ঘুরে আসুন মিয়ানমার

আনিসুর রহমান এরশাদ

মিয়ানমারের দিগন্ত জুড়ে সবুজের হাতছানি, সুবিশাল জলরাশি ও পাহাড়ের মোহনীয় আকর্ষণ। পথে-প্রান্তরে, পাহাড়ে-অরণ্যে, স্বচ্ছন্দ-সাবলীল চলাফেরায় নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ। প্রশস্ত হ্রদ, সবুজ পার্ক, নীল পানির সাগর, শ্যামল ক্রান্তীয় বন, সুবিশাল পাহাড় আর অত্যাশ্চর্য সব প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ইতিহাস আর প্রাচীন ঐতিহ্যের সম্মিলন ঘটেছে নানাদিকে ছড়িয়ে থাকা বিখ্যাত সব বৌদ্ধবিহারে।

নানাবিধ সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র মিয়ানমার পর্যটকদের আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল। মিয়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক প্রাকৃতিক স্বর্গীয় দেশ। সংস্কৃতির লীলাভূমি দেশটির প্রকৃতির রূপ আর অত্যাশ্চর্য সব প্যাগোডা ভিনদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ। আজ জানাব রূপ-বৈচিত্র্যে অনন্য ও ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র মিয়ানমার সম্পর্কে।

একনজরে মিয়ানমার

নাম: রিপাবলিক অফ দ্যা ইউনিয়ন অফ মিয়ানমার
আদি নাম: বার্মা
প্রাচীন নাম: ব্রহ্মদেশ
রাজধানী: নেপিডো

বৃহত্তর শহর: ইয়াঙ্গুন
সরকারি ভাষা: বার্মিজ
সরকার: সামরিক জান্তার অধীনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্বতন্ত্র সংসদীয় সরকার
রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের প্রধান ও সেনাপ্রধান: জেনারেল মিন অং হ্লাইং

রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের উপপ্রধান ও উপসেনাপ্রধান: জেনারেল শো উইন
রাষ্ট্রপতি: জেনারেল মিন্ট সুয়ি (ভারপ্রাপ্ত)
আইন-সভা: অ্যাসেম্বলি অব দ্য ইউনিয়ন
উচ্চকক্ষ: হাউজ অব দ্য ন্যাশনালিটিজ

নিম্নকক্ষ: হাউজ অব দ্য রিপ্রেজেনটেটিভস
যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা: ১৯৪৮ জানুয়ারি ৪
আয়তন: ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭৮ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা: ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৬ হাজার ১২ জন
মুদ্রা: ক্যত (কে) (এমএমকে)

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। প্রায় ১৩ হাজার বছর আগে বর্তমান মিয়ানমারে জনবসতির অবস্থান সর্ম্পকে জানা যায়।

রাজনীতি

মেজর জেনারেল অং সান মিয়ানমারের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা ও সমরনায়ক। থিন সিন মিয়ানমাওে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, অনেকেই তাকে সামরিক জান্তা সরকারের পতনের পর মিয়ানমারের সাংবিধানিক পূণর্গঠনের অগ্রদূত মনে করেন। অং সান সু চি মিয়ানমারের প্রথম রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হন ২০১৬ সালে। জেনারেল মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।

অবস্থান

মিয়ানমারের পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ভারতের মিজোরাম, উত্তর-পশ্চিমে ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর অবস্থিত। মিয়ানমারের সীমানার উত্তর-পূর্বাংশের ২,১৮৫ কিলোমিটার জুড়ে আছে তিব্বত এবং চীনের ইউনান প্রদেশ। দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে লাওস ও থাইল্যান্ড। দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের সাথে মিয়ানমারের ১,৯৩০ কিলোমিটার উপকূল রেখা রয়েছে।

ভাষা

বার্মিজ ভাষাতে মিয়ানমারের প্রায় ৮০% লোক কথা বলেন। এছাড়াও মায়ানমারে স্থানীয় আরও প্রায় ১০০টি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে কারেন ভাষাসহ বেশ কিছু উপভাষা এবং শান ভাষার উপভাষাগুলি উল্লেখযোগ্য। সংখ্যালঘু ভাষাগুলির মধ্যে আরাকানি ভাষা, চিন ভাষার বিভিন্ন উপভাষা, জিংপো ভাষা, রোহিঙ্গা ভাষা, লু ভাষা এবং পারাউক ভাষা উল্লেখযোগ্য।

আন্তর্জাতিক কাজকর্মে ও পর্যটন শিল্পে ইংরেজি ভাষা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। ৮৭.৯% বৌদ্ধ । তাছাড়াও এখানে রয়েছে খ্রিষ্টান ৬.২%, মুসলিম ৪.৩% ও হিন্দুসহ অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্টি ১.৬%।

প্রশাসনিক অঞ্চল

দেশটি মূল মিয়ানমার অঞ্চল এবং আরও সাতটি রাজ্য নিয়ে গঠিত। এগুলি হলো চিন, কাচিন, কারেন, মন, রাখাইন (আরাকান) এবং শান। মূল বার্মা সাতটি বিভাগে বিভক্ত – ইরাবতী, মাগওয়ে, মান্দালয়, ব্যাগো, রেংগুন, সাগাইং, এবং তেনাসসেরিম।

পর্বত ও নদী

উপকূলীয় এলাকাটি নিম্ন মিয়ানমার এবং অভ্যন্তরীণ অংশটি ঊর্ধ্ব মিয়ানমার নামে পরিচিত। অশ্বখুরাকৃতি পর্বতব্যবস্থা ও ইরাবতী নদীর উপত্যকা দেশটির ভূ-সংস্থানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। উত্তরের পর্বতগুলির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হকাকাবো রাজি-র উচ্চতা ৫,৮৮১ মিটার। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। আরও দুইটি পর্বতব্যবস্থা উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত।

আরাকান ইয়োমা পর্বতমালাটি মিয়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে একটি প্রাচীরের সৃষ্টি করেছে। এর পর্বতগুলির উচ্চতা প্রধানত ৯১৫ মিটার থেকে ১,৫২৫ মিটার পর্যন্ত হয়।

অন্যদিকে শান মালভূমি থেকে বিলকাতং পর্বতশ্রেণীটি প্রসারিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব নিম্ন মিয়ানমার এবং দক্ষিণ-পশ্চিম থাইল্যান্ডের সীমান্ত বরাবর চলে গেছে। শান মালভূমিটি চীন থেকে প্রসারিত হয়েছে এবং এর গড় উচ্চতা প্রায় ১,২১৫ মিটার। মিয়ানমারে বেশ কিছু উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক পোতাশ্রয় আছে।

জীবজন্তু

মূল্যবান সেগুন ও বিষুবীয় গাছপালায় ভরা বন মিয়ানমারের শতকরা ৪৯ ভাগের বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে। অন্যান্য গাছের মধ্যে রাবার, বাবলা, বাঁশ, ম্যানগ্রোভ, নারিকেল উল্লেখযোগ্য। উত্তরাঞ্চলে ওক, পাইন ইত্যাদি রয়েছে বিপুল পরিমাণে। বন্য জীবজন্তুর মধ্যে বাঘ, বুনো মহিষ, মেঘলা চিতা, বুনো শূকর, শিয়াল, হরিণ, কৃষ্ণসার, হাতি, উল্লুক, বানর, চামচিকা, বনরুই এবং কলাবাদুড় পাওয়া যায়।

আটশ’রও বেশি প্রজাতির পাখি পাওয়া যায় যার মাঝে আছে সবুজ টিয়া, পাতি ময়না, ময়ূর, লাল বনমোরগ, বাবুই, কাক, বক, মানিকজোড়, লক্ষ্মীপেঁচা, ঘুঘু, মাছরাঙা, শকুন প্রভৃতি। সরীসৃপের মাঝে রয়েছে কুমির, গোখরা, গুই সাপ, অজগর, শঙ্খচূড়, কচ্ছপ প্রভৃতি। স্বাদু পানির মাছ পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণে, যা এখানকার খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

ইয়াঙ্গুন

ইয়াঙ্গুন পূর্বে রেঙ্গুন নামে পরিচিত ছিল। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছিল মিয়ানমারের রাজধানী। মিয়ানমারের সবচেয়ে জনবহুল শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় শহর।

সোয়েডাগন প্যাগোডা

দেশটির সবচেয়ে বড় শহরটির প্রধান আকর্ষণ সোয়েডাগন প্যাগোডা যা মিয়ানমারের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের কেন্দ্রবিন্দু। সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো এই বৌদ্ধ মন্দিরটির উচ্চতা ৯৯ মিটার।

সাবেক সচিবালয়

মিয়ানমারের সাবেক সচিবালয় ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত। একসময় ব্রিটিশ বার্মার প্রশাসনিক ভবন ছিল এটি। ১৮৮৯ থেকে ১৯০৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে লাল ইটের এই ভবনটি তৈরি হয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মিয়ানমারের অনেক ইতিহাস।

শিয়া মসজিদ

ইয়াঙ্গুনের আরেক আকর্ষণ শিয়া মসজিদ। বিশ শতকের শুরুর দিকে ইরান থেকে যাওয়া অভিবাসীরা ইয়াঙ্গুনে এই মসজিদটি গড়ে তোলেন।

আকর্ষণীয় স্থান

ইয়াঙ্গুনে পর্যটকরা আরো যেসব দেখে মুগ্ধ হন: কলোনিয়াল সময়ের বহু পুরানো বিল্ডিং, মহা প্রসন্না গুহা, ৭০ মিটার দীর্ঘ শায়িত গৌতম বুদ্ধের মুর্তি, মহাজায় প্যাগোডা, ইত্যাদি।

এঙ্গয়ে সং বীচ

এঙ্গয়ে সং বীচ ৯ মাইল লম্বা। সাউথ ইস্ট এশিয়ার এটি সবচেয়ে লম্বা সৈকত। এই এলাকাটি আন্দামান সাগরের সাথে যুক্ত।

বেগো (পেগু) শহর

চৌদ্দ থেকে ষোল শতাব্দীতে মন্ রাজাদের রাজধানী ছিল বেগো (পেগু) শহর। এ শহরে ছড়িয়ে রয়েছে আকর্ষণীয় বৌদ্ধ বিহার, সেসময়কার রাজাদের দর্শনীয় বাড়ি, উন্মুক্ত মার্কেট, কায়াকপুন প্যাগোডায় ৪টি সুদৃশ্য বিশালাকার বুদ্ধের মুর্তি। অনবদ্য এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের বিমোহিত করে।

ম্রাউক উ

মিয়ানমারের ম্রাউক উ এতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক শহর। একসময় শহরটিকে ঘেরা দেয়ালের দুর্গ বলে ভাবা হতো। মূলত এখানে থাকা প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্য এই দেয়ালগুলো নির্মাণ করা হয়।

থানলিয়ন (সিরাইম)

ইয়াঙ্গুন থেকে বেগো নদী পার হয়ে মাত্র ৩০ মিনিটেই থানলিয়ন (সিরাইম) শহরে পৌঁছা যায়। চৌদ্দদশ শতাব্দীতে ছিল মিয়ানমারের অন্যতম বন্দর। সপ্তদশ শতকে এই অঞ্চলটি পুর্তগীজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। এখানে সপ্তদশ শতকে নির্মিত কাইকাহুক প্যাগোডা, থানলিন ও ইয়েল প্যাগোডা, বেগো নদীর স্বচ্ছ জলরাশি এবং নদীতে নৌ ভ্রমণ ভ্রমণে দেয় অনাবিল আনন্দ।

বেগান

বেগান সোনালী শহর হিসেবে বিশ্বে প্রসিদ্ধ। নবম থেকে ১৩ শতাব্দীতে এ অঞ্চলের রাজারা তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি মিয়ানমারের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। ঐতিহাসিক বৌদ্ধমন্দির, প্যাগোডা আর প্রাকৃতিক সবুজে ঘেরা বেগান পর্যটন বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণ। এখানে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি বৌদ্ধমন্দির রয়েছে।

মান্দালয়

ব্রিটিশরা সম্পূর্ণ দখলের পূর্বে মান্দালয় অঞ্চলটি ছিল মিয়ানমার রাজবংশের শেষ রাজ্য। একারণে এখনও এ রাজ্যটি মিয়ানমারের সাবেক রয়েল রাজধানী হিসেবে সমান গুরুত্ব বহন করছে। বর্তমানে মিয়ানমারের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এটি।

অনেক ঐতিহাসিক ভবন এবং মন্দির ও প্যাগোডা. সিল্ক শিল্প, মার্বেল খোদাই, ব্রোঞ্জ ও রূপা কারুশিল্পের পিঠস্থান এই মান্দালয়। মান্দালয় বাইরে সেইগিং পাহাড়কে ঘিরে স্থাপিত মঠ ও প্যাগোডা অনবদ্য।

গোল্ডেন প্যলেস

মান্দালয় শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বৌদ্ধবিহার গোল্ডেন প্যলেস। এটি একসময় প্যালেসের মূল অংশের সাথে যুক্ত ছিলো। কিন্তু তৎকালীন রাজার মৃত্যুর পর তার ছেলে এই অংশটি রাজবাড়ি হতে আলাদা করে দেন। পরবর্তীতে এটিকে বৌদ্ধ বিহারে পরিণত করা হয়। একসময় এটি স্বর্ণ দিয়ে ঘেরা ছিল কিন্তু বর্তমানে তা কেবল বিহারের ভিতরে সাজানো।

পিনদায়া গুহা ঘর

পিনদায়া গুহা ঘর হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। এখানে গৌতম বুদ্ধের প্রায় আটহাজার চিত্র রয়েছে। এসব চিত্রর মধ্যে কিছু চিত্র রয়েছে যা একশো বছর পুরনো, আর কিছু সাম্প্রতিক সময়ে সংযোজিত হয়েছে। গুহাগুলোতে পরিভ্রমণ করতে করতে উপভোগ করা যায় এর চারপাশের শান্ত নিবিড় প্রাকৃতিক পরিবেশ।

পোপা মাউন্টেন

পোপা মাউন্টেন একটি বিলুপ্তপ্রায় আগ্নেয়গিরি। মিয়ানমার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান তুয়াং কালাত বিহারটি এই আগ্নেয়গিরির ঠিক মুখে অবস্থিত। ৭৭টি সিঁড়ি পার হয়ে এটি দেখতে হয়। উপভোগ করা যায় পাহাড়ের পারপাশের সবুজ পরিবেশ। পাহাড় চূড়া থেকে দেখা চারপাশের প্রকৃতির সৌন্দর্য অতুলনীয়।

কালাউ

কালাউ মিয়ানমারের সবচেয়ে শীতলতম স্থান। প্রচন্ড গরমের সময়েও এ অঞ্চলটির আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা থাকে। জাতিগত অনেক সংখ্যালঘুর বাস এই এলাকাটি। শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি আকর্ষণীয় মার্কেট। এই মার্কেটে নানারকম হস্তশিল্প, খোদাই করা কারুশিল্প খুব কম টাকায় পাওয়া যায়।

শ্বেন্দাগন প্যাগোডা

শ্বেন্দাগন প্যাগোডাকে বৃহত্তম ড্রাগন প্যাগোডাও বলা হয়। বৌদ্ধ ধর্মবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেক নিদর্শন রয়েছে এখানে। গৌতম বুদ্ধের চুল ও বৌদ্ধ ধর্মের বহু অমূল্য পাণ্ডুলিপি যা যুগ যুগ ধরে সংরক্ষিত রয়েছে এই স্থানটিতে।

নদী

মিয়ানমারের প্রধান নদী ইরাবতীর সৌন্দর্য চমৎকার। সারা মিয়ানমার জুড়েই রয়েছে ইরাবতীর স্পর্শ। মিয়ানমারের পাথেইন, লাইং ও ইয়াঙ্গুগুন এই ইরাবতীরই শাখা। দেশটির পনেরটি প্রধান শহর ক্ষরস্রোতা ইরাবতীকেই ঘিরে তৈরি হয়োছিল।

মান্দালয় ও ইয়াঙ্গুনও একইকারনে রাজধানী হিসেবে গড়ে উঠেছিল। নদীটিতে নৌকায় ভ্রমণ করা যায়। নদীর চারপাশের অপার সৌন্দর্যে ভ্রমণ হয়ে উঠে আনন্দময়। সেই সাথে- রাস্তার দু’পাশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন-যাপন, পাহাড়ের চুড়ায় মন্দির এবং জেলেদের ধরে আনা প্রচুর মাছ দেখা যায়।

তাউকিন

ইয়াঙ্গুন থেকে বেগোর রাস্তা ধরে ৩২ কি.মি. দূরে তাউকিন শহরে ওয়ার মেমোরিয়াল সমাধিক্ষেত্রটি অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর ২৭,০০০ সৈন্য মিয়ানমারে শহীদ হন। তাদের এখানে সমাধি দেয়া হয়। তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সমাধিক্ষেত্রটি নির্মাণ করা হয়।

 নগেপালি

সাদা বালি আর বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি দেখতে নগেপালি ভ্রমণ করতে হয়। বিস্তৃত সমুদ্র সৈকত, সমুদ্রের স্বচ্ছ জলরাশি নগেপালিকে সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে। অধিকাংশ পর্যটক এখানে মাছ ধরার সাথে সমুদ্র স্নান এবং সার্ফিংয়ের জন্য আসেন।

নেপিডো

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডো অত্যন্ত পরিকল্পিত নতুন শহর। এটা অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা ও ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়া শহর দুইটির মতো। ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নেপিডো শব্দের অর্থ রাজাদের আবাসভূমি।

২০০৬ সালের মার্চ মাসে নেপিডোকে মিয়ানমারের রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া হয়। শহরটি রেঙ্গুন থেকে সড়কপথে ও রেলপথে সংযুক্ত। ২০১২ সালে শহরটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীটি বিশাল, এমনকি আকারে এটি যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন শহরেরও চার গুণ বড়।

নেপিডোতে মিয়ানমারের সরকারের কার্যালয়সমূহ, আইনসভা, সর্বোচ্চ আদালত, রাষ্ট্রপতির প্রাসাদ, মায়ানমারের মন্ত্রীসভার সরকারী বাসভবন, মায়ানমারের মন্ত্রণালয়সমূহের সদর দফতর ও মায়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। উপ্পাসান্তি প্যাগোডা বা শান্তি প্যাগোডা শহরটির একটি দর্শনীয় স্থান। নেপিডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শহরের প্রধান বিমানবন্দর।

ভাসমান বাগান

ইনলে লেকের উপর আছে ভাসমান বাগান। সেই বাগানে ফুটে আছে ফুল, গাছে ধরেছে টমেটো, মরিচ, কলিফ্লাওয়ার এবং অন্যান্য সবজি। লেকটি সান স্টেটে অবস্থিত, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। একে ঘিরে বাস ইন্থাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর। এদের জীবনযাপন সাধারণ ছিমছাম।

ভাসমান রেস্তোরাঁ

কানুজিও হ্রদে ভাসমান রেস্তোরাঁ ‘রয়েল কারাউইক হল’। জাহাজশৈলীতে কাঠ দিয়ে বানানো জোড়া ড্রাগনমুখের এই রেস্তোরাঁয় স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি ভারতীয় ও ইউরোপিয়ান খাবারের আয়োজন থাকে প্রতি রাতে।

নারী ও শিশু

মিয়ানমারের নারীরা অনেক বেশি পরিশ্রম করে। বেশিরভাগ ছোটব্যবসা প্রতিষ্ঠানই চালায় নারীরা, সঙ্গে বাচ্চাদের দেখাশোনাসহ সংসারের অন্য কাজগুলোও করে হাসিমুখে। রবীন্দ্রনাথ তার জাপান যাত্রার ডায়েরিতে এমন নারীদের কথাই বলেছিলেন। জাপান যাবার পথে তার বোট থেমেছিল ইরাবতীর পাশে। ব্রহ্মদেশের নারীরা নিজ গুণেই সুন্দর, ব্যাখ্যা করেছেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি প্যাগোডা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *