অনেক মুসলিম নারী মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরিধান করেন। ২০ শতাংশ মুসলমান নামাজ পড়ে। বিভিন্ন অঞ্চলে ২ হাজার ৬৯১টি মসজিদ রয়েছে। ২০১৯ সালে ৮০টি মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। রয়েছে শতাধিক মাদরাসা ও হাজারের বেশি ইসলামি সেন্টার।

হজরত সুলতান মসজিদ

আস্তানায় অবস্থিত হজরত সুলতান মসজিদটি কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় এবং মধ্য এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। একসঙ্গে ৫০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। সুউচ্চ চারটি মিনার ও মাঝে বড় আকৃতির একটা গম্বুজ রয়েছে। প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ৬৩ মিটার। মসজিদটি নির্মাণে গ্লাস কংক্রীট ও গ্রানাইড ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামি স্থাপত্যের অনন্য উদাহরণ এই মসজিদের সোনালী গম্বুজ। মসজিদের ভেতরের কারুকার্য নয়নাভিরাম।

সিটি অব দ্য ফিউচার

রাজধানী নুরসুলতানের আগে নাম ছিল আস্তানা। এটিকে বলা হয় সিটি অব দ্য ফিউচার বা ভবিষ্যতের নগরী। দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভের সম্মানে রাজধানী আস্তানার নাম পরিবর্তন করে নুরসুলতান রাখা হয়। এটি আকমোলা অঞ্চলের উত্তর অংশে ইশিম নদীর তীরে অবস্থিত। এটি একটি পরিকল্পিত শহর। এটাই বিশ্বের দ্বিতীয় শীতল শহর। মধ্য এশিয়ার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে শহরটিতে দেখার মতো বেশকিছু স্থাপনা রয়েছে।

শিল্প কেন্দ্র আলমাতি

সবচেয়ে বড় শহর আলমাতি একসময় রাজধানী ছিল। ১৯৯৭ সালে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নজরবায়েভ আলমাতি থেকে রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এখনো এটিই দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক এবং শিল্প কেন্দ্র।

সুবিশাল নৌবাহিনী

সম্পূর্ণভাবে স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও কাজাখস্তানের একটি সুবিশাল নৌবাহিনী আছে। ২০০৩ সালে দেশটির নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠা হয়। দেশটির কোন সমুদ্র উপকূল নেই ঠিকই কিন্তু এর একপাশে আছে বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ সমুদ্র, কাস্পিয়ান সাগর। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কাজখস্তান উত্তরাধিকার সুত্রে ১৪০০টি নিউক্লিয়ার বোমার মালিক বনে যায়। তবে দেশটি ১৯৯৫ সালে সবগুলো অস্ত্র স্বেচ্ছায় রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে।

হেরিটেজ সাইট

কাজাখস্তানে মোট ৫টি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট আছে। এর মধ্যে ৩টি সাংস্কৃতিক এবং ২টি প্রাকৃতিক সাইট। সোভিয়েত মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমের গোড়া কাজাখস্তানের বাইকনুরে। সোভিয়েত মহাকাশ প্রোগ্রামের যাত্রা বাইকনুর থেকে শুরু হয়েছিল। মহাকাশে সর্বকালের প্রথম মানুষ ইউরি গাগারিন বাইকনুর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।

খাবার

কাজাখস্তানের মানুষের সবচেয়ে পছন্দের খাবার হচ্ছে ঘোড়ার মাংস। জাতীয় পানীয় হচ্ছে ঘোড়ার দুধ। জনপ্রিয় পানীয় হলো ‘কুমিজ’ ও ‘সুবাত’। প্রথমটি ঘোড়ার এবং পরেরটি উটের ফারমেন্টেড বা গেঁজানো দুধ। পুষ্টি ও ওষুধী গুণের জন্য ‘সুবাত’কে বলা হয় ‘সাদা সোনা’। কাজাখ রান্নার মূল ভিত্তি হচ্ছে টর্ট টালিক মাল – চার ধরনের গবাদি পশু ঘোড়া, উট, গরু এবং ভেড়ার মাংস।

গরুর মাংস হলো সাধারণ মাংস। ঘোড়া বা ভেড়ার মাংস সিদ্ধ করে তৈরি বেশবেরমেক জনপ্রিয় খাবার। সিদ্ধ মাংসের টুকরোগুলো কেটে পরিবেশন করা হয়। বেশবারমেওক সিদ্ধ পাস্তা দিয়ে খাওয়া হয় এবং সাথে সরপা নামে এক প্রকার মাংসের ঝোল থাকে যা ঐতিহ্যবাহী কাজাখ বাটি কেসেতে পরিবেশন করা হয়। কাজাখদের আরেকটি জাতীয় খাবার হচ্ছে কুউরদাক।

অন্যান্য জনপ্রিয় মাংসের খাবারের মধ্যে আছে কেজি যা ঘোড়া মাংস দিয়ে তৈরী হয়ে এবং শুধুমাত্র বিত্তশালীরা খেয়ে থাকে, শুঝুক, কুইরদাক, ঝাল এবং ঝায়া ইত্যাদি। জনপ্রিয় খাবার পিলাফ (পোলাও) গাজর-পেঁয়াজ এর সাথে চাল-মাংস মিশিয়ে রান্না করা হয়।

শিক্ষা

দেশটিতে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং দেশটিতে শিক্ষার হার প্রায় ১০০ শতাংশ। এখানে নারী-পুরুষের শিক্ষার হার সমান সমান। নার্সারি স্কুল থেকে শুরু করে শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা রয়েছে। আধুনিক পৃথিবীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মেলাতে নিজেদের বর্ণমালা পালটে ফেলছে কাজাখস্তান। ‘সিরিলিক’ ভুলে ৩২টি বর্ণ নিয়ে ‘লাতিন’ বর্ণমালা তৈরি করেছে।

খেলাধুলা

খেলাধুলায় সবচেয়ে বেশি সাফল্য এনে দিয়েছে বক্সিং। আর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলো হচ্ছে- ফুটবল, বাস্কেটবল, আইস হকি ইত্যাদি।

নুরঝল বুলেভার্দ

নুরঝল বুলেভার্দ কাজাখস্তানের জাতীয় বুলেভার্দ। ইশিম নদীর তীরে গড়ে ওঠা রাজধানী শহর আস্তানার একটি পায়ে চলা পথ। বুলভার্দটি শহর এবং দেশটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বুলভার্দ সহ শহরটির নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থাপত্যবিদ কিশো কুরোকাওয়া। বুলভার্দটি প্রেসিডেন্টের বাসভবন এক অরদা থেকে তাবু আকৃতির খান শাতির বিনোদন কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

যাযাবর সংস্কৃতি

কাজাখদের রয়েছে হাজার বছরের পুরনো যাযাবর সংস্কৃতি। লাখো বছর ধরে যাযাবরের জীবনযাপন করেছে কাজাখরা। ঘোড়া ও উটের পাল নিয়ে তৃণভূমি থেকে তৃণভূমিতে ছুটেছে, পাড়ি দিয়েছে দুস্তর মরু। কাজাখরা তাদের হারানো দিনকে হারিয়ে যেতে দিতে চায় না।

তাদের তৃণভূমি, ঘোড়া ও যাযাবর সংস্কৃতির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে না। রুক্ষ দেশটিতে ঘোড়া যে বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন! একটা সময় ছিল যখন কাজাখরা এই ঘোড়া থেকে পেত খাদ্য অর্থাৎ দুধ ও মাংস, ঘোড়ার পিঠে চড়ে চলে যেত দূরদূরান্তে, মালামাল পরিবহনও হতো ঘোড়ার পিঠেই।

পরিখা

কাজাখস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় মেংগিস্তাউ অঞ্চলে আছে কারাজিয়ে ট্রেঞ্চ বা পরিখা। এ ট্রেঞ্চটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩৩ ফুট নিচু এবং এটিই পৃথিবীর সপ্তম গভীরতম স্থান। এর জন্ম যে অনেক প্রাচীনকালে তা এর চুনাপাথরের ঢাল ও লবণের মজুত দেখে অনুমান করা যায়।

একসময় কারাজিয়ে ট্রেঞ্চ ছিল কাস্পিয়ান সাগরের তলায়। ভূগর্ভস্থ পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট অসংখ্য ফানেল বা সুড়ঙ্গের কারণে পুরো এলাকাটিকে চাঁদের পিঠের মতোই অদ্ভুত দেখায়। আর এসব দেখতে এখানে পর্যটকের ঢল নামে।

বেকেত আতা মসজিদ

কারাজিয়ে থেকে ১৩০ মাইল পশ্চিমে ওগলান্দি এলাকায় আছে একটি কবরস্থান এবং আন্ডারগ্রাউন্ড মসজিদ বেকেত আতা মসজিদ। বেকেত আতা ছিলেন অষ্টাদশ শতকে ওই এলাকার একজন সুফী সাধক। দরবেশ ওই অঞ্চলে কয়েকটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে যান।

তিয়ান শান

কাজাখস্তানের দক্ষিণে তিয়ান শান পার্বত্য অঞ্চলে কাজাখস্তানের সবচাইতে উঁচু পর্বতের অবস্থান। মাথায় সাদা বরফের টুপি পরা এ পর্বতের নাম খান টেংরি। এর উচ্চতা প্রায় ২৩ হজার ফুট। যারা এটিতে চড়েছে তারা এর অপরূপ সৌন্দর্যে অভিভূত। অনেকে বলে, এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পর্বতচূড়া।

আপেলের জন্মস্থান

তিয়ান শান পার্বত্য অঞ্চলের উর্বর ভূমিকেই মনে করা হয় ‘আপেলের জন্মস্থান’। অ্যাপ্রট নামে স্থানীয় একজাতের আপেল। এর প্রকাণ্ড আকৃতি, রসালো মাংস এবং চারদিক মাতোয়ারা করা সৌরভের জন্য জার সম্রাট এবং সোভিয়েত নেতৃবৃন্দ – উভয়েরই প্রিয় ছিল অ্যাপ্রট আপেল।

এমেল ন্যাশনাল পার্ক

কিজিলকুম মরুভূমির পূর্ব দিকে অবস্থিত আলতিন-এমেল ন্যাশনাল পার্ক। লোকজন প্রায়ই পার্কে আসে গায়ক ব্রাচান রহস্য দেখতে। আবহাওয়ার একটি বিশেষ অবস্থায় ব্যাপারটি প্রত্যক্ষ করা যায়। আবহাওয়া যখন শুষ্ক হয়ে যায় এবং ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে, তখন দেখা যায়, দু’মাইল এলাকার বালিয়াড়িগুলোর বালি প্রায় ৪০০ ফুট উঁচুতে উঠে গিয়ে ওড়াউড়ি করতে থাকে। এ সময় একটা ভারি গলার আওয়াজের গুনগুন শব্দের মতো শোনা যেতে থাকে। এটাই হলো বালিয়াড়ির ‘গান’।

পর্যটন

কাজাখস্তানের পাঁচটি পর্যটন অঞ্চল: আস্তানা শহর, আলমাটি শহর, পূর্ব কাজাখস্তান, দক্ষিণ কাজাখস্তান, এবং পশ্চিম কাজাখস্তান এলাকা। আর শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে- কাজাখস্তানের তৈল রাজধানী আত্যরাউ, সোভিয়েত ধাঁচের বৃহত্তম শহর আলমাটি, আকতুবে, পাভলোদার, সেমে, শ্যামকেন্ত ও তুর্কেস্তান।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *