পর্যটন শিল্প বিকাশে হোটেল মোটেল রেস্তোরাঁ রিসোর্ট

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে হোটেল ও পর্যটন শিল্প এখন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে। দ্রুত ও অতিবর্ধনশীল একটি শিল্প হিসেবে এগুলো এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে এই খাতটি কয়েক দশক আগেও তেমন জনপ্রিয় ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই খাতটিও আমাদের দেশে সম্ভাবনাময় একটি খাতে পরিণত হয়েছে।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

অবসর যাপনের নিরাপদ আশ্রয়

বাংলাদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁর ইতিহাস

হোটেল-রেস্তোরাঁ ক্ষণকালীন বসবাস ও আহারের কিংবা শুধুই আহারের জন্য নির্ধারিত স্থান। এটি ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ব্যক্তি মালিকানায় বা সরকারিভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে পূর্বে এ ব্যবসার বিশেষ প্রচলন ছিল না। ঐতিহ্যগতভাবে এদেশের জনসাধারণ তাদের অতিথিদের নিজ বাড়িতে রাখে এবং বাড়িতেই তাদের খানাপিনার ব্যবস্থা করে থাকে। অতিথি বা আত্মীয়-স্বজনদের হোটেলে রাখা বা তাদের রেস্তোরাঁয় আপ্যায়ন করার প্রস্তাব একটি নিন্দনীয় বিষয় বলে গণ্য হতো।

হিন্দুরা মনে করে অতিথি ভগবান এবং তারা অনেক কল্যাণ বয়ে আনে। মুসলমানদের দৃষ্টিতে সাধ্যমতো অতিথিদের সেবাযত্ন করা পুণ্যের কাজ। তাই অতীত বা মধ্যযুগে হোটেল-রেস্তোরাঁর কোন কদর ছিল না। তখন হোটেল-রেস্তোরাঁ পথিমধ্যে যাত্রীনিবাস হিসেবেই গড়ে ওঠেছিল। দূরপাল্লার যাত্রীরা এসব নিবাসে রাত্রিযাপন করত এবং তাদের ঘোড়া রাখত। সাধারণভাবে যাত্রীরা আশ্রয় এবং আহারের জন্য আশ্রম, মন্দির বা মসজিদে যেত।

ব্রিটিশ শাসনামলে সরকারি কর্মচারি ও তাদের অতিথিরা ডাক বাংলো বা সার্কিট হাউজে রাত্রিবাস বা আহারের জন্য যেত। বিশ শতকের পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে বাংলাদেশে জেলা পর্যায়ে ওয়াপদা (পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) তাদের দেশি ও বিদেশি প্রকল্প বিশেষজ্ঞদের জন্য বেশকিছু রেস্ট হাউজ তৈরি করে। জেলা পর্যায়েও সরকার তাদের নিম্নপদস্থ কর্মচারিদের জন্য অনেক রেস্ট হাউজ তৈরি করে।

ষাটের দশক থেকে পর্যটন শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পর্যটন কর্পোরেশন দেশের বিভিন্ন জায়গায় হোটেল ও মোটেল তৈরি করতে শুরু করে। এসব হোটেল বা মোটেলে আবাস ও আহারের সুব্যবস্থা করা হয় যাতে বিদেশিরাও এখানে থাকতে পারে। এ ধরনের বড় আবাস-স্থান তৈরি করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে।

এসব হোটেল এবং মোটেলে আরামদায়ক বাস, দেশি-বিদেশি নানা প্রকার আহারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও সেখানে আছে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় জায়গা দেখার ব্যবস্থা, গাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা এবং খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা। এর ফলে দেশের অনেক ঐতিহাসিক স্থান, কৃষ্টি, উপজাতীয় জীবন এবং প্রকৃতিভিত্তিক স্থান পরিচিতি লাভ করে, যেমন পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট, উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী এলাকা এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটা।

ঢাকর মহাখালীতে পর্যটনের হোটেল-রেস্তোরাঁ ‘অবকাশ’কে দেশের উচ্চমানের হোটেল, রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য জনশক্তির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ঢাকার ২০ কিমি পশ্চিমে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের কাছেই গড়ে তোলা হয় ‘জয়’ নামের আরও একটি সুন্দর রেস্তোরাঁ।

বাংলাদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁর বিকাশ

দেশের শহর বন্দরে ব্যক্তিমালিকানায় ছোট ছোট বহু হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব জায়গা ব্যবসায়ী এবং যারা মামলা-মোকদ্দমা করতে আসে তাদের থাকা-খাওয়ার সুবিধার জন্য। দেশের প্রথম উচ্চমানের হোটেল গড়ে ওঠে ঢাকার শাহবাগে। এটি পঞ্চাশের দশকে সরকারি পর্যায়ে তৈরি হয়, উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি অতিথিদের আবাস ও আহারের ব্যবস্থা করা এবং বড় আকারের অভ্যর্থনা, লাঞ্চ ও ডিনারের ব্যবস্থা করা।

ষাটের দশকে ঢাকায় সরকারি পর্যায়ে ৩০০ কামরার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল তৈরি করা হয় এবং শাহবাগ হোটেলটিকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা হয়। এই কলেজকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে বর্তমানের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলটি এখন রূপসী বাংলা নামে পরিচিত। এ হোটেলে দেশবিদেশের অতিথি, বিভিন্ন এয়ার লাইনের অতিথিরা আরাম আয়েশে থাকতে পারে। এখানে বড় আকারের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে।

এর কিছুদিন পরেই ঢাকার ব্যবসা কেন্দ্র মতিঝিলে একটি তিন তারকা বেসরকারি হোটেল পূর্বাণী তৈরি করা হয়। এ হোটেলের থাকা-খাওয়ার খরচ বেশ কম, তাই দেশীয় অতিথিরাই এখানে বেশি থাকেন। এর পরপরই গড়ে ওঠে সরকারি পর্যায়ে ৩০০ কামরার পাঁচ তারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও। এটি জাপানি সরকারের অর্থ সাহায্যে তৈরি করা হয় এবং এখন এটি বিদেশি অতিথিদের আবাসের সবচেয়ে সুন্দর স্থান। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং আরও অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এখানে অতিথি হিসেবে থেকেছেন।

রূপসী বাংলা ও সোনারগাঁ হোটেল প্রতিষ্ঠার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের এদেশে আসা যাওয়ায় সুযোগ-সুবিধা প্রসারিত হয়েছে। এ দুটি হোটেলেই অনেক উচ্চমানের দেশি-বিদেশি আহার ও পানীয়ের ব্যবস্থা আছে। চট্টগ্রামে আগ্রাবাদে একটি উন্নতমানের হোটেল তৈরি হয়েছে ব্যক্তি মালিকানায়। স্বল্পখরচে ঢাকায় থাকা-খাওয়ার জন্য আরও তিনটি ছোট হোটেল, যথা সুন্দরবন, জাকারিয়া এবং রাজমণি-ঈশাখাঁ গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গত তিন দশকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে অনেক নতুন হোটেল এবং রেস্তোরাঁ তৈরি করা হয়। অনেকগুলি হোটেল-রেস্তোরাঁ অপেক্ষাকৃত কম খরচে ভাল আবাস ও আহারের ব্যবস্থা করে থাকে। ঢাকার উচ্চমর্যাদার আবাসিক এলাকা গুলশান, বারিধারা, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরায় এ ধরনের কয়েক ডজন অতিথি ভবন গড়ে উঠেছে এবং এগুলি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। যেসব বিদেশি ব্যবসায়ী এদেশে বেশিদিন থাকে তারা এসব অতিথি ভবন পছন্দ করে। কারণ এখানে খরচ অনেক কম।

ঢাকা, চট্টগ্রামে এবং অন্যান্য শহরেও শত শত নতুন নতুন রেস্তোরাঁ তৈরি হয়। এসব রেস্তোরাঁয় চাইনিজ, থাই, কোরিয়ান, জাপানিজ, ইন্দোনেশিয়ান এবং দক্ষিণ ভারতীয় খাবার পাওয়া যায়। খুলনাতেও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ভাল হোটেল এবং রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠেছে। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে বেশ কতগুলি ক্লাব তাদের সদস্যদের জন্য ভাল থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে। প্রতিনিয়ত অনেক ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠছে যেখানে স্যান্ডউইচ, পিৎজা, কাবাব, হটডগ, বার্গার, ফ্রায়েড চিকেন এবং কোলড্রিং পাওয়া যায়।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিয়ে-শাদি, সম্মেলন ইত্যাদিতে ৫০ থেকে ৫০,০০০ লোকের খানাপিনার ব্যবস্থা করার সুব্যবস্থা এখন সারা দেশে গড়ে উঠেছে। এদের দক্ষ জনশক্তি দিয়ে রাতারাতি বিরাট আকারের প্যান্ডেল তৈরি করা যায়, টেবিল চেয়ারের ব্যবস্থা এবং সুশিক্ষিত বাবুর্চি কর্তৃক উঁচুমানের খাবার, যেমন কাবব, রোস্টচিকেন, রেজালা, কোর্মা, বিরিয়ানি, পোলাও এবং ফির্নি পরিবেশন করা যায়। তারা এসব খাবরের সাথে মানানসই বোরহানি এবং সালাদও পরিবেশন করে।

শহর এলাকায় এসব ভোজের জন্য বড় কমিউনিটি সেন্টার গড়ে উঠেছে। রেস্তোরাঁয়ও এসব ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। অতিথির সংখ্যা বেশি হলে ফাঁকা জায়গায় প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। ধনী ব্যাক্তিরা সাধারণত বড় হোটেলে বড় বড় ভোজের ব্যবস্থা করে থাকে। ক্যাটারিং শিল্পের লোকেরা বাড়িতেও জন্মদিন, পানচিনি এবং গায়ে হলুদে ছোট ছোট ভোজের ব্যবস্থা করে থাকে। কখনও কখনও সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় হোটেল, রাজনৈতিক দল, এনজিও এসব ক্যাটারার এবং ডেকোরেটরদের সাহায্য নিয়ে বাইরে বড় বড় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে।

রাজধানীতে হোটেল-রেস্তোরাঁ

রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এই মেগা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ মানুষ আসা-যাওয়া করে। দেশের সব প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ঢাকায় কেন্দ্রিভূত হওয়ায় সারাদেশ থেকেই বিভিন্ন কাজে এসব মানুষকে ঢাকায় আসতে হয়। কিন্তু ঐসব লোকের মধ্যে এক অংশের ঢাকার কোন আত্মীয়স্বজন নেই। যাদের আছে তারা বাড়ি ভাড়ার উচ্চহারের কারণে ছোট বাসায় থাকেন বলে অতিথিকে ঠাঁই দেয়া মুশকিল। তাই রাতযাপনে ঢাকা আগমনকারীদের হোটেলে উঠতে হয়। মূলত এ কারণে ঢাকার হোটেল ব্যবসা ভালো। বিদেশি অতিথিদের জন্য গড়ে উঠেছে পাঁচ তারকা হোটেল। ঢাকায় সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, রেডিসন, হোটেল লা মেরিডিয়ান, ওয়েস্টিনের মতো পাঁচ তারকা হোটেলের পাশাপাশি অত্যন্ত কম খরচে থাকার হোটেলও রয়েছে এই শহরে। এসব হোটেলগুলো রয়েছে অলিগলিতে।

অর্থনীতিতে অবদান রাখছে হোটেল-রেস্তোরাঁ

অর্থনীতিতে হোটেল-রেস্তোরাঁর অবদান ১২০০ কোটি টাকা। দেশে ক্রমেই হোটেল, মোটেল, চায়ের দোকান ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন নতুন হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। আর এ ব্যবসায় স্বাবলম্বী হওয়ার দারুণ সম্ভাবনা থাকায় পুরুষের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে নারীরাও। মূলত ব্যক্তিগত ও যৌথ উদ্যোগে সড়ক-মহাসড়ক, ফুটপাত ও রাস্তার পাশে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে তিন লাখ আবাসিক-অনাবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার ও চায়ের দোকান রয়েছে। এর সঙ্গে ৯ লাখেরও বেশি মানুষ জড়িত। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা আট লাখ ৫৬ হাজার, আর বাকি ৫০ হাজার নারী। বছরে এ খাত থেকে অর্থনীতিতে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা যোগ হচ্ছে।

বিবিএস’র কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষ এখন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। কারণ এখানে ঝুঁকি কম। লাভের সুযোগ থাকে বেশি। এই পেশায় কর্মসংস্থানের সংখ্যাও বাড়ছে। দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি মূল্য সংযোজন হচ্ছে। ব্যক্তিগত ও যৌথ উদ্যোগের কারণে গত এক দশকেও এ ব্যবসার আকার ও পরিধি বেড়েছে। পাশাপাশি জিডিপিতে সেবাখাতের অবদানও বাড়ছে।

দেশব্যাপী হোটেল-রেস্তোরাঁর বিস্তৃতি

বিবিএস’র জরিপে দেখা গেছে, হোটেল-রেস্তোরাঁর চেয়ে চায়ের দোকান অনেক বেশি। রাজধানী ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলায় এখন এক লাখ ৮০ হাজার চায়ের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৭৯ হাজারই ব্যক্তিগত। আর বাকি এক হাজার যৌথ উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রেস্টুরেন্ট। দেশে রেস্তোরাঁ রয়েছে লক্ষাধিক। এর মধ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ৯০ হাজার, আর বাকি ১০ হাজার যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে হোটেল ও মোটেল। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলাতে প্রায় ২০ হাজার হোটেল ও মোটেল রয়েছে। অন্যদিকে মদের বার রয়েছে শতাধিক। এর মধ্যে ৭৫টি যৌথ আর বাকি ২৫টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে। সব মিলিয়ে দেশে তিন লাখ আবাসিক-অনাবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার ও চায়ের দোকান রয়েছে।

সারা দেশেই হোটেল ব্যবসা ব্যাপক বিকশিত হয়েছে। রাজধানীত উত্তরা, ফার্মগেট, পল্টন, মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে হোটেল ব্যবসা গড়ে উঠেছে। তাছাড়া রাজধানীর বাইরেও বিভাগীয় শহরগুলোতে, জেলা ও উপজেলাতেও এখন এই ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে ব্যাপক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিসিএস সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের জরিপে দেশে হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা ছিল সোয়া দুই লাখ। সে হিসাবে গত দশ বছরে হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ হাজার। এর আগে ১৯৯২ সালে ছিল সোয়া এক লাখ। এছাড়া ২০০২ সালে এই ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিল চার লাখ ৮০ হাজার মানুষ। সেটি এখন বেড়ে হয়েছে ৯ লাখেরও বেশি।

বেকারত্ব ঘুচাচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ

গত দশ বছরে নারীদের এই পেশায় যোগ হওয়া ছিল বেশ লক্ষণীয়। ২০০২ সালে এই পেশায় জড়িত ছিল মাত্র ছয় হাজার নারী। সেটি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজারে। তবে এ সময় সরকারি উদ্যোগে যেসব হোটেল ও মোটেল পরিচালিত হতো, তা অনেক কমে গেছে। ২০০২ সালে সরকারিভাবে ৭১৫টি হোটেল, মোটেল পরিচালিত হলেও সেটি এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪০-এ। অর্থাৎ বাকি সব হোটেল মোটেল ও রেস্তোরাঁই ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জরিপে আরো দেখা গেছে, এই ব্যবসার সঙ্গে যে ৯ লাখ মানুষ জড়িত এর মধ্যে পাঁচ লাখ বেতনভুক্ত। যার মধ্যে প্রশাসক, ম্যানেজার, সেলসম্যান রয়েছে। আর বাকি চার লাখ রয়েছে যারা বেতনভুক্ত নয়। এর মধ্যে স্বত্বাধিকারী, অংশীদার রয়েছে। সবচেয়ে বেশি যুক্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে। ৯ লাখের মধ্যে সাড়ে সাত লাখই হোটেল ও রেস্তোরাঁ পেশায় সম্পৃক্ত। বাকিরা চায়ের দোকান ও মোটেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

হোটেল ব্যবসা শুরুর ইতিহাস

স্বাধীনতার পর পর গুলিস্তানে হোটেল আল মনসুর বিখ্যাত হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় জয়কালী মন্দির সংলগ্ন হোটেল সুপার। সারা দেশ থেকে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এসে এ দু’টি হোটেলে উঠতেন। তবে যাদের সামর্থ্য ছিল তারা উঠতেন হোটেল শেরাটনে। সে সময় নবাবপুর রোড ও সিদ্দিক বাজার রোডে ৬টি হোটেল ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একমাত্র হোটেল সুপার ছাড়া বাকি সব বন্ধ হয়ে গেছে। হোটেল মনসুর ভেঙে মার্কেট তৈরি হয়েছে। আশির দশকের পর হতে গুলিস্তান, নবাবপুর রোড, পল্টন, নয়াপল্টনে মধ্যমানের হোটেল গড়ে উঠে।

নব্বইয়ের দশকের পর হতে মহাখালী, বনানী, মগবাজার, মালিবাগ, গুলশানে মধ্যমানের হোটেল গড়ে ওঠে। এ সময় মগবাজার, ইংলিশ রোড, নবাবপুর ও মহাখালীর হোটেলে অবৈধ নারী ব্যবসা চালু হয়। শুরু হয় পুলিশ ও মহল্লার রংবাজদের উৎপাত। ফলে অনেক হোটেল সুনাম ধরে রাখতে না পারায় ধীরে ধীরে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এ সময়েই কারওয়ান বাজারে হোটেল লা ভিঞ্চি, হোটেল ডা ভিঞ্চি গড়ে ওঠে। এমনি করে রাজধানী জুড়ে ১৯৯০’র দশকে ৫০টি মাঝারি মানের হোটেল চালু হয়। অর্থাৎ ব্যবসায়িক কারণে কয়েকটি বন্ধ হলেও এর কয়েকগুন বেশি হোটেল চালু হয়েছে।

সময়ের দাবি ও হোটেল ব্যবসা

স্বাধীনতার পরে মাত্র কয়েকটি হোটেল থাকলেও সময়ের চাহিদা মেটাতে এই মেগা শহরে গড়ে উঠেছে শত শত হোটেল। ফাইভ স্টার হোটেলের পাশাপাশি ফোর স্টার ও থ্রি-স্টার হোটেল গড়ে উঠেছে। সময়ের দাবিতে রাজধানীতে যেসব হোটেল গড়ে উঠেছে তার মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ড হোটেল ঢাকা, কর্ণফুলী গেস্ট হাউস, গোধূলি গেস্ট হাউস, হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, হোটেল রেডিয়ান (আবাসিক হোটেল), হোটেল সিটি হোমস, হোটেল ভিক্টোরিয়া, হোটেল ৭১, হোটেল রেডিয়ান, হোটেল গোল্ডেন ডিয়ার, গার্ডেন রেসিডেন্স, কোয়ালিটি ইন (আবাসিক হোটেল গুলশান), ঢাকা মিড টাউন হোটেল, শ্যালেট লাক্সারী হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট, হোটেল ওয়াশিংটন লিঃ, হোটেল গুলশান ইন, হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিঃ, হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল অবকাশ, এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ, হোটেল এসকট, বেস্ট ওয়েস্টার্ন লা ভিঞ্চি হোটেল ইত্যাদি।

এছাড়া হোটেল লেক ক্যাসেল লিমিটেড, হোটেল লেকশোর, হোটেল অরচার্ড প্লাজা, ঢাকা মিড টাউন হোটেল, বেঙ্গল ইন হোটেল, রিগস ইন হোটেল, সুন্দরবন হোটেল, হোটেল মুনমুন (আবাসিক), হোটেল ছায়ানীড়, (আবাসিক), হোটেল আনোয়ারা (আবাসিক), হোটেল মেহরান (আবাসিক), হোটেল ইন্টারকম (আবাসিক), হোটেল সম্রাট আবাসিক, হোটেল ফার্মগেট (আবাসিক), হোটেল স্কাই গার্ডেন, হোটেল রয়্যাল প্যালেস (প্রাঃ) লিঃ, হোটেল গুলিও ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল কর্ণফুলি (আবাসিক), হোটেল ইয়ানেমী ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল আম্বালা ইন (আবাসিক), হোটেল সেল নিবাস (আবাসিক), সুন্দরবন হোটেল (আবাসিক), হোটেল লি ভিন ইন আবাসিক (রাজারবাগ), হোটেল আহেলী আবাসিক (রাজারবাগ), হোয়াইট হাউস হোটেল, হোটেল সেন্টার পয়েন্ট, নিউ শাপলা আবাসিক হোটেল (মালিবাগ চৌধুরীপাড়া), হোটেল শহীদবাগ (আবাসিক) দক্ষিণ শাহজাহানপুর, হোটেল গ্রীণ আবাসিক এন্ড রেস্টুরেন্ট টাউন হল ইত্যাদি।

আরো রয়েছে হোটেল রাজমণি ঈসা খাঁ, ইম্পেরিয়াল হোটেল ইন্টারন্যাশনাল (বিবি অ্যাভিনিউ), হোটেল রমনা রেসিডেন্সিয়াল, হোটেল আশরাফি, হোটেল ইসলামিয়া ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল ইয়েমেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, রুপসী বাংলা হোটেল, হোটেল ক্যাটালিনা ইন (আবাসিক), স্যুইট ড্রিম বুটিক হোটেল, হোটেল গোল্ডেন পিক, হোটেল বায়তুল সামীর ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সফিনা আবাসিক (হাজী ওসমান গনী রোড), টাইম স্টার হোটেল আবাসিক, হোটেল জবেদা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল ইসরাভ টু স্টার, হোটেল শাদ ইন্টারন্যাশনাল, ঢাকা হোটেল, হোটেল নিউ শুভেচ্ছা ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক) সিদ্দিক বাজার, হোটেল আল রাজ্জাক ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সিটি প্যালেস আবাসিক, হোটেল বাইতুল আবাসিক, হোটেল আল হাবিব (আবাসিক), হোটেল দি ক্যাপিটাল, হোটেল মিডওয়ে ইন্টারন্যাশনাল (প্রা.) লিমিটেড, হোটেল ওসমানী ইন্টারন্যাশাল (প্রাঃ) লিমিটেড, হোটেল ওসমানী ইন্টারন্যাশনাল, বিউটি বোর্ডিং (শ্রীশদাস লেন) ও কল্পনা বোর্ডিং ও হোটেল ইত্যাদি।

হোটেলের আয়-ব্যয়

রাজধানীতে ভিআইপি শ্রেণির মানুষের জন্য হোটেল সোনারগাঁ, রুপসী বাংলা, ওয়েস্টার্ন, রেডিসন ও হোটেল পুর্বানী রয়েছে। এদের প্রায় কাছাকাছি ১১টি হোটেল রয়েছে। এখানে সাধারণের পক্ষে থাকা ও খাওয়া প্রায় সম্ভব নয়। সাধারণত এসব হোটেল ভিআইপিরা এসে রাতযাপন করে। বিদেশিদের একটি অংশ যারা ভিআইপি নয় যারা হোটেল অরচার্ড পয়েন্ট, হোটেল ভিক্টোরিয়া, হোটেল সেলনিবাস, হোটেল সারিনা, হোটেল ৭১, হোটেল রাজমণি ঈশাখাঁ, হোটেল সুন্দরবন, হোটেল সাম্বালা টন, স্কাই গার্ডেন, হোটেল লেকসুর, হোটেল লেক ক্যাসেল, হোটেল এসকট, হোটেল ওয়াশিংটন, হোয়াইট হাউসে অবস্থান নিয়ে থাকে। ঢাকার হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড সিঙ্গেল ৮ হাজার টাকা থেকে ৫০০ টাকায় কক্ষ পাওয়া যায়। রাজধানীর প্রায় সব হোটেলেই আয়-ব্যয় হিসাব রয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য আয়কর বিবরণীতে তারা দিয়ে থাকেন। সকল হোটেলের মালিক রাজস্ব দিয়ে থাকে।

পর্যটন শিল্প বিকাশে হোটেলের

পর্যটন শিল্পের বিকাশে হোটেল বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত পর্যটন খাত। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ এদেশে আসে ঘুরে বেড়াতে। কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুয়াকাটায় বিদেশি পর্যটকরা এসে থাকে। বিদেশি পর্যটকদের টানতে এসব এলাকায় হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। তাছাড়া এদেশের একটি শ্রেণির মানুষ এখন ছুটির দিনে ঘুরে বেড়ানো শুরু করেছে। দর্শনীয় স্থানে গিয়ে রাতযাপনের জন্য তারা হোটেলে উঠছে। ফলে অর্থনীতির চাকা ঘুরছে। সব মিলিয়ে পর্যটন শিল্প বিকাশে হোটেল ভূমিকা রাখছে। বিদেশি পর্যটকদের এদেশে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। হোটেল শিল্পের বিকাশে সরকার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পর্যটকদের ভিড় বেশি সেসব এলাকায় হোটেল নির্মাণে স্পেশাল ঋণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ঈদ, পূজা, থার্টি ফার্স্ট নাইটে সমুদ্র সৈকত এলাকায় হোটেলসমূহে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আধুনিক ও উন্নততর করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বাড়ছে রির্সোটের ব্যবসায়

ঢাকার বাসিন্দাদের ব্যস্ততম ও কর্মমূখর পরিবেশ থেকে দূরে গিয়ে অবকাশ যাপন, বিনোদন, বনভোজন, কনফারেন্স, সেমিনার অথবা কর্মশালা আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে। গ্রাহকদের এসকল প্রয়োজন মিটানোর তাগিদে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনেকগুলো রিসোর্ট গড়ে ওঠেছে। রিসোর্টগুলো হলো যমুনা রিসোর্ট (টাঙ্গাইল), জাস্তাত হলিডি রিসোর্ট (সিলেট), পদ্মা রিসোর্ট (মুন্সিগঞ্জ), পেবল স্টোন রিসোর্ট (ইনানী), অরুনিমা কান্ট্রিসাইড ও গলফ রিসোর্ট (নড়াইল), আল-য়েশার রিসোর্ট, ফয়েজ লেক রিসোর্ট (চট্টগ্রাম), মেঘনা ভিলেজ, রয়েল রিসোর্ট (টাঙ্গাইল), এলেঙ্গা রিসোর্ট (টাঙ্গাইল), মোজ্জাফর গার্ডেন ও রিসোর্ট (সাতক্ষীরা), কোরাল ভিউ রিসোর্ট (সেন্ট মার্টিন) ও নাজিমগড় রিসোর্ট (সিলেট) পাকশি রিসোর্ট (ঈশ্বরদী), হিলসাইড রিসোর্ট ও মারমাইড ইকো রিসোর্ট।

ঢাকার বাসিন্দাদের ব্যস্ততম ও কর্মমূখর পরিবেশ থেকে দূরে গিয়ে অবকাশ যাপন, বিনোদন, বনভোজন, কনফারেন্স, সেমিনার অথবা কর্মশালা আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে। গ্রাহকদের এসকল প্রয়োজন মিটানোর তাগিদে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনেকগুলো রিসোর্ট গড়ে ওঠেছে। রিসোর্টগুলো হলো যমুনা রিসোর্ট (টাঙ্গাইল), জাস্তাত হলিডি রিসোর্ট (সিলেট), পদ্মা রিসোর্ট (মুন্সিগঞ্জ), পেবল স্টোন রিসোর্ট (ইনানী), অরুনিমা কান্ট্রিসাইড ও গলফ রিসোর্ট (নড়াইল), আল-য়েশার রিসোর্ট, ফয়েজ লেক রিসোর্ট (চট্টগ্রাম), মেঘনা ভিলেজ, রয়েল রিসোর্ট (টাঙ্গাইল), এলেঙ্গা রিসোর্ট (টাঙ্গাইল), মোজ্জাফর গার্ডেন ও রিসোর্ট (সাতক্ষীরা), কোরাল ভিউ রিসোর্ট (সেন্ট মার্টিন) ও নাজিমগড় রিসোর্ট (সিলেট)।

দেশের পর্যটন খাতে হোটেল মোটেল ও রিসোর্টে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকা। একের পর এক গড়ে উঠছে পাঁচ তারকা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক মানের সব রিসোর্ট, হোটেল ও মোটেল। বিদেশি ট্যুরিস্টের আগমন আশানুরূপ। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুন্দরবনে গড়ে উঠছে একের পর এক বেসরকারি ট্যুরিস্ট মোটেল ও রিসোর্ট। শুধু কক্সবাজারেই একটি মোটেল নির্মিত হয়েছে পাঁচ শ’ কোটি টাকায়। প্রায় তিন শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি ট্যুরিস্ট স্পট। এর মধ্যে সাড়া ফেলেছে পাঁচ তারকা হোটেল- গ্র্যান্ড সুলতান ও পাঁচ তারকা রিসোর্ট- ডুসাই। কক্সবাজারে সী-পার্ল নামে পাঁচ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দশতলার পাঁচ তারকা মোটেল নির্মাণ হয়েছে। এতে আসন রয়েছে পাঁচ শতাধিক। এতে ওয়েস্টার্ন কালচারের সব ধরনের সুযোগ সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বেসরকারি পর্যটন খাতের ভিত মজবুত হচ্ছে।

 ‘শুল্ককর রেয়াত’ সুবিধা

দেশে তিন বা পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেলের সংখ্যা খুব কম। এতে পর্যটকরা নানামুখী সমস্যায় পড়েন। এ কারণে পর্যটন শিল্পের অন্যতম সেবা খাত হোটেলের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে সরকার। তিন বা পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেল নির্মাণে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ হোটেলে মালিকদের শুল্ক-কর রেয়াতের সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকার শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধা পাওয়ার জন্য ১৪টি সূচক নির্ধারণ করে দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হোটেলে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকতে হবে। হোটেলে কমপক্ষে ১০০টি কক্ষ থাকতে হবে, বাথরুমসহ কক্ষের আয়তন ন্যূনতম ২৬ বর্গফুট হতে হবে। ন্যূনতম ৫০টি কারের জন্য নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। সভাকক্ষ-সম্মেলন কেন্দ্র, বাঙ্কুয়েট হল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন বিষয়ের জন্যও সূচক নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

দেশের সব প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ঢাকায় কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সারাদেশ থেকেই বিভিন্ন কাজে বহু মানুষকে ঢাকায় আসতে হয়। কিন্তু ঢাকায় সবার আত্মীয়-স্বজন নেই। আর উচ্চ বাড়ি ভাড়ার কারণে অনেকেই অত্যন্ত ছোট বাসায় থাকেন। অতিথিকে ঠাঁই দেয়া মুশকিল। তাই ঢাকায় হোটেল ব্যবসা বেশ ভাল চলে বলা যায়। ঢাকায় সোনারগাও, রূপসী বাংলা, রেডিসন, ওয়েস্টিনের মত পাঁচ তারকা হোটেলের পাশাপাশি অত্যন্ত কম খরচে থাকার হোটেলও রয়েছে। হোটেল রয়েছে অলিতে গলিতে। এসব জায়গায় থাকার পরিবেশ আর খাবারের মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। সত্য তবে আপনার প্রয়োজনে মিটানোর জন্য য়েথষ্ট।

হোটেল এবং মোটেল

হোটেল বহুতলবিশিষ্ট হয়। এখানে ঘরের দরজাগুলো দালানের ভেতরের দিকে থাকে। প্রধানত পর্যটনকেন্দ্র বা শহরের ভেতরে অবস্থিত হয়। অপরপক্ষে মোটেল সাধারণত ১-২ তলা হয়ে থাকে। ঘরগুলোর দরজা বাইরের দিকে থাকে। এর চারপাশ সাধারণ মানের ব্যালকনি বা বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকে। মোটেল সাধারণত মহাসড়ক, গ্রাম, শহরের পাশে অবস্থিত হয়ে থাকে যেখানে একজন ভ্রমণকারী রাত কাটাতে পারেন। মূল দৃশ্যগত পার্থক্য হল ঘরের দরজার দিকমুখীতা। হোটেলের প্রতিটি ঘরের দরজা হোটেলের অভ্যন্তরীণ পথের সাথে যুক্ত থাকে আর মোটেলের ঘরের দরজাগুলো সরাসরি মোটেলের পার্কিং লটের দিকে হয়ে থাকে। এই বৈশিষ্ট্য দেখে সহজেই হোটেল আর মোটেল চিহ্নিত করা যায়।

হোটেল বলতে একটি বিল্ডিংকে বোঝায় যেখানে মানুষ কক্ষ এবং খাবারের মূল্য পরিশোধ করে সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করে (ছুটি কাটানোর জন্য, জরুরি প্রয়োজনে অবস্থানের জন্য প্রভৃতি)। কিন্তু মোটেল বলতে একরকম ব্যবস্থাপনাকে বোঝায় যা সেসব লোকের থাকার জন্য তৈরি (অর্থ পরিশোধসাপেক্ষে) যারা গাড়িতে করে ভ্রমণ করেন। এখানে কক্ষের কাছাকাছি জায়গায় গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা থাকে। কিছু মোটেলে ফাস্টফুড এবং টেলিফোনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে হোটেলগুলোতে বিশেষ করে তারকা হোটেলগুলোতে আরো অনেক সুবিধা যেমনঃ খেলার জায়গা, ইন্টারনেট সুবিধা, সুইমিং পুল ইত্যাদি থাকে।

তারকা হোটেল

আবাসিক হোটেলের ধারা থেকেই বস্তুতঃ তারকা হোটেলের উদ্ভব। প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিলব্ধ সুবিধা সম্পন্ন হয়ে আবাসিক হোটেলগুলো লাভ করেছে তারকা মর্যাদা। সুবিধার তারতম্যের কারণে তারকা মর্যাদায়ও রয়েছে পার্থক্য। সমগ্র পৃথিবীতেই তিন তারকা ও পাঁচ তারকা হোটেলের ছড়াছড়ি এবং এই ধারায় সর্বশেষ সংযোজন সাত তারকা হোটেলের। হোটেলের তারকা মান শুধু হোটেলের মর্যাদাই বৃদ্ধি করে না, এর সাথে একটি দেশের ভাবমূর্তিও জড়িত। কেননা, বিদেশি অতিথিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং স্থানীয় নাগরিকদের আর্থিক সামর্থ্যরে সাথে তারকা হোটেলের একটি অদৃশ্য সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশের তারকা হোটেলগুলো মূলতঃ রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। যদিও সম্প্রতি ঢাকার বাইরেও তারকা হোটেলের বিস্তৃতি ঘটেছে। রাজধানীর ঢাকার তারকা হোটেল গুলোর মধ্যে রয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, রেডিসন ওয়াটার গার্ডেন, ঢাকা রিজেন্সী হোটেল এন্ড রিসোর্ট, হোটেল স্যারিনা, হোটেল রূপসী বাংলা, হোটেল লা মেরিডিয়ান, হোটেল রাজমণি ঈশা খাঁ প্রভৃতি। প্রতিটি হোটেলেই তাদের স্বতন্ত্র সুযোগ-সুবিধা এবং গ্রাহক সেবার জন্য গ্রাহকদের কাছে লাভ করেছে স্বতন্ত্র মর্যাদা। সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন রুমগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিলাক্স, ডিলাক্স টুইন, সুপার ডিলাক্স,লাক্সারী ডিলাক্স, এক্সিকিউটিভ স্যুইট, কিং স্যুইট, প্রিমিয়ার স্যুইট, বাঙ্গালি স্যুইট প্রভৃতি। এসব রুম এবং স্যুইটগুলোর মধ্যে কতকগুলোর রয়েছে সিটি ভিউ সুবিধা। বস্তুতঃ রুমের আয়তন এবং সুযোগ-সুবিধার উপর নির্ভর করে এদের ভাড়া। রুম ও স্যুইটগুলোর ন্যনতম সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে, এলসিডি অথবা লেড টিভি, ক্যাবল চ্যানেলস, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, শীতাতপ সুবিধা প্রভৃতি।

হোটেলের অভ্যন্তরীণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে মিনি বার, বার, লন্ড্রি সুবিধা, রেস্টুরেন্ট সুবিধা, হল রুম, বল রুম, কনফারেন্স রুম, কেন্দ্রীয় শীতাতপ, ইনডোর গেমস, সুইমিং পুল, পার্লার, সেলুন, স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যায়ামাগার, স্যোনা এবং স্টীম বাথ, রুম সার্ভিস, স্যুভেনির শপ, শপিং কর্নার, ব্যাংক বা এটিএম বুথ, ফরেইন মানি এক্সচেঞ্জ, গিফট শপ, কার রেন্টাল, ফ্যাক্স, কপিয়ার, স্কুয়াশ কোর্ট, টেনিস কোর্ট, ২৪ ঘন্টা রিসেপশন, হুইয়ারপুল, চিকিৎসা কেন্দ্র, বাণিজ্যিক অফিস, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রভৃতি। তারকা হোটেল হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটির স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের কারনেই এদের রুম স্যুইট ভাড়া এবং বুকিং প্রণালী ও বুকিং রেট আলাদা আলাদা। হোটেলগুলোর বহিঃসেবার মধ্যে রয়েছে এয়ারপোর্ট ট্রিপ এবং নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা। অবশ্য এ সুযোগ বুকিং এবং পূর্ব যোগাযোগ সাপেক্ষে। এসব হোটেলে বোর্ডার তথা অতিথিদের বাইরেও কিছু নন- বোর্ডার সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা পেতে গেলে নন-বোর্ডারদেরকে পূর্ব থেকেই যোগাযোগ করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

এসব তারকা হোটেলে বছরের সর্বদাই ভিড় হয় না। সাধারণত পর্যটনকাল শীতকালে বাইরের অতিথি বেশি আসায়, শীতকালে ভিড় বেশি হয় এবং রুমের ভাড়াও তখন বেড়ে যায়। কেননা, রুমের ভাড়া সাধারণত রুমের সহজ প্রাপ্তির উপর নির্ভর করে। রুমের চাহিদা বেশি থাকলে সহজে রুম মেলে না বলে অনেক সময় রুমের ভাড়া কিছুটা বেড়ে যায়। এ ছাড়াও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উৎসব, সাংস্কৃতিক উৎসব বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় কিংবা আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে এসব হোটেলের চাহিদা বাড়ে এবং হোটেলে ভিড় বেশি হয়। তারকা হোটেলগুলো প্রতিনিয়তই তাদের সর্বাধুনিক সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং নিজেদের মর্যাদা এবং গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলছে তাদের একাগ্র ও নিরন্তর প্রয়াস।

গুলশান এলাকার হোটেল

ঢাকায় রাত্রি যাপনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মান ও খরচের হোটেল রয়েছে। এলাকার ওপর ভিত্তি করে হোটেলগুলোর মানেও কিছুটা তফাৎ পরিলক্ষিত হয়। গুলশানকে ঢাকার একটি অভিজাত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হয়ত সেজন্যই এখানে বেশ কিছু অভিজাত হোটেলের অবস্থান। এসব হোটেলে পাঁচ তারকা হোটেল ধাঁচের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। গুলশানের হোটেলের মধ্যে হোটেল অবকাশ, হোটেল এসকট, হোটেল লেক ক্যাসল, হোটেল লেকশোর, হোটেল সেন্টার পয়েন্ট ইত্যাদির নাম উল্লে­খযোগ্য।

এসব হোটেলে কেবল টিভি, ইন্টারনেট, ফ্যাক্স টেলিফোন, মানি এক্সচেঞ্জ, পরিবহন ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা থাকে। তাছাড়া অনেক হোটেলেই রয়েছে প্রশস্ত লবি, টেনিস কোর্ট, সুইমিংপুল, কনফারেন্স সেন্টার ইত্যাদি সুবিধা। এসব হোটেলের সিঙ্গেল রুমের ভাড়া মোটামুটি ১০০ থেকে ১২০ ডলার, ডিলাক্স রুমের ভাড়া ১৩০ থেকে ১৪০ ডলার এবং প্রিমিয়াম রুমের ভাড়া ১৫০ থেকে ১৬০ ডলার হয়ে থাকে।

উত্তরার হোটেল (আবাসিক)

হোটেল সিটি হোমস্, হোটেল রেডিয়ান, হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিঃ, গার্ডেন রেসিডেন্স, এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ইত্যাদি। বিমানবন্দর থেকে খুব কাছে এবং অভিজাত হওয়ায় উত্তরা এলাকায় দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল।

বুকিংঃ খালি থাকা সাপেক্ষে রুম বুকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ন্যূনতম ৩ দিন আগে রুম বুকিং দিতে হয়। বুকিং নিশ্চিতের সময় ৫০% অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়। ফোনে বুকিং দিলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বুকিং মানি পরিশোধ করতে হয়। বুকিং বাতিল করতে চাইলে একটু আগে ভাগে জানালেই ভালো। বুকিংকৃত দিনের কাছাকাছি সময়ে বাতিল করলে বুকিং মানি ফেরত পাওয়া যায় না। এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ হোটেলে ১ দিন পূর্বে বুকিং বাতিল করা যায়। রুমে উঠার সময় দেশি অতিথিকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদেশি অতিথিকে পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দিতে হয়। হোটেল ব্লাক রোজ ইন্টাঃ লিঃ এ ক্ষেত্র বিশেষে কাপল বোর্ডারগণের বিবাহের সনদের ফটোকপি জমা দিতে হয়। রুমগুলোতে চেক ইন ও চেক আউটের সময় দুপুর ১২ টা।

হোটেল ভবন ও রুমসংখ্যাঃ হোটেল সিটি হোমস্ ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন, রুমসংখ্য ২৬টি। হোটেল রেডিয়ান ৪র্থ তলা বিশিষ্ট ভবন, রুমসংখ্য ৪৫টি। হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিঃ ৫ম তলা বিশিষ্ট ভবন, রুমসংখ্যা ২৮টি। গার্ডেন রেসিডেন্স, ৫ম তলা ভবন, রুমসংখ্য ৩৭টি। হোটেল ব্লাক রোজ ইন্টাঃ লিঃ ৫ তলা ভবন, রুম সংখ্যা ২৬টি। এরো-লিংক ইন্টাঃ লিঃ ৫ তলা ভবন, রুমসংখ্য ৩৬টি।

কমপ্লি­মেন্টারী সার্ভিসঃ হোটেলগুলোতে কয়েকটি সার্ভিস ও সেবার জন্য কোন ধরনের চার্জ নেওয়া হয় না। এমন সেবাগুলো হলঃ স্বাগত পানীয়, সকালের নাস্তা, দৈনিক পত্রিকা, এয়ারপোর্ট পিক-আপ (সব হোটেলের জন্য প্রযোজ্য নয়), ইন্টারনেট সংযোগ, মডেম সরবরাহ ও লকার ব্যবস্থা।

রুমগুলোর সুযোগ-সুবিধাঃ উত্তরার হোটেলের রুমগুলোতে স্যাটেলাইট সংযোগসহ টেলিভিশন, টেলিফোন সংযোগ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ছোট রেফ্রিজারেটর, ইন্টারনেট সংযোগ, গরম পানি ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা, লাগোয়া বাথরুম এবং বাথটাব সুবিধা রয়েছে। হোটেল সিটি হোমসের স্যুইট রুমগুলোতে সোফাও রয়েছে। হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিঃ রয়েছে সেফটি লকার সুবিধা ও ওয়াইফাই সুবিধা। তবে এই হোটেলে ওয়াইফাই ব্যবহারে ৫০ টাকা চার্জ দিতে হয়।

পরিবহন ব্যবস্থাঃ হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিঃ, গার্ডেন রেসিডেন্স, হোটেল বাক রোজ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ অতিথিদের হযরত শাহজালাল (রঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনা নেওয়া করে থাকে। এজন্য কোন ধরনের চার্জ দিতে হয় না। হোটেল সিটি হোমস্ অতিথিগণকে বিমানবন্দর থেকে শুধু নিয়ে আসলেও অতিথিদের বিমানবন্দর যেতে হয় নিজ দায়িত্বে। হোটেল রেডিয়ানের অতিথিগণকে বিমানবন্দর থেকে আনা-নেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

বিমানবন্দর থেকে এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ এর গাড়িতে হোটেলে েেয়ত চাইলে ৫০০ টাকা চার্জ দিতে হয়। তবে ন্যূনতম ৫ দিন থাকলে বিমানবন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোন চার্জ দিতে হয় না। ঢাকার রেন্ট-এ-কার কোম্পানীর একটি প্রাইভেট কার ১০ ঘন্টার জন্য ঢাকার ব্যবহারে খরচ পড়ে ২,৫০০ টাকা। এক্ষেত্রে জ্বালানী খরচ অতিথিদের বহন করতে হয়। কিন্তু হোটেলগুলোতে উঠার পর অতিথির প্রয়োজনে গাড়ি সরবরাহের জন্য হোটেলগুলোর নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই। তবে অতিথিগণ চাইলে রেন্ট-এ-কার কোম্পানী থেকে হোটেল কর্তৃপক্ষ গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকে।

খাবার ব্যবস্থাঃ উত্তরার আবাসিক হোটেলগুলোতে খাবার ব্যবস্থা রয়েছে। অতিথিগণ চাইলে খাবার রুমে আনিয়ে খেতে পারেন। তবে রুমে আনানোর জন্য আলাদা চার্জ দিতে হয় না। অতিথিগণ চাইলে অন্য কোথাও খেতে পারেন। এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ও হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিঃ এর নিজস্ব রেস্টুরেন্ট যথাক্রমে ৩য় ও ৫ম তলায় অবস্থিত। হোটেল সিটি হোমস্-এ বাংলা ও চাইনিজ এবং এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ও হোটেল রেডিয়ানে বাংলা, চাইনিজ ও ইন্ডিয়ান খাবার পাওয়া যায়। এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে ইতালিয়ান এবং হোটেল রেডিয়ান থাই খাবারও পাওয়া যায়। হোটেল ব্লাক রোজ ইন্টাঃ লিঃ এ বাংলা, ইন্ডিয়ান, থাই ও চাইনিজ খাবার পাওয়া যায়।

বিল পরিশোধঃ সকল হোটেলে রুম ভাড়ার সাথে ১৫% ভ্যাট ও ৫% সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হয়। হোটেলগুলোতে ডলার, ক্যাশ ও যে কোনো কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হোটেল সিটি হোমস্ ও এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ হোটেলে শুধুমাত্র ক্যাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা যায়।
কনফারেন্সঃ হোটেল সিটি হোমসের ৬ষ্ঠ তলায় ৩০ জনের ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কনফারেন্স রুম রয়েছে। হোটেল ব্লাক ইন্টাঃ লিঃ এর ডাইনিং রুম কোন চার্জ ছাড়াই কনফারেন্স রুম হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।

গাড়ি পার্কিংঃ হোটেল ব্লাক রোজ ইন্টাঃ লিঃ ও গার্ডেন রেসিডেন্স নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। হোটেল রেডিয়ানের নিজস্ব গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা না থাকলেও অতিথি নিজ দায়িত্বে হোটেলের সামনের রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করতে পারেন।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাঃ হোটেল ডি মেরিডিয়ান, এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ, হোটেল রেসিডেন্স ও হোটেল সিটি হোমসে বিকল্প বিদ্যুৎ এর জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হোটেল রেডিয়ানে বিদ্যুৎ না থাকলে চার্জার লাইটের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। শুধুমাত্র হোটেল ডি মেরিডিয়ানে ও হোটেল ব্লাক রোজ ইন্টান্যাশনাল লিঃ এ লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটরের সাহায্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়।

অন্যান্যঃ এই এলাকায় প্রত্যেকটি হোটেলেই অতিথিগণ মানি এক্সচেঞ্জ সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাজার দর অনুযায়ীই মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারিত হয়ে থাকে। হোটেল রেডিয়ান অতিথিদগণকে বিভিন্ন রুটের ফ্লাইটের তথ্য সেবা দিয়ে থাকে। হোটেলগুলোতে য়েথষ্ট অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা রয়েছে। হোটেলগুলো দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের অতিথিদের জন্য রুম ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ম মেনে চলে।

উত্তরার আবাসিক হোটেলগুলো

হোটেল সিটি হোমস্, বাড়ি# ৪, রোড# ৩/বি, সেক্টর# ৬ (আজমপুর), উত্তরা, ঢাকা। ফোনঃ ০২-৮৯৫১৪৬৩, ৮৯৩১২৮০, ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৯৩১৪৬৫। ই-মেইলঃ cityhomes@dhaka.net, ওয়েবঃ www.hotel.info. www.hotelcityhomes.com
হোটেল রেডিয়ান, বাড়ি# ৮/এ, সেক্টর# ৯, উত্তরা, ঢাকা- ১২৩০। ফোনঃ ০২- ০৩৮৯৭৭৮৮১০০-২, ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২- ৮৯১৯৭২০, মোবাইলঃ ০১৮২২-৮৯৪০৬২, ই-মেইলঃ hotelradian@yahoo.com

হোটেল ডি মেরিডিয়ান, বাড়ি# ১১, সড়ক# ১২, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা। ফোনঃ ০২-৮৯১৯২০১, ৮৯৬০৯৪৫, মোবাইলঃ ০১৮২৩-০৬৩৩৫৮, ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৯১১৯১৬, ই-মেইলঃ hdmeeridian@yahoo.com
গার্ডেন রেসিডেন্সঃ বাড়ি# ১৩, সড়ক# ৪, সেক্টর# ১, উত্তরা, ঢাকা। ফোনঃ ০২- ৮৯৩২৪৬৪, ৮৯৩২০৭৬, ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২- ৮৯৫৩০২৬, ই-মেইলঃ admin@gardenresbd.com

এরো-লিংক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ, বাড়ি# ৩৭, সড়ক# ১৫, সেক্টর# ৩, রবীন্দ্র স্মরণী, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা- ১২৩০। ফোনঃ ০২-৮৯১৬০৫২, ৮৯২০৪১০, ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৯২০৪১০, মোবাইলঃ ০১১৯৯-৮০২৯০১, ই-মেইলঃ aerolink@sparkbd.net
হোটেল ব্লাক রোজ ইন্টাঃ লিঃ, প্লট# ১৪, সড়ক# ৭/সি, সেক্টর# ৯, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০। ফোনঃ ০২-৮৯৫৫৬১৭, ৮৯১৩৫৩৫, ৮৯৩১৩০০, মোবাইলঃ ০১৬৭০-৪৩৩৩২২, ই-মেইলঃ rashal.khan@yahoo.com

পুরাতন ঢাকার হোটেল

ব্যবসায়িক দিক থেকে পুরাতন ঢাকার গুলিস্তান, সদরঘাট, বংশাল, নওয়াবপুর ও তৎসংলগ্ন মতিঝিল, কমলাপুর, আরামবাগ, পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল প্রভৃতি এলাকা বেশ সমৃদ্ধ। ব্যবসায়িক নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অসংখ্য লোকের আনাগোনায় এসকল এলাকাসমূহ প্রতিনিয়ত মুখরিত থাকে।

তবে অনেক ক্ষেত্রে অধিকাংশ লোকের পক্ষে নির্ধারিত কাজ সমাধা করে সূর্য ডোবার আগে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়া সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। যার ফলশ্রুতিতে এসব লোকের রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক হোটেলের স্মরণাপন্ন হতে হয়। পুরান ঢাকার উল্লে­খিত এলাকাসমূহে বিভিন্ন মানের অসংখ্য হোটেল রয়েছে। এসকল এলাকার হোটেলগুলোতে এসি ও নন-এসি সিঙ্গেল ও ডাবল উভয় ধরনের রুমই রয়েছে।

উন্নত হোটেলের রুমগুলোতে পরিপাটি সজ্জা, টেবিল-চেয়ার, ইন্টারকম, টেলিফোন, টেলিভিশন এবং বাথরুমে তোয়ালে, সাবান, শ্যাম্পু, গিজার, টুথব্রাশ ও পেস্ট প্রভৃতি থাকলেও নিম্নমানের হোটেলের রুমগুলোতে রয়েছে শুধুমাত্র বিছানা, চেয়ার-টেবিল, ফ্যান ও লাইট। অধিকাংশ হোটেলে নেই ডাইনিং সুবিধা, সুইমিংপুল, হেলথ ক্লাব, বার, সুভেনির সপ প্রভৃতি ব্যবস্থাও।

এসকল এলাকার উল্লে­খযোগ্য আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে- হোটেল রাজমনি ঈশা খাঁ, হোয়াইট হাউস হোটেল, আল রাজ্জাক ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল, হোটেল পূর্বাণী, গ্র্যান্ড আজাদ হোটেল, প্রিন্স হোটেল, হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল। এসব হোটেলে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্যাশের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডেরও ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া আরও অনেক নাম না জানা হোটেল রয়েছে পুরান ঢাকার অলিগলিতে।

নবাবপুর এলাকার হোটেল

ঢাকায় রাত্রি যাপনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মান ও খরচের হোটেল রয়েছে। এলাকার ওপর ভিত্তি করে হোটেলগুলোর মানেও কিছুটা তফাত পরিলক্ষিত হয়। নবাবপুর ঢাকার একটি পুরনো ব্যবসাকেন্দ্র। ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য স্থানটির এখনও য়েথষ্ট গুরুত্ব আছে। বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন অনেককে আসতে হয় এখানে। এখানকার উল্লেখযোগ্য হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল জবেদা ইন্টারন্যাশনাল, শাদ ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি।

এখানে পুরোপুরি নন এসি হোটেল যেমন আছে, তেমন এসি কক্ষ বিশিষ্ট হোটেলও আছে। এখানকার হোটেলকক্ষগুলোতে বিছানার পাশাপাশি চেয়ার টেবিলের মত প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র থাকে। সাথে কেবল টেলিভিশনের ব্যবস্থাও থাকে। এসব হোটেলে নন এসি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ডবল রুমের ভাড়া ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা। অন্যদিকে এসি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ১,৫০০ টাকা এবং এসি ডবল রুমের ভাড়া ১৫০০ টাকা। অনেক হোটেলে লন্ড্রি সার্ভিস দেয়া হয়। তবে পাঁচ তারকা হোটেলের মত সুযোগ সুবিধা নবাবপুর এলাকার হোটেলগুলোতে পাওয়া যায় না।

সায়েদাবাদ এলাকার হোটেল

ঢাকায় রাত্রি যাপনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় হোটেল গড়ে ওঠেছে। তবে এলাকার ওপর ভিত্তি করে হোটেলগুলোর মানেও কিছুটা তফাত পরিলক্ষিত হয়। সায়েদাবাদ এলাকার হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল মুনমুন, হোটেল আনোয়ারা, হোটেল মেহরান এবং হোটেল ইন্টারকমের নাম উল্লে­খযোগ্য। এখানে পুরোপুরি নন এসি হোটেল যেমন আছে, তেমন এসি কক্ষ বিশিষ্ট হোটেলও আছে। হোটেলকক্ষগুলোতে বিছানার পাশাপাশি চেয়ার টেবিলের মত প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র থাকে।

সাথে কেবল টেলিভিশনের ব্যবস্থাও থাকে। এসব হোটেলে নন এসি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ডবল রুমের ভাড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। অন্যদিকে এসি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ১,৫০০ টাকা এবং এসি ডবল রুমের ভাড়া ২০০০ টাকা। তবে পাঁচ তারকা হোটেলের মত সুযোগ সুবিধা সায়েদাবাদ এলাকার হোটেলগুলোতে পাওয়া যায় না।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *