নৈসর্গিক প্রকৃতির দেশ নিউজিল্যান্ড

আনিসুর রহমান এরশাদ

দিগন্তছোঁয়া নীল জলরাশি ও অবারিত সবুজের দেশ নিউজিল্যান্ড। উন্নত এ দেশটিতে রয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রকৃতির ছোঁয়া। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত মানব উন্নয়ন সূচকের উপরের দিকে অবস্থান। দেশটির জীবনযাত্রার মান, প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, শিক্ষার হার, শান্তি ও অগ্রগতি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রসরমান একটি দেশ। পৃথিবীর সর্বাধিক বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের শহরগুলো অন্যতম। আজ জানাব রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত দেশটি সম্পর্কে।

একনজরে নিউজিল্যান্ড

রাজধানী: ওয়েলিংটন
বৃহত্তর শহর: অকল্যান্ড
সরকারি ভাষা: ইংরেজি ও মাউরি

রাষ্ট্রপ্রধান: দ্বিতীয় এলিজাবেথ (ইংল্যান্ডের রাণী)
গভর্নর জেনারেল: প্যাটসি রেড্ডি (রাণীর প্রতিনিধি)
প্রধানমন্ত্রী: জ্যাসিন্ডা আর্ডার্ন
সরকার ব্যবস্থা: সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক রাজতন্ত্র

আয়তন: ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা: ৫১ লাখ ২৪ হাজার ৯৮০ জন
মুদ্রা: নিউজিল্যান্ড ডলার (এনজেডডি)

মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি

নিউজিল্যান্ডের মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি যেন অপার্থিব সৌন্দর্যের আধার। এখানে আছে ঘন বন, পাহাড়, সমুদ্র সৈকত, গ্লাসিয়ার, উষ্ণ অঞ্চল সব কিছু। ঐতিহ্যবাহী মাওরি সংস্কৃতি মিশেছে শহুরে আধুনিকতার সাথে, চমৎকার সব গ্রাম আর অপূর্ব জীবন। নিউজিল্যান্ডে ভ্রমণকারীরা তুষার-আচ্ছাদিত পাহাড়গুলিতে স্কি করতে পারেন।

সংস্কৃতি

উপ-ক্রান্তীয় সমুদ্র সৈকতে বাস করতে পারেন। মাওরি সংস্কৃতি সম্পর্কে শিখতে পারেন। ব্রিটিশ ঐতিহ্য আবিষ্কার করতে পারেন। জনশূন্য প্রান্তরে ভ্রমণ করতে পারবেন। ফলে বিপুল বৈচিত্র্যের ভান্ডার সেরা পর্যটক আকর্ষণ। আর সেই প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে অনেক বিদেশি পর্যটক দেশটি ভ্রমণ করে থাকে। রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এছাড়া এটি একটি চমৎকার বন্ধুবৎসল দেশ।

রাজনীতি

নিউজিল্যান্ডের সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যাপারে রাণীর কোনো প্রভাব নেই। রাণী আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর অধীন সংসদই হলো রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীই নিউজিল্যান্ডের সরকার প্রধান।

 পরিবেশ ও প্রাণীকুল

এদেশের পরিবেশ এবং প্রাণীকুল বৈচিত্র্যময় ও অনন্য প্রকৃতির। মনুষ্যবসতি প্রতিষ্ঠার পূর্বে এখানে প্রচুর স্থানীয় পাখি ছিল। দীর্ঘ চঞ্চুবিশিষ্ট কিন্তু উড়তে অক্ষম কিউই নামের একটি পাখি কেবল নিউজিল্যান্ডেই দেখতে পাওয়া যায়। কিউই পাখি নিউজিল্যান্ডের একটি জাতীয় প্রতীক। এমনকি নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীদেরকেও মাঝে মাঝে প্রচারমাধ্যমে ‘কিউই’ নামে ডাকা হয়।

উত্তর দ্বীপ

উত্তর দ্বীপের উপসাগরীয় উপকূলে রয়েছে মাছ ধরা, নৌকা চালানোসহ বিনোদনের সবরকম ব্যবস্থা। পর্যটকরা এই দ্বীপে এসে এর মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকেন। মিলফোর্ড সাউন্ড পৃথিবীর সেরা দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মিলফোর্ডে নৌকায় করে যেতে হয়। পর্যটকদের কাছে মিলফোর্ড অতি প্রিয় জায়গা।

অকল্যান্ড

অকল্যান্ড শহর নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপে অবস্থিত, দেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল নগর এলাকা। সেরা জায়গাগুলোর অন্যতম অকল্যান্ড সেতু। অকল্যান্ড এয়ারপোর্টে আন্তর্জাতিক বিমান নামার কারণে অনেক পর্যটককে অকল্যান্ডে যেতে হয়।

অকল্যান্ডে এয়ারপোর্ট ছাড়াও আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। শহরটি নিউজিল্যান্ডের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং মৎস্য, বাণিজ্য ও শিল্প-কেন্দ্র। এখানে একটি নৌঘাঁটি আছে। দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে অকল্যান্ড সিটি আর্ট গ্যালারি, যাতে ইউরোপীয় ও নিউজিল্যান্ডীয় শিল্পীদের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

অকল্যান্ড ইন্সটিটিউট ও জাদুঘর, পরিবহন ও প্রযুক্তি জাদুঘর, এবং পার্নেল গোলাপ উদ্যান। অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অকল্যান্ড প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট।

ওয়েইহেকে দ্বীপ

পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের জায়গা ওয়েইহেকে দ্বীপ। পর্যটকরা এখানে আসেন দূরদূরান্ত থেকে। পর্যটকরা নিউজিল্যান্ড ভ্রমণে গেলে ক্রাইস্টচার্চকে বেছে নেন সবার আগে। ক্রাইস্টচার্চের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বোটানিক গার্ডেন।

কুইন্সটাউন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি দ্বীপ কুইন্সটাউন। বহু ভ্রমণার্থীদের কাছে ক্যুইন্সটাউন সেরা অবকাশ যাপন গন্তব্যস্থল। পর্যটকদের কাছে খুব পছন্দের এই জায়গাটি। নিউজিল্যান্ডের এক নম্বর পর্যটন গন্তব্যস্থলটি আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত।

পর্যটকরা দ্বীপটিতে এসে ভীড় করেন। পৃথিবীর রোমাঞ্চকর রাজধানী হিসাবে খ্যাত। পর্বতের ঢালে অবস্থিত বিশ্বমানের স্কি রিসর্টগুলি যেকোনও স্কি-প্রেমী মানুষকে হাতছানি দেয়। মাউন্টেন বাইকিং-এর উপযুক্ত স্থান হিসাবে কুইন্সটাউন প্রসিদ্ধ।

ফ্রাঞ্জ জোসেফ গ্লাসিয়ে

ফ্রাঞ্জ জোসেফ গ্লাসিয়ের জনপ্রিয় জায়গা। এটি সারাবিশ্বে বরফ দ্বীপ হিসেবে সুপরিচিত। তবে এখানে সূর্যের দেখাও মেলে। সূর্য ওঠা সত্ত্বেও বরফ গলে যায় না বলে পর্যটকদের কাছে জায়গাটি খুব পছন্দের।

শ্রেষ্ঠ শহর

দেশটির ঐতিহাসিক প্রাণকেন্দ্র ওয়েলিংটন রাজধানী শহর। জীবযাপনের মানের দিক দিয়ে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর। সমাজের সবস্তরের মানুষ এই শহরে বসবাস করে থাকে। পর্যটকরা এই শহরে বেড়াতে আসেন। ওয়েলিংটন নগর এলাকাটি হলো উত্তর আইল্যান্ডের দক্ষিণাংশের প্রধান জনবহুল এলাকা।

নগর এলাকাটি প্রধান চারটি অংশে বিভক্ত। ওয়েলিংটন সিটি ওয়েলিংটন হারবার-এর প্রান্তে অবস্থিত, শহরটির সবচেয়ে জনবহুল অংশ যেখানে শহরের অর্ধেক লোক বাস করে। পরিরুয়া সিটি- পরিরুয়া হারবার-এর প্রান্তে অবস্থিত। এছাড়া লোয়ার হার্ট সিটি এবং আপার হার্ট একত্রে হার্ট ভ্যালি নামে পরিচিত।

ওয়েলিংটন

ওয়েলিংটন হলো নিউজিল্যান্ডের রাজনৈতিক কেন্দ্র। মন্ত্রণালয়সমূহ সংসদ, সরকারী প্রধান অফিসসমূহ সরকারী, নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রধান অফিসসমূহ, প্রভৃতি ওয়েলিংটনে অবস্থিত।

ওয়েলিংটন শহরের প্রাণকেন্দ্রটি শিল্পের সমাহারে সুনিপুনভাবে সাজানো গোছানো। তুলনামূলক ছোট্ট এই শহরটিতে রয়ছে বেশ বড় ধরনের জমজমাট কাফে সংস্কৃতি আর নাইটলাইফ। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র এবং নাট্যকলার দিক থেকেও শহরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

হব্বিটন

হব্বিটন শহরটি সারাবিশ্বে পর্যটকদের কাছে খুব পছন্দের। শহরটিতে সব স্তরের মানুষের বসবাস রয়েছে। মধ্য উত্তর দ্বীপে রোটোরুয়া মাওরি সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। হোকিয়াঙ্গা হারবারটি দ্বীপসাগর উপসাগরের খুব চমৎকার জায়গা। ক্যাম্পিং বা অ্যাডভেঞ্চারের জন্য ভালো। অঞ্চলটি খুব কম জনবহুল।

কোরোম্যান্ডেল পেনিনসুলা

উত্তর-পূর্ব কোরোম্যান্ডেল পেনিনসুলা বিখ্যাত এর চমৎকার সাদা আর সোনালি বালুকাবেলার জন্য। উপদ্বীপটির অপূর্ব সব কোস্টাল দৃশ্যাবলী, বন, সমূদ্র অবসরকে করে বর্নিল, প্রশান্ত হয় দর্শনার্থীদেওর মন। থামেস নামক ছোট্ট কিন্তু ছবির মত সুন্দর গ্রামটির রয়েছে স্বর্ণ উত্তোলনের দীর্ঘ ইতিহাস। পথে দেখা যায় উষ্ণ পানির বীচ, যেখানে ভ্রমণকারীরা বালির নীচের স্প্রিংস থেকে নিজেই পুল খনন করতে পারেন।

আবেল তাসমান ন্যাশনাল পার্ক

দেশটির দক্ষিণ দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত জাতীয় উদ্যান আবেল তাসমান ন্যাশনাল পার্ক। বিশাল এই উদ্যানটি হাইকারদের স্বপ্ন। এখানে প্রবেশ করতে হয় নৌকায় অথবা পায়ে হেটে কিংবা ছোট কোন প্লেনে। পর্বতময় পথ ধরে হেটে বেড়ানো, নীল পেঙ্গুইন, ওয়েকাস, ওয়াস্টার কেটচারস, উড কবুতর এবং অন্যান্য বিরল পাখি দেখা যায় এখানে।

স্কাই টাওয়ার

স্কাই টাওয়ার আসলে অবজারভেশন এবং টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ার। দক্ষিনাঞ্চলীয় হ্যাম্পসায়ারে এটি সবচেয়ে উঁচু একক স্থাপত্য। এর উচ্চতা ৩২৮ মিটার বা ১,০৭৬ ফুট। অকল্যান্ড স্কাইলাইনে স্কাই টাওয়ার একটি আইকনিক স্থাপত্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। টাওয়ারটি থেকে ৮০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত চমৎকার সব প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়। অর্বিট রিভলভিং রেস্টুরেন্টে চমৎকার খাবারের ব্যবস্থা আছে এখানে।

হাওকেস বে

নাপিয়ার আর্ট ডেকো অবস্থিত হাওকেস বে তে, দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব কোস্টে। এটি বিখ্যাত চোখ ধাঁধানো সব শিল্প ডেকো স্থাপত্যের জন্য। দালানকোঠায় রয়েছে শৈল্পিক ছাপ। এর ফলে শহরটি পেয়েছে ভিন্নতা এবং পর্যটক জনপ্রিয়তা। হাজারো পর্যটক ভীড় জমায় আর্ট ডেকো উইকেন্ডে। এখানে আয়োজিত উৎসবের রয়েছে ভিন্ন আমেজ। এখানকার উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াইন উৎপাদন হয়।

কাইকৌরা

সামুদ্রিক খাদ্যপ্রেমিকদের দক্ষিণ দ্বীপের ছোট্ট উপকূলীয় অঞ্চল কাইকৌরা আদর্শ। আছে শিল মাছ, ডলফিন, স্পার্ম তিমি এবং আল্বাট্রস। তিমি এবং ডলফিন দেখার জন্য বিখ্যাত। স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন ফ্রেশ ক্রেফিশ, মাসেলস, নীল কড এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারের। রোমাঞ্চপ্রিয়রা হেটে যেতে পারেন কাইকোউরার বিচিত্র বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে।

ওয়াইতাঙ্গী

ওয়াইতাঙ্গী নিউজিল্যান্ডের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থান। রয়েছে আধুনিক যাদুঘর, ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদনের গৃহ, অলঙ্কৃত খোদাই করা মাওরি বৈঠকখানা ম্যারা এবং বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে আছে ওয়াাকা (ক্যানো)। দ্বীপপুঞ্জের সুন্দর দৃশ্য রয়েছে।

ডার্ক স্কাই রিজার্ভ

আওরাকি ম্যাকেনজি ইন্টারন্যাশনাল ডার্ক স্কাই রিজার্ভ একটি শান্ত, অন্ধকার জায়গা। ডুনেডিন দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব উপকূলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় শহর। ওটাগো উপদ্বীপের পেঙ্গুইন, আলবাট্রোস এবং সিল কলোনিগুলি দেখতে চমৎকার। রয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ ওটাগো।

স্টুয়ার্ট দ্বীপ

দক্ষিণ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলবর্তী স্টুয়ার্ট দ্বীপ/রকিউরা নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। দ্বীপটির প্রায় ৮৫% জাতীয় উদ্যান; এটি পেঙ্গুইন, কিউইস এবং সিলের জন্য সংরক্ষিত। যদিও এই দক্ষিণে তাপমাত্রা সাধারণত বেশ ঠান্ডা থাকে তবে সৈকতগুলি ভ্রমণের উপযুক্ত।

বার্ডওয়াচিং ও  হাইকিং

নিউজিল্যান্ডে পার্কের মধ্যে বার্ডওয়াচিং এবং হাইকিং খুবই জনপ্রিয়। দেশটি মেরিনো প্রজাতির ভেড়ার জন্য সুবিদিত, যেগুলির পশম বিশ্বখ্যাত। দক্ষিণ দ্বীপের বিভিন্ন পাহাড়ে বহু বিশালাকার ভেড়ার খামার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ভেড়ার পশম ছাড়াও নিউজিল্যান্ড উৎকৃষ্ট মানের মাখন, পনির ও মাংস উৎপাদন করে।

জনবসতি কম

নিউজিল্যান্ডে জমির পরিমাণ অনেক। কিন্তু জনবসতি খুবই কম। এখানে জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ রয়েছে। বাকি বাসিন্দারা সবই প্রাণি। দেশটিতে মানুষের চেয়ে ভেড়ার অনুপাত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। জনপ্রতি ভেড়ার সংখ্যা ৫.৬টি।

মাওরি জাতি

নিউজিল্যান্ডের আদি অধিবাসীদের বলা হয় মাওরি। মাওরি জাতির স্বকীয় একধরণের সংস্কৃতি রয়েছে। এদের পোষাক অন্যান্যদের থেকে বেশ আলাদা। বাগান তৈরিতে এরা অদ্ভুত সব কৌশল অবলম্বন করে। হর্টিকালচারের উন্নয়নে এদের অবদান অসামান্য। মাওরিদের নাচ খুবই আকর্ষণীয় এবং অনন্য।

কাপা হাকা, পই, ওয়াইতা-আ-রিঙ্গা, ওয়াইতা করুয়া তাদের কিছু বিখ্যাত নাচের নাম। গায়ে রঙ মেখে বিকট সব অঙ্গভঙ্গি করে তারা এসব নাচ প্রদর্শন করে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো অতিথিকে তারা অভ্যর্থনা জানায় অদ্ভুত উপায়ে। একধরণের অস্ত্র হাতে দিয়ে যুদ্ধে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর পরপরই তার হাতে একটি ফার্ন পাতা দিয়ে সন্ধি স্থাপন করা হয়। মাওরিরা নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতি যা মোট জনসংখ্যার ১৫%।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *