আমাদের চট্টগ্রাম ভ্রমণ!

আগেও চট্টগ্রামে বেড়িয়েছি। তবে তখন কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছি, কিছু জায়গায় হয়তো ব্যস্ততার ফাঁকে ঘুরে-বেড়িয়েছি। তবে এবারে ছিল ভিন্ন! কারণ ভ্রমণটাই ছিল মূখ্য, আর সময়-সুযোগ মতো কিছু নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা। তাছাড়া ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম ভ্রমণে সঙ্গী হননি জীবনসঙ্গিনী! ফলে এবারের ভ্রমণে কিছুটা কৌতুহল ছিল, এক্সাইটেডও ছিলাম। ভ্রমণটি দারুণ হয়েছে! অনুভূতিও চমৎকার!  যা আগের ভ্রমণগুলো থেকে অনেকটাই ব্যতিক্রম! কিছু নতুন অভিজ্ঞতা! কিছু আনন্দময় স্মৃতি! কিছু উপভোগ্য যাত্রা।

ভ্রমণে অন্তর বিকশিত হয়

ভ্রমণ- বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা বাড়ায়। মানবিকতা ও উদারতা বাড়ায়। শিক্ষায় আগ্রহী করে। সৃজনশীলতা বাড়ায়। চিন্তার জগৎ প্রসারিত করে। জীবনবোধ তৈরী করে। ধৈর্য বাড়ায়। সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে। মানসিক চাপ কমায়। মন প্রফুল্ল রাখে। খুশি রাখে । মনের পরিধিকে বিস্তৃত করে। নতুন কিছু দেখে দৃষ্টি পরিতৃপ্তি লাভ করে। চোখ-কান খুলে যায়। বুদ্ধি বাড়ায়ে বুদ্ধিমান বানায়। দুঃসাহসী করে তোলে। ভ্রমণ একটি আনন্দময় ইবাদত এবং জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার উৎস।

ভ্রমণের মাধ্যমে পারস্পরিক সহনশীলতা, সামাজিক রীতি-নীতি, সাংস্কৃতিক ভাব, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং অর্থনৈতিক চিন্তাধারার উপযোগিতা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ভ্রমণকে বলা হয় জ্ঞানসমুদ্রের সন্ধান। হাজার কর্মব্যস্ততার মাঝে শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য এবং জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে, ছোট-বড়, ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে দেশভ্রমণ প্রতিটি মানুষের জন্যই প্রয়োজন। নতুন সংস্কৃতি, রাষ্ট্র, ইতিহাস, মানুষ সবকিছুর ব্যাপারে ভাবতে শেখায় ভ্রমণ।

ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ভ্রমণের পাঁচটি উপকারিতা উল্লেখ করেছেন। এক. দুশ্চিন্তা দূর হয়। দুই. জীবিকা অর্জন করা যায়। তিন. জ্ঞানার্জন করা যায়। চার. সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার শেখা যায়। পাঁচ. শারীরিক সুস্থতা অর্জন হয়। শেখ শাদি বলেছেন, দুনিয়াতে দু’ব্যক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী- ১. ভাবুক বা চিন্তাশীল ব্যক্তি এবং ২. দেশ সফরকারী ব্যক্তি।

মুসলিমদের মধ্যে সুলায়মান সায়রাফী, ইবন বতুতা, আলবেরুনি, আরবের হিরোডটাস নামে খ্যাত আল মাসউদি বিখ্যাত পর্যটক ও ভ্রমণ ইতিহাসবিদ হিসেবে বিশ্বনন্দিত। ইবনে বতুতা বলেছেন, ভ্রমণ স্রষ্টার সৃষ্টিরহস্য জানায়, ভ্রমণ আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। প্রত্যেক মানুষেরই সাধ্যানুসারে কাছে কিংবা দূরে ভ্রমণের মাধ্যমে স্রষ্টার বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিকে দেখে অন্তরকে বিকশিত করা উচিত।

বিশাল সৃষ্টি দর্শন, উপার্জন, জ্ঞান আহরণ, রোগ নিরাময় এবং আত্মশুদ্ধির জন্য ভ্রমণ করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে। দেশ-বিদেশের নানা বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য দেখে জীবনের পাথেয় সঞ্চয় করা খুবই সহজ। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড থেকে বের না হলে সৃষ্টিজগতের অনেক কিছুই অজানা রয়ে যায়। পৃথিবীর একেক স্থান একেক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

যানজটকে বিবেচনায় রেখে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে ঘন্টা দুয়েক আগেই বের হলাম। যানজট না থাকায় এয়ারপোর্ট টার্মিনালে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই পৌঁছে গেলাম। আমাদের সঙ্গে লাগেজ বা বড় ব্যাগ ছিল না। দুজনের সাথে দুটি হ্যান্ডব্যাগ ছিল। ফলে ফ্লাইট খুলে দেয়ার পরই চেক ইনও দ্রুতই হয়ে গেলো।

চেক ইন অফিসার বোর্ডিং পাস দিলেন। ডিপার্চার লাউঞ্জে যাবতীয় সিকিউরিটি চেক করা হলো। সিকিউরিটি অফিসারের কাজ সম্পন্ন হবার পর ইউএস-বাংলার নির্ধারিত বাসে চড়ে প্লেনের কাছে পৌঁছলাম এবং প্লেনে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। বোর্ডিং পাস দেখে একটি অংশ কেটে রেখে প্লেনের ভেতরে ওঠানো হলো।

বোর্ডিং পাসের সীট নাম্বার অনুযায়ী সীটে বসলাম। সব যাত্রীরা প্রবেশ করলে প্লেনের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো। প্লেন টেক-অফ করার আগে কিছু সতর্কতা মূলক নির্দেশনা দেয়া হলো। ধীরে ধরে শব্দ বাড়লো সীট বেল্ট এলার্ম হিসেবে। প্লেন নির্দিষ্ট উচ্চতায় উঠলে সীটবেল্ট সিগন্যাল বন্ধ হলো। বিমানে উড্ডয়নরত অবস্থায় বসে বসে বাইরের দৃশ্য দেখতে থাকলাম।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর প্লেনে আমরা ছিলাম। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার সময় এলো। টের পেলাম প্লেন নীচের দিকে যাচ্ছে। প্লেনের চাকা রানওয়ে স্পর্শ করলে শব্দ বাড়তে থাকলো আর গতি ধীর হতে থাকলো।

প্লেন টার্মিনালে থামার কিছুক্ষণ পর সিট বেল্ট খোলার নির্দেশনা দেওয়া হলো। সুন্দর ও ঝামেলামুক্তভাবে টার্মিনালে নামার পর ইউএস-বাংলার সংযোগ বাসে চট্টগ্রাম মহাসড়কে নগরীর প্রবেশপথ অলংকার মোড়ে পৌঁছলাম।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নদীর মোহনায় অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে এই সৈকত ‘মুরাদপুর সী বিচ’ নামেও পরিচিত। সমুদ্রসৈকতটিকে পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫৯ দশমিক ১০ একর জায়গা এই ঘোষণার আওতায়। বর্তমানে এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। সীতাকুন্ড বাজারের হাইওয়ে ওভারপাসের নিচ থেকে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত যাওয়ার সিএনজি পাওয়া যায়।

সৈকতটি সীতাকুণ্ডের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। প্রকৃতি ও গঠনগত দিক থেকে এটি অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সৈকতের পশ্চিমে দিগন্ত জোড়া জলরাশি, পূর্ব দিকে তাকালে দেখা মেলে পাহাড়ের। এলাকায় কেওড়া বন রয়েছে। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূল দেখা যায়।

এই বন সমুদ্রের অনেকটা গভীর পর্যন্ত চলে গেছে। এর পরিবেশ সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মত। সৈকত জুড়ে সবুজ গালিচার বিস্তীর্ণ ঘাস একে অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে করেছে অন্যন্য। এই সবুজের মাঝ দিয়ে এঁকে বেঁকে গেছে সরু নালা। নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে উঠে। পাখি, ঢেউ আর বাতাসের মিতালীর অনন্য অবস্থান দেখা যায় এই সমুদ্র সৈকতে। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ না থাকায় রাতে সৈকতটি নিরাপদ নয়।

সৈকতের তিনদিকে শোভা বর্ধন করছে ছোট ছোট ম্যানগ্রোভ বন। আর অন্যদিকে অসীম সমুদ্র। বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালার মধ্যে কেওড়া অন্যতম। ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূল ছড়িয়ে আছে সৈকত জুড়ে। তার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে বড় ছোট অনেকগুলো খাল। জোয়ারের সময় খালগুলো পানিতে ভরে যায়। সমুদ্রের বাতাসের সাথে নিরবতা উপভোগ করা যায় মন ভরে।

ইকোপার্ক

সীতাকুন্ড উপজেলা পরিষদ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক কিলোমিটার দক্ষিনে সীতাকুন্ড পৌরসভার মধ্যে ইকো পার্কের অবস্থান। বিভিন্ন ধরনের বিরল প্রজাতির বৃক্ষ এ পার্কের বৈশিষ্ট।

পাহাড় ও এর পাদদেশে অত্যন্ত সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে তলা হয়েছে এ পার্ক। পার্ক অভ্যন্তরে রয়ছে প্রাকৃতিক প্রস্রবন।জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় এ পার্কটি বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্ষাকালে এর সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

চন্দ্রনাথ পাহাড়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পূর্বদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড়। আর পশ্চিমদিকে সুবিশাল সমুদ্র। সীতাকুণ্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি। এলাকাটি শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় তীর্থস্থানই নয়; বরং খুব ভালো ভ্রমণের স্থান হিসেবেও স্বীকৃত।

সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪ কি.মি. দূরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ পাহাড়ের শ্রেণিভূক্ত ছোট পাহাড়গুলো ব্যাসকুণ্ড থেকে শুরু হয়েছে। পাহাড়ে যাবার পথে বেশকিছু হিন্দুধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ হতে দেখা যায়।

পুরো এলাকাটি বিভিন্ন ধরনের গাছ, বনফুল, গুল্মলতায় পরিপূর্ণ। পেয়ারা, সুপারি, আমগাছসহ বিভিন্ন ফলের বাগান দেখা যায়। কিছুসংখ্যক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে এখানে। ত্রিপুরাদের নিজস্ব কিছু গ্রাম রয়েছে। পাহাড়ের গভীরে জুমক্ষেতের মাধ্যমে ফসল চাষাবাদ করা হয়। এছাড়াও, বাণিজ্যিকভাবে ফুলের বাগানের চাষ করা হয়।

এলাকায় অনেকগুলো ঝর্ণা আছে। তবে পাহাড়ে যাবার পথে একটিমাত্র ঝর্ণা দেখা যায়। পাহাড়ে উঠার জন্য দুটি পথ রয়েছে। ডানদিকের রাস্তাটি পুরোটাই সিঁড়ি দিয়ে আর বামদিকেরটি পুরোটাই পাহাড়ি পথ। কিছু ভাঙ্গা সিঁড়ি আছে। তন্মধ্যে, বামদিকেরটি দিয়ে উঠা সহজ; ডানদিকেরটি দিয়ে নামা সহজ।

সীতা মন্দিরের কাছে একটি ঝর্ণা আছে যা শুকিয়ে গেছে। অন্যান্য ঝর্ণা গভীর বনে রয়েছে। বর্ষাকালে পাহাড়কে পরিপূর্ণ যৌবনা মনে হবে। তবে, বর্ষায় পাহাড়ে উঠা বেশ বিপজ্জ্বনক। এই উপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির অন্যতম বিখ্যাত শক্তিপীঠ। ফাল্গুন মাসে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) শিবচতুর্দশী মেলা হয় যা বেশ বড় ধরনের মেলা।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা যেন সব প্রাকৃতিক রূপ নিয়ে বসে আছে। এখানে আছে পাহাড়, লেক, ঝর্ণা, সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন স্থাপনা সহ নানা কিছু। বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত (Bashbaria Sea Beach) তেমনই পর্যকটকের জন্যে একটা আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ঝাউ গাছের সারি, খোলামেলা পরিবেশ, জেগে উঠা সবুজ ঘাসের চর, আছে পিকনিক স্পট, সব মিলিয়ে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত অপূর্ব সৌন্দর্য নিয়ে অপেক্ষা করছে দর্শনার্থীদের জন্য।

বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকতের অবস্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীতাকুন্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নে। সৈকতটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে সেখানকার সূর্যাস্ত দেখা তাই দুপুরের পর সেখানে যেতে পারেন। সেখানে আছে একটি লোহার ব্রীজ, যা দিয়ে আপনি হেঁটে যেতে পারবেন সমুদ্রের উপর দিয়ে। মূলত এটিই সবচেয়ে বেশি আকর্ষিত করে পর্যটকদের। এছাড়া চাইলে স্পিডবোটে করে ঘুরে দেখতে পারবেন চারপাশ। শীতের সকালে গেলে সদ্য গাছ থেকে নামানো খেজুর রস খাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বাঁশবাড়ীয়া বেরীবাঁধ পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতের দিকে যেতেই প্রথমে পূর্ব দিকে দেখা যাবে সুন্দর আকৃতির ঝাউ বাগান। বিভিন্ন প্রজাতির ঝাউগাছ সমুদ্র সৈকতের শোভা বর্ধন করছে। এরপরই কয়েক গজ দক্ষিণে ‘বাঁশবাড়ীয়া ফেরি ঘাট’। এর পাশে রয়েছে কেউড়া গাছের বাগান, নারিকেল ও ঝাউ বাগানের মধ্যে রয়েছে পিকনিক স্পট; যেখানে পর্যটকরা দল বেঁধে বনভোজনের অনাবিল আনন্দে নিজেদের একাকার করে তোলে। এরপর রয়েছে কাংখিত বিশাল সমুদ্র সৈকত।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ চট্টগ্রাম শহরের অদূরে ফৌজদারহাটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১৯৫৮ সালের ২৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলায় অবস্থিত কলেজটির বর্তমান ও সাবেকদের বিশেষণ ফৌজিয়ান। কলেজটি বাংলাদেশের প্রথম ক্যাডেট কলেজ। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে কলেজের নাম ছিল ‘ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ’। প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনীর জন্য যোগ্য কর্মকর্তা তৈরি করাই ছিল এ কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

কলেজ অডিটোরিয়ামের পেছনে কলেজ মিউজিয়াম রয়েছে। ডাইনিং হলটির নামকরণ করা হয়েছে কলেজের প্রথম অধ্যক্ষের নামানুসারে “কর্নেল ব্রাউন হল”। এখানে প্রতিদিন পাঁচবার খাবার পরিবেশন করা হয়। ডাইনিং হলে খাবার গ্রহণের সময় ক্যাডেটরা বিশেষ শিষ্টাচার মেনে চলে। কলেজ পাঠাগারটি রেফারেন্স ও আর্কাইভের দিক থেকে দেশের অন্যতম একটি পাঠাগার।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের চারটি হাউজ রয়েছে। প্রাক্তন বাবর হাউস এর বর্তমান নাম রবীন্দ্র হাউস। হাউস রঙ হলুদ এবং হাউস প্রতীক সিংহ। হাউস মূলনীতি “লড়বো মোরা ছাড়বো না” । প্রাক্তন শাহজাহান হাউস এর বর্তমান নাম নজরুল হাউস। হাউস রঙ নীল এবং হাউস প্রতীক জাগুয়ার। হাউস মূলনীতি “মোরা নির্ভীক চির দুর্জয়”।

প্রাক্তন আইয়ুব হাউস এর বর্তমান নাম ফজলুল হক হাউস। হাউস রঙ সবুজ এবং হাউস প্রতীক প্যানথার। হাউস মূলনীতি “মরার আগে মরব না”। প্রাক্তন আকবর হাউস এর বর্তমান নাম শহীদুল্লাহ হাউস। হাউস রঙ লাল এবং হাউস প্রতীক বাঘ। হাউস মূলনীতি “মোরা অক্ষয় মোরা অব্যয়”।

কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে- বিশ্বসেরা পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউল করিম, সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া, সাবেক সেনাপ্রধান আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

স্বাধীনতা কমপ্লেক্স

চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের বিপরীত পাশে অবস্থিত থিম পার্ক স্বাধীনতা কমপ্লেক্স বা মিনি বাংলাদেশ পার্ক। কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংলগ্ন বাংলাদেশ বেতারের বিশাল খালি জায়গায় তৈরী করা কমপ্লেক্সটিতে দেখলাম দেশের বর্ণিল ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থাপনাগুলো; যা সংক্ষেপে সমগ্র বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে অবিকল নতুন করে রূপায়ণ করা পার্কটির পূর্ব নাম ছিল শহিদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স। ২০০৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১ একর জায়গায় বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটিকে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স নামে নামকরণ করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবন, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকার সদরঘাটের আহসান মঞ্জিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, ঢাকার লালবাগ কেল্লা, কৃত্রিম জলরাশি, দরবার হল, সেন্ট নিকোলাস চার্চ, বড় কুঠি, ছোটকুঠি,  জাতীয় শহীদ মিনার, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, চাঁপাই নবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দিরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন-ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নান্দনিক স্মারকের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে পার্কটি। যেখানে ১৪টি ক্ষুদ্রাকৃতির স্থাপনা রয়েছে৷

বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থাপনার আদলে নির্মিত নিদর্শন রেপ্লিকাগুলো যেন একখণ্ড বাংলাদেশকে চোখের সামনে তুলে এনেছে। এগুলো প্রত্যেকটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বহন করে৷ এছাড়া রয়েছে চিরন্তন পল্লি, ট্রেনের নিচে ব্রিজ, ছয়টি কিউচ (বসার স্টল), পাঁচটি পানির ফোয়ারা ও তিনটি কিডস জোন। সেখানে  দর্শনার্থীদের ভিড় দেখলাম। চট্টগ্রাম শহরের ওয়াসা মোড় থেকে কালুরঘাটগামী বাসে করে কালুরঘাট মিনি বাংলাদেশ পার্কে গিয়েছিলাম। এটির উত্তর-পূর্ব পাশে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র অবস্থিত।

প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে আধুনিক স্থাপত্যের ছোঁয়ায় তৈরি সুউচ্চ রিভলভিং রেস্তোরাঁ বা ঘূর্ণায়মান টাওয়ার রেস্তোঁরা ও বিনোদনের বিভিন্ন উপকরণযুক্ত নানা ধরনের এমিউজমেন্ট রাইড। মজার মজার রাইডের পাশাপাশি পার্কটিতে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে চট্টগ্রামের সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটেছে। তবে পরিচর্যার অভাবে অনেক জায়গায় জন্মানো আগাছা এবং শেওলা দেখে মনে হলো- বিনোদনকেন্দ্রটি অবহেলায় ধুঁকছে৷ রাইডগুলোর বেহাল দশা৷ ফোয়ারাগুলো অধিকাংশই নষ্ট৷

মিনি বাংলাদেশ- এর মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে প্রথমে চোখে পরবে জাতীয় সংসদ ভবন, যেখানে অধিবেশন বসে না৷ ভবনের নিচে আছে কৃত্রিম লেক যেখানে নৌকা ভ্রমণ, নাইন ডি মুভি প্রদর্শন, রেলগাড়িসহ বিভিন্ন রাইডসের ব্যবস্থা রয়েছে। আছে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট ভবন; নেই কোনো কাঠগড়া, আসামি, আইনজীবী কিংবা বিচারক। পঞ্চদশ শতকে নির্মিত ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদের আদলে গড়া স্থাপনাটিতে নিয়মিত আজান এবং নামাজ আদায় হয়৷ দর্শনার্থীদের অনেকেই এই মসজিদে নামাজে শরিক হন৷ সংসদ ভবনের পিছনের ছোট লেকে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য একাধিক প্যাডেল বোট, যা পা দিয়ে চালাতে হয়৷ বিনোদন কেন্দ্রটিতে ঘুরতে আসা শিশুদের জন্য রয়েছে কিডস কর্নার ও বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা৷

আহসান মঞ্জিলের নিচতলার একপাশে অফিস। আরেকপাশে অপার বিস্ময় নিয়ে বসে আছে দুর্লভ একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। এখানে দর্শনার্থীরা বসে বই পড়তে পারেন। রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ট্রাইবাল হাউজ মডেল যেমন বাঁশের তৈরি কুঁড়ে ঘর, মাটির ঘরের আদলে ছোট কুঠির ও দ্বিতল কুঠির। পার্কের ভিতরে শিশুদের জন্য আছে পৃথক তিনটি কিডস জোন। শিশুসহ বিনোদন পিপাসুদের জন্য আছে মিনি ট্রেন, পেডেল ট্রেন, ফ্যামিলি কোস্টার, প্যাডেল বোট, বেবি ক্যাসেল, বেলুন হুইল, মনোরেল, বাম্পার কার, মিউজিক সুইং, আরবি ট্রেন। সব মিলে বিনোদনের জন্য বা মনকে ভালো করার জন্য চমৎকার একটি স্থান এটি।

স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ স্বাধীনতা টাওয়ার৷ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে এ টাওয়ারের উচ্চতাও ৭১ মিটার করা হয়েছে৷ ২৩ তলা ভবনের সমান উচ্চতায় উঠলে চট্টগ্রাম শহরের অনেক অংশই চোখে পড়ে৷  এক নজরে পুরো চট্টগ্রাম শহর, কর্ণফুলী নদী এমনকি বঙ্গোপসাগরও দেখা যায়। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে  পারায় এটি দর্শনার্থীদের অন্যতম আগ্রহের জায়গা৷ ২৩০ ফুট উচ্চতার স্বাধীনতা টাওয়ারে রয়েছে একটি রিভল্ভিং রেস্টুরেন্ট বা ঘূর্ণি রেস্তোরাঁ৷

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সমুদ্র সৈকতটি বেশ সুন্দর ও জনপ্রিয়। দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা নজর কাড়ার মতো! পর্যটকদের যে ভিড় দেখলাম তাতেই বুঝা গেলো এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। সৈকতটিকে আকর্ষণীয় করে তোলতে আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের জন্যে অপেক্ষমান সারি সারি ছোট বড় জাহাজ এখানকার পরিবেশে ভিন্নতা এনেছে। অনেকে স্পীড-বোটে চড়ে সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকে সী বাইক ও ঘোড়ায় সমুদ্র তীরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকে বার্মিজ মার্কেটে কেনাকাটা করছে। স্ট্রিট ফুডও দেখলাম।

স্মৃতিপটে গেঁথে গেলো কিছু মানুষ

রবিউল-জেরিন দম্পত্তি আমাদের যত্নে যেভাবে স্বতঃস্ফূর্ত আন্তরিকতা দেখিয়েছেন তাতে আমরা অভিভূত হয়েছি। তাদের বাসার জানালা দিয়ে যখন দেখছিলাম চন্দ্রনাথ পাহাড়; মনে করছিলাম এই পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা এ আর এমন কি!  বাস্তবে ওঠতে গিয়ে গলদঘর্ম হয়ে ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে পৌঁছলাম গোধূলি সন্ধ্যার কিছু সময় আগে। হারুন ভাই ও ফয়জুন আপুর অতিথিপরায়ণতায় আমরা মুগ্ধ হলাম। গণিতের শিক্ষকের বিচরণ যে জ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে প্রসারিত- তা সংক্ষিপ্ত আড্ডাটি না হলে অজানাই থেকে যেত! ভাই যখন কলেজটি ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন এবং কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও গৌরব করার মতো অবদানের বর্ণনা দিচ্ছিলেন- আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলাম!

পরে শহরে গিয়ে মেহমানদারি ও উত্তম আপ্যায়নের জন্য ব্যাংকার মুন্নী আপুর হৃদ্যতাপূর্ণ পেরেশানিতে মুগ্ধ হলাম। নৌ বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রুম্মান ভাই বিদেশে কর্মরত থাকায় আমাদেরকে সময় দিতে না পারা এবং সারা চট্টগ্রাম ঘুরিয়ে দেখাতে না পারায় আফসোস করেছেন! এই দম্পত্তির এমন মন খুশি করা আন্তরিকতা ভুলবার নয়।

ভ্রমণ শুধুই অবলোকন নয়

ঘুরে বেড়ানো, হাঁটাহাঁটি, নতুন কিছু উন্মোচনের শিহরণ—শুধুই অবলোকন নয়; এতে শরীরের সক্রিয়তা, জীবনীশক্তি ও আয়ু বৃদ্ধি পায়! ভ্রমণে অবসর, ঔৎসুক্য এবং সন্তোষজনক আর্থিক সংগতিও গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণে ভ্রমণসঙ্গী নির্বাচন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; ভ্রমণসঙ্গী হতে হবে হয় সমমনা, না হয় উচ্চমনা। না হলে একাও ভ্রমণকারী দেখতে পারেন, সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, অভিজ্ঞতা ও উদারতায় নিজে সমৃদ্ধ হতে পারেন।

তাছাড়া  ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া, ভ্রমণ ব্যয়, ভ্রমণকালীন নিরাপত্তা, ভ্রমণ আনন্দদায়ক করা গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে খুঁটি-নাটি সব কিছুই নিখুঁতভাবে ঠিক করে ভ্রমণে যাওয়া উচিত। ভ্রমনের স্থান নির্বাচন, জায়গাটি সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নেয়া, বাজেট নির্ধারণ করা, কিভাবে কোন পথে যাওয়া-আসা, ভ্রমণের পোশাক নির্বাচন ইত্যাদিও গুরুত্বপূর্ণ।

ভ্রমণপ্রবণতা বাড়া ভালো। কারণ প্রকৃত ভ্রমণ আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা ও ধৈর্য শিক্ষা দেয়। ভ্রমণে মানুষ কত ক্ষুদ্র, তারও চেতনা জাগে। তবে ভ্রমণকে সহজ, সুন্দর আর প্রাণবন্ত করতে ভালো পরিকল্পনারও দরকার আছে! ভ্রমণকারীরা বিভিন্নজন বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেন। অনেকে ভ্রমণ করেন আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের জন্য। অনেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। অনেকে ছুটি, অবসর ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে। অনেকে কেনাকাটার জন্য। অনেকে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত কাজে।

 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.