বজ্র ড্রাগনের দেশ ভুটান

আনিসুর রহমান এরশাদ

বজ্র ড্রাগনের দেশ ভুটান। ভুবন ভোলানো সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সবচেয়ে সুখী মানুষের দেশ। নেই কোনো দূষণ। কার্বন নেগেটিভ দেশ। সাজানো গোছানো এবং পরিচ্ছন্ন। পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের খেলা। উঁচু উঁচু পাহাড়ের বাঁক দিয়ে সাঁই সাঁই করে চলা।

ভূ-প্রকৃতিগত সৌন্দর্য ও মানুষ বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর দেশ। ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর দেশের প্রকৃতির সঙ্গে মিল আছে ভুটানের প্রকৃতির। চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। শান্ত দেশটিতে বহে শান্তির আবেশ। কোনো অস্থিরতা নেই। তাইতো ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভুটান আকৃষ্ট করে বিদেশি পর্যটকদের।

স্থলবেষ্টিত দেশটির আকার, আকৃতি ও পার্বত্য ভূ-প্রকৃতি সুইজারল্যান্ডের সদৃশ। ভারতীয়দের কাছে হাতের নাগালে সুইজারল্যান্ড মানেই ভুটান। আজ আমরা জানাব এশিয়ার সুইজারল্যান্ড বলে পরিচিত ভ্রমণ করার জন্য সুন্দর জায়গা সমৃদ্ধ দেশটি সম্পর্কে।

একনজরে ভুটান

বজ্র ড্রাগনের রাজ্য
রাজধানী ও বৃহত্তর শহর: থিম্পু
সরকারি ভাষা: জংখা
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ: ভুটানিয়

সরকার: ঐক্যমূলক সংসদীয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
রাজা: জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক
প্রধানমন্ত্রী: লোটে শেরিং
আইন-সভা: জাতীয় সংসদ (উচ্চকক্ষ: জাতীয় কাউন্সিল,

নিম্নকক্ষ: জাতীয় পরিষদ)
সাংবিধানিক রাজতন্ত্র: ২০০৭
আয়তন: ৪৭ হাজার বর্গকিমি
জনসংখ্যা: ৭ লাখ ৯৮ হাজার

মুদ্রা: ভুটানি গুলট্রাম
জাতিসংঘের সদস্য : ১৯৭১ সালে
রাষ্ট্রধর্ম: বৌদ্ধ

বজ্র ড্রাগনের দেশ

ভুটান সার্কের সদস্য রাষ্ট্র। ভুটানের অধিবাসীরা নিজেদের দেশকে ‘দ্রুক ইয়ুল’ বা ‘বজ্র ড্রাগনের দেশ’ নামে ডাকে। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি ভারতীয় উপমহাদেশে হিমালয় পর্বতমালার পূর্বাংশে অবস্থিত।

ভুটান উত্তরে চীনের তিব্বত অঞ্চল, পশ্চিমে ভারতের সিকিম ও তিব্বতের চুম্বি উপত্যকা, পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ এবং দক্ষিণে আসাম ও উত্তরবঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত।

রাজনীতি

ভুটানে অতীতে ছিল পরম রাজতন্ত্র। বর্তমানে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বিদ্যমান। রাজার উপাধি ড্রাগন রাজা, যিনি রাষ্ট্রের প্রধান। মন্ত্রীদের কাউন্সিল রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনা করে।

সরকার ও জাতীয় সংসদ উভয়েরই আইন প্রণয়নের ক্ষমতা আছে। যে খেনপো উপাধিবিশিষ্ট দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা রাজার সবচেয়ে কাছের পরামর্শদাতার একজন। ২০০৭ সালে রাজকীয় আদেশবলে রাজনৈতিক দল নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হয়।

ভূপ্রকৃতি

ভুটানের ভূপ্রকৃতি পর্বতময়। উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা, মধ্য ও দক্ষিণভাগে নিচু পাহাড় ও মালভূমি এবং দক্ষিণ প্রান্তসীমায় সামান্য কিছু সাভানা তৃণভূমি ও সমভূমি আছে। মধ্যভাগের মালভূমির মধ্যকার উপত্যকাগুলিতেই বেশির ভাগ লোকের বাস।

ভুটানের জলবায়ু উত্তরে আল্পীয়, মধ্যে নাতিশীতোষ্ণ এবং দক্ষিণে উপক্রান্তীয়; জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। ভুটান প্রাণী ও উদ্ভিদের এক অভয়ারণ্য। এখানে বহু হাজার দুর্লভ প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়।

ভুটানের প্রায় ৭০% এলাকা অরণ্যাবৃত। এই অরণ্যই ভুটানের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে চলেছে যুগ যুগ ধরে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বরফ আচ্ছাদিত ভুটানি জনপদে তাপমাত্রা মাইনাস ১০-১৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে।

অর্থনীতি

ভুটানের অর্থনীতি কৃষি, বনজ, পর্যটন এবং ভারতে জলবিদ্যুৎ বিক্রির উপর নির্ভরশীল। অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত। কৃষিকাজ মূলত খামার এবং পশুপালন নিয়ে গঠিত। হস্তশিল্পগুলি, বিশেষত তাঁত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সমুদ্রবন্দর না থাকায় ভুটান ব্যাবসা বাণিজ্যতে ভালো করতে পারেনি। কৃষি উৎপাদনের মধ্যে চাল, মরিচ, দুগ্ধ পণ্য, বেকওয়েট, বার্লি, সাইট্রাস এবং ভুট্টা পাহাড়ি নিম্ন ভূমিতে হয়।

শিল্পের মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট, কাঠের পণ্য, প্রক্রিয়াজাত ফল, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড। জলবিদ্যুতের পর পর্যটনই ভুটানে রাজস্বের সবচেয়ে বড় খাত।

জাতি ও ধর্ম

ভুটানে দ্রুপকা জাতির লোক প্রায় ৫০%। নেপালি (৩৫%) এবং অন্যান্য আদিবাসী বা অভিবাসী জাতি। দেশের ৭৪.৮% মানুষ বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী। ২২.৬% হিন্দুধর্ম, ১.৯% বন ও দেশজ ধর্ম, ০.৫% খ্রীষ্টধর্ম, ০.৪% ইসলাম ও ০.২% অন্যান্য ধর্ম পালন করে।

হিন্দু ধর্ম ভুটানের দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্ম। জংখা ছাড়া বুমথাং-খা, শারচোপ-খা ও নেপালি ভাষাসহ প্রায় ১০টি ভাষা প্রচলিত। আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়। ইংরেজি ভাষাতে শিক্ষা দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

ভুটানের একটি সমৃদ্ধ এবং অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল দেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য। ভুটান ধূমপান নিষিদ্ধ করার জন্য বিশ্বের প্রথম দেশ। ভুটানের ২০১০ সালের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে প্রকাশ্যে ধূমপান করা বা তামাক বিক্রি করা আইনত অবৈধ হয়েছে।

ভুটানের নাগরিকরা সব রকমের চিকিৎসা পেয়ে থাকেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। চিকিৎসাবাবদ নাগরিকদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না। ভুটানে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল নেই, সবই সরকারি হাসপাতাল।

খাবার

ভুটানের প্রধান খাবার হলো লাল চাল, বাজরা, ভুট্টা ইত্যাদি। পাহাড়াঞ্চলের খাবারের তালিকায় আছে মোরগ, চমরী গাইয়ের মাংস, শুকনো গরুর মাংস, শুকরের মাংস এবং চর্বি এবং মেষশাবক ইত্যাদি।

স্যুপ এবং সিদ্ধ মাংস, চাল, ফার্ন, মসুর ডাল, এবং শুকনো সবজি, লাল মরিচ এবং পনিরের সাথে মশলা ইত্যাদি ভুটানে শীতকালের প্রিয় খাবার। দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে গরু এবং চমরী গাইয়ের দুধের তৈরি মাখন এবং পনির অত্যন্ত জনপ্রিয়, প্রকৃতপক্ষে বেশির ভাগ দুধ দিয়েই মাখন এবং পনির বানানো হয়।

জনপ্রিয় পানীয়র মধ্যে আছে: মাখন চা, কালো চা, স্থানীয় ভাবে প্রস্তুতকৃত আরা এবং বিয়ার। জনপ্রিয় মশলার মধ্যে আছে: এলাচ, আদা, থিংগে, রসুন, হলুদ, এবং কেওড়া।

ভৌগোলিক অবস্থান

ভূটান সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিকভাবে তিনটি অঞ্চল বিভক্ত। মধ্য ভূটান, পূর্ব ভূটান ও পশ্চিম ভূটান। এগুলো আরও ২০টি জেলায় বিভক্ত। থিম্পু ভুটানের মধ্য-পশ্চিম অংশে অবস্থিত দেশটির রাজধানী শহর। শহরটি হিমালয় পর্বতমালার একটি উঁচু উপত্যকায় অবস্থিত।

বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু পাহাড়ের উপর ৫১.৫ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট বিশাল এক স্ট্যাচু যা ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি ও সোনার প্রলেপ দিয়ে আবৃত। ন্যাশনাল মেমোরিয়াল কর্টেন থিম্পুর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি বড় বৌদ্ধ উপসনা কেন্দ্র।

সিটি ভিউ পয়েন্ট থেকে থিম্পু শহরটা পুরো ঠিকমতো দেখা যায়। এছাড়াও সুন্দর, ছিমছাম গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ ভুটানের রাজা রানীর কিংস প্যালেস বা ডিচিনচোলিং প্যালেস চোখে পড়ে এখান থেকে।

চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম

চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম ভুটানের জাতীয় স্টেডিয়াম। ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চর্টেন থিম্পু শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভ। এটি কিংস মেমোরিয়াল চর্টেন কিংবা থিম্পু চর্টেন নামেও পরিচিত।

তাশি চো জং

থিম্পুর দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য থিম্পু জং বা তাশি চো জং। বর্তমানে এটি ভুটান সরকারের সচিবালয়। ফার্মার্স মার্কেট থিম্পু শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। একটি বাজার কতোটা সাজানো গোছানো আর পরিচ্ছন্ন হতে পারে একে না দেখলে তা বোঝার উপায় নেই। থিম্পু শহরের প্রতিটি বাড়িতেই ভুটানের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের ছাপ লক্ষণীয়। এছাড়া শহরটি খুবই পরিচ্ছন্ন ও সাজানো-গোছানো।

থিম্পু শহর

থিম্পু শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে টলটলে পানির পাহাড়ি নদী থিম্পু চু। থিম্পু নদীর পার ধরে কিছু দূর গেলে ‘থিম্প চু’ আর ‘পারো চু’-র মিলনস্থল দেখা যায়। সেখানে দু’টি নদীর জলধারা একসাথে বইলেও পানির রং আলাদা।

স্থাপত্য

থিম্পু শহরে আছে বেশ কিছু স্যুভেনির শপ। এসব দোকানে দেশটির ঐতিহ্যবাহি বিভিন্ন স্মরক সামগ্রী কিনতে পারেন পর্যটকরা। আছে ন্যাশনাল তাকিন সংরক্ষিত চিড়িয়াখানা, তাসিছ ডিজং বা থিম্পু ডিজং -এর পাশেই পার্লামেন্ট হাউজ।

অবিকল ছবির মতো সুন্দর একটি ভবন। সবুজের মাঝে লালচে খয়েরি রঙে গড়া এক সুন্দর স্থাপত্য, যা সহজে নজর কাঁড়ে সবার।্ এছাড়াও আছে থিম্পু ক্লক টাওয়ার, ন্যাশনাল লাইব্রেরি এবং বিবিএস টাওয়ার এর মতো দেখার কিছু জায়গা।

চেলে লা পাস

প্রায় ১৩,০৮৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত চেলে লা পাস ভুটানের পরিচিত গিরিপথ। ভুটানের উচ্চতম এ সড়কপথে পর্যটকরা ভিড় জমান। পারো এয়ারপোর্টকে পাশ কাটিয়ে এক ঘন সবুজ পাইন এর অরণ্যঘেরা রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। প্রায় ২৩ কিলোমিটার এই যাত্রা পথ।

নানান পাখি আর বন্যপ্রানের উপস্থিতি এসব বনে। নীল আকাশের নীচে এক ছবির মত আঁকা এক গিরিপথ যার নাম চেলে লা পাস। হিমালয়ের হিমেল বাতাসের স্পর্শ, সহস্র প্রেয়ার ফ্ল্যাগ আর আকাশপানে হিমালয়ের শৃঙ্গমুখ।

চেলে লা পাহাড়ের উপর থেকে ভুটানের ভিউটা এক কথায় অসাধারন। সূর্য থাকলে এবং মেঘ না থাকলে মাউন্ট জোমোলহরি এখান থেকে দেখা যায়। নৈসর্গিক দৃশ্য বর্ণনাতীত। পারো থেকে চেলেলা পাসের রাস্তা জুড়েই সবুজ উপত্যকা, নানা রং-এর ফুল, কমলালেবু আর আপেল বাগান।

পুনাখা ক্যান্টিলেভের ব্রিজ

জার্মানদের সহায়তায় ২০০৮ সালে সম্পূর্ণ হয় পুনাখা ক্যান্টিলেভের ব্রিজটি। সেতুটি ৫৫ মিটর ফ্রী স্প্যান নিয়ে তৈরী হয়। সেতুর নির্মাণে ভূটানের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

পুনাখা সাসপেনশন ব্রিজ বা সেতু। ফো চু নদীর উপর নির্মিত এই ঝুলন্ত সেতু । ৩৫০ মিটার লম্বা এই সেতুর ওপর দেখা যায় নদী আর পাহাড়ের মনকাড়া দৃশ্য। এখানে নীল হয়ে গেছে নদীর পানি।

পুনাখা

পুনাখা ভুটানের এক অসাধারণ শহর। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ভুটানের রাজধানী ছিল। মন্ত্রমুগ্ধ এক জগতের নাম। ভুটানের রাজধানী থিম্পু থেকে পুনাখার দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার।

সত্যি হৃদয় জুড়ানো এক শহর। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য চমৎকার স্থাপনা রয়েছে এখানে। এটা সমুদ্রতল থেকে ১৩১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে ধান প্রধান ফসল হিসেবে চাষ করা হয়।

দোচুলা

পুনাখা যাওয়ার পথে যাত্রাবিরতি হয় ভুটানিদের পূণ্যভূমি দোচুলায়। অসংখ্য ধর্মীয় নকশাখচিত ছোট ছোট ধর্মীয় পতাকায় ছেয়ে আছে। মূল আকর্ষণ এখানকার বৌদ্ধমঠ।

খাড়া পাহাড়ের উপর বিশাল বৌদ্ধমঠ; স্থাপত্যশৈলী আর শিল্পশৈলীর নজরকাড়া স্থাপনা। দোচুলা থেকে দেখা যায় দূরে হিমালয় পবর্তশৃঙ্গের রেখা। দোচুলায় সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয় ১০৮টি চরটেন।

মো চু’ ও ‘ফো চু’

দোচুলা থেকে পুনাখার দূরত্ব মাত্র ৪১ কিলোমিটার। পাহাড়ের পর পাহাড় অতিক্রম করে পুনাখায় যেতে হবে। সহোদর নদী ‘মো চু’ আর ‘ফো চু’। মো চু নদী ভুটানের লিঘসি এবং লায়া পাহাড় থেকে সৃষ্টি হয়েছে। ফো চু নদী পুনাখা উপত্যকার লুনানা অঞ্চলের হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হয়েছে।

পুনাখা জং

নদী দুটি যেখানে এসে মিশেছে ঠিক সেখানে দুই নদীকে ঘিরে পুনাখা জং। দূর থেকে নদীর সঙ্গমস্থল আর পুনাখা জংয়ের প্যানারোমা দৃশ্য অসাধারণ। পুনাখার প্রশাসনিক ভবন পুনাখা জংকে বলা হয় আনন্দপ্রম প্রাসাদ বা পরম সুখময় প্রাসাদ।

৬০০ ফুট সুদীর্ঘ এই জংটি তৈরি হয় ১৬৩৭-৩৮ খ্রিষ্টাব্দে। এটাকে ভুটানের ঐতিহ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো। ঐতিহাসিক এই পুনাখা জংটি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের শীতকালীন বাসস্থান।

ওয়াংদি ফোদরং

পাহাড়ি জনপদ ওয়াংদি ফোদরং। প্রায় ১৩০০ মিটার উচ্চতায় উপতক্যার বুক চিরে রয়েছে ওয়াংদিতাং চু নদী। পাহাড়ের ধাপে ধাপে দেখতে পাবেন জুম চাষ।

সিমতোখা জং

সিমতোখা জং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ এবং আগেরকার বৌদ্ধ আশ্রম, বর্তমানে এটি জংখা ভাষা শিক্ষণের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। হুন্তসে জংটিতে পাঁচটি মন্দির রয়েছে যার মধ্যে তিনটি কেন্দ্রীয় টাওয়ারে অবস্থিত এবং এগুলো পদ্মাসামভাভাকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

জাকার

জাকার উত্তরের প্রশাসনিক শহর এবং ভুটানের বৌদ্ধধর্মের জন্মস্থান। ভুটানের কেন্দ্রীয়-পূর্বাঞ্চলীয় শহরটি বুমথং জেলার জেলা রাজধানী। আঞ্চলিক জং দুর্গ জাকের জং-এর অবস্থান এই শহরে।

ফুন্টসলিং

ফুন্টসলিং ভারতীয় সীমান্তের একটি শহর। কলকাতা থেকে বাসে করে আসা পর্যটকদের প্রবেশের বিন্দু। ভুটানের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।

শহরটি ভুটানের শিল্প ও বাণিজ্য শহর হিসাবেও পরিচিত। শহরটি ভারত ও ভুটান সীমান্তে ভুটানে অবস্থিত। এই শহরের কাছেই চুখা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। ফুন্টসলিং শহরটি ভুটানের প্রবেশের প্রবেশ দ্বার হিসাবে কাজ করে।

পারো

পারো হচ্ছে ভুটানের সবচেয়ে সুন্দর শহর। ঐতিহাসিক এ শহরেই আছে ভুটানের একমাত্র আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট এবং তাকতসাং মঠ (বাঘের বাড়ি)।

বিমানবন্দরটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সংকটপূর্ণ- ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যিক বিমানবন্দর বলা হয়। এর মাত্র একটি রানওয়ে আছে। এয়ারপোর্টটির আশেপাশের পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ৫,৫০০ মিটার।

রিনপুং জং

রিনপুং জং একটি বৃহত্তম বুদ্ধ মন্দির এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের থাকার জায়গা ভবন-দুর্গ। টা জং মূলত একটি জাদুঘর। ভুটানের এক সময়ের প্রাচীন ডাকটিকিট ও মুদ্রার দেখা মিলবে ন্যাশনাল মিউজিয়ামে।

ড্রুকগিয়াল জং

তিব্বতের সীমান্তে অবস্থিত ড্রুকগিয়াল জং একটি তাজিং দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। কিচু মনাষ্ট্রির প্রধান রুমে গুরু পদ্মসম্ভবের একটি বিশাল মূর্তি স্থাপিত আছে। এছাড়া এখানে কমলালেবুর বাগান রয়েছে।

টলটলে স্বচ্ছ পানি পারো চু নদীর বিশেষত্ব, যা দেখলে মনটা শান্ত হয়ে যায়। পারো নদীর উপর অবস্থিত প্রাচীন স্থাপনা আয়রন ব্রিজ। ভুটান ও তিব্বতের বাসিন্দাদের কাছে চোমো লহরি একটি পবিত্র পর্বত।

মুনগা

মুনগার পূর্ব ভুটানের অন্যতম বৃহৎ শহর। সামদ্রুপ জঙ্গখার দক্ষিণ-পূর্ব একটি প্রশাসনিক শহর, ভারতীয় সীমান্তের কাছে। ট্রাশিগাং পূর্ব দিকের একটি মনোরম প্রশাসনিক শহর। ট্রনগসা একটি ছোট প্রশাসনিক শহর তার ডিজং এবং ট্রংসা টাওয়ারের জন্য বিখ্যাত।

বুমথাং

ভুটানের ধর্মীয় হৃদয়ভূমি বুমথাং ভ্রমণের সেরা গন্তব্য। চারটি সুন্দর পর্বত উপত্যকা এবং প্রাচীন মঠ এবং মন্দিরের একটি সারি, বুমথাং ভুটানের সব জেলার সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান গ্রহণ করে।

হিমালয় রাজ্যের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বুমথাং একটি সুন্দর স্থান যদি ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা এবং ইতিহাসের প্রতি গভীর আগ্রহ থাকে।

টাইগার্স মনাস্টি

ভুটানের ধর্মীয় এবং পর্যটনের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো টাইগার নেস্ট বা টাইগার্স মনাস্টি। ৩০০০ ফুট হেঁটে উঠতে হয় সেখানে। হাভেলি ও বুম্থাং আকর্ষণীয় জায়গা।

উদ্যানগুলোর মধ্যে রয়েছে- জিগমে দর্জি জাতীয় উদ্যান, জিগমি সিনগিয়ে ওয়াংচুক ন্যাশনাল পার্ক, রয়্যাল মানাস ন্যাশনাল পার্ক, ফ্রুমসেঙ্গলা ন্যাশনাল পার্ক ও ওয়াংচুক সেন্টেন্নিয়্যাল পার্ক।

বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে- বুমডেলিং ওয়াইল্ডলাইফ সাঙ্কচুয়ারি, জমতসাঙ্গখা ওয়াইল্ডলাইফ সাঙ্কচুয়ারি, ফিবসূ ওয়াইল্ডলাইফ সাঙ্কচুয়ারি ও সাকতেঙ্গ ওয়াইল্ডলাইফ সাঙ্কচুয়ারি।

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *